কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামল আমার বাংলাদেশ। গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ আমাদের এই বাংলাদেশ। সহজ সরল মানুষের বসতি এই বাংলাদেশে। এ দেশের মাটি সোনার চাইতেও খাঁটি। এই মাটিতে যে শস্যই চাষ করা হোক না কেন তাই জন্মে এই মাটিতে। এখানকার মানুষরা এক সময় বাস করতো মাটির বাড়িতে। সেই সময় পুকুর আর গাছপালা ঘেরা মনোরম পরিবেশে মাটির ঘর যেন শান্তির আরেক রুপ। কারন গ্রীষ্মকালে প্রখর রোদে মাটির ঘর এতটাই আরামদায়ক যে গ্রামাঞ্চলের মানুষরাই শুধু এর মর্ম বুঝে। এটি ছিল বাংলাদেশের এক সময়ের চিত্র।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে মাটির ঘর চোখে পড়ে রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া নামক গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা যায় শৈল্পিক সৌন্দর্যে ভরা মাটির ঘরটি তার অতীত ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে যেন বলছে এক সময় আমার কদর থাকলেও এখন আমি মুল্যহীন।
কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৬)সাথে তিনি জানান; আগে আমাদের এলাকায় অসংখ্য মাটির বাড়ি ছিল। মাটির তৈরি ঘরগুলোতে এতটাই শীতল ছিল যে গরমের দিনে ইলেকট্রিক ফ্যানের তেমন প্রয়োজন ছিল না। সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মও আর মাটির তৈরি ঘরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না।
তিনি জানান;আধুনিকতার ছোঁয়া আর বর্ষাকালে মাটির ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের মানুষরা এখন মাটির ঘর ভেঙ্গে পাকা বাড়ি তৈরি করছেন।
তিনি আরও জানান; মাটির তৈরি ঘর এ দেশিয় গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক।
মাটি দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আধুনিকায়ন করে গ্রামিন অতীত ঐতিহ্যকে সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল প্রামানিক(৭২)জানান;
ছোট বেলায় আমিও মাটির তৈরি ঘরে বাস করেছি। ঘরটি এতটাই ঠান্ডা থাকে যে ইলেকট্রিক ফ্যানের তেমন প্রয়োজন পড়তো না।
তিনি জানান;মাটির তৈরি ঘর গ্রাম-বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য। এর সংরক্ষন জরুরি।
তিনি আরও জানান; যদি আমরা একে সংরক্ষন না করি তাহলে নতুন প্রজন্ম জানতেই পারবে না মাটির তৈরি ঘরের কথা। আমাদের গৌরবময় গ্রামিন ঐতিহ্যকে তো আমাদেরই সংরক্ষন করতে হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন