কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
জীবন জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ দেশ বিদেশে নানা কাজ করে থাকেন। নিরলশভাবে কাজ করে তারা নিজের সমৃদ্ধি সহ দেশের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছেন। এমনি এক মানুষ সামসুজ্জামান সরকার। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিহারা লক্ষীপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কর্নধার মশিউর রহমান সরকারের পুত্র। এক যুগ আগে তিনি লেখাপড়ার জন্য গ্রীসে যান। লেখাপড়া শেষ করে ওখানেই ব্যবসা শুরু করেন। দেশের টানে কয়েক বছর আগে সামসুজ্জামান ফিরে এসে তার পিতার পরিত্যক্ত ১০ একর জমিতে আম ও লেবুর বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৯শত আম গাছ এবং ৩ হাজার লেবু গাছ।
সরেজমিনে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়; আম ও লেবুতে ভরে গেছে গোটা বাগান। দৃষ্টিনন্দন এক অভূর্তপুর্ব পরিবেশ,চোখ ফেরানো যায় না। বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ৮জন কৃষক নিয়ে যুবক সামসুজ্জামান।
কথা হয় গ্রীস ফেরৎ যুবক সামসুজ্জামানের সাথে,তিনি জানান; এক যুগ আগে আমি লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গ্রীসে যাই। ওখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজ করি। লেখাপড়া শেষ করে ওখানেই ব্যবসা শুরু করি।
তিনি জানান; দেশের কথা, বাবা মায়ের কথা মনে হলে মন খুব খারাপ হতো। এক সময় সিন্ধান্ত নেই দেশে ফিরে আসার। এক সময় দেশেও ফিরে আসি।
তিনি জানান; বাড়িতে এসে দেখি আমাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গত ৪ বছর আগে পরিত্যক্ত ১০ একর জমিতে পর্যায়ক্রমে ৯শত আম গাছ এবং এর ফাঁকে ৩ হাজার লেবু চারা রোপন করি।
আশা করছি, এ বছর কয়েক লক্ষ টাকার আম ও লেবু বিক্রি করতে পারবো। এ বছর আরও কয়েক একর জমিতে আম ও লেবু চারা রোপন করার ইচ্ছে আছে।
তিনি আরও জানান; শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি অহেতুক সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ কাজে মনোনিবেশ করে তাহলে তারা নিজের সমৃদ্ধি সহ দেশের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে পারে।
সামসুজ্জামানের বাগান দেখতে আসা রংপুর পল্লীবিদুৎ সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ আতিকার রহমান প্রামানিক জানান; সামসুজ্জামানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। সে একজন অনেক বড় মনের মানুষ। বিদেশ ফেরৎ যুবক সামসুজ্জামান দেশে এসে সময় নষ্ট না করে কাজে মনোনিবেশ করাটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
তিনি আরও জানান; তার পিতার পরিত্যক্ত জমিতে বাগান করে একদিকে যেমন সে আর্থিকভাবে লাভবান হবে অন্যদিকে সৃষ্টি হবে অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থান। তার মত সারাদেশে যুবকরা যদি কাজে মনোনিবেশ করে তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে।
সামসুজামানের বাগান দেখতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা জানান; তার আম ও লেবু বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এখন আমারও ইচ্ছে হচ্ছে সামসুজ্জামানের মত একটি বাগান করার।
তিনি আরও জানান; বাগান করলে শুধু বাগান মালিকরাই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন না, বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পুষ্টি চাহিদা মেটানো সহ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন