শুক্রবার, ১৯ মে, ২০১৭

মোটর সাইকেল খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশা আকঁড়ে ধরে। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এখানে জীবনটাই মুখ্য অন্য কিছু গৌন। কিন্তু জীবনটাই যদি সেখানে নিরাপত্তাহীন হয় তাহলে ! তবুও মানুষ দু-বেলা খাবারের নিশ্চয়তার জন্য ঝুকিপুর্ন কাজকেও পেশা হিসেবে গ্রহন করে। সহায় সম্বলহীন অসহায় এক যুবক মোফারুল ইসলাম(৩০)। তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাঠ দিয়ে নির্মিত গর্তের মধ্যে মোটর সাইকেল খেলা দেখানো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মটরসাইকেল খেলা দেখান সাধারন মানুষদের চিত্ত বিনোদনের জন্য। এ হতে তার যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তার ৪ সদস্যের আহারের ব্যবস্থা। শীতের শুরুতে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে যখন মেলা শুরু হয় তখনই তার খেলা দেখানোর ডাক পড়ে। বছরের ৫ মাস তিনি মটরসাইকেল খেলা দেখান আর বাকি ৭ মাস বাড়িতে থাকেন এবং গৃহস্থলীর কাজ করেন। মোফারুল ইসলামের বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির হাজিপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে।
সরেজমিন এই প্রতিবেদন তার বাড়িতে গেলে কথা হয় মোফারুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান; প্রায় ১যুগ ধরে দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন মেলায় মটরসাইকেল খেলা দেখাই। জীবনের ঝুকি নিয়ে কাঠের তৈরি গর্তে মটরসাইকেল খেলা প্রদর্শন করতে হয়। ভয় লাগে কিন্তু কি করবো ? এটাই আমার পেশা।
তিনি জানান; এক সময় অভাবের তাড়নায় সিন্ধান্ত নেই মটরসাইকেল খেলা দেখানোর। শুরুতে বাড়িতে মাটির গর্ত করে মটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষন দেই। এভাবেই শুরু।
তিনি জানান; জীবনের শুরুতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতাম। অভাব তখন লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে আমার ছেলের রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। প্রতি মাসে বাচ্চাকে ব্লাড দিতে হয়। উপায় না পেয়ে সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলি পেশাদার মটরসাইকেল খেলা দেখানোর।
তিনি জানান; বর্তমানে প্রতি বছর মেলা মৌসুমে মোটরসাইকেল খেলা হতে সবকিছু বাদ দিয়ে ৮০হাজার টাকা উপার্জন করি। যা দিয়ে আমার পরিবারের যাবতীয় খরচ,সন্তানের চিকিৎসা সহ জমি কিনে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করেছি। শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিকের কাজ করে এ সব কিছুই করতে পারতাম না। 
তিনি আরও জানান; আমার এ খেলার বৈশিষ্ট হলো,আমি যেখানে খেলা প্রদর্শন করি সেটি কাঠের তৈরি খাঁড়া ধরনের গর্ত আর অন্যরা খেলা দেখান একটু ঢালু ধরনের গর্তে। আমার মত খেলোয়াড়রা আমার এই গর্তটিতে সহজেই খেলা প্রদর্শন করতে পারবে না। এ কারনেই আমার খেলা দেখতে মানুষরা বেশি পছন্দ করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; মোফারুল ইসলামকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সে শুধুমাত্র অভাবের তাড়নায় এমন ঝুঁকিপুর্ন কাজটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান; ঝুকিপুর্ন এ খেলা প্রদর্শন করে আয় বেশি হয় সত্যি কিন্তু দ্রুত তার এই পেশা পরিবর্তন করা উচিত।  


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৯৫১৪০৫০
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...