কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রানি মানুষ। সৃষ্টির শুরু হতে আজ অবধি মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সকল প্রানিকে বশে এনে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান দিয়েছে বারবার। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ যে কোন ধরনের কাজ করতে কুন্ঠাবোধ করে না। হোক সে কাজ ভাল নয়তো মন্দ। এক সময় মানুষের সংখ্যা কম থাকার কারনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা মাকড় হতে শুরু করে গাছপালা সহ নাম না জানা নানা ধরনের জীব,বড় বড় জীবজন্তুর অভয়াশ্রম ছিল এই পৃথিবী। কিন্তু ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রকৃতিও যেন তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। যেমন বনে-জঙ্গলে গাছ নেই, জীবজন্তু নেই,নদীতে মাছ নেই,আকাশে পাখি নেই। এমনকি ভু-গর্ভস্থ পানি সম্পদও আর পর্যাপ্ত পরিমানে নেই। সব খানেই শুধু নেই আর নেই। এই নেই নেই থাকার পিছনে একমাত্র কারন মানুষ। জনসংখ্যার আধিক্যের কারনে নতুন নতুন বসতি নির্মানের ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা, উইপোকার বসতি আজ প্রকৃতি হতে বিলীনের পথে। সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উইপোকার বসতির (ঢিপ) দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির ওসমানপুর গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা মাটি দিয়ে তৈরি উইপোকার বসতিটির উচ্চতা কমপক্ষে ৭ ফিট। সম্পন্ন ঢিপটিই মাটি দিয়ে নির্মিত। যা অনেকটাই স্যাঁতস্যাঁতে।
কথা হয় ওসমানপুর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক রাজু আহম্মেদের সাথে,তিনি জানান; আগে আমাদের এলাকায় অসংখ্য উইপোকার ঢিপি ছিল। মানুষ উইপোকার বসতি নষ্ট করে বাড়ি ঘর নির্মান করায় বর্তমানে আর আগের মত দেখতে পাওয়া যায় না।
কথা হয় একই গ্রামের বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য বিপ্লব সরকারের সাথে,তিনি জানান; আসলে মানুষের কাছে প্রকৃতির কোন জিনিষই নিরাপদ নয়। মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে ভারসাম্যহীন করে তুলছে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; উইপোকার বসতি তথা মাটি দিয়ে তৈরি করা তাদের বাসস্থান আর নেই বললেই চলে। বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্রকৃতির ভারসাম্য আমরা মানুষরাই নষ্ট করে চলেছি।
প্রকৃতিকে তার নিজের মত করে চলতে দেয়া উচিত। তিনি আরও জানান; প্রকৃতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে এর প্রভাব একদিন মানুষের উপরই পড়বে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন