শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭

হার না মানা শৈশব




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে সাধারন মানুষ যখন ক্লান্ত। পথচারিরা যখন ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। তৃষ্ণার্ত কাক যখন প্রচন্ড তাপদাহে সামান্যতম পানির সন্ধানে ছুটাছুটি করে। এমন সময় দুরন্ত বালকরা বাড়ির কাউকে না জানিয়ে রাস্তায় ছুটাছুটি করে অবশেষে পুকুর কিংবা নদীতে লাফ দিয়ে প্রচন্ড তাপদাহ হতে রক্ষা পাবার চেষ্টা করে। এ যেন হার না মানা এক দুরন্ত শৈশব। ছুটির দিনে বদরগঞ্জ উপজেলা বেড়ানোর ফাঁকে ঘাটাবিল নামক এলাকায় চোখে পড়ে এসব দুরন্ত বালকদের। কাছে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে কথা শোনার সময় না দিয়েই দলবেঁধে পুকুরে লাফ দিতেই ব্যস্ত বালকরা।
তাদের পানিতে লাফ দেয়া দেখে নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। এ যেন দুরন্ত শৈশব। আজ সবই স্মৃতি। একটা সময় ছিল গ্রীষ্মের এই তাপদাহের দিনে আমরাও(একদিন)দলবেঁধে পানিতে লাফ দিয়ে গোসলে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি।
এ সময় পানিতে লাফ দিতে দিতে ক্লান্ত বালক রহিম মিয়া (১১) এই প্রতিবেদককে জানান; আজ ভীষন গরম। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে গোসল করতে এসেছি।
বালক আরিফুল ইসলাম(১২)জানান; আমার বাড়ির কেউ জানে না আমি এখানে গোসল করতে এসেছি। জানতে পারলে মা খুব রাগারাগি করবেন।
এ সময় কথা হয় স্বুল শিক্ষক তৈয়ব আলির সাথে,তিনি জানান; এ হল হার না মানা এক দুরন্ত শৈশব। কৈশোর বয়সে আমরাও বাড়ির কাউকে না জানিয়ে গরমের দিনে পানিতে লাফ দিয়ে গোসল করেছি। এ যেন এক সোনালী অতীত।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান; এ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম এই দুরন্ত বালকদের দেখে এখানে দাঁড়িয়ে পড়লাম। আর ভাবছিলাম, আমার শৈশবের সেই দিনগুলির কথা। সেই দিনগুলির কথা ভাবলে আমি যেন হারিয়ে যাই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

সোমবার, ২২ মে, ২০১৭

বিদায়ি ইউএনও’র সাথে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সৌজন্য সাক্ষাত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুর বদরগঞ্জের বিদায়ি উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। গতকাল সোমবার(২২মে)বিকেলে ইউএনও কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, প্রভাষক ফয়সাল সরকার পলাশ,শ্যামল লোহানী,সাইদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।
 এ সময় উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান;
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন আশা করবো পরবর্তীতেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। আমি আপনাদের সাফল্য কামনা করছি এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।
উল্লেখ্য; ইউএন কাজি আবেদা গুলশান আগামি ২৬ মে বদরগঞ্জ হতে ঢাকায় গিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে যোগদান করবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ১৯ মে, ২০১৭

মোটর সাইকেল খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশা আকঁড়ে ধরে। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এখানে জীবনটাই মুখ্য অন্য কিছু গৌন। কিন্তু জীবনটাই যদি সেখানে নিরাপত্তাহীন হয় তাহলে ! তবুও মানুষ দু-বেলা খাবারের নিশ্চয়তার জন্য ঝুকিপুর্ন কাজকেও পেশা হিসেবে গ্রহন করে। সহায় সম্বলহীন অসহায় এক যুবক মোফারুল ইসলাম(৩০)। তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাঠ দিয়ে নির্মিত গর্তের মধ্যে মোটর সাইকেল খেলা দেখানো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মটরসাইকেল খেলা দেখান সাধারন মানুষদের চিত্ত বিনোদনের জন্য। এ হতে তার যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তার ৪ সদস্যের আহারের ব্যবস্থা। শীতের শুরুতে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে যখন মেলা শুরু হয় তখনই তার খেলা দেখানোর ডাক পড়ে। বছরের ৫ মাস তিনি মটরসাইকেল খেলা দেখান আর বাকি ৭ মাস বাড়িতে থাকেন এবং গৃহস্থলীর কাজ করেন। মোফারুল ইসলামের বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির হাজিপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে।
সরেজমিন এই প্রতিবেদন তার বাড়িতে গেলে কথা হয় মোফারুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান; প্রায় ১যুগ ধরে দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন মেলায় মটরসাইকেল খেলা দেখাই। জীবনের ঝুকি নিয়ে কাঠের তৈরি গর্তে মটরসাইকেল খেলা প্রদর্শন করতে হয়। ভয় লাগে কিন্তু কি করবো ? এটাই আমার পেশা।
তিনি জানান; এক সময় অভাবের তাড়নায় সিন্ধান্ত নেই মটরসাইকেল খেলা দেখানোর। শুরুতে বাড়িতে মাটির গর্ত করে মটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষন দেই। এভাবেই শুরু।
তিনি জানান; জীবনের শুরুতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতাম। অভাব তখন লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে আমার ছেলের রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। প্রতি মাসে বাচ্চাকে ব্লাড দিতে হয়। উপায় না পেয়ে সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলি পেশাদার মটরসাইকেল খেলা দেখানোর।
তিনি জানান; বর্তমানে প্রতি বছর মেলা মৌসুমে মোটরসাইকেল খেলা হতে সবকিছু বাদ দিয়ে ৮০হাজার টাকা উপার্জন করি। যা দিয়ে আমার পরিবারের যাবতীয় খরচ,সন্তানের চিকিৎসা সহ জমি কিনে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করেছি। শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিকের কাজ করে এ সব কিছুই করতে পারতাম না। 
তিনি আরও জানান; আমার এ খেলার বৈশিষ্ট হলো,আমি যেখানে খেলা প্রদর্শন করি সেটি কাঠের তৈরি খাঁড়া ধরনের গর্ত আর অন্যরা খেলা দেখান একটু ঢালু ধরনের গর্তে। আমার মত খেলোয়াড়রা আমার এই গর্তটিতে সহজেই খেলা প্রদর্শন করতে পারবে না। এ কারনেই আমার খেলা দেখতে মানুষরা বেশি পছন্দ করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; মোফারুল ইসলামকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সে শুধুমাত্র অভাবের তাড়নায় এমন ঝুঁকিপুর্ন কাজটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান; ঝুকিপুর্ন এ খেলা প্রদর্শন করে আয় বেশি হয় সত্যি কিন্তু দ্রুত তার এই পেশা পরিবর্তন করা উচিত।  


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৯৫১৪০৫০
 

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০১৭

গ্রামাঞ্চল হতে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামল আমার বাংলাদেশ। গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ আমাদের এই বাংলাদেশ। সহজ সরল মানুষের বসতি এই বাংলাদেশে। এ দেশের মাটি সোনার চাইতেও খাঁটি। এই মাটিতে যে শস্যই চাষ করা হোক না কেন তাই জন্মে এই মাটিতে। এখানকার মানুষরা এক সময় বাস করতো মাটির বাড়িতে। সেই সময় পুকুর আর গাছপালা ঘেরা মনোরম পরিবেশে মাটির ঘর যেন শান্তির আরেক রুপ। কারন গ্রীষ্মকালে প্রখর রোদে মাটির ঘর এতটাই আরামদায়ক যে গ্রামাঞ্চলের মানুষরাই শুধু এর মর্ম বুঝে। এটি ছিল বাংলাদেশের এক সময়ের চিত্র।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে মাটির ঘর চোখে পড়ে রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া নামক গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা যায় শৈল্পিক সৌন্দর্যে ভরা মাটির ঘরটি তার অতীত ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে যেন বলছে এক সময় আমার কদর থাকলেও এখন আমি মুল্যহীন।
কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৬)সাথে তিনি জানান; আগে আমাদের এলাকায় অসংখ্য মাটির বাড়ি ছিল। মাটির তৈরি ঘরগুলোতে এতটাই শীতল ছিল যে গরমের দিনে ইলেকট্রিক ফ্যানের তেমন প্রয়োজন ছিল না। সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মও আর মাটির তৈরি ঘরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না।
তিনি জানান;আধুনিকতার ছোঁয়া আর বর্ষাকালে মাটির ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের মানুষরা এখন মাটির ঘর ভেঙ্গে পাকা বাড়ি তৈরি করছেন।
তিনি আরও জানান; মাটির তৈরি ঘর এ দেশিয় গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক।
মাটি দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আধুনিকায়ন করে গ্রামিন অতীত ঐতিহ্যকে সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল প্রামানিক(৭২)জানান;
ছোট বেলায় আমিও মাটির তৈরি ঘরে বাস করেছি। ঘরটি এতটাই ঠান্ডা থাকে যে ইলেকট্রিক ফ্যানের তেমন প্রয়োজন পড়তো না।
তিনি জানান;মাটির তৈরি ঘর গ্রাম-বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য। এর সংরক্ষন জরুরি।
তিনি আরও জানান; যদি আমরা একে সংরক্ষন না করি তাহলে নতুন প্রজন্ম জানতেই পারবে না মাটির তৈরি ঘরের কথা। আমাদের গৌরবময় গ্রামিন ঐতিহ্যকে তো আমাদেরই সংরক্ষন করতে হবে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
  


রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে জংলি উদ্ভিদ শে^তদ্রোন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শে^তদ্রোন একটি জংলি উদ্ভিদের নাম। প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠে গাছটি। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা গাছটির অবদান মনুষ্য সমাজে অনেকখানি। গ্রামে-গঞ্জে আপনা-আপনি জন্ম নেয়া গাছটিকে চেনে না এমন কেউ নেই। গাছটি মধু ফুল নামে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। গ্রাম-গঞ্জের শিশুরা শে^তদ্রোনের ছোট ছোট সাদা ফুল তুলে মুখে দিতো মধু আহরনের জন্য। কারন শে^তদ্রোন নামক গাছটির সাদা সাদা ফুলে মৌমাছি মধু সঞ্চয় করে। 
মৌমাছি তার মধু সঞ্চয়ের পর অবশিষ্ট মধু শিশু-কিশোররা ফুল হতে সংগ্রহ করতো।
সময়ের পথপরিক্রমায় ক্রমেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে মধু ফুলের গাছ শে^তদ্রোন।  শে^তদ্রোন নামক গাছটির গুনাগুন সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির শে^তদ্রোন গাছটিকে জ্বালানি ও আগাছা হিসেবে আমরা অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ গাছটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না।
শে^তদ্রোনের বৈজ্ঞানিক নাম- লিওকাস এসপিরা,গোত্রের নাম-লাবিয়েটি। গাছটির উচ্চতা ১-২ ফিট। পাতা চিকন রোমশ ধরনের। ফুলগুলি ছোট ছোট সাদা রংয়ের হয়। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটি অত্যন্ত ভেষজগুন সম্পন্ন একটি উদ্ভিদ।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর গ্রামের রাস্তার ধারে দেখতে পাওয়া যায়।
শে^তদ্রোন গাছ সম্পর্কে কথা হয় দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলীনি সরকারের(৯৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন ছোট ছোট এ গাছগুলি আগে আমাদের বাড়িসহ যেখানে সেখানে পাওয়া যেত। জ্বালানি সংকট ও আগাছা হিসেবে গাছটিকে কেটে ফেলার কারনে শে^তদ্রোন গাছ আর চোখে পড়ছে না। ছোট বেলায় আমি সহ আমার বন্ধুরা মিলে শে^তদ্রোনের ফুল তুলে মধু আহরন করতাম। ফুলটি হতে অনেক মধু বের হয়। ফুলটি দেখতেও সুন্দর।
তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা শে^তদ্রোন গাছটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। গাছটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির শে^তদ্রোন গাছটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে শে^তদ্রোন গাছ কার্যকর ভুমিকা রাখে। অথচ আমরা ভেষজ গুন সম্পন্ন গাছটিকে কেটে সাবাড় করে ফেলছি। শে^তদ্রোন  গাছটিকে যদি আমরা না বুঝে জ্বালানি ও আগাছা হিসেবে নষ্ট করে ফেলি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ গাছটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; শে^তদ্রোন গাছটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪        

শুক্রবার, ১২ মে, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ রক্তদ্রোন





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠা একটি গাছের নাম রক্তদ্রোন। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা গাছটির অবদান মনুষ্য সমাজে অনেকখানি। অনেকেই আমরা গাছটির গুনাগুন সম্পর্কে জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির রক্তদ্রোন  গাছটিকে জ্বালানি ও আগাছা হিসেবে অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ গাছটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। রক্তদ্রোনের বৈজ্ঞানিক নাম- লিওনুরাস সিবিরিকাস,গোত্রের নাম-লাবিয়েটি। গাছটির উচ্চতা ১-২ ফিট। পাতা চিকন রোমশ ধরনের। ফুলগুলি ছোট ছোট লাল রংয়ের হয়। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটি অত্যন্ত ভেষজগুন সম্পন্ন একটি উদ্ভিদ।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের রেল লাইনের ধারে দেখতে পাওয়া যায়।
রক্তদ্রোন গাছ সম্পর্কে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিকের(৮৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন ছোট ছোট এ গাছগুলি আগে আমাদের বাড়িসহ যেখানে সেখানে পাওয়া যেত। জ্বালানি সংকট ও আগাছা হিসেবে গাছটিকে কেটে ফেলার কারনে রক্তদ্রোন গাছ আর চোখে পড়ছে না।
তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা রক্তদ্রোন গাছটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। গাছটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির রক্তদ্রোন গাছটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে রক্তদ্রোন গাছ কার্যকর ভুমিকা রাখে। অথচ আমরা ভেষজ গুন সম্পন্ন গাছটিকে কেটে সাবাড় করে ফেলছি। রক্তদ্রোন গাছটিকে যদি আমরা না বুঝে জ্বালানি ও আগাছা হিসেবে নষ্ট কওে ফেলি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ গাছটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; রক্তদ্রোন গাছটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪        

বুধবার, ১০ মে, ২০১৭

রক্তিম সাজে সেজেছে কৃষ্ণচুঁড়া




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রক্তিম সাজে সেজেছে কৃষ্ণচুঁড়া। দগদগে লাল ফুল মানুষের মনকে আবেগে উদ্বেলিত করে। যে কোন পথচারি রাস্তা পারাপারের সময়
লাল আভা ছড়ানো রক্তিম রঙ্গের ফুলগুলি এক নজর দেখতে দাঁড়িয়ে যান। এ যেন প্রকৃতির এক নৈসৈগিক দৃশ্য। গ্রীষ্মের এই সময়ে (এপ্রিল-মে) প্রচন্ড তাপদাহে মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন সামান্যতম শীতল পরশের জন্য কৃষ্ণচুড়ার ছায়াঘেঁরা পরিবেশে দগদগে লাল ফুলের ছোয়াঁয় যেন পথচারিরও ক্লান্তি দুর হয়। কৃষ্ণচুড়ার বৈজ্ঞানিক নাম-ডিলোনিক্স রেজিয়া। গোত্র-লিগুমাইনোসি। গাছটির উচ্চতা-২০-২৫ফিট।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে কৃষ্ণচুড়া নামক গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া এলাকায়। কাছে গিয়ে দেখা শুন্য গাছে শুধু ফুল আর ফুল। যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। দগদগে লাল ফুল দেখতে কার না ভাল লাগে !
কথা হয় মুন্সিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক শ্যামল লোহানীর সাথে,তিনি জানান; শুধু মাত্র দগদগে লাল ফুল দেখতেই আমি মাঝে মধ্যে এখানে আসি। এখানে এলে মন ভাল হয়ে যায়। তিনি আরও জানান; আগে আমাদের উপজেলায় অসংখ্য কৃষ্ণচুড়া ফুল গাছ থাকলেও বর্তমানে আর আগের মতো চোখে পড়ে না।
কৃষ্ণচুড়ার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বিশিষ্ট ঠিকাদার মাহাবুব সরকার দ্বীপ জানান; রংপুর যাওয়ার পথে এই কৃষ্ণচুড়া গাছের নিচে এসে কিছুটা সময় বিশ্রাম নেই। পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির কৃষ্ণচুড়ার লাল ফুল দেখতে আমার ভীষন ভালো লাগে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির কৃষ্ণচুড়া নামক  ফুল গাছটি আগে দেশের সর্বত্র দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মতো চেখে পড়ে না। তিনি আরও জানান; পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির গাছটির চারা সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে একে সংরক্ষন করা উচিত। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কৃষ্ণচুড়া নামক গাছটির নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কৃষ্ণচুড়ার লাল ফুল সকলের ভাল লাগে। তবে গাছটি আর আগের মত চোখে পড়ে না। গাছটির সংরক্ষন জরুরি।



বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




 

সোমবার, ৮ মে, ২০১৭

সফল বাগান মালিক সামসুজ্জামান



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ দেশ বিদেশে নানা কাজ করে থাকেন। নিরলশভাবে কাজ করে তারা নিজের সমৃদ্ধি সহ দেশের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছেন। এমনি এক মানুষ সামসুজ্জামান সরকার। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিহারা লক্ষীপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কর্নধার মশিউর রহমান সরকারের পুত্র। এক যুগ আগে তিনি লেখাপড়ার জন্য গ্রীসে যান। লেখাপড়া শেষ করে ওখানেই ব্যবসা শুরু করেন। দেশের টানে কয়েক বছর আগে সামসুজ্জামান ফিরে এসে তার পিতার পরিত্যক্ত ১০ একর জমিতে আম ও লেবুর বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৯শত আম গাছ এবং ৩ হাজার লেবু গাছ।
সরেজমিনে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়; আম ও লেবুতে ভরে গেছে গোটা বাগান। দৃষ্টিনন্দন এক অভূর্তপুর্ব পরিবেশ,চোখ ফেরানো যায় না। বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ৮জন কৃষক নিয়ে যুবক সামসুজ্জামান।
কথা হয় গ্রীস ফেরৎ যুবক সামসুজ্জামানের সাথে,তিনি জানান; এক যুগ আগে আমি লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গ্রীসে যাই। ওখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজ করি। লেখাপড়া শেষ করে ওখানেই ব্যবসা শুরু করি।
তিনি জানান; দেশের কথা, বাবা মায়ের কথা মনে হলে মন খুব খারাপ হতো। এক সময় সিন্ধান্ত নেই দেশে ফিরে আসার। এক সময় দেশেও ফিরে আসি।
তিনি জানান; বাড়িতে এসে দেখি আমাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গত ৪ বছর আগে পরিত্যক্ত ১০ একর জমিতে পর্যায়ক্রমে ৯শত আম গাছ এবং এর ফাঁকে ৩ হাজার লেবু চারা রোপন করি।
আশা করছি, এ বছর কয়েক লক্ষ টাকার আম ও লেবু বিক্রি করতে পারবো। এ বছর আরও কয়েক একর জমিতে আম ও লেবু চারা রোপন করার ইচ্ছে আছে।
তিনি আরও জানান; শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি অহেতুক সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ কাজে মনোনিবেশ করে তাহলে তারা নিজের সমৃদ্ধি সহ দেশের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে পারে।
সামসুজ্জামানের বাগান দেখতে আসা রংপুর পল্লীবিদুৎ সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ আতিকার রহমান প্রামানিক জানান; সামসুজ্জামানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। সে একজন অনেক বড় মনের মানুষ। বিদেশ ফেরৎ যুবক সামসুজ্জামান দেশে এসে সময় নষ্ট না করে কাজে মনোনিবেশ করাটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
তিনি আরও জানান; তার পিতার পরিত্যক্ত জমিতে বাগান করে একদিকে যেমন সে আর্থিকভাবে লাভবান হবে অন্যদিকে সৃষ্টি হবে অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থান। তার মত সারাদেশে যুবকরা যদি কাজে মনোনিবেশ করে তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। 
সামসুজামানের বাগান দেখতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা জানান; তার আম ও লেবু বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এখন আমারও ইচ্ছে হচ্ছে সামসুজ্জামানের মত একটি বাগান করার।
তিনি আরও জানান; বাগান করলে শুধু বাগান মালিকরাই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন না, বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পুষ্টি চাহিদা মেটানো সহ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




 

শনিবার, ৬ মে, ২০১৭

জীবন





“জীবন একটা অমসৃন পথ,
                    কতইনা চড়াই উৎরাই তাতে,
কখনো আনন্দ,কখনোবা বেদনায় ভরা,
                   তবুও চলতে হয় একাগ্রচিত্ত্বে,
সব কিছুকে পিছনে ফেলে
                   আগামির সুন্দর স্বপ্নীল স্বপ্নের কথা ভেবে,
এর নামই মনে হয় জীবন !
                   আসলে জীবন মানেই কি শুধু ,
সামনের দিকে এগিয়ে চলা.......... !!”


কামরুজ্জামান মুক্তা
ঊদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ৫ মে, ২০১৭

সুমিষ্ট ফল লটকন চাষ করে লাভবান হতে পারেন রংপুরের কৃষকরা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

দেশিয় জাতের সুমিষ্ট ফলের মধ্যে লটকন একটি। ফলটি এতটাই সু-স্বাদু যে সকলেই একে পছন্দ করে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগি। ১৫-২০ফিট উচ্চতার গাছটিতে গোড়া হতে শীর্ষদেশ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমানে লটকন ধরে। বাংলাদেশের অনেক জেলায় বানিজ্যিক ভিক্তিতে এখন লটকন চাষ হচ্ছে। শুধুমাত্র রংপুর বিভাগে এর চাষ নেই। এ অঞ্চলের কৃষকরা শখের বশে বাড়ির আনাচে কানাচে,পরিত্যক্ত জমিতে কিংবা বাড়ির সীমানা প্রাচীরের মধ্যে এর চারা রোপন করেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লটকন ফলটির বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অথচও এ অঞ্চলের কৃষকরা দেশিয় জাতের এ ফলটিকে গুরুত্বের সাথে নেয় না। এছাড়াও লটকনের রয়েছে দেশে বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। কৃষকরা লটকন চাষ করে একদিকে যেমন ভিটামিন সির ঘাটতি লাঘব করতে পারেন অন্যদিকে তারা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবানও হতে পারেন। লটকনের বৈজ্ঞানিক নাম- বিক্সা ওরিলানা, গোত্র- বিক্সাসি। দেশিয় জাতের লটকন বৃক্ষটি পরিবেশ বান্ধব ও এ অঞ্চলের আবহাওয়ার সাথে বেশ মানানসই। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লটকন ফলটি প্রতি কেজি বাজারে ৯০টাকা হতে ৪শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অথচ ফলটির ফলনও বেশ।
শুধুমাত্র কৃষকদের অনীহার কারনেই এ অঞ্চলে লটকন চাষ হচ্ছে না।  সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে আম-লিচুর বাগান দেখা গেলেও লটকনের কোন বাগান চোখে পড়েনি।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৯০)সাথে, তিনি জানান; আমার বাড়িতে একটি লটকনের গাছ আছে। গাছটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে লটকন ধরেছে। ফলটি খুবই সু-স্বাদু। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ দেশিয় জাতের লটকনের চাষ করে কৃষকরা অনায়েসে লাভবান হতে পারেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আমাদের কলেজে একটি লটকন ফলের গাছ রয়েছে। ফলও ধরেছে বেশ। আসলে ফলটি এতটাই সু-স্বাদু যে প্রত্যেকেই লটকন পছন্দ করে।
তিনি আরও জানান; লটকনের বাজারে চাহিদা ব্যাপক। এখানকার মাটি লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগি। এ অঞ্চলের কৃষককদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে লটকন চাষ করে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; বদরগঞ্জ উপজেলায় আম-লিচুর বাগান বানিজ্যিক ভিক্তিতে থাকলেও লটকনের কোন বাগান নেই। লটকন চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে সু-ঘ্রান বিশিষ্ট ফুল স্বর্নচাপা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

স্বর্নচাপা একটি সু-ঘ্রান বিশিষ্ট ফুলের নাম। সোনালী আভা ছড়ানো ফুলটির ঘ্রান এতটাই তীব্র যে,পথচারিদের সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। স্বর্নচাপার উচ্চতা ২০-২৫ফিট। দেখতে অনেকটা জলপাই গাছের অনুরুপ। এর পাতাও জলপাই গাছের ন্যায়। বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে জন্মাতো যে শোভাবর্ধনকারি ফুল গাছটি তার নামই স্বর্নচাপা। অনেকে আবার শখের বশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য স্বর্নচাপার চারা বাড়িতে রোপন করে থাকেন। ফুলটির সোনালী আভা ছড়ানো রং যে কারোরই মনকে দোলা দেয়। শোভাবর্ধনকারি স্বর্নচাপা ফুল গাছটি আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্ব আমরা তেমনভাবে দেই না। শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই সু-ঘ্রান বিশিষ্ট স্বর্নচাপা নামক বৃক্ষটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মুল্যবান এ সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রকৃতিতে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য নাম না জানা উদ্ভিদ। শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যা আর নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে,হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে সোনালী আভা ছড়ানো ফুল গাছ স্বর্নচাপা। 
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে স্বর্নচাপা নামক ফুল গাছটির দেখা মিললেও বর্তমানে কম চোখে পড়ে।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্বর্নচাপা নামক ফুল গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আজিজুল ইসলাম খানের সাথে,তিনি জানান; ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক স্বর্নচাপা নামক  ফুল গাছ ছিল। তবে এখন খুব কম চোখে পড়ছে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; স্বর্নচাপা ফুল গাছটি আগে প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। দেশিয় প্রজাতির এ ফুল গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না স্বর্নচাপার নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; স্বর্নচাপা ফুল গাছটি কেন জানি না আর আগের মত তেমন চোখে পড়ছে না। দেশিয় প্রজাতির এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




বুধবার, ৩ মে, ২০১৭

ধুপের ধোঁয়ায় জীবিকা নির্বাহ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশা আকঁড়ে ধরে। সহায় সম্বলহীন অসহায় এক মানুষ বোনা রাম (১০১)। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চম্পাতলি গ্রামে। অসহায় বৃদ্ধ এই মানুষটির কাজ সন্ধ্যার সময় দোকানে দোকানে গিয়ে ধুপ(সুগন্ধি)দেয়া। এটাই তার পেশা। বৃদ্ধ বোনা রামের ২ মেয়ে কোন পুত্র সন্তান নেই। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ বোনা রাম দোকানে দোকানে ধুপ(সুগন্ধি) দিয়ে বেড়ান। এ হতে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার সংসার।
গতকাল সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ বাজারে মোহন দাসের পানের দোকানে ধুপ দিতে এলে 
কথা হয় বোনা রামের সাথে,তিনি এই প্রতিবেদকে জানান; দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ কাজ করছি। গরীব মানুষ জমি জমা নেই। কষ্ট হলেও দোকানে দোকানে ধুপ(সুগন্ধি) দিয়ে বেড়াই। দোকানদাররা যা দেন তাই নেই। প্রতিদিন আয় হয় ২শত টাকা। এই বয়সে এ কাজ ছাড়া তো আর অন্য কাজ করতে পারবো না। যতদিন বেঁচে আছি এ কাজটিই করে যাব।
তিনি জানান; আমার ভাল লাগে এই ভেবে যে,প্রতিটি দোকানে আমি সুগন্ধি ছড়িয়ে দিতে পারছি। ধুপ দিলে এক দিকে যেমন মশা-মাছি থাকে না,অন্যদিকে দোকান হতে সুগন্ধ ছড়ায়। যা আমার ভালো লাগে।
তিনি আরও জানান; আমি মানুষের মাঝে সুগন্ধ ছড়ালেও কেউ আমার জীবনে সুগন্ধ ছড়াতে এল না,এটাই আমার কষ্ট। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; বোনা রামের বাড়ি আমাদের ইউনিয়নে। সহায় সম্বলহীন এ বৃদ্ধ মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে দোকানে দোকানে ধুপ দিয়ে বেড়ান। দোকানদাররা যা দেন তা দিয়ে চলে তার সংসার। তিনি আরও জানান;শতবর্ষী এই মানুষটির দোকানে দোকানে ধুপ দিয়ে ঘুরে বেড়ানোটা সত্যিই কষ্টের। ইউপি চেয়ারম্যান সহ সমাজের দায়িত্বশীল মানুষরা যদি এই বৃদ্ধ বোনা রামের দায়িত্ব নিতো তাহলে এই সম্বলহীন গরীব মানুষটির উপকার হতো।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...