শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৭

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির রুগ্ন দশা, দেখার কেউ নেই!






কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জ্ঞান চর্চার জন্য উন্মুক্ত একটি স্থানের নাম পাবলিক লাইব্রেরি। শিক্ষার্থী সহ জ্ঞানপিপাসু সাধারন মানুষ যেন এখানে এসে নানা ধরনের বই পড়ে জ্ঞান আরোহন করতে পারে এই উদ্দেশ্যেই তৎকালিন জ্ঞানপিপাসু জমিদার ১৮৫৪ সালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির জন্য ১.২৫ একর জমি দান করেন। জমিদারি প্রথা চলে যাবার পর লাইব্রেরিটির দায়িত্ব পান জেলা প্রশাসন। শুরু হতে লাইব্রেরিটি দেশি বিদেশি নানা ধরনের বই পত্রে সমৃদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে যেন তার জৌলুস হারাতে থাকে।
সরেজমিনে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি গিয়ে দেখা যায় তার রুগ্ন দশা। যেন দেখার কেউ নেই। লাইব্রেরিতে দু-একজন কর্মচারি ছাড়া আর কেউ নেই। আগের মত আর তেমন বই পত্র নেই। যেটুকু বই পত্র রয়েছে সেটুকুও থেয়ে ফেলেছে উইপোকা। আলমারি আর সেলফ্গুলিতে ধুলাবালি আর ভগ্ন দশা দেখে নিজেই চিনেতে পারছি না কয়েক বছর আগে আমিই এখানে পড়তে এসেছিলাম। 
কাগজে কলমে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য ৬ জন কর্মচারি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ২ জন। ১ জন কেয়ারটেকার অন্যজন ঝাড়–দার। লাইব্রেরিতে বই রয়েছে নতুন পুরাতন মিলে ৬ হাজারের মতো। দৈনিক পেপার নেয়া হয় ৭টি। চাকরির পেপার ১টি। কিছু বই থাকলেও শুধুমাত্র লোকবলের অভাবে দীর্ঘদিন লাইবে্িররতে বই পড়া বন্ধ রয়েছে। মুলতঃ এখানে দু-একজন পাঠক আসেন শুধুমাত্র পেপার পড়তে। পাবলিক লাইবে্িররর জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেন জানান দেয়, এখানে একযুগের বেশি সময় কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি। এখানে নেই কোন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা। ডিজিটাল যুগে এ সবের বরাদ্দ আছে কিনা তাও জানেন না সংশ্লিষ্টরা।
দেখে কষ্ট হল,বই রাখার সেলফগুলো ভাঙ্গাচোড়া, উইপোকাই খাচ্ছে মুল্যবান সব বই। একসময় পাবলিক লাইব্ররিতে প্রচুর পাঠক আসলেও এখন তা নেমে এসেছে শুন্যের কোঠায়। লাইব্রেরির নিজস্ব আয়ের উৎস বলতে একটি হল রুম রয়েছে। যা ভাড়া দেয়া হয়। এর আয় দিয়েই সাতটি পেপার নেয়া হয় পাঠকের পড়ার জন্য। আশ্চর্যের ব্যাপার লাইব্রেরিতে নেই কোন বাথরুম এমনকি পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা।
কথা হয় পত্রিকা পড়তে আসা পাঠক সাইফুল ইসলামের সাথে, তিনি জানান; দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তিনি লাইবে্িররতে আসেন পেপার পড়তে। আগে বই পড়া গেলেও লোকবলের অভাবে তা বন্ধ রয়েছে। এতে করে পাঠকরা হারাচ্ছে বই পড়ার আগ্রহ। তিনি অবিলম্বে পাবলিক লাইবে্িররটি সংস্কারসহ বই পড়া ও বেশি করে খবরের কাগজ রাখার জন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করছেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির এক সময়ের পাঠক কামরুজ্জামান মুক্তা জানান; ১৯৯৬ সালে আমি পাবলিক লাইব্রেরিতে আমার সাবজেক্টটিভ
অনেক বই পড়েছি। এখন শুনছি মূল্যবান বইগুলো আর পড়া হয় না। বই পত্রে উইপোকা বাসা বেধেছে এটা খুবই দুঃখজনক।
রংপুর পাবলিক লাইবে্িররর কেয়ারটেকার আজিজুল ইসলাম সানু জানান; আমরা অনেক কষ্টে আছি। মাসে বেতন পাই মাত্র আড়াই হাজার টাকা। আর ঝাড়–দার পায় মাত্র পাঁচশত টাকা। আমাদের এই টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। কতবার চাকরি ছাড়তে চেয়েছি, কোন লোক নিতে চায় না, অধীর আগ্রহে থাকি যদি কখনও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় ?
রংপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহেদুজ্জামান পাবলিক লাইব্রেরির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে জানান; পাবলিক লাইবে্িররর স্টিমেট দ্রুত তৈরি করে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে, আর  বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।       


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...