রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৭

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির রুগ্ন দশা হলেও সরকারি গণগ্রন্থাগারটি জৌলুসে ভরা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


একই সীমানা প্রাচীরের ভিতরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি আর তার পাশেই সরকারি গনগ্রন্থাগার। পাবলিক লাইব্রেরিটির রুগ্ন দশা থাকলেও সরকারি গনগ্রন্থাগারটি কিন্তু জৌলুসে ভরা। দীর্ঘ সময় ধরে তারা পাঠকও ধরে রেখেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাদের পাঠক সংখ্যা।
সরেজমিনে দেখতে চলে যাই রংপুর সরকারি গনগ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারটির ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি এ্যাকুরিয়াম। তাতে রয়েছে নাম না জানা অনেক মাছ। কি মনোরম দৃশ্য। চোখ ফেরানো দায়। এক জনকে জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেল, শিশু পাঠকদের আকৃষ্ট করতে এমন ব্যবস্থা। নিচ তলার রিডিংরুমে স্ব-যতেœ রাখা আছে সেলফ ভর্তি অতি মূল্যবান বই। দেথা গেল পাঠকরাও মনোযোগ সহকারে মনোনিবেশ করছে বইপড়ায়। রিডিং রুমের এক পার্শ্বে রাখা আছে একটি ওজন মাপক যন্ত্র। আর অন্যদিকে পাঠকদের জন্য রয়েছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা। সেখানেও পাঠকরা নিজ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দোতলায় রয়েছে পত্রিকা রিডিং রুম। সেখানে প্রতিদিন ১৩টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও রয়েছে ১৪টি সাময়িকি ও অনেক স্থানীয় পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা। তৃতীয় তলায় রয়েছে সেমিনার রুম। সবচাইতে ভাল লাগলো, এতো পাঠক তারপরও সুনশান নীরবতা। এই হলো রংপুর সরকারি গণগ্রন্থাগার।
গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হয় ১৯৮২ সালে। আর নতুন ভবনে কার্যক্রম চালু হয় ১৯৯১সালে। গণ গ্রন্থাগারটিতে প্রায় ৫০ হাজারের মতো বই রয়েছে। সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, উপন্যাস,  ছোট গল্প, বড় গল্প সহ অনেক বই রয়েছে সেখানে। প্রতিদিন প্রায় ৪’শ পাঠক এখানে বই ও পত্রিকা পড়তে আসে। সপ্তাহে ৫দিন (শনি হতে বুধ) সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগারটি খোলা থাকে।
আর ভাল লাগলো, গ্রন্থাগারের দেয়ালে সাটানো রয়েছে বঙ্গবন্ধু, বেগম রোকেয়াসহ অনেক গুণীজনের ছবি। এ ছাড়াও রয়েছে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার পাভেল রহমানের অসংখ্য দূর্লভ ছবি। ১৯৯০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত  যে সকল পত্রিকা গণগ্রন্থাগারটি ক্রয় করেছে কিংবা সৌজন্য সংখ্যা পেয়েছে, তার একটি করে কপি বালাম আকারে সরকারি গনগ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।
পাঠক শফিকুল ইসলাম(৭০) জানান; সুচনালগ্ন থেকে আজ অবধি তিনি এই গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক। প্রতিদিন  বই ও পত্রিকা পড়ার জন্য এখানে আসেন।
বই পড়তে আসা পাঠক আমিনুল ইসলাম জানান; আমি এখানকার নিয়মিত পাঠক। এই গ্রন্থাগারটি সাজানো গোছানো হওয়ায় আজও পাঠক ধরে রেখেছে তারা। দিন দিন তাদের পাঠক সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
তিনি আরও জানান; পাঠকদের জন্য তিনটি কম্পিউটার রয়েছে এবং তাতে রয়েছে ইন্টারনেট সুবিধা। নিয়মানুযায়ি একজন পাঠক ৩০ মিনিট পর্যন্ত নেট ব্রাউজ করতে পারবেন। 
রংপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান আবেদ আলি জানান; আমাদের এখানে সব সময় পাঠক পত্রিকা ও বই পড়ার জন্য আসে। গ্রন্থাগারটি অচিরেই বিভাগীয় গ্রন্থাগারে রুপ নিবে।  কার্যক্রম চলছে। তখন বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ সকল সুবিধা বাড়বে। তিনি আরও জানান; পাঠকদের সুবিধার্থে কম্পিউটারে নেট খরচের ব্যয়ভারটি বহন করে বেসরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থা রবি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৭

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির রুগ্ন দশা, দেখার কেউ নেই!






কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জ্ঞান চর্চার জন্য উন্মুক্ত একটি স্থানের নাম পাবলিক লাইব্রেরি। শিক্ষার্থী সহ জ্ঞানপিপাসু সাধারন মানুষ যেন এখানে এসে নানা ধরনের বই পড়ে জ্ঞান আরোহন করতে পারে এই উদ্দেশ্যেই তৎকালিন জ্ঞানপিপাসু জমিদার ১৮৫৪ সালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির জন্য ১.২৫ একর জমি দান করেন। জমিদারি প্রথা চলে যাবার পর লাইব্রেরিটির দায়িত্ব পান জেলা প্রশাসন। শুরু হতে লাইব্রেরিটি দেশি বিদেশি নানা ধরনের বই পত্রে সমৃদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে যেন তার জৌলুস হারাতে থাকে।
সরেজমিনে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি গিয়ে দেখা যায় তার রুগ্ন দশা। যেন দেখার কেউ নেই। লাইব্রেরিতে দু-একজন কর্মচারি ছাড়া আর কেউ নেই। আগের মত আর তেমন বই পত্র নেই। যেটুকু বই পত্র রয়েছে সেটুকুও থেয়ে ফেলেছে উইপোকা। আলমারি আর সেলফ্গুলিতে ধুলাবালি আর ভগ্ন দশা দেখে নিজেই চিনেতে পারছি না কয়েক বছর আগে আমিই এখানে পড়তে এসেছিলাম। 
কাগজে কলমে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য ৬ জন কর্মচারি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ২ জন। ১ জন কেয়ারটেকার অন্যজন ঝাড়–দার। লাইব্রেরিতে বই রয়েছে নতুন পুরাতন মিলে ৬ হাজারের মতো। দৈনিক পেপার নেয়া হয় ৭টি। চাকরির পেপার ১টি। কিছু বই থাকলেও শুধুমাত্র লোকবলের অভাবে দীর্ঘদিন লাইবে্িররতে বই পড়া বন্ধ রয়েছে। মুলতঃ এখানে দু-একজন পাঠক আসেন শুধুমাত্র পেপার পড়তে। পাবলিক লাইবে্িররর জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেন জানান দেয়, এখানে একযুগের বেশি সময় কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি। এখানে নেই কোন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা। ডিজিটাল যুগে এ সবের বরাদ্দ আছে কিনা তাও জানেন না সংশ্লিষ্টরা।
দেখে কষ্ট হল,বই রাখার সেলফগুলো ভাঙ্গাচোড়া, উইপোকাই খাচ্ছে মুল্যবান সব বই। একসময় পাবলিক লাইব্ররিতে প্রচুর পাঠক আসলেও এখন তা নেমে এসেছে শুন্যের কোঠায়। লাইব্রেরির নিজস্ব আয়ের উৎস বলতে একটি হল রুম রয়েছে। যা ভাড়া দেয়া হয়। এর আয় দিয়েই সাতটি পেপার নেয়া হয় পাঠকের পড়ার জন্য। আশ্চর্যের ব্যাপার লাইব্রেরিতে নেই কোন বাথরুম এমনকি পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা।
কথা হয় পত্রিকা পড়তে আসা পাঠক সাইফুল ইসলামের সাথে, তিনি জানান; দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তিনি লাইবে্িররতে আসেন পেপার পড়তে। আগে বই পড়া গেলেও লোকবলের অভাবে তা বন্ধ রয়েছে। এতে করে পাঠকরা হারাচ্ছে বই পড়ার আগ্রহ। তিনি অবিলম্বে পাবলিক লাইবে্িররটি সংস্কারসহ বই পড়া ও বেশি করে খবরের কাগজ রাখার জন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করছেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির এক সময়ের পাঠক কামরুজ্জামান মুক্তা জানান; ১৯৯৬ সালে আমি পাবলিক লাইব্রেরিতে আমার সাবজেক্টটিভ
অনেক বই পড়েছি। এখন শুনছি মূল্যবান বইগুলো আর পড়া হয় না। বই পত্রে উইপোকা বাসা বেধেছে এটা খুবই দুঃখজনক।
রংপুর পাবলিক লাইবে্িররর কেয়ারটেকার আজিজুল ইসলাম সানু জানান; আমরা অনেক কষ্টে আছি। মাসে বেতন পাই মাত্র আড়াই হাজার টাকা। আর ঝাড়–দার পায় মাত্র পাঁচশত টাকা। আমাদের এই টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। কতবার চাকরি ছাড়তে চেয়েছি, কোন লোক নিতে চায় না, অধীর আগ্রহে থাকি যদি কখনও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় ?
রংপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহেদুজ্জামান পাবলিক লাইব্রেরির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে জানান; পাবলিক লাইবে্িররর স্টিমেট দ্রুত তৈরি করে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে, আর  বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।       


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

ফিরে এলাম তোমাদের মাঝে




প্রানপ্রিয় বন্ধুরা,
দীর্ঘদিন পর আমি আবার তোমাদের মাঝে ফিরে এলাম। আমার এ বিরতি আমার কারনে নয়। হঠাৎ আমার ফেসবুক আইডি বন্ধ হবার কারনে আমার এ বিরতি। আমি নিজেও জানি না কেন তারা আমার আইডিটা বন্ধ করে দিল। আমার প্রোফাইলে যাবতীয় তথ্য থাকার পরও এত দিন আমার আইডি বন্ধ ছিল।  তোমাদের ছেড়ে এ ক-দিন আমার যে কিভাবে কেটেছে তা তোমাদের আমি বলে বুঝাতে পারবো না। অনেক চেষ্টা করে আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু রফিকুল ইসলাম আমার আইডিটা খুলতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য আমার বন্ধু রফিকুলকে জানাই আমার কৃতজ্ঞতা। গতকাল বুধবার(২৬এপ্রিল)রাতে আমি আমার বন্ধ হয়ে যাওয়া আইডটা ফিরে পেয়েছি। ব্লগ ও ফেসবুকে আমার বয়স সাড়ে ৫মাস হবে। এর মাঝে ছন্দপতন। মনে অনেক কষ্ট নিয়ে ব্লগেও কোন লেখা পোষ্ট করিনি। যাক, তোমাদের আমি ফিরে পেয়েছি এবং আমি আমার সকল লেখাগুলি ফিরে পেয়েছি এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। দেশ বিদেশের সকল বন্ধুরাই আমার অনেক ভাল বন্ধু। তোমাদের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ। আমি তোমাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আজ হতে আমি তোমাদের কাছে নিয়মিত কিছু লেখা নিয়ে উপস্থিত হবো। আশা করছি, তোমরা সকলেই পুর্বের ন্যায় আমার সঙ্গে থাকবে। তোমরা সকলেই ভালো থেকো, সুস্থ্য থেকো,এই প্রত্যাশাই করছি।

তোমাদের বন্ধু
কামরুজ্জামান মুক্তা



তারিখ-২৮এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৭

কাউন চাষ হারিয়ে যেতে বসেছে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সু-স্বাদু একটি ফসলের নাম কাউন। যা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে রয়েছে সু-স্বাদু ফসলটির নাম। এক সময় গ্রামে গঞ্জে ব্যাপকভাবে কাউনের চাষ হলেও বর্তমানে উন্নতজাত ফসলের প্রতিয়োগিতায় টিকতে না পেরে হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন নামের ফসলটি। স্বল্প খরচ,পরিবেশ বান্ধব, সহজ চাষ পদ্ধতি ও পানি সাশ্রয়ি হবার পরও শুধুমাত্র মানুষের অবহেলা আর অনাদরে কাউনের চাষ আর নেই। ফসলটি যেন কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে।
কাউনের বৈজ্ঞানিক নাম-ছিটারিয়া ইটালিকা গোত্র- গ্রামিনি।
সরেজমিনে গত ১ মাস ধরে অনেক খোঁজাখুজির পর কাউন চাষের দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির যমুনেশ্বরি নদীর চরাঞ্চলে।
কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় কাউন নামক ফসলটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সম্ভ্রান্ত কৃষক নলিনী সরকারের (৯০) সাথে তিনি জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক জমিতেই কাউন চাষ হত, এখন আর চোখে পড়ে না। ফসলটির চাষ পদ্ধতি সহজ,স্বল্প খরচ,পানি সাশ্রয়ি ও পরিবেশ বান্ধব। শুকনো জমিতে ঝুরঝুরে চাষের পর চৈত্র(এপ্রিল) মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। আষাঢ়(জুলাই) মাসে ফসল ঘরে উঠে।
তিনি আরও জানান ; মাঝে একবার নিড়ানি দিলেই হয়, সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলন হয় বিঘা প্রতি ১০-১৫মন। বাজারে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাছাড়া কাউনের শীষ ছিড়ে নিয়ে অবশিষ্ট গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে জৈব সারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। আবার কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। কাউনের ভাত অত্যন্ত সূ-স্বাদু ও মুখরোচক। জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। পিঠা-পায়েস তৈরিতে এর কোন জুড়ি নেই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান ; লাভজনক, সূ-স্বাদু ,পরিবেশ বান্ধব, স্বল্প খরচে আবাদ যোগ্য ও পানি সাশ্রয়ি কাউন নামের দেশি এই ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এ জন্য সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
তিনি জানান;যেহেতু ফসলটি পানি সাশ্রয়ি,তাই কাউনকে নিয়ে উন্নত গবেষনার প্রয়োজন।  যদি উন্নত গবেষনার মাধ্যমে নতুন জাত সৃষ্টি করে কৃষকদের মাঝে দেয়া যায় তাহলে একদিকে যেমন কাউন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন অন্যদিকে দেশিয়,পরিবেশবান্ধব,সু-স্বাদু ও পানি সাশ্রয়ি কাউন ফসলটিকেও রক্ষা করা যাবে। 
তিনি আরও জানান; দেশিয় জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষন করতে হবে।  তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কাউন নামের ফসলের নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন ; কাউন ফসলটি আসলেই বিলুপ্তির পথে। উপজেলায় এখন কোন চাষি কাউন আবাদ করে কিনা আমার জানা নেই। তিনি আরও জানান; আমাদের স্বার্থেই দেশিয় জাতের কাউন ফসলটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২এপ্রিল/১৭
তারিখ-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 











মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৭

পানি অপচয় করা মানে নিজেকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পানির অপর নাম জীবন। এটা আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। জানা এবং বুঝার পরও আমরা পানির ব্যবহার সঠিকভাবে করি না। ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃতভাবে পানির অপচয় আমরা করেই চলেছি। আমাদের দেশের কম বেশি মানুষের মধ্যে একটি বদ্ধমুল ধারনা রয়েছে পানি হল একটি অফুরন্ত সম্পদ। মনে রাখতে হবে,পানি সম্পদ বটে তবে অফুরন্তÍ নয়। এই সম্পদকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হোক সে পানি ভু-উপরিভাগ নয়তো ভু-গর্ভস্থ। অযথা অপচয় করা চলবে না। আমরা ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত কিংবা অবহেলায় নানা ভাবে এই পানি সম্পদের অপচয় করি। যেমন; গোসল কাজে অতিরিক্ত পানির ব্যবহার, অফিস-আদালত,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি নানা দপ্তর সহ দেশের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় এই পানি অযথাই অপচয় হয়। পানির ট্যাংকে বাসি পানির দোহাই দিয়ে অযথাই আমরা পানির অপচয় করি। বাথরুম কিংবা টয়লেটে টেপ বন্ধ না করে কিংবা আংশিক বন্ধ করে চলে যাই, টেপ নষ্ট হওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত পানির অপচয় এ যেন আমাদের দেখতে দেখতে সয়ে গেছে। অবশ্যই পানির ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এখনই। তা না হলে একদিন পানির অভাবে আমাদেরই মরতে হবে। আমাদের স্মরন রাখতে হবে পৃথিবীর অনেক দেশে টাকা দিয়ে দুর-দুরান্ত হতে অনেক কষ্টে পানি সরবরাহ করতে হয়। আমাদের পাশ্ববর্তী অনেক দেশে পানি সমস্যা এতটাই প্রকট যে, টয়লেটের পানি বিশুদ্ধ করে তা জনগনকে খেতে হয়। 
এমন পরিস্থিতিতে যাবার আগেই আমাদের একটু খানি সচেতনতা বোধ আমাদের ব্যবহার্য পানি তথা পেয় পানি(সুপেয় পানি) নিজের সহ পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও আমরা নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের জানতে হবে পানির উৎস, জানতে ও বুঝতে হবে ভু-উপরিভাগের পানি আমরা কোথা হতে পাই,ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর চাষাবাদ সহ অতিরিক্ত অপচয়ে বর্তমানে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কেনইবা অল্প সময়ের মধ্যে পানির স্তর এত নিচে নেমে গেল। আমরা সবাই জানি; উৎপত্তিস্থল হতে ভারত এক তরফা নদীশাসন তথা স্বাদু পানিকে নিজ নিয়ন্ত্রনে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। জীবন ধারনের জন্য পানির গুরত্ব অপরিসীম বটে তবে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিঃসন্দেহে স্বাদু পানি। একটি পরিসংখ্যানের আলোকে বিশ্বে স্বাদু পানির পরিমান দেখা যেতে পারে।

পানির উৎস    বর্হিভাগ হিসাবে
বর্গমাইলে     আয়তন হিসাবে
ঘনমাইলে    শতকরা পরিমান
ক)লবনাক্ত পানি
সমুদ্রের পানি
আভ্যন্তরীন সাগর ও হ্রদের পানি   
১৩৯,৫০০,০০০
২৭০,০০০   
৩১৭,০০০,০০০
২৫,০০০   
৯৭.২
০.০০৮
মোট    ১৩৯,৭৭০,০০০    ৩১৭,০২৫,০০০    ৯৭.২০৮
খ)স্বাদু পানি
হ্রদের পানি
নদীর পানি
উত্তর মেরুর বরফ
দক্ষিণ মেরুর বরফ
বাতাসে জলীয় বাষ্প
ভূ-গর্ভস্থ পানি   
৩০০,০০০
    
৬১,০০০,০০০
৯০০,০০০
১৯৮,০০০,০০০
   

৩০,০০০
৩০০
৬,৫০০,০০০
৫০০,০০০
৩১০০
২,০১৬,০০০   
০.০০৯
০.০০১
১.৯৯২
০.১৫৪
০.০০১
০.৬৩৫
মোট    ২৬০,২৩০,০০০    ৯,০৪৯,৪০০    ২.৭৯২
সর্বমোট    ৪০০,০০০,০০০    ৩২৬,০৭৪,৪০০    ১০০.০০০

উপরের পরিসংখ্যান হতে দেখা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর মোট পানির আয়তন ৩২৬,০৭৪,৪০০ ঘনমাইল। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯৭ ভাগ লবনাক্ত পানি (স্যালাইন ওয়াটার) এবং ২.৫০ভাগ (নরমাল ওয়াটার) স্বাদু পানি। মোট স্বাদু পানির অধিকাংশই বরফ হিমবাহ ও জলীয় বাস্পে আবদ্ধ। হ্রদ, নদী ও খাল-বিলে অবস্থিত পানির পরিমান খুবই সামান্য। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট পানির পরিমান ০.০১ ভাগ। (সুত্রঃ স্নাতক উদ্ভিদ বিজ্ঞান; প্রফেসর আমজাদ আলি খান)।
যদি পেয় পানি অর্থ্যাৎ সু-পেয় পানির পরিমান এত কম হবার পরও আমরা এই পানি সম্পদকে অযথাই অপচয় করি তাহলে একদিন বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভেবে দেখেছেন কি? সময় থাকতে পানির অপচয় রোধ করে নিজের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করি।
এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু জানান; পানি সম্পদ ব্যবহারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। অযথা আমরা পানির অপচয় করবো না প্রয়োজনে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে। তিনি আরও জানান; পানির অপচয় রোধে দরকার হলে স্ব-স্ব দপ্তরের প্রধানদের মনিটরিং করতে হবে। সর্বোপরি চাই আমাদের আত্মসচেতনতা বোধ। মনে রাখতে হবে,পানির অপচয় করা মানে নিজেকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রিদের পথিকৃত বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কাজি আবেদা গুলশান। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা। বদরগঞ্জ উপজেলায় চাকুরিতে যোগদানের পর হতে উপজেলায় নারী শিক্ষার পথিকৃত হিসেবে আর্বিভুত হয়েছেন। তাকে পথিকৃত ভেবে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশে বিদেশে পড়াশুনা করছেন এবং স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষা প্রসারে বাস্তবধর্মি ও সুদুর প্রসারি কাজ নিরলশভাবে করে যাচ্ছেন। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান বদরগঞ্জে যোগদানের পর বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের আমন্ত্রনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন;শত প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে তোমাদের(নারীদের)এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে, তোমরা শিক্ষিত হওয়া মানে জাতি শিক্ষিত হওয়া। তিনি আরও বলেন; আজ হতে তোমরা বেশি বেশি করে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করো, সফল তোমরা হবেই।
তার এই আবেগ তাড়িত বক্তব্য (কথা) শত শত কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মনকে নাড়া দেয়। তার এই আবেগ তাড়িত ভালবাসা মেশানো বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে কি প্রভাব ফেলেছিল তা আমি পাঠকের মাঝে জানানোই আমার এ লেখার উদ্দেশ্য।
তমা সাহা। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। তমা সাহা ওই সময় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্রি ছিল। টেষ্ট পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে কলেজে প্রথম স্থান অধিকার করে। পরে এইচএসসি পরীক্ষায়  জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ন হয়ে ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়।
মোবাইল ফোনে তমা সাহার সাথে কথা হলে সে জানায়; আমার টেষ্ট পরীক্ষার আগে আমাদের এক অনুষ্ঠানে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান জীবনে বড় হতে গেলে কি করতে হয়, আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন। তার ওই কথাগুলো আজও আমার কানে বাজে। তখন আমার কাছে মনে হল একজন নারী হয়ে উনি যদি এতদুর আসতে পারেন তাহলে আমি পারবো না কেন? সত্যি কথা বলতে কি, উনি আমার আইডল।
তমা সাহা জানান;আমি গ্রামের মেয়ে। আমার বাবা গরীব মানুষ। তারপরও আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি উনি(কাজি আবেদা গুলশান) পেরেছেন আমাকেও পারতে হবে।
তমা আরও জানান;ম্যাডামের ওই দিনের কথায় আমাদের ক্লাসের সকল বান্ধবীদের চোখে মুখে আমি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। মাঝে মধ্যেই বান্ধবীরা আমাকে বলতো আমরাও যদি লেখাপড়া শিখে ম্যাডামের মত হতে পারতাম। ওই ব্যাচের অনেক ছাত্রি দেশের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। ম্যাডমের কথা আমার আজীবন মনে থাকবে। তিনি আমার প্রেরনা। 
মোবাইল ফোনে কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও লন্ডনে ব্যারিষ্টারি পড়–য়া ছাত্রি তামান্না আশফির সাথে, তিনি জানান; বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান আমাদের উপজেলায় নারীদের পথিকৃত। তাকে অনুকরন ও অনুসরন করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে আজ আমার এতদুরে আসা। তিনিই আমার প্রেরনা।
আমি বিশ্বাস করি এবং দোয়া করি, তিনি(কাজি আবেদা গুলশান) অনেক বড় হবেন এবং একদিন সরকারের আরও গুরুত্বপুর্ন পদে অধিষ্টিত হবেন। তিনি তার দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে নারীদের আরও প্রেরনা জুগিয়ে যাবেন এটাই তার কাছে আমার প্রত্যাশা।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; নারী শিক্ষা প্রসারে তিনি একটি উদাহরন। আমার কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে ভাল ফলাফল    করে দেশের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করছে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৭

অধিক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ সব্জি সজিনা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবহেলা অনাদর আর আপনাআপনি জন্মানো একটি সবজি জাতীয় গাছের নাম সজিনা।   বাংলাদেশে জন্মানো সবজির মধ্যে অধিক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ সবজি হল সজিনা। তার পুষ্টিগুন এতটাই যে কৃষি বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন “পুষ্টির ডিনামাইড”। আবহাওয়া ও মাটির গুনাগুন অনুযায়ি বাংলাদেশের সকল স্থান সজিনা চাষের উপযোগি। শুধুমাত্র গাছটির ডাল মাটিতে গর্ত করে লাগিয়ে দিলেই ডালে ডালে সজিনাতে ভরে যায়। বাড়ির পাশে জমির ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জায়গায় মানুষের কোন ধরনের পরিশ্রম কিংবা বিনা খরচে গাছটি জন্মাতে পারে। সজিনার ডাটা পছন্দ করেন না এমন মানুষ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ আমরা এই অধিক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ সবজি সজিনাকে তেমন গুরুত্ব দেই না। এর চাষ করে একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়া সম্ভব অন্যদিকে মানুষও পেতে পারে অধিক পুষ্টি। শুধুমাত্র অবহেলার কারনেই আমরা এই পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ সবজি সজিনার গাছ রোপন করি না। আর এ কারনেই আমরা অধিক পুষ্টি হতে সর্বদাই বঞ্চিত হচ্ছি।
সজিনার বৈজ্ঞানিক নাম- মরিনগা অলিফেরা,গোত্র-মরিনগাসি।
সজিনা গাছ আকারে ছোট। এর পাতা ছোট,ফুলগুলি ছোট অনেকটা সাদা রংয়ের,ফল লম্বাটে ধরনের।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির বানিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়;বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে সারি সারি সজিনা গাছ। গাছগুলিতে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য অপরিপক্ক (চিকন) সজিনা।
কথা হয় সজিনা বাগান মালিক এ্যাডভোকেট আরমানুজ্জামান জামানের সাথে,তিনি জানান; সজিনা এমন একটি সবজি জাতীয় গাছ যাকে তেমন পরিচর্যার দরকার হয় না। খরচও নেই অথচ অধিক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ একটি ফসল। তাই শখের বশে আমার বাড়ির রাস্তার দু-ধারে সজিনার গাছ রোপন করেছি।
তিনি আরও জানান; যে কেউ বাড়ির আশে পাশে পরিত্যক্ত জমিতে সজিনা চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারেন।
আয়ুর্বেদ মতে;সজিনা ডাটা শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি,হজমকারক, কোষ্ঠকাঠিন্য দুর,বীর্য উৎপাদনে সহায়তা করে। এর পাতার রস শ্বাসকষ্টে ও চুলের খুসকি সরাতে কাজ করে। সজনে ফুল কফ্, কাশি, নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করে,কৃমিনাশক হিসেবে ভীষন কার্যকর ভুমিকা রাখে। এছাড়াও মানব শরীরে নানাবিধ উপকারে আসে এই সবজি জাতীয় গাছটি।  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; সজিনা এমন একটি সবজি, যার পাতা ফুল ও ফল মানুষের উৎকৃষ্ট সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অথচ আমরা শুধুমাত্র অবহেলা করেই এই পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ গাছটি রোপন করছি না। তিনি আরও জানান; বাজারে সজিনার চাহিদাও ব্যাপক। সজিনা চাষ করে যে কেউ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; সজিনা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। কৃষকরা অন্য ফসলের পাশাপাশি সজিনা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  
   




শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৭

কষ্টই যাদের নিত্য সঙ্গী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
জীবন ও জীবিকার  প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশা আকঁড়ে ধরে। সহায় সম্বলহীন অসহায় এক মানুষ মোকলেছুর রহমান (৫৪)। বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি ফকিরের বাজার গ্রামে। পেশায় একজন ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা। মহিলাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স সামগ্রি হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করাই যার একমাত্র কাজ। সকাল হতে রাত পর্যন্ত তিনি বিরতিহীনভাবে পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রি মহিলাদের প্রয়োজন কিনা তা জিজ্ঞাসা করেন এবং তা বিক্রি করেন। এ ব্যবসা হতে যা আয় হয় তা দিয়েই কোন রকমে চলে তার সংসার। তার মুলধন না থাকার কারনে এবং এই ব্যবসায় পুঁজি কম লাগার কারনে এই পেশাকে তিনি বেছে নিয়েছেন। ব্যবসা করে তার প্রতিদিন আয় হয় ২শত হতে আড়াই শত টাকা।
আজ শুক্রবার(৭এপ্রিল)সকালে এই প্রতিবেদক ঘুমে থাকা অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ছেন এক ব্যক্তি। দরজা খুলে দেখলেন কালচে পাতলা গড়নের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে এবং বলছেন মহিলাদের চুরি ফিতা,আয়না চিরুনি কিংবা সুই সুতা লাগবে কিনা ? অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বাড়ির ভিতরে ফেরিওয়ালাকে আমন্ত্রন জানালাম। ধীরে ধীরে জানতে পারলাম তার ব্যবসা ও কষ্টের কথা।
ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা মোকলেছুর রহমান জানান; আমি এক সহায় সম্বলহীন গরীব মানুষ। ছোট বেলায় মা বাবা মারা গিয়েছে। লেখাপড়া শিখতে পারিনি। ৩০বছর ধরে মানুষের কাছে ধার নিয়ে এই ক্ষুদ্র ব্যবসা করছি। বর্তমানে এনজিওদের কাছে লোন নিয়ে কোন রকমে ফেরি করে মাল বিক্রি করে আমি আমার সংসার চালাই। তিনি জানান; পায়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে মাল বিক্রি করতে আর ভাল লাগে না। কিন্তু আমি গরীব মানুষ। এক দিন ব্যবসা না করলে আমার সংসার চলবে না। বাধ্য হয়ে কষ্ট করছি। আমি প্রতিদিন ১৮কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে বদরগঞ্জে আসি এবং এখানকার বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কসমেটিক্সের মাল বিক্রি করি।
তিনি আরও জানান; বিক্রি কম হওয়ায় অনেক সময় মহাজনকে টাকা দিতে পারি না। মহাজনও পরে আর বাকিতে মাল দিতে চায় না। তখন তার হাতে পাঁয়ে ধরে কসমেটিক্সের মাল নিয়ে আসি। বিক্রি করে তার টাকা পরিশোধ করি এবং প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; এক শ্রেনির মানুষ এ পেশাটিকে আকঁড়ে ধরে আছে। এ পেশাটি আসলেই কষ্টদায়ক। সরকার ও এনজিও যদি এদের সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এই সকল সহায় সম্বলহীন গরীব মানুষগুলোর উপকার হতো।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

পান বাগানে একদিন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃপাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষ কবে হতে খাবার গ্রহনের পর পান খাওয়া শুরু করেছে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা না থাকলেও খাদ্য গ্রহনের পর পান চিবাতে বাংলা ভাষাভাষিরা পটু।
বাংলাদেশের পুর্নবয়স্ক এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না,যে কোন দিন পান খাননি।
এমনও মানুষ রয়েছে যিনি প্রতিদিন গড়ে ২ শত পর্যন্ত পান খান। পান মুলতঃ খাদ্য হজম করতে গুরুত্বপুর্ন ভমিকা রাখে। পানের বৈজ্ঞানিক নাম- পাইপার বেটেল গোত্র-পাইপারেসি।
সরেজমিনে ছুটির দিনে বেড়ানের ফাঁকে একদিন চলে যাই দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ পান বাগানে। যেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি পান বাগান। আর সেখানে উৎপাদন করা হচ্ছে পান।
কাছে গিয়ে দেখা যায়,পান ক্ষেতটি সম্পুর্নরুপে বেড়া দিয়ে ঘেরা,তাতে সারিবদ্ধভাবে পানের চারা লাগানো। প্রতিটি পান চারাতে একটি করে বাঁশের কঞ্চি দেয়া রয়েছে যার উপর ভর করে পান গাছ গুলি উপরে উঠে। গাছের বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে পুর্নতাপ্রাপ্ত পানগুলি কৃষকরা সংগ্রহ করে এবং তা বাজারজাত করনের জন্য প্রস্তুত করে। যা আমরা বাজার হতে ক্রয় করে খাদ্য গ্রহনের পর খাই।
কথা হয় পান চাষি শশী মোহনের(৬৫) সাথে, তিনি জানান; আমার পূর্বপুরুষরা এই পান চাষের সাথে জড়িত। আমরাও এই পান চাষ করি। তিনি আরও জানান; জমিটি প্রথমে চাষ করে সার প্রয়োগ করতে হয়। তারপর সম্পুর্ন ক্ষেতটি বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়। পানের চারা লাগানোর পর প্রতিটি চারাতে বাঁশের কঞ্চি দেয়া হয় যাতে কঞ্চির উপর ভর করে পান গাছগুলি উপরের দিকে উঠতে পারে। দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকাড়রা আমাদের এখানে এসে পান কিনে নিয়ে যায়।
কথা হয় একই গ্রামের পান চাষি যগদীস চন্দ্রের(৬৮)সাথে,তিনি জানান; যেহেতু পান চাষ আমাদের পুর্বপুরুষের পেশা তাই আমরাও পান চাষ করি। তিনি আরও জানান; সরকার যদি আমাদের সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমরা আরও বেশি পান উৎপাদন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারতাম। এই পান চাষের আয়ের উপরই চলে আমাদের সংসার।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আমাদের অঞ্চলে পান খান না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। পান মুলতঃ হজমকারক হিসেবে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। তিনি আরও জানান; পান চাষিদের যদি সরকার সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে পান চাষ আরও সমৃদ্ধ হতো।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান; আমাদের এখানে কৃষকরা পান চাষ করছেন। আমরা তাদেরকে পান চাষে উৎসাহ প্রদান করছি এবং পানে চাষে যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ কওে যাচ্ছি। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৭

বদরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহি বারুনি মেলা যেন সকল সম্প্রদায়ের মিলন ক্ষেত্র


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


বদরগঞ্জে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহি বারুনি মেলা। এ মেলা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয় এ যেন সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন মেলা। মানুষের এই মিলন মেলা দেখতে সরেজমিনে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির শেখের হাট নামক এলাকায় যমুনেশ্বরি নদীর তীরবর্তী স্থানে। কবে হতে এই ঐতিহ্যবাহি শেখেরহাট বারুনি মেলা শুরু হয় তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের মুখ হতে জানা যায়; ২শত বছর ধরে চলা এ মেলা শুরু হতে আজ অবধি সকল ধর্মের মানুষদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। হিন্দু মুসলমান সহ সকল ধর্মের মানুষদের ভার্তৃত্বের বন্ধনও রয়েছে  অটুট। এখনও তাতে তিল পরিমান চিড় ধরেনি। প্রতি বছরের ৪এপ্রিল (চৈত্রের ২১) এ মেলা শুরু হয়। মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন  পুরাতন বছরের সকল গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরে পদার্পন করে গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে।
দেখা যায়; মেলায় লোকে লোকারন্য। মেলার এক পাশে মহিলারা রান্নায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, দেখে যেন মনে হয় এক দিনের পাতানো সংসার। সবচেয়ে মজার বিষয় এ মেলায় রয়েছে রসুনের বিরাট হাট। দূর-দূরান্ত হতে পাইকাড় ও সাধারন মানুষেরা এখানে  এসে রসুন কিনে নিয়ে যান। রসুনের হাটে গিয়ে কথা হয় রহিমাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপাশা বেগম এর সাথে,তিনি জানান; প্রতি বছরই তিনি বারুনি মেলায় আসেন। এবারও তিনি এসেছেন মেলা দেখতে ও রসুন কিনতে। রসুন কিনেছেন।
তিনি আরও জানান;এবার রসুনের দাম কিছুটা বেশি।
এ ছাড়াও বারুনি মেলায় স্থান পেয়েছে গ্রামিন ঐতিহ্যের ধারক  হাতে তৈরি নানা ধরনের খাবার ও খাবারের দোকান। এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন রকমের জিলাপি,খাকড়াই,কটকটি,
বাতাসা,কদমা,চিনির তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতি-ঘোড়া।
দোকান মালিক অমল রায় জানান; বিক্রি ভাল। মেলায় প্রচুর লোকজনের সমাগম হয়েছে। আশা করছি ব্যবসা ভাল হবে।  মেলায় আগুন্তুক দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগোরদোলা,মটরসাইকেল খেলা ও পুতুল নাচ খেলা।
বারুনি মেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান; প্রতিবছর এ মেলা সাতদিন করে হলেও এবার নিলাম ডাক না হওয়ায় মেলা একদিনেই শেষ করতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান; এ মেলা সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এক মিলন মেলা।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   

মনুষ্য চাপে বিলীনের পথে ক্ষুদ্র প্রাণি উইপোকার বসতি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রানি মানুষ। সৃষ্টির শুরু হতে আজ অবধি মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সকল প্রানিকে বশে এনে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান দিয়েছে বারবার। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ যে কোন ধরনের কাজ করতে কুন্ঠাবোধ করে না। হোক সে কাজ ভাল নয়তো মন্দ। এক সময় মানুষের সংখ্যা কম থাকার কারনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা মাকড় হতে শুরু করে গাছপালা সহ নাম না জানা নানা ধরনের জীব,বড় বড় জীবজন্তুর অভয়াশ্রম ছিল এই পৃথিবী। কিন্তু ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রকৃতিও যেন তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। যেমন বনে-জঙ্গলে গাছ নেই, জীবজন্তু নেই,নদীতে মাছ নেই,আকাশে পাখি নেই। এমনকি ভু-গর্ভস্থ পানি সম্পদও আর পর্যাপ্ত পরিমানে নেই। সব খানেই শুধু নেই আর নেই। এই নেই নেই থাকার পিছনে একমাত্র কারন মানুষ। জনসংখ্যার আধিক্যের কারনে নতুন নতুন বসতি নির্মানের ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা, উইপোকার বসতি আজ প্রকৃতি হতে বিলীনের পথে। সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উইপোকার বসতির (ঢিপ) দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির ওসমানপুর গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা মাটি দিয়ে তৈরি উইপোকার বসতিটির উচ্চতা কমপক্ষে ৭ ফিট। সম্পন্ন ঢিপটিই মাটি দিয়ে নির্মিত। যা অনেকটাই স্যাঁতস্যাঁতে।
কথা হয় ওসমানপুর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক রাজু আহম্মেদের সাথে,তিনি জানান; আগে আমাদের এলাকায় অসংখ্য উইপোকার ঢিপি ছিল। মানুষ উইপোকার বসতি নষ্ট করে বাড়ি ঘর নির্মান করায় বর্তমানে আর আগের মত দেখতে পাওয়া যায় না।
কথা হয় একই গ্রামের বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য বিপ্লব সরকারের সাথে,তিনি জানান; আসলে মানুষের কাছে প্রকৃতির কোন জিনিষই নিরাপদ নয়। মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে ভারসাম্যহীন করে তুলছে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; উইপোকার বসতি তথা মাটি দিয়ে তৈরি করা তাদের বাসস্থান আর নেই বললেই চলে। বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্রকৃতির ভারসাম্য আমরা মানুষরাই নষ্ট করে চলেছি।
প্রকৃতিকে তার নিজের মত করে চলতে দেয়া উচিত। তিনি আরও জানান; প্রকৃতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে এর প্রভাব একদিন মানুষের উপরই পড়বে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ থানকুনি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠা একটি উদ্ভিদের নাম থানকুনি।  অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা উদ্ভিদটি মনুষ্য সমাজে বিরাট ভুমিকা রাখে। অনেকেই আমরা উদ্ভিদটির গুনাগুন সম্পর্কে জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির থানকুনি  উদ্ভিদটিকে অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ উদ্ভিদটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। থানকুনির বৈজ্ঞানিক নাম-সিনটিলা এসিয়েটিকা,গোত্রের নাম-আমবেলিফেরি। বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদটির পাতা গোলাকার ও কিঞ্চিত মোটা। মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন থানকুনি উদ্ভিদটি ভেষজ শিল্পে অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখছে।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের রেল লাইনের ধারে থানকুনি উদ্ভিদটিকে দেখতে পাওয়া যায়।
থানকুনি উদ্ভিদ সম্পর্কে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিকের(৮৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটি আগে আমাদের বাড়িসহ জমির ধারে পাওয়া যেত। আগাছা হিসেবে মানুষ উদ্ভিদটিকে নষ্ট করে ফেলায় থানকুনি আর চোখে পড়ছে না। তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। উদ্ভিদটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
গ্রাম্য কবিরাজ রহমত আলি(৭০) জানান;অনেক খোঁজাখুঁজির পর রেললাইনের ধারে থানকুনি পেলাম। একজন রোগির জন্য উদ্ভিদটির পাতা আমার ভীষন দরকার ছিল। এখান হতে পাতা নিয়ে যাচ্ছি,ঔষধ তৈরি করবো।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির থানকুনি উদ্ভিদটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। অথচ মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে থানকুনি কার্যকর ভুমিকা রাখে। থানকুনি উদ্ভিদটিকে যদি আমরা না বুঝে আগাছা হিসেবে নষ্ট করি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন থানকুনি উদ্ভিদটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ উদ্ভিদটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; থানকুনি উদ্ভিদটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ উদ্ভিদটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪        

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...