বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৭

কাউন চাষ হারিয়ে যেতে বসেছে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সু-স্বাদু একটি ফসলের নাম কাউন। যা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে রয়েছে সু-স্বাদু ফসলটির নাম। এক সময় গ্রামে গঞ্জে ব্যাপকভাবে কাউনের চাষ হলেও বর্তমানে উন্নতজাত ফসলের প্রতিয়োগিতায় টিকতে না পেরে হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন নামের ফসলটি। স্বল্প খরচ,পরিবেশ বান্ধব, সহজ চাষ পদ্ধতি ও পানি সাশ্রয়ি হবার পরও শুধুমাত্র মানুষের অবহেলা আর অনাদরে কাউনের চাষ আর নেই। ফসলটি যেন কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে।
কাউনের বৈজ্ঞানিক নাম-ছিটারিয়া ইটালিকা গোত্র- গ্রামিনি।
সরেজমিনে গত ১ মাস ধরে অনেক খোঁজাখুজির পর কাউন চাষের দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির যমুনেশ্বরি নদীর চরাঞ্চলে।
কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় কাউন নামক ফসলটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সম্ভ্রান্ত কৃষক নলিনী সরকারের (৯০) সাথে তিনি জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক জমিতেই কাউন চাষ হত, এখন আর চোখে পড়ে না। ফসলটির চাষ পদ্ধতি সহজ,স্বল্প খরচ,পানি সাশ্রয়ি ও পরিবেশ বান্ধব। শুকনো জমিতে ঝুরঝুরে চাষের পর চৈত্র(এপ্রিল) মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। আষাঢ়(জুলাই) মাসে ফসল ঘরে উঠে।
তিনি আরও জানান ; মাঝে একবার নিড়ানি দিলেই হয়, সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলন হয় বিঘা প্রতি ১০-১৫মন। বাজারে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাছাড়া কাউনের শীষ ছিড়ে নিয়ে অবশিষ্ট গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে জৈব সারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। আবার কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। কাউনের ভাত অত্যন্ত সূ-স্বাদু ও মুখরোচক। জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। পিঠা-পায়েস তৈরিতে এর কোন জুড়ি নেই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান ; লাভজনক, সূ-স্বাদু ,পরিবেশ বান্ধব, স্বল্প খরচে আবাদ যোগ্য ও পানি সাশ্রয়ি কাউন নামের দেশি এই ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এ জন্য সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
তিনি জানান;যেহেতু ফসলটি পানি সাশ্রয়ি,তাই কাউনকে নিয়ে উন্নত গবেষনার প্রয়োজন।  যদি উন্নত গবেষনার মাধ্যমে নতুন জাত সৃষ্টি করে কৃষকদের মাঝে দেয়া যায় তাহলে একদিকে যেমন কাউন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন অন্যদিকে দেশিয়,পরিবেশবান্ধব,সু-স্বাদু ও পানি সাশ্রয়ি কাউন ফসলটিকেও রক্ষা করা যাবে। 
তিনি আরও জানান; দেশিয় জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষন করতে হবে।  তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কাউন নামের ফসলের নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন ; কাউন ফসলটি আসলেই বিলুপ্তির পথে। উপজেলায় এখন কোন চাষি কাউন আবাদ করে কিনা আমার জানা নেই। তিনি আরও জানান; আমাদের স্বার্থেই দেশিয় জাতের কাউন ফসলটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২এপ্রিল/১৭
তারিখ-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 











কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...