সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হতদরিদ্র যুব মহিলাদের স্বাবলম্বি করছে বদরগঞ্জের বিআরডিবি অফিস

হতদরিদ্র যুব মহিলাদের স্বাবলম্বি করছে বদরগঞ্জের বিআরডিবি অফিস

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


জাহানারা বেগম(৪২)। এক হতদরিদ্র মহিলার নাম। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউপির লালদিঘি গ্রামে। স্বামি দিনমজুর। এক সময় সংসারের অভাব অভিযোগ ছিল যার  নিত্য সঙ্গি। প্রতিদিনের সংসারের ব্যয় সামাল দিতে স্বামি যখন দিশেহারা তখন জাহানারা সিন্ধান্ত নেন কিছু একটা করার। এ সময় পাড়ার এক স্কুল শিক্ষকের কাছে জানতে পারেন বদরগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি) যুব মহিলাদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে তাদের স্বাবলম্বি করার চেষ্টা করছে। স্বামিকে না জানিয়ে এক সময় জাহানারা বেগম বদরগঞ্জ বিআরডিবি অফিসে আসেন। ট্রেনিং নেন শতরঞ্জি তৈরির। আধুনিক কারুকার্যময় এই শতরঞ্জির চাহিদা দেশ ও বিদেশে। শুরু হয় তার শতরঞ্জি তৈরির কাজ। বর্তমানে শতরঞ্জি তৈরি করে এবং বাজারজাত করে তিনি এখন স্বাবলম্বি।
কথা হয় শতরঞ্জি তৈরির কারিগর ও স্বাবলম্বি নারী জাহানারা বেগমের সাথে,তিনি জানান;আমার জীবনের অনেকটা সময় গেছে খেয়ে না খেয়ে। দিনমজুর স্বামির একার রোজগার দিয়ে কষ্টে চলতো আমাদের সংসার। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এক স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে বদরগঞ্জ বিআরডিবি অফিসে গিয়ে শতরজ্ঞি তৈরির ট্রেনিং নেই। এখন শতরজ্ঞি তৈরি ও বাজারজাত করে আমি আল্লাহ্র রহমতে ভাল আছি। আমি কৃতজ্ঞ বিআরডিবি অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে। তারা আমাকে স্বাবলম্বি করতে সহযোগিতা করেছে।
বদরগঞ্জ বিআরডিবি অফিস সুত্রে জানা যায়;দারিদ্র বিমোচনে গ্রামিন ইলেকট্রিশিয়ান,
এমব্রডারি,সেলাই ও শতরঞ্জি এই চারটি বিষয়ের উপর কারিগরি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ২ মাস ব্যাপি যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে তাদের ট্রেনিং দেয়া হয়। ট্রেনিং কালে প্রতি যুব মহিলা ২৫০ টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ প্রতি যুব মহিলাকে প্রতিদিন ১শত টাকা দেন, বাকি টাকা ট্রেনিং শেষে তাদের হাতে দেয়া হয় এবং সাথে দেয়া হয় ট্রেনিং প্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি।
এ সব যুব মহিলারা ট্রেনিং নিয়ে গ্রামে গিয়ে দল গঠন করেন। তারপর ওই দল বিআরডিবির কাছে লোনের আবেদন করলে বিআরডিবি সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকি তাদের তৈরি জিনিষপত্র বাজারজাত করতেও সহযোগিতা করেন।
কথা হয় ট্রেনিং নিতে আসা খাদিজা বেগম(৪৫),মহিলা বেগম(৩৫),আইনুন নাহার ববি(৩৫)সাথে,তারা জানান; এখানে আমরা একেকজন একেক বিষয়ের উপর ট্রেনিং নিচ্ছি। খুবই ভাল লাগছে। আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা ভাল কিছু করতে পারবো।
বদরগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান; ২০০৮ সাল হতে এই কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩টি দলকে অর্থ্যাৎ ১৭৩ জনকে স্বাবলম্বি করা হয়েছে এবং তাদেরকে সহজ শর্তে লোন দেয়া হয়েছে। যার পরিমান ৩১লক্ষ ৪ হাজার টাকা।
বদরগঞ্জ বিআরডিবির চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক চৌধুরি জানান; সরকার দারিদ্র বিমোচনে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরাও কাজ করে যাচ্ছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ওরা কামার

ওরা কামার


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


সুিধর রায় কর্মকার(৮৫)। পেশায় কামার। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির আমরুল বাড়ি গ্রামে। সেই ব্রিটিশ আমল হতে বাপ-দাদার হাত ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত হওয়া। তখন হতে আজ অবধি তিনি কামারের কাজ করে চলেছেন। তার তিন সন্তানও এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত। মুলতঃ তারাই এখন এই ক্ষুদ্র ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন।দা,কুড়াল,ছুরি,বটি,কোদাল সহ ব্যবহার্য নানা ধরনের জিনিষপত্র লোহা দিয়ে তিনি তৈরি করেন। শুধুমাত্র এই ব্যবসা করেই সুধির রায় কর্মকার আজ স্বাবলম্বি।
সরেজমিনে পৌরশহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন কামার পল্লীতে গিয়ে কথা হয়, কামার শিল্পের সাথে জড়িত প্রবীন কামার সুধির রায়ের সাথে,তিনি জানান; ছোট বেলা হতে এই কাজ করছি। আমাদের পুর্বপুরুষের পেশা এটি। ব্রিটিশ আমলে আমার বাবা-দাদু কামারের কাজ করতো। তাদেরকে সহয়োগিতা করতে আমার এ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। আমার তিন সন্তানও এই ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তারা আমাকে সহযোগিতা করছে। ভগবানের দয়ায় এই ব্যবসা করেই আজ আমি স্বাবলম্বি। আমি মুলতঃ এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার মালামাল পাঠাই,তাতে আমার ব্যবসা ভাল হয়।
তিনি আরও জানান;ভাল লাগে এই ভেবে যে,আমার এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৩০জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। তবে এ পেশা অত্যন্ত পরিশ্রমের। যে কেউ ইচ্ছে করলেই এ ধরনের কাজ করতে পারবে না।
কর্মচারি ধনঞ্জন মহন্ত(৫৫)জানান; কয়েক যুগ ধরে এ কাজ করছি। অন্য কাজ জানি না। প্রতিদিন এখানে কাজ করে ৬শত টাকা পাই, যা দিয়ে চলে আমার সংসার।
কর্মচারি ধীরেন চন্দ্র রায়(৪৫)জানান;এক সময় বেকার ছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানে ১০বছর ধরে কাজ করছি। প্রতিদিন যা উপার্জন হয় তা দিয়েই চলে আমার সংসার।
কামার পল্লীতে কথা হয়,অপর কামার কার্তিক চন্দ্রের(৬৫)সাথে,তিনি জানান; পাকিস্তান আমল হতে কামারের কাজ করছি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০জন শ্রমিক আছে। আমিও এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে মালামাল পাঠাই তাতে আয় ভাল হয়। এই ব্যবসা করে ভগবানের দয়ায় আমি ভাল আছি।
খুচরা ব্যবসায়ি তোছাদ্দেক হোসেন জানান;সুধির কামারের কাছ হতে পাইকাড়ি দা,ছুরি,খুন্তি,কোদাল সহ নানা ধরনের মাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করি। এতে আমার ব্যবসা ভাল হয়।
দা কিনতে আসা বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান;মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন,দা,বটি,কোদাল, খুন্তি,ছুরি সহ নানা ধরনের জিনিষপত্র তারা তৈরি করেন। আসলে এটি একটি শিল্প। দেশিয় এই শিল্পটি যাতে টিকে থাকে এ জন্য সকলের সহযোগিতা করা উচিত।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
  


শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন বাঁশ বেত শিল্প


হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন বাঁশ বেত শিল্প


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মন্টু চন্দ্র(৮০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউপি পরিষদ সংলগ্ন গ্রাম। জীবনের তাগিদে বাঁচার আশায় এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি বাঁশ ও বেতের তৈরি ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করে,বাজারজাত করেন। যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার সংসার। গ্রামে আগের মত আর বাঁশ ও বেত  পাওয়া যায় না। দুর গ্রাম হতে বাঁশ কিনে আনতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। বর্তমানে বাঁশের তৈরি এ সব জিনিষপত্র আর তেমন কেউ কিনতে চায় না।
তিনি জানান;আমার পুর্বপুরুষের পেশা এটি। বাঁশ ও বেতের তৈরি দৃষ্টি নন্দন কিছু ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করতে পারলে এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা করতো এবং ব্যাংক যদি আমাদের সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দিতো,তাহলে এই শিল্পটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। আমাদের গ্রামের ৩৫ পরিবার সবাই এ কাজ জানে। এ কাজ করে কোন রকমে বেঁচে আছে।
তিনি আরও জানান;আমার তিন ছেলে। সবাই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে গেছে জীবিকার সন্ধানে। আমি বৃদ্ধ মানুষ,কষ্ট করে হলেও বাপ-দাদার পেশাটিকে কোন রকমে ধরে আছি।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন দোল কিনি বালা(৬৫),তিনি জানান;সারাদিন পরিশ্রম করে জিনিষপত্র তৈরির পর বাজারজাত করে আয় হয় ১৫০শত হতে ২ শত টাকা। এ দিয়ে কি সংসার চলে বলেন ? অন্য কোন কাজও জানি না,বাধ্য হয়ে কাজ করি।
দেবেন্দ্র নাথ(৫৫)জানান;আধুনিক এই যুগে প্লাটিকের সহজলভ্যতা ও দাম কম হবার কারনে বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র আর মানুষ কিনতে চায় না। তাহলে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে কেমন করে বাঁচবো বলতে পারেন ?
বদরগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আঃ সালাম জানান; বাঁশ ও বেত দিয়ে দৃষ্টি নন্দন ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি এটি একটি শিল্প। এ শিল্পের সাথে জড়িত মানুষজন সহ শিল্পটিকে আমাদের স্বার্থেই বাঁচাতে হবে। কারন এর সাথে আমাদের দেশিয় শিল্প ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান;ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি এদের সহজ শর্তে লোন দিতো,তাহলে এই শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন সহ শিল্পটি বেঁচে যেতো। 
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

নারী শিক্ষার অগ্রনী ভুমিকায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

নারী শিক্ষার অগ্রনী ভুমিকায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পশ্চাৎপদ নারী শিক্ষায় অগ্রনী ভুমিকার ব্রত নিয়েই বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সৃষ্টি।
সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা হাতে গোনা কয়েকজন যুবক মিলে সিন্ধান্ত নেন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার। সেই ১৯৯৪ সালে কলেজটির যাত্রা শুরু। দীর্ঘ ২২ বছরের পথ পরিক্রমায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ পশ্চাৎপদ নারী শিক্ষায় অগ্রনী ভুমিকা রাখছে। কলেজটির সুন্দর মনোরম পরিবেশে পাঠদান,শৃঙ্খলাবোধ ,ভাল ফলাফল,সামাজিক সংস্কৃতি,বিনোদন সহ নানা ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা পালন করার পাশাপাশি,নারী শিক্ষায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি আজ রংপুর বিভাগে তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠান হতে শত শত শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশের নামকরা নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে ভাল রেজাল্ট করার পাশাপাশি দেশের দায়িত্বপুর্ন কর্মে নিয়োজিত রয়েছে।
কলেজটির অবস্থানঃবদরগঞ্জ পৌর শহরের চিকলি নদীর অববাহিকায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ অবস্থিত।
যাদের অবদানে কলেজটি প্রতিষ্ঠিতঃ কাজি খয়রাত হোসেনের ০.৪৫একর,মরহুম আঃ রহমান প্রামানিকের দানকৃত ০.০৪ একর জমির উপর কলেজটির মুল অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। পরে আঃ ম.আঃ কাইয়ুম ০.৫০একর, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নলিনী সরকার ১.১৩একর জমি দান করে কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। এরপর গোলাম মোস্তফা ০.০১ একর এবং লুৎফর রহমান(বিএস)০.০১ একর জমি দান করেন। পরে কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ০.৪৬একর জমি ক্রয় করা হয়। সর্বমোট ২.৬০একর জমির উপর প্রতিষ্ঠানটি মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
কলেজ সুত্রে জানা যায়;১৯৯৪ সালের ২৩ জুলাই তৎকালিন শিক্ষামন্ত্রি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজটির ভিক্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি মরহুম আনিছুল হক চৌধুরি ২০০০সালে দ্বি-তল একাডেমিক ভবন নির্মান করে কলেজটির গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখেন। এ ছাড়াও বদরগঞ্জে সর্বস্তরের জনগন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কলেজটিতে বিশেষ ভুমিকা রাখেন। কলেজটিতে প্রায় ১ হাজার ৫ শত ছাত্রি পড়াশুনা করছে।
বর্তমানে কলেজটিতে আধুনিক বিজ্ঞানাগার,সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার,কম্পিউটার ল্যাব,সুসজ্জিত একাডেমিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে একাদশ,দ্বাদশ শ্রেনিতে মানবিক,বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা শাখা। ¯œাতক(পাশ) পযার্যে বিএ,বিএসএস,বিএসসি ও বিবিএস সা¯œক(সন্মান)পর্যায়ে বাংলা,সমাজ বিজ্ঞান,দর্শন ও ইতিহাস বিষয় নিয়ে শিক্ষা দান অব্যাহত রয়েছে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও লন্ডনে ব্যারিষ্টার পড়–য়া শিক্ষার্থী তামান্না আশফি মোবাইল ফোনে জানান;বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে না পড়লে আজ আমি লন্ডনের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যারিষ্টারি পড়তে পারতাম না। এক সময় আমি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রি ছিলাম,এ ভেবে গর্ব বোধ করি। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবক মজিবর রহমান বকস্ িজানান; আমার দুই মেয়ে এই কলেজ হতে ভাল রেজাল্ট করে বর্তমানে একজন ডাক্তারি পাশ করেছে,অন্যজন এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রি।
বদরগঞ্জ বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; প্রতিবছর এই কলেজের ফলাফল অত্যন্ত ভাল। ভাল রেজাল্টের উপর ভিক্তি করে দীর্ঘ সময় ধরে রংপুর বিভাগে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আশা করি ভবিষ্যতেও এই কলেজ তার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখবে এবং নারী শিক্ষায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করে যাবে।  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য,মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও রংপুর-আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক মোবাইল ফোনে জানান; কলেজটির লেখাপড়ার মান অত্যন্ত ভাল। নারী শিক্ষায় কলেজটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩ ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

   

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

দেশিয় সংস্কৃতিতে এক অন্য রকম বিয়ে!

দেশিয় সংস্কৃতিতে এক অন্য রকম বিয়ে!


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


আবহমান বাংলার অপরুপ সৌন্দের্যের জুড়ি মেলা ভার। বাংলা ও বাঙ্গালীর হাজার বছরের শিক্ষা সংস্কৃতির সাথে দেশের প্রতিটি মানুষ মিলে মিশে একাকার। যদিও সময়ের সাথে সাথে প্রাচত্যের কিছু সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিতে মিশে গেছে। এর পরও আমরা বাঙ্গালীর সংস্কৃতিতে গর্ব বোধ করি। শুধু তাই নয়,বাঙ্গালী জাতি আজ পৃথিবীর মানচিত্রে উচু আসনে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের দেশিয় সংস্কৃতির মধ্যে বিয়ের আচার অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। অনেক দিন পর দেশিয় সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে ঘোড়া গাড়িতে করে বরের বিয়ে বাড়ি গমন। এ এক অন্য ধরনের অনুভুতি।
সরেজমিনে বিয়ে বাড়ির এ আয়োজন দেখে লোভ সামলাতে না পেরে পৌছে যাই বিয়ে বাড়িতে। বর বহনকারি ঘোড়া গাড়িকে সাজানো হয়েছে ফুলে ফুলে। বর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন। দিনাজপুর হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএজি করে চাকুরি করছেন। বরের পিতা আঃ লতিফ প্রামানিক জাতীয় জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর। মা ইয়াসমিন আরা বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
কনে জান্নাতুল ফেরদৌসি বৃষ্টি দিনাজপুর হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএজিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। মা খাদিজা বেগম একজন সরকারি চাকুরে। বৃষ্টিদের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর ঝাড়পাড়ায়। বৃষ্টির পিতা(মৃতঃ) আঃ জলিল সরকার একজন কলেজ শিক্ষক ছিলেন।
ঘোড়ার গাড়িতে করে বরের কনের বাড়িতে যাবার দৃশ্য পৌরশহরের সকলেরই দৃষ্টি কাড়ে।
কথা হয় বরের পিতা ও জাতীয় জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর আঃ লতিফ প্রামানিকের সাথে, তিনি জানান; ইচ্ছে ছিল একমাত্র ছেলের বিয়েতে আমি দেশিয় সংস্কৃতির আলোকে আয়োজন করবো। এ কারনে ঘোড়া গাড়ি সহ দেশিয় ঐতিহ্যের বিষয়গুলিকে মাথায় রেখে বিয়ে বাড়ির গেটটিকেও আমি খড় দিয়ে সাজিয়েছি।
বর যাত্রি হাসান আল মাহমুদ জানান; আমি অনেক বিয়ে বাড়িতে বর যাত্রি হিসেবে গিয়েছি,তবে এ বিয়ে বাড়ির আয়োজনটাই ভিন্ন। যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
বিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন জানান;দেশিয় সংস্কৃতিকে বুকে ধারন লালন করে এ বিয়ে বাড়িটাকে সাজানোটা আমার ভীষন ভাল লেগেছে। দেশিয় সংস্কৃতিকে প্রতিটি বাঙ্গালীর ধারন ও লালন করা উচিত।    



বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   

বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে বিদ্যার দেবি স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার(২ফেব্রুয়ারি)দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত স্বরস্বতি পুজায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে  মুখরিত  হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক জয়ন্তি সরকার ও নিখিল সরকারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত স্বরস্বতি পুজায় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজ কর্ম বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ফরহাদ হোসেন, রসায়ন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ইউনুস আলি,রংপুর মহানগর চক-ইসবপুর অনার্স কলেজের সিনিয়র প্রভাষক ও সাংবাদিক ফয়সাল সরকার পলাশ, শিক্ষক বিজয় মন্ডল সহ কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।  
এ সময় আরতি পরিবেশন করেন একাদশ শ্রেনির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি চেতনা রায় মৌ, মিতা ব্যানার্জি,মাধবি দাস,তুয়া প্রমুখ।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  


শীতের মিষ্টি রোদে হতদরিদ্র মহিলাদের চুল বাঁধা এবং তাদের বেঁচে থাকা !



শীতের মিষ্টি রোদে হতদরিদ্র মহিলাদের চুল বাঁধা এবং তাদের বেঁচে থাকা !


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্রাচত্যের সংস্কৃতিতে শহুরে কিছু মানুষ গা ভাসিয়ে দিলেও গ্রামাঞ্চলের মানুষজন এখনও রয়ে গেছে প্রেম ভালবাসার মোহে আচ্ছন্ন। সহজ সরল এই মানুষগুলো কঠিন বাস্তবতা আর দারিদ্রতার মাঝেও তারা একজন আরেকজনকে মনে প্রানে ভালবাসে এবং সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। ছুটির দিনে বেড়ানোর ফাঁকে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউপি পরিষদ কার্যালয়ে। একটু এগিয়ে গিয়েই দৃষ্টি কাড়ে শীতের মিষ্টি রোদে বসে কয়েকজন মহিলা পরম মমতায় একে অপরের মাথার চুল আছড়িয়ে দিচ্ছেন কেউবা মাথার উকুন তুলে দিচ্ছেন। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত এই অপরুপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। সকল মহিলার পরনে ছেঁড়া শাড়ি বা জামা থাকলেও বুঝা গেল তাদের একে অপরের প্রতি প্রেম, মমত্ব আর ভালবাসার বিষয়টি। এরা যেন সকলেই প্রেম ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।
পরে জানা গেল,মহিলারা এই গ্রামেরই বাসিন্দা। এখানে ৩৫টি হতদরিদ্র পরিবার বাস করে। অনাহার অর্ধাহার যাদের নিত্য সঙ্গি অথচ তারা একে অপরের সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে বেঁচে আছে।
মাথার চুল দেখতে বসা মিনতি বালা (৪৫),দুলালি রানি(৪৭),সুমি রানি(৩২) ও কিনি রানির(৫০) সাথে কথা হলে তারা জানান; আমাদের পরিবারের পুরুষরা বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র নিয়ে বাজারে গেছে, ফিরে আসলে আমরা সবাই রান্নার কাজ শুরু করবো। সত্যি কথা বলতে কি বাড়িতে কোন খাবারই নেই?
তবুও ক্ষুধা নিয়ে মুচকি হেসে সকলেই উত্তর দিলেন,যতক্ষন ওনারা না আসেন,ততক্ষন রোদে একটু একে অপরের চুল দেখছি।  
দোল কিনি বালা(৬০) জানান;আমাদের এই গ্রামের মানুষদের মুল কাজ বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র যেমন,ডালা কুলা,চালা,পাটি সহ নানা ধরনের ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করে বাজারজাত করা। আর তা দিয়ে যা আয় হয় তাতেই চালাতে হয় আমাদের প্রত্যেকের সংসার।
কথা হয় এই গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি মন্টু চন্দ্রের(৮৫)সাথে,তিনি জানান; এটি আমার পুর্বপুরুষের পেশা। বর্তমানে অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি। গ্রামে আর আগের মত বাঁশ পাওয়া যায় না। দুরের কোন গ্রাম হতে বাঁশ বেশি দামে ক্রয় করে আনতে হয়। তাতে অনেক খরচ পড়ে যায়। লাভও তেমন হয় না। এ ছাড়া অন্য কাজও করতে পারি না, বাধ্য হয়ে কোন রকমে এ পেশা ধরে রেখেছি। তিনি আরও জানান; বাঁশের তৈরি দৃষ্টি নন্দন অনেক কাজ জানি কিন্তু টাকা পয়সার অভাবে করতে পারি না। কোন ব্যাংক কিংবা এনজিও যদি সহজ সুদে লোন দিত তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো। আমরা আরও দৃষ্টি নন্দন অনেক জিনিষ তৈরি করতে পারতাম।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০১ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    





  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...