কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠা একটি উদ্ভিদের নাম থানকুনি। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা উদ্ভিদটি মনুষ্য সমাজে বিরাট ভুমিকা রাখে। অনেকেই আমরা উদ্ভিদটির গুনাগুন সম্পর্কে জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির থানকুনি উদ্ভিদটিকে অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ উদ্ভিদটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। থানকুনির বৈজ্ঞানিক নাম-সিনটিলা এসিয়েটিকা,গোত্রের নাম-আমবেলিফেরি। বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদটির পাতা গোলাকার ও কিঞ্চিত মোটা। মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন থানকুনি উদ্ভিদটি ভেষজ শিল্পে অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখছে।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের রেল লাইনের ধারে থানকুনি উদ্ভিদটিকে দেখতে পাওয়া যায়।
থানকুনি উদ্ভিদ সম্পর্কে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিকের(৮৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটি আগে আমাদের বাড়িসহ জমির ধারে পাওয়া যেত। আগাছা হিসেবে মানুষ উদ্ভিদটিকে নষ্ট করে ফেলায় থানকুনি আর চোখে পড়ছে না। তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। উদ্ভিদটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
গ্রাম্য কবিরাজ রহমত আলি(৭০) জানান;অনেক খোঁজাখুঁজির পর রেললাইনের ধারে থানকুনি পেলাম। একজন রোগির জন্য উদ্ভিদটির পাতা আমার ভীষন দরকার ছিল। এখান হতে পাতা নিয়ে যাচ্ছি,ঔষধ তৈরি করবো।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির থানকুনি উদ্ভিদটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। অথচ মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে থানকুনি কার্যকর ভুমিকা রাখে। থানকুনি উদ্ভিদটিকে যদি আমরা না বুঝে আগাছা হিসেবে নষ্ট করি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন থানকুনি উদ্ভিদটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ উদ্ভিদটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; থানকুনি উদ্ভিদটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ উদ্ভিদটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন