রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে জংলি উদ্ভিদ শে^তদ্রোন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শে^তদ্রোন একটি জংলি উদ্ভিদের নাম। প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠে গাছটি। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা গাছটির অবদান মনুষ্য সমাজে অনেকখানি। গ্রামে-গঞ্জে আপনা-আপনি জন্ম নেয়া গাছটিকে চেনে না এমন কেউ নেই। গাছটি মধু ফুল নামে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। গ্রাম-গঞ্জের শিশুরা শে^তদ্রোনের ছোট ছোট সাদা ফুল তুলে মুখে দিতো মধু আহরনের জন্য। কারন শে^তদ্রোন নামক গাছটির সাদা সাদা ফুলে মৌমাছি মধু সঞ্চয় করে। 
মৌমাছি তার মধু সঞ্চয়ের পর অবশিষ্ট মধু শিশু-কিশোররা ফুল হতে সংগ্রহ করতো।
সময়ের পথপরিক্রমায় ক্রমেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে মধু ফুলের গাছ শে^তদ্রোন।  শে^তদ্রোন নামক গাছটির গুনাগুন সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির শে^তদ্রোন গাছটিকে জ্বালানি ও আগাছা হিসেবে আমরা অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ গাছটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না।
শে^তদ্রোনের বৈজ্ঞানিক নাম- লিওকাস এসপিরা,গোত্রের নাম-লাবিয়েটি। গাছটির উচ্চতা ১-২ ফিট। পাতা চিকন রোমশ ধরনের। ফুলগুলি ছোট ছোট সাদা রংয়ের হয়। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটি অত্যন্ত ভেষজগুন সম্পন্ন একটি উদ্ভিদ।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর গ্রামের রাস্তার ধারে দেখতে পাওয়া যায়।
শে^তদ্রোন গাছ সম্পর্কে কথা হয় দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলীনি সরকারের(৯৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন ছোট ছোট এ গাছগুলি আগে আমাদের বাড়িসহ যেখানে সেখানে পাওয়া যেত। জ্বালানি সংকট ও আগাছা হিসেবে গাছটিকে কেটে ফেলার কারনে শে^তদ্রোন গাছ আর চোখে পড়ছে না। ছোট বেলায় আমি সহ আমার বন্ধুরা মিলে শে^তদ্রোনের ফুল তুলে মধু আহরন করতাম। ফুলটি হতে অনেক মধু বের হয়। ফুলটি দেখতেও সুন্দর।
তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা শে^তদ্রোন গাছটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। গাছটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির শে^তদ্রোন গাছটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে শে^তদ্রোন গাছ কার্যকর ভুমিকা রাখে। অথচ আমরা ভেষজ গুন সম্পন্ন গাছটিকে কেটে সাবাড় করে ফেলছি। শে^তদ্রোন  গাছটিকে যদি আমরা না বুঝে জ্বালানি ও আগাছা হিসেবে নষ্ট করে ফেলি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ গাছটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; শে^তদ্রোন গাছটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪        

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...