
বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে জমি চাষ করেও অস্তিত্ব সংকটেরংপুরের পাল সম্প্রদায়
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃধরনি কান্ত পাল(৮০) রংপুর সদরের পালপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি। ছোট বেলা হতে তার সম্প্রদায়কে দেখেছেন রাত দিন বাহারি রকমের মাটির তৈজষপত্র বানাতে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করতে। চাহিদার কারনে বাবা-ঠাকুরদাদের দম ফেলানোর সময় ছিল না। তখন আর্থিক অনটন কি বুঝতেই পারিনি। এসব যেন সবই স্মৃতি।
গতকাল সোমবার (২৮নভেম্বর) সকালে পালপাড়া ঢুকে তার সাথে দেখা হলে তিনি এসব কথা জানান। তিনি দূঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন ; যাদের বর্তমান নেই তাদের আবার ভবিষ্যত। যেটুকু জমি ছিল দাদনের(সুদের) টাকা শোধ করতেই শেষ। এজন্য আমাদের ছেলেরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকুরি করছে। মাসে কিছু টাকা পাঠায় যা দিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছি। এই গ্রামের ২৫০ পরিবার তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রাখতে না পেরে জীবন জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছেন । বর্তমানে প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ গামের্ন্টস, রিক্সা কিংবা নিজের নয়তো বর্গা নেয়া জমিতে চাষাবাদ করে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছে। ফলশ্র“তিতে গ্রাম বাংলার আবহমান এতিহ্য মৃৎশিল্প আজ বিলীন হওয়ার পথে। এখনও যে কয়েকটি পাল পরিবার তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা ধরে রেখেছেন তারাও পেশা বদলের কথা ভাবছেন।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে যোগেন চন্দ্র পাল (৫০) চন্ডি চরন পাল (৫৫) জানান ; পূর্ব পুরুষের পেশা ছাড়তে কার ভালো লাগে। বেলে-এঁটেল মাটি স্বল্পতা, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, মাটির তৈরী আসবাবপত্রের চাহিদা কমে যাওয়া,সরকারি-বেসরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা না পাওয়া এবং দাদনের জালে জড়িয়ে পুঁজি হারিয়ে ৫-৬ বছর আগে এ পেশা ছেড়ে দিয়ে কৃষি কাজ করছি। বাবা-ঠাকুরদারা যে টুকু জমি রেখে গেছে এর সাথে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান আবাদ করি। ধানের দাম কম হওয়াতে এখানেও সুবিধা করতে পারছি না। শুধু কি ধান আবাদ করে পেট চলে ? রবি শষ্যের চাষাবাদ করতে ভয় হয় কারন পালপাড়ার মধ্য দিয়ে তিস্তার ক্যানেল বের হয়ে গেছে। পূর্বে আমাদের এই জমিতে তিন ফসলি আবাদ হত কিন্তু এই ক্যানেল এসে ধান ছাড়া অন্য কোন ফসলের কথা চিন্তাও করা যায় না । কখন পানি ছেড়ে দেয় তখন সব শষ্যই পানিতে তলিয়ে যাবে। এই ভয়ে আমরা রবি শষ্যের চাষাবাদ করি না।
মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন প্রামানিকের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান ; পালদের জন্য মন্দির, শ্মশানের জায়গা এবং তাদের তৈরি পন্য যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে পারে এজন্য রাস্তা প্রশস্ত করে দিয়েছিলাম। বর্তমানে এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমার ছেলের বউ সেও পালদের জন্য আমার অসমাপ্ত কাজগুলি করছে।
মৃৎশিল্পের বিকাশ ও মান উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি ও দাতা সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন মমিনপুরের সূধীজনরা।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯নভেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন