মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৭

পানি অপচয় করা মানে নিজেকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পানির অপর নাম জীবন। এটা আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। জানা এবং বুঝার পরও আমরা পানির ব্যবহার সঠিকভাবে করি না। ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃতভাবে পানির অপচয় আমরা করেই চলেছি। আমাদের দেশের কম বেশি মানুষের মধ্যে একটি বদ্ধমুল ধারনা রয়েছে পানি হল একটি অফুরন্ত সম্পদ। মনে রাখতে হবে,পানি সম্পদ বটে তবে অফুরন্তÍ নয়। এই সম্পদকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হোক সে পানি ভু-উপরিভাগ নয়তো ভু-গর্ভস্থ। অযথা অপচয় করা চলবে না। আমরা ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত কিংবা অবহেলায় নানা ভাবে এই পানি সম্পদের অপচয় করি। যেমন; গোসল কাজে অতিরিক্ত পানির ব্যবহার, অফিস-আদালত,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি নানা দপ্তর সহ দেশের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় এই পানি অযথাই অপচয় হয়। পানির ট্যাংকে বাসি পানির দোহাই দিয়ে অযথাই আমরা পানির অপচয় করি। বাথরুম কিংবা টয়লেটে টেপ বন্ধ না করে কিংবা আংশিক বন্ধ করে চলে যাই, টেপ নষ্ট হওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত পানির অপচয় এ যেন আমাদের দেখতে দেখতে সয়ে গেছে। অবশ্যই পানির ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এখনই। তা না হলে একদিন পানির অভাবে আমাদেরই মরতে হবে। আমাদের স্মরন রাখতে হবে পৃথিবীর অনেক দেশে টাকা দিয়ে দুর-দুরান্ত হতে অনেক কষ্টে পানি সরবরাহ করতে হয়। আমাদের পাশ্ববর্তী অনেক দেশে পানি সমস্যা এতটাই প্রকট যে, টয়লেটের পানি বিশুদ্ধ করে তা জনগনকে খেতে হয়। 
এমন পরিস্থিতিতে যাবার আগেই আমাদের একটু খানি সচেতনতা বোধ আমাদের ব্যবহার্য পানি তথা পেয় পানি(সুপেয় পানি) নিজের সহ পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও আমরা নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের জানতে হবে পানির উৎস, জানতে ও বুঝতে হবে ভু-উপরিভাগের পানি আমরা কোথা হতে পাই,ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর চাষাবাদ সহ অতিরিক্ত অপচয়ে বর্তমানে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কেনইবা অল্প সময়ের মধ্যে পানির স্তর এত নিচে নেমে গেল। আমরা সবাই জানি; উৎপত্তিস্থল হতে ভারত এক তরফা নদীশাসন তথা স্বাদু পানিকে নিজ নিয়ন্ত্রনে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। জীবন ধারনের জন্য পানির গুরত্ব অপরিসীম বটে তবে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিঃসন্দেহে স্বাদু পানি। একটি পরিসংখ্যানের আলোকে বিশ্বে স্বাদু পানির পরিমান দেখা যেতে পারে।

পানির উৎস    বর্হিভাগ হিসাবে
বর্গমাইলে     আয়তন হিসাবে
ঘনমাইলে    শতকরা পরিমান
ক)লবনাক্ত পানি
সমুদ্রের পানি
আভ্যন্তরীন সাগর ও হ্রদের পানি   
১৩৯,৫০০,০০০
২৭০,০০০   
৩১৭,০০০,০০০
২৫,০০০   
৯৭.২
০.০০৮
মোট    ১৩৯,৭৭০,০০০    ৩১৭,০২৫,০০০    ৯৭.২০৮
খ)স্বাদু পানি
হ্রদের পানি
নদীর পানি
উত্তর মেরুর বরফ
দক্ষিণ মেরুর বরফ
বাতাসে জলীয় বাষ্প
ভূ-গর্ভস্থ পানি   
৩০০,০০০
    
৬১,০০০,০০০
৯০০,০০০
১৯৮,০০০,০০০
   

৩০,০০০
৩০০
৬,৫০০,০০০
৫০০,০০০
৩১০০
২,০১৬,০০০   
০.০০৯
০.০০১
১.৯৯২
০.১৫৪
০.০০১
০.৬৩৫
মোট    ২৬০,২৩০,০০০    ৯,০৪৯,৪০০    ২.৭৯২
সর্বমোট    ৪০০,০০০,০০০    ৩২৬,০৭৪,৪০০    ১০০.০০০

উপরের পরিসংখ্যান হতে দেখা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর মোট পানির আয়তন ৩২৬,০৭৪,৪০০ ঘনমাইল। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯৭ ভাগ লবনাক্ত পানি (স্যালাইন ওয়াটার) এবং ২.৫০ভাগ (নরমাল ওয়াটার) স্বাদু পানি। মোট স্বাদু পানির অধিকাংশই বরফ হিমবাহ ও জলীয় বাস্পে আবদ্ধ। হ্রদ, নদী ও খাল-বিলে অবস্থিত পানির পরিমান খুবই সামান্য। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট পানির পরিমান ০.০১ ভাগ। (সুত্রঃ স্নাতক উদ্ভিদ বিজ্ঞান; প্রফেসর আমজাদ আলি খান)।
যদি পেয় পানি অর্থ্যাৎ সু-পেয় পানির পরিমান এত কম হবার পরও আমরা এই পানি সম্পদকে অযথাই অপচয় করি তাহলে একদিন বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভেবে দেখেছেন কি? সময় থাকতে পানির অপচয় রোধ করে নিজের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করি।
এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু জানান; পানি সম্পদ ব্যবহারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। অযথা আমরা পানির অপচয় করবো না প্রয়োজনে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে। তিনি আরও জানান; পানির অপচয় রোধে দরকার হলে স্ব-স্ব দপ্তরের প্রধানদের মনিটরিং করতে হবে। সর্বোপরি চাই আমাদের আত্মসচেতনতা বোধ। মনে রাখতে হবে,পানির অপচয় করা মানে নিজেকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...