শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭

বদরগঞ্জে নাতির আবদার পুরনে দাদার প্রানবন্ত চেষ্টা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

একান্নবর্তী পরিবার আর নেই। আধুনিক এই যুগে মানুষ নিজে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এখন প্রতিটি মানুষ জীবনের প্রয়োজনে পরিবার পরিজন ছেড়ে কিংবা শুধুমাত্র সন্তানদের নিয়ে শহর নগরে ছোট এক কুঁঠুরিতে বসবাস করছেন। এটাই জীবন। সেখানে নেই কোন মমতা ভরা ভালবাসা নেই কোন আনন্দ। এভাবে আমরাও অভ্যস্ত হয়েছি কিংবা নিজেকে মেনে নিয়েছি সেভাবেই।
সংবাদকর্মি হিসেবে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলা ঘুরার এক পর্যায়ে চোখে পড়ে এক বিরল দৃশ্য। 
পরম মমতা ভালবাসা আর দরদ দিয়ে ভালবাসার ছোট অবুঝ শিশুটির জিদ ভাঁঙ্গাতে এক দাদা তার প্রিয় নাতিকে বাড়ি হতে কিছুটা দুরের মেঠোপথে একেবারে সাদামাটা পোষাকে পরম ¯েœহে সুপারি গাছের পাতার সম্পুর্ন অংশ(ডাল)দিয়ে গাড়ির ন্যায় টেনে তাকে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করছে। এই সময়ে এমন বিরল দৃশ্য দেখে লোভ সামলাতে না পেরে মটরবাইক থামিয়ে স্থির চিত্র ধারন করি। এই বিরল দৃশ্যটি চোখে পড়ে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ নামক এলাকায়।
এক পর্যায়ে দাদা আলতাব হোসেন(৬৯)সাদরে আমন্ত্রন জানিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে গিয়ে দেখি অনেক বড় দালানের বাড়ি আর অসংখ্য ঘর। যার  প্রতিটি ঘরেই আধুনিক সকল প্রকার সুযোগ সুবিধাই রয়েছে। ঘরগুলিতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আসবাবপত্র যা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। অথচ বাড়িতে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ। বাড়ি দেখে মনে হল আলতাব হোসেন বিত্তশালি অভিজাত পরিবারের সন্তান।
কথা হয় দাদা আলতাব হোসেনের সাথে,তিনি জানান; আমার ৫ছেলে ৩মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মেয়ে সবাই চাকুরি করে। আমার অন্য ছেলে সন্তানরা ঈদের সময় আর মেয়েরা ৪-৫ বছর অন্তর বাড়িতে আসে। এখন এই বাড়িতে আমি,আমার স্ত্রী, ছোট ছেলে,বউ ও তার সস্তানকে নিয়েই থাকি। সারাদিন শুয়ে বসে আর ছোট ছেলের সন্তানকে নিয়ে আনন্দ করি। ওর যত আবদার সবকিছুই আমার কাছে। আপ্রান চেষ্টা করি ওর আবদার পুরন করতে,এতে আমারও ভীষন ভালো লাগে।
তিনি জানান; সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করতে হবে এ কারনে প্রতিটি সন্তানকে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় হতে এমএ পাশ করিয়েছি। পরে সকল সন্তান যখন চাকুরির সুবাদে নিজ নিজ পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে অবস্থান করছে তখন আমরা ভীষন একাকিত্ব অনুভব করলাম। ওই সময়টাতে এত বড় বাড়িতে আমি আর আমার স্ত্রী। একসময় সিন্ধান্ত নেই ছোট ছেলেটি বিশ^বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করলেই নিজের কাছে রাখবো। ছেলে পাশ করে আসার পর অনেকটা জোর করে তাকে আমাদের পাশর্^বর্তী উপজেলা মিঠাপুরের এক কলেজে চাকুরির ব্যবস্থা করি। 
তিনি আরও জানান; সকল সন্তানদের সাথে মোবাইল ফোনে প্রতিদিন কথা হলেও তারা তো আমাদের কাছে থাকে না। এখন অনুভব করি এই বৃদ্ধ বয়সে এত জমি(শত বিঘা) আর বাড়ি,গাড়ি দিয়ে কি হবে ? মনের মধ্যে যদি কোন আনন্দ না থাকে ! 
এই নাতিটাই আমার বৃদ্ধ বয়সের অবলম্বন। ওকে নিয়েই আমরা দুই মানুষ বেঁচে আছি,আনন্দে আছি। এ যে কি সুখ,আনন্দ,তা তোমাদের বোঝাতে পারবো না। আর তোমরাও বৃদ্ধ না হলে অনুভব করতে পারবে না।
একই এলাকার বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক রাজ্জাক আলি জানান; আলতাব চাচা বিত্তশালি হলেও অতি সাধারন পোষাক পরিধান করতে অভ্যস্থ। সন্তানদেরও তিনি এভাবেই মানুষ করেছেন। তার প্রতিটি সন্তানও বাবার মত। একেবারে সাধামাটা। তিনি আরও জানান; চাচা একজন সহজ সরল পরোপকারি মানুষ। দুঃখের বিষয়, তার এত বড় বাড়িতে তেমন কোন মানুষই থাকে না। এক ছেলে বাড়িতে থাকলেও কলেজে চাকুরি আর ব্যস্ততার কারনে বাড়িতে কম সময় দিতে পারেন। বাড়িতে বৃদ্ধ চাচা চাচি নাতিকে নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান। নাতিই চাচার প্রান।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 







বিদায়-২০১৭



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

বিদায় লগ্ন সত্যিই বিরহের। তবু বিদায় নিতে হয়। এটাই জাগতিক নিয়ম। বিদায় বেলায় মানুষ রেখে যায় সুখ-দুঃখের অসংখ্য স্মৃতি।
এই সুন্দুর পৃথিবী ছেড়ে আমরাও একদিন বিদায় নেব। পড়ে থাকবে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি।
ব্লগ ও ফেসবুকে লেখালেখির সুবাদে অসংখ্য বন্ধুর সাথে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বন্ধুরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো,তোমরা সকলেই ভাল থেকো, সুস্থ্য থেকো। ছোট একটি কবিতার মাধ্যমে আমি আমার পৃথিবীর সকল বন্ধুদের ২০১৮ সালের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানাতে চাই।
 
“চলেই যখন যাবে তুমি,
একটু ফিরে চাও
আমার ভালবাসাটুকু
ফেরৎ দিয়ে যাও”

 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত(পিকনিক)এখন স্মৃতি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বড় পুকুর,বিলের পাড় কিংবা গাছ-গাছালি ঘেঁরা মনোরম পরিবেশ এমন জায়গাকেই এক সময়ের শিশু-কিশোররা দলবেঁধে ভুরকাভাত খাওয়ার জায়গা হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেখানে সামিয়ানা, কলাগাছের পাতা আর পলিথিন দিয়ে ছোট আকারের ঘর তৈরি করা হতো। যেখানে রান্না করা খাবার সহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র রাখা হতো। এর পর রান্না শেষ হলে দলবদ্ধভাবে খাবার পরিবেশন করা হতো। প্রথমে তুলনামুলকভাবে বড়রা পরিস্কার কলার পাতায় (থালা) ছোটদের খাইয়ে দিয়ে পরে নিজেরা খেতে বসতো। পরম মমতায় একজন আরেক জনের সাথে মিলে মিশে আনন্দ উপভোগ করতো। সময়ের পথপরিক্রমায় শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত (পিকনিক)এখন স্মৃতি। আগের মত গ্রামে-গঞ্জে শিশু কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।
আধুনিক এই যুগে পিকনিকের বহুল প্রচলন থাকলেও শিশু-কিশোররা বাবা মা ভাই-বোন কিংবা বন্ধুদের সাথে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বাস কিংবা মাইক্রোতে চেপে গন্তব্যস্থলে যাওয়া আর আসা। সেখানে নেই কোন ভালবাসা,তেমন নেই কোন আনন্দ।   
ছুটির দিনে বেড়ানোর ফাঁকে উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার বিরল দৃশ্য। তৎক্ষনাৎ মটরবাইক থামিয়ে চলে যাই শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার জায়গায়।
এ সময় কথা হয় কিশোর দলনেতা ফারুক মিয়া(১২)সাথে,সে জানায়;অনেকদিন ধরে ভুরকাভাত খাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাবা মাদের সাথে কথা বলে তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে আজ ভুরকাভাত খাওয়ার আয়োজন করেছি। অনেক ছোটরাও আমাদের সাথে ভুরকাভাত খাচ্ছে। ছোটদের দেখার জন্য আমাদের মধ্য হতে ৩জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে,  তারা যেন আনন্দ করতে এসে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।
সে আরও জানায়, ডিম,মাছ,ডাল,ভর্তা,শাক-সবজি দিয়ে আমরা ভুরকাভাত খাচ্ছি। কষ্ট হলেও ভীষন আনন্দ লাগছে।
কথা হয় শিশু আমিনার (৫)সাথে,সে জানায়;আমি এসেছি আমার বড় ভাইয়ের সাথে। খুব মজা লাগছে।
মটরবাইক থামিয়ে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য দেখতে থাকা বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন জানান; বহু বছর পর বাচ্ছাদের ভুরকাভাত(পিকনিক)খাওয়ার দৃশ্য দেখে নিজেকে আর সামলাতে না পেরে দাঁড়িয়ে পড়লাম। খুব ভালো লাগছে। কতদিন দেখিনি এ দৃশ্য।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৯০) সাথে,তিনি জানান; বাচ্চাদের ভুরকাভাত(পিকনিক)খাওয়া দেখে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমরাও ছোট বেলায় অনেক ভুরকাভাত খেয়েছি। এখন আর ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে না। আধুনিক যুগে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য বিরল।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 

বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

কৃষিকাজে যখন বাড়ির নারীরাই ভরসা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রামিন অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে শ্রমজীবি নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তাদের শ্রমকে খাটো করে দেখার কোন কারন নেই। এর সাথে যদি যুক্ত হয় নিজ বাড়ির সদস্য বোন ভাবি ননদ তাহলে কেমন হয় !  সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখার সময় উপজেলার গোপালপুর ইউপির শ্যামপুর পদাগঞ্জে গিয়ে চোখে পড়ে কৃষি শ্রমিকের অপ্রতুলতার কারনে এক পরিবারের মেয়ে সদস্যরাই নিজ জমির ফসল(আখ) কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 
কাছে গিয়ে ছবি তুলতে গেলে প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে ছবি তোলার অনুমতি দেন।
কথা হয় রহিমা বেগম(২২)সাথে,তিনি জানান; আমাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কেউ ব্যবসা করে কেউবা ঢাকায় থাকে। তারা তেমন সময় দিতে পারে না। আখ কাটতে হবে তো ? অনেক ঘোরাঘুরি করেও যখন কামলা(কৃষি শ্রমিক)পেলাম না, তাই নিজের কাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই করছি।
তিনি আরও জানান; নিজেদের জমিতে আখ কাটার দৃশ্য দেখে পাড়ার কয়েকজন শুভাকাঙ্খি (স্বেচ্ছাশ্রম) আমাদের সাথে কাজ করছে যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। 
কথা হয় ডিগ্রি শিক্ষার্থী আমেনা বেগম(১৮)সাথে,তিনি জানান; এখন আর গ্রামেও মজুর(কৃষি শ্রমিক) পাওয়া যায় না। মজুররা বর্তমানে ইটভাটা,রিক্সা কিংবা ঢাকায় গিয়ে কাজ করছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন শ্রমিক পেলাম না তাই বাড়িতে আমরা সিন্ধান্ত নিলাম নিজেদের দুই বিঘা(৫৬শতাংশ)জমির আখ আমরাই কেটে নেব।
এভাবেই শুরু। আজ জমির ফসল কাটা শেষ হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষিকর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, কৃষি ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছে,কারন হিসেবে তিনি কামলা(কৃষি শ্রমিক))না পাওয়াকে দায়ি করেন।
উপজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমান মোবাইল ফোনে জানান;এখন আর গ্রাম-গঞ্জে কামলা পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অদুর ভবিষ্যতে নিজের জমির ফসল হয়তোবা নিজেকেই কাটতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

বড় দিনে উপলক্ষে ক্যাথলিক মিশনে একদিন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আজ ২৫ ডিসেম্বর। শুভ বড় দিন। আহিৃক গতির হিসেবে দক্ষিন গোলার্ধে এই দিনটি আক্ষরিক অর্থেই দীর্ঘতর। তবে উত্তর গোলার্ধে বিপরীত। অর্থ্যাৎ ক্ষুদ্রতর।
কিন্তু দুই গোলার্ধ মিলে পৃথিবীব্যাপি আজ বড় দিন। ইংরেজিতে এই দিনটিকে খ্রিষ্টমাস বলা হলেও বাংলা সাহিত্যের উজ্জল নক্ষত্র ইশ^র চন্দ্র গুপ্ত একে বড় দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বিদের বিশ^াস অনুযায়ি বড় দিন মানে সৃষ্টিকর্তা ঈশ^রের সবচাইতে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুর দিন। এই দিনটি তারা পালন করেন মিথ্যা,প্রতারনা,ভন্ডামি সহ যাবতীয় পাপ কাজ ছেড়ে পূন্য পথে চলার দিন হিসেবে।
অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল বড় দিনের উৎসবে অংশ নেয়ার। এ কারনে বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ১৫কিঃমিঃ দুরে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামে অবস্থিত ক্যাথলিক মিশনে গিয়ে মিশন ইনচার্জ ফাদার বনিফাস মুরমুরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও শুভেচ্ছা বিনিময় করি। পরে তার সাথে কিছু ছবি তুলি।
মিশন ইনচার্জ ফাদার বনিফাস মুরমু এবং দায়িত্বশীল মানুষদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।
বড় দিন উপলক্ষে বিশে^র খ্রিষ্টান ধর্ম্বাবলম্বি ভাই-বোনদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ইত্তেফাকের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকি আমার ইত্তেফাক




আমার ইত্তেফাক

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পঁচিশ পয়সা হতে দশ টাকা। দীর্ঘ পথ। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ইত্তেফাক মানে বাংলাদেশ আর লাল সবুজের পতাকা। বাংলাদেশের প্রাচীনতম পত্রিকার মধ্যে ইত্তেফাক অন্যতম। আর এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের কিংবদন্তি সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। অনন্যগুন সম্পন্ন মানুষটির(একজন মানুষের যে সমস্ত গুনাবলি থাকে) পরিচয় দেবার মত যোগ্যতা আমার মত এক অখ্যাত সংবাদকর্মির আজন্ম হবে কিনা সন্দেহ। সেই ছোট বেলা হতে বাবার হাতে যে পত্রিকাটি আমি দেখেছিলাম তা হল দৈনিক ইত্তেফাক। সেই হতে ইত্তেফাকের প্রতি আমার প্রেম আমার ভালবাসা। কলেজ শিক্ষক ও সংবাদকর্মি হিসেবে এখন বুঝি দেশের শত পত্রিকার মাঝে এখনও কেন ইত্তেফাক এত জনপ্রিয়।
দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকিতে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ হতে জানাই প্রানঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।


প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা
সভাপতি,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব

দৈনিক ইত্তেফাকের একজন পাঠক,ভক্ত।
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

খরা জাল দিয়েও মাছ মিলছে না নদীতে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

“কাইল সারা রাইত ধরি খরা দিয়া মাছ পানু আধা সেরের মতন। নদীত আর মাছ নাই বাহে”কথাগুলো বললেন বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মাছুয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ঝড়–য়া মাঝি(৩৮)। 
তিনি জানান,খরা এইংকা একটা জাল,ওই জাল দিয়া কোন মাছ বেরবার পাবার ন্যায়।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার(২৪ডিসেম্বর)সকালে গিয়ে দেখা যায় খরা জাল দিয়েও মাছ মিলছে না নদীতে। আরও দেখা যায়,নদীতে কোথাও হাটু পানি,কোথাও ধু-ধু বালু চর,আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার। এ চিত্র হল বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি,চিকলি,করতোয়া মরাতিস্তা ও ঘৃনই নদীর।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন টনি জাল(টানা জাল)দিয়ে মাছ মারতে আসা একই এলাকার আফজাল মিয়া। তিনি জানান,নদীতে আর আগের মত মাছ নেই। এক সময় আমাদের বাড়িতে মাছের গন্ধে থাকা যেত না। আর এখন খাবার মাছটুকুই পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলে আলম মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। নদীতে মাছ না থাকায় অতি কষ্টে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি।
ইতোমধ্যে এ নদীগুলো হতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা,ধেদাই,পাবদা সহ নানা প্রজাতির মাছ।
গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার গুলোতেও আর এসব প্রজাতির মাছ সহজে চোখে পড়েনা।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে; প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং ছোট মাছ সংরক্ষনে আইন না থাকায় নদ-নদী,খালবিলের ছোট প্রজাতির মাছ আজ ঝুঁকির মধ্যে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন; নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী সংশ্লিষ্ট খালবিলের গভীরতা কমে যাওয়া, নদী ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা,জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার,জলাশয় দুষন,রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান, নদ-নদীগুলোতে মাছের হয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি বলেন, মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ অঞ্চলে দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে,তবে মৎস্য বিভাগ প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টি মাধ্যমে দেশিয় মাছের অভাব পূরনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 















মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

বিষমুক্ত সবজি চাষে সফল বদরগঞ্জের বাবু




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

বছর পাঁচেক আগেও যে ছিল বাউন্ডেলে জীবনে অভ্যস্ত। বন্ধুবান্ধবদের সাথে অহেতুক সময় নষ্ট করা যার ছিল একমাত্র কাজ। সেই মানুষটিই আজ বিষমুক্ত সবজ্ িচাষ এবং একই জমিতে একাধিক শষ্য চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
পরিশ্রম সততা আর ইচ্ছাশক্তি যে কোন মানুষকে যে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে তার জলন্ত উদাহরন বদরগঞ্জের বাবলুর রহমান বাবু।
এইসএসসি পাশের পর লেখাপড়ায় মন বসে না তার। জায়গা জমি বেশ থাকলেও পিতা আব্বাস আলির তাকে নিয়ে টেনশনের অন্ত ছিল না।
একদিন বাবু তাদের আবাদি জমির ধার দিয়ে যেতে যেতে লক্ষ্য করলো কৃষকরা সবজি ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করছেন। এ বিষয়টি তার ভাল না লাগাতে, সে মনে মনে স্থির করলো বিষমুক্ত সবজি চাষ এবং একই জমিতে একাধিক ফসলের চাষ করবেন। এভাবেই শুরু। এর পর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। চলতি বছর সামান্য জমিতে মাত্র ৪ হাজার টাকা খরচ করে শীতের আগাম জাতের বাঁধা কপি ও ফুল কপি বিক্রি করেছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার।
গতকাল মঙ্গলবার(১৯ডিসেম্বর)সকালে সরেজমিনে তার এই বিষমুক্ত সবজি চাষ এবং একই জমিতে একাধিক ফসলের চাষ দেখতে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে পশ্চিমে ৫ কিঃমিঃ দুরে ট্যাক্সের হাট বালাপাড়া নামক এলাকায়।
জমিতে গিয়ে দেখা যায় কৃষক বাবলুর রহমান বাবু পরম যতেœ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বাবলুর রহমান বাবু জানান,এক সময় আমাকে নিয়ে আমার পিতা মাতার টেনশনের অন্ত ছিল না। অনেক ত্যাগ আর শ্রম দিয়ে গড়ে তুলেছি বিষমুক্ত সবজি খামার।
তিনি জানান,কিছুদিন আগে সামান্য জমিতে বিষমুক্ত কপি বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেছি। বর্তমানে আমার জমির সীমানা ঘেঁষে রোপন করেছি বরবটি। জমিতে আছে আগাম জাতের বিষমুক্ত টমেটো যা কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে আসবে। আশা করছি এখান হতেই কয়েক লক্ষ টাকা আয় করতে পারবো। টমেটোর পাশ দিয়ে লাইন করে রয়েছে পটল,তার পাশে রয়েছে মরিচ,বেগুন ও বাঁধাকপি।
তিনি দুঃখ করে জানান,গতকাল কে বা কাহারা আমার জমিতে গিয়ে বরবটি গাছগুলি নষ্ট করে দিয়েছে।
আমি চাই আমার মত বেকার যুবকরা অহেতুক সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ কাজে মনোনিবেশ করুক তাহলে তারা সফল হবেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আগামি কালই আমি বিষমুক্ত সবজি বাগানটি দেখতে যাবো।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,একই জমিতে একাধিক সবজি চাষ করে বাবু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 




সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

যমুনেশ্বরি নদী এখন পানি শুন্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

 

কোথাও হাটু পানি,কোথাও ধু-ধু বালু চর,আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার। এ চিত্র রংপুর বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি নদীর। যমুনেশ্বরি নদী এখন পানি শুন্য।
পুরোপুরি শুস্ক মৌসুম না আসতেই নদীতে কোন পানি নেই। জেগে ওঠেছে চর। এককালে এ নদী অনেক খরস্রোতা ছিল। কিন্তু কালের আবর্তে তা বিলিন হতে চলেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদীতে চাষিরা ফসল আবাদ করছেন। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে জেলে পরিবারের দুঃখ দূর্দশা চরমে পৌঁছেছে। যমুনেশ্বরি নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য ড্রেজিং না করার কারণে নদী যেমন তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে অন্যদিকে নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।
এক সময়ে এই যমুনেশ্বরি নদীতে বড় বড় নৌকা আর ইঞ্জিনচালিত নৌকা পারাপারের জন্য প্রচলন ছিল। এখন তা সূদুর অতীত। কোথাও কোথাও পানি না থাকায় লোকজন পায়ে হেঁটেই পার হচ্ছে আবার কোথাও হাঁটু পানিতেই লোকজন পারাপার করছে। যেখানে কিছুটা পানি আছে সেখানে বাশেঁর সাঁকো নির্মাণ করে চলছে পারাপারের কাজ। যমুনেশ¦ির নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পুরোপুরি শুস্ক মৌসুম আসার আগেই টিউবওয়েলের পানি ওঠা কমে গেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার নাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চল মিয়া জানান; নদীতে পানি না থাকায় আমাদের খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফসলের ক্ষেত খামারে পানির স্বল্পতা দেখা দেয়ায় আবাদ ঠিকমতো হচ্ছে না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; যমুনেশ¦ির নদীর পানি শুকিয়ে যাবার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক বছরে এ এলাকার উৎপাদন কমে গেছে। আগামিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে বলে মনে করেন তিনি। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শুস্ক মৌসুমে যমুনেশ্বরি নদীর উৎস মুখে পলি পড়তে শুরু করে। কিন্তু খনন কাজ না করা সহ অব্যবস্থাপনার কারণে দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে নদী। এছাড়া অবৈধ দখলদারতো রয়েছেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কনক চন্দ্র রায় বলেন; নদী খনন না করার কারণে নদীতে পলি জমে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ভূ-গর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত ব্যবহারে পানির স্তর নিম্নমূখি হচ্ছে। এমতবস্থায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান,দ্রুত নদী খনন করা না হলে নদীর তীরবর্তী জমির ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ছাড়াও নদীতে পানি না থাকায় জেলে সম্প্রদায়েরও দুর্দিন বিরাজ করছে।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

কীটনাশক ও সারের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে যেতে পারে, তামাকের তৈরি কম্পোস্ট সার




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের চাষ। এক দিকে কৃষকদের নগদ অর্থের মোহ অন্যদিকে টোবাকো কোম্পানি গুলোর অর্থের লোভ দেখিয়ে উৎসাহ; মূলতঃ এই দুটো কারণেই কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তামাকের চাষ। তামাকের চাষ হয় তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনের লক্ষ্যে,যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এই তামাক মূলতঃ চাষিরা টোবাকো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অধিক মুনাফার আশায়।
চাষিরা যদি তামাক গাছ হতে সরাসরি কম্পোস্ট সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করে তাহলে দ্বিগুন ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন; এতে চাষাবাদে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার অর্থ্যাৎ খরচ কমে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও নজরদারিতে তামাকের ব্যবহারটি চাষিদের সূফল আনতে পারে।
কম্পোস্ট সার তৈরি সম্পর্কে তিনি জানান; মাটির গর্তে (মাটির পিট) গোবর, ধঞ্চা,কচুরিপানা, খৈল,ঘাসপাতার সাথে কাঁচা তামাক গাছ ১ ইঞ্চি করে কেটে ভাল করে মিশিয়ে মিশ্রিত দ্রব্য মাটির গর্তে ৭০-৮০ দিন রাখতে হবে। মাঝে এক বার মিশ্রিত দ্রব্যগুলো উল্টে পূনরায় মাটির গর্তে রেখে দিতে হবে। পরবর্তিতে এই পিট হতে সার উত্তোলন করে কম্পোস্ট সার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; বদরগঞ্জ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের আবাদ । তবে তামাকজাত দ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও কম্পোস্ট সার হিসাবে এটি খুবই উপযোগি। তিনি বলেন; এই গাছ জমিতে ১২০-১৩৫ দিন পর্যন্ত থাকে। ঐ সময়ে তামাক গাছ মাটি হতে যে সার মিশ্রিত খাদ্য গ্রহন করে তা গাছের দেহে যৌগিক পদার্থ হিসাবে জমা থাকে। কাঁচা অবস্থায় ঐ গাছ কেটে সার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা হলে যৌগিক পদার্থ কম্পোস্ট সারের সাথে মিশে যায়। এতে তৈরি হয় এক সুষম সার। যা অন্যান্য ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


    



শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

বিজয় দিবসে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করেছেন। গতকাল শনিবার(১৬ডিসেম্বর)সকাল ৭টায় এ পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,রিপোর্টার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক মোস্তাফিজার রহমান,সহ-কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক সাইদুজ্জামান রিপন,সাংবাদিক শ্যামল লোহানী প্রমুখ।
পুস্পমাল্য অর্পন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ১ মিনিট নীরবতা ও মোনাজাত করা হয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

শিশু শ্রম




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন মানে গতিশীলতা,থেমে থাকা তার কাছে যেন দ্যর্থহীন কোন বাসনা। জীবন চলে তার নিজস্ব গতিতে আপন ভঙ্গিমায়। জীবনটাকে উপভোগ করছি আমরা সবাই ভিন্ন রঙ্গে ভিন্ন সাজে এই যা ! সবাই তো আর এক ভাবে জীবনটাকে উপভোগ করে না আর করতে পারেও না। এ জীবনে কতইনা উত্থান কতইনা পতন। জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও সে যেন চলে ঘড়ির কাটার মত টিক টিক করে।
আমি আজ সেই জীবনের কথা বলবো যেখানে আছে শুধু গতিশীলতা,নেই কোন বিনোদনের লেশ মাত্র উপকরন। বেকার দারিদ্রতা হতাশাগ্রস্থ জীবন আর বিভিষিকাময় দিনগুলিকে পিছনে ফেলে মূলতঃ নিয়তির উপর ভর করে আদম সন্তানদের রাজধানি শহরে ছুঁটে আসা।
ছুঁটতে ছুঁটতে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে হয়তঃ শরীরের কোন স্থান হতে লবন মিশ্রিত লাল পানি মুছে অথবা ঝটপট নোংড়া কাপড় দিয়ে আবৃত করে ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে আবারো ছুঁটা। এ যেন দৌঁড় দৌঁড় খেলা।
এমন চরম বাস্তবতাকে স্বচক্ষে দেখতে গেলে সকাল ৭টা হতে ৮টার মধ্যে রাজধানির যে কোন রাস্তায় কিংবা গলির দিকে তাকালে এর সচিত্র সহজেই চোখে পড়বে। ছোট বড় কমবয়সি মধ্যবয়সি সব ধরনের লোকজন অর্থাৎ যাকে বলি আবালবৃদ্ধবনিতা। তবে এদের মধ্যে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে কোমলমতি শিশুদের। যাদের কোমল হাত প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে জীবিকার কষাঘাতে। এ সব দেখে আবেগে আপ্লুত হয় মন। ঘৃনা ক্ষোভ আর লজ্জা যেন আমার ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে যাতাকলে পিষ্ট করে।
উন্নত বিশ্বে যখন শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হচ্ছে তখন আমরা তাকে ঘটা করে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা এতটাই নির্দয় ও অমানবিক যে, এমন কোন কাজ নেই যা আমরা শিশুদের দিয়ে করাচ্ছি না। ইটভাটা,খোঁয়া(ইট)ভাঁঙ্গা হতে শুরু করে পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত। খোঁয়া ভাঁঙ্গতে ভাঁঙ্গতে এ সব কোমলমতি শিশুদের হাতের নরম মাংসপিন্ড গুলো যেন শিখ কাবাবের মত হয়ে যায় আর তাদের হাতের তালুগুলো দেখলে মনে হয় তেলে ভাজা পিঁয়াজির অংশ বিশেষ। জীবিকার তাগিদে তবুও চলে একের পর এক ইট ভাঁঙ্গার কাজ। এ সব কথা ভাবলে শিহরে উঠে শরীর,মোচড় দিয়ে ওঠে হৃদপিন্ড, হৃদয়ে ভীষন ব্যথা অনুভব হয়। তখন লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। এ লজ্জা কি শুধু আমার একার! এ লজ্জা আমাদের সকলের। ভেবে দেখুন পাঠক,এই সব আদম সন্তানরা আমাদের ভাই বন্ধু এবং আমাদের সন্তান। এই সকল শিশুরাও চায় সুন্দর এই পৃথিবীতে সূস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে,চায় আনন্দময় জীবন। বের হয়ে আসতে চায় দারিদ্রের  কষাঘাত,পাচারকারি,ধর্ষনকারি তথা মানুষরুপি পশুদের শৃঙ্খল হতে। এই দু-পা বিশিষ্ট প্রানিদের দায়িত্ব কে নেবে? এই নিষ্পাপ ফুলের মত আদম সন্তানদের নির্বিঘেœ চলাফেরা,চিকিৎসা,লেখাপড়া,বাসস্থান তথা মৌলিক চাহিদাগুলো পূরনে কে এগিয়ে আসবে? নাকি এদের সকলের দয়ায় অনুকম্পায় বেঁচে থাকতে হবে। এভাবে বেঁচে থাকার নামকে কি জীবন বলে ? কি মূল্য আছে এ জীবনের ? দেয়ালে পিঠ লেগে থাকা শিশুদের হয়তঃ একদিন দেখা যাবে সারাদেশ জুড়ে মিছিলের কলকানি,স্লোগান একটাই “আমরা বাঁচতে চাই,আমাদের বাঁচতে দিন”।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

প্রতিবন্ধকতা হার মানলো বদরগঞ্জের আইয়ুব আলির কাছে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছা শক্তি যে, কোন মানুষের জন্য প্রতিবন্ধকতা নয় তার জলন্ত উদাহরন বদরগঞ্জের পিএসসি পরীক্ষার্থী আইয়ুব আলি(১১)। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির কোদালদাহ্ গ্রামে। দিনমজুর পিতা নুর ইসলামের ৩ সন্তানের মধ্যে বড় সে।
শ্যামলা মাঝারি গড়নের শিশু সস্তান আইয়ুব আলির দু-হাত না থাকলেও মুখ দিয়ে পিএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
হস্ত প্রতিবন্ধি হলেও তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ এতটাই যে দিনমজুর পিতা নুর ইসলাম বাধ্য হন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। বর্তমানে সে পিএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে কথা হয় আইয়ুব আলির সাথে,
সে জানায়; ছোট বেলা হতে লেখাপড়া করতে আমার ভীষন ভাল লাগতো। এ কারনে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমার গরীব পিতা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু আমার কপাল এতটাই খারাপ যে,ক্লাস টু তে পড়াকালিন সময়ে এক বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় আমার দুটো হাতই কেটে ফেলতে হয়। এক সময় আমার বাবা আমাকে স্কুল হতে ছাড়িয়ে আনেন। আমি বাড়িতে অবশিষ্ট হাতের সাহায্যে মুখ দিয়ে লেখার চেষ্টা করি এবং আল্লাহ্র অশেষ রহমতে সফল হই।
সে আরও জানায়; আমি লেখাপড়া শিখে বড় হতে চাই। বড় হয়ে প্রতিবন্ধিদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
কালুপাড়া গুটিরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম আমিনুল ইসলাম জানান; আমার স্কুলেই আইয়ুব আলি পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি আশ্চর্য হয়েছি এই ভেবে যে, সুস্থ্য বাচ্চাদের মত সে কষ্ট করে হলেও ভালো পরীক্ষা দিচ্ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দিন আহম্মেদ মোবাইল ফোনে জানান; বাচ্চাটির অদম্য ইচ্চা শক্তিই আমাকে অবাক করছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; প্রচন্ড আগ্রহ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে মানুষকে সামনের দিকে নিয়ে যায় হস্ত প্রতিবন্ধি আইয়ুব তার প্রমান। আমার বিশ^াস সে এগিয়ে যাবেই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪









শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

নরসুন্দর - রাস্তায় যাদের জীবন জীবিকা





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়া বৃদ্ধ মানুষটির নাম শশী মোহন শীল(৭১)। ক্ষুর কাঁচি আর চট বিছিয়ে রাস্তার ধারে বসে আছেন কাষ্টমার ধরতে। পেশায় তিনি নাপিতের কাজ করেন। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও নাপিতের কাজ করছেন।
শশী মোহনের বাড়ি উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর গ্রামে।
সহায় সম্বলহীন মানূষটি এ কাজ করছেন পাকিস্তান আমল হতে। অনেক কষ্টে বাপ-দাদার পেশাটিকে তিনি আঁকড়ে ধরে আছেন। তার  ৩ ছেলে এক মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। সন্তানরা তাদের নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
বৃদ্ধ নর সুন্দর শশী মোহন শীল জানান; জমি-জমা কিছুই নেই আমার। বৃদ্ধ বয়সে কোন কাজও করতে পারি না। তাই এই বয়সেও নরসুন্দরের কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তার ধারে ঝড় বৃষ্টি অতিক্রম করে কোন রকমে এ পেশাটিকে ধরে রেখেছি। কষ্ট হয় সস্তানরাও দেখে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষও দেখে না। পৌরসভা হতে যদি কোন ঘর বরাদ্দ করে দিত তাহলে এই বৃদ্ধ বয়সে কাজ করে শান্তি পেতাম। তিনি আরও জানান;গরীব মানুষরা আমার এখানে এসে চুল দাড়ি কামায়। চুল কাটা ১০ টাকা আর দাড়ি কামানো ৫ টাকা। আর কেউ যদি চুল-দাড়ি একসঙ্গেঁ কাটে তবে ৩ টাকা কম নেই। বদরগঞ্জ উপজেলায় যত নরসুন্দর আছেন তারা আমাদেরই বংশধর।
কথা হয় অপর নরসুন্দর কালি পদ(৬৬)সাথে তার বাড়ি
উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির হাজিপুর গ্রামে।
তিনি জানান;রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে আমরা রাস্তার ধারে বসে চুল দাড়ি কাটার কাজ করি। যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। আমরা রাস্তার ধারে বসা নরসুন্দররা শুধু মাত্র ২দিন অর্থ্যাৎ বদরগঞ্জের হাটবারে কাজ করি। বাকি দিন অন্যের বাড়িতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারি না। তবে আমাদের দিকে কেউ তাকায় না। পুঁজি থাকলে কি আমরা রাস্তার ধারে বসতাম ?
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন অপর নরসুন্দর নির্মল বিশ্বাস(৬৩)। বাড়ি উপজেলার মধুপুর ইউপির রাজারামপুর গ্রামে। তিনি জানান;হতদরিদ্র গরীব লোকজনরাই আমাদের কাষ্টমার। সারাদিন কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে আমার সংসার। তিনি আরও জানান;আমরা মানুষকে সুন্দর করি কিন্তু আমাদের জীবন সুন্দর নয়। অনেক কষ্টে চলে আমাদের জীবন। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায় !
একে একে নরসুন্দর লাল মিয়া((৬৫),মেনহাজুল হক(৪৫),সাজ্জাদ আলি(৩০)এই প্রতিবেদককে জানান;ভাই আমরা রাস্তার ধারে খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাজ করি। এমনভাবে লিখে দেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেন আমাদের জন্য কিছু একটা করে।
বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহা জানান;বিষয়টি আমি অবগত আছি। জমি পাওয়া মাত্র রাস্তার ধারে বসা ভ্রাম্যমান নরসুন্দরদের পুর্নবাসন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







 
     

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

পেশা যাদের সাপ ধরা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ৭ কিঃমিঃ পর্ব-পশ্চিম কোনে রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় গ্রাম। যেখানকার সকল মানুষই আদিবাসি এবং বসবাস করেন মাটির তৈরি কুঁড়ো ঘরে।  
সতিই আজব একটি গ্রাম। যে গ্রামের মানুষদের বসবাস সাপের সাথে। সাপ ধরাই যাদের নেশা ও পেশা। প্রায় আড়াই’শ বছর ধরে বাপ-দাদার এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। এই গ্রামের ৮০টি পরিবার সকলেই এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত।
হালকা পাতলা গড়নের মানুষ রাম রশি রাউথ(৬৫)। যার পেশা জীবিত সাপ ধরা। সারাদিন সাপ ধরে এবং বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার ৬ জনের সংসার। বাপ-দাদার পেশাও ছিল এটি। রাম রশির মত তার গ্রামের সকলেরই পেশা সাপ ধরা,এ কারনে উপজেলার মানুষরা ওই গ্রামের নাম দিয়েছে সাপের গ্রাম।
আজব গ্রাম সাপ পল্লীতে কয়েকদিন ঘুরে তাদের একত্রে না পাওয়ার কারনে একদিন তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে বিদায় নিতে হয় অন্যদিন শুধু ছবি নিয়েই ফিরতে হয়। কারন তারা ভোর বেলা বাড়ি হতে বের হয়ে আশে পাশের সকল জেলা উপজেলায় ঘুরে বেড়ায় সাপের খোঁজে। অনুরোধ করে একদিন তাদের কমবেশি সকলের একত্রে পাওয়া যায়। 
এ সময় কথা হয় সাপ ধরতে নের্তৃত্ব দেয়া রাম রশি রাউথের সাথে,তিনি জানান;সারা দিন বনে জঙ্গলে ঘুরে সাপের সন্ধান করি যে দিন সাপ ধরতে পারি সে দিন ভাল লাগে এই ভেবে দু-দিন অন্ততঃ সংসারের খরচ চলবে। আবার অনেক সময় সাপ না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। তিনি আরও জানান;একেকটি সাপ সাপুড়েদের কাছে বিক্রি করেন ৪-৬শত টাকায়। আগের মত আর সাপ পাওয়া যায় না। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারছি না।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন সাপ পল্লীর বাসিন্দা সাহা রাউথ(৪৯)জানান; ভাই সাপ দেখবেন,বলেই তিনি তার বাড়ি হতে একটি সাপের ঝাঁপি(বক্স) নিয়ে আসেন। এরপর ঝাঁপি (বক্স)খুলে দিতেই ফোঁস করে ফনা তুলে উপরে ভেসে উঠে একটি বিষধর গোখরা। তিনি জানান;সাপ ধরা একটি কৌশলমাত্র। সাপ ধরার সময় ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন বিপদ না হয়।
সাপ পল্লীর অপর বাসিন্দা মিসরি রাউথ(৪৮)জানান;সাপ ধরতে গেলে বাড়ির সবাই আতঙ্কে থাকে-এই বুঝি সাপ ছোবল মারল। আমরা প্রতিনিয়ত সাপের সাথে বসবাস করি। ভয় লাগে কখন সাপ আমাদের দংশন করে। তিনি আরও জানান;সাপ ধরা কাজটি ছাড়া আমরা আর কোন শিখিনি বাধ্য হয়ে এ পেশাটিকে আঁকড়ে ধরে আছি। 
ভগরাসন রাউথ(৫১)জানান; সাপ ধরে আনার পর কিছু খায় না। এ কারণে কাঠের বাক্সের ভিতরে পানি ছিটিয়ে দেয়া হয় যাতে সাপ জিহ্বা দিয়ে পানি চেটে নিতে পারে।
নগেশ্বরি রাউথ(৪৭)জানান;বন-জঙ্গলের চিহ্নই জানান দেয় সেখানে সাপ আছে কি-না। অনেক সময় ৩-৪ দিনেও সাপের দেখা মেলে না। তখন হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। বৃষ্টি হলে গর্ত থেকে সাপ বের হয়। বছরের প্রায় ৪-৫ মাস গর্ত থেকে সাপ বের হয় না।
সহেদুল রাউথ(৫৪)জানান;জীবন বাঁচাতে অনেক সময় জীবন বিপন্নও হয়। কেননা সাপ ধরতে গিয়ে এরই মধ্যে আমাদের গ্রামের নগেন রাউথ ও লাকু রাউথ সাপের ছোবলে মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান;আমরা অন্য পেশার সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারছি না। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। সাপ আর তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।কিন্তু এই পেশা ছেড়েও দিতে পারছি না। অনেকেই দিনমজুরি করেও সংসার চলছে না। তাই সাপ ধরার ডাক আসলে ঘরে বসে থাকতে পারি না। সাপ ধরে আনার চুক্তিতে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক মোবাইল ফোনে জানান; অগ্রাধিকার ভিক্তিতে তাদের কিছু সুবিধা দেয়া হচ্ছে যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। প্রানিসম্পদ বিষয়ক যে সব আইন রয়েছে সে সম্পর্কেও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া তারা যাতে প্রকাশ্যে প্রানি সম্পদ ধ্বংস করতে না পারে সে জন্য প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; সাপ ধরা পল্লীর বাসিন্দাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য যত রকম সহযোগিতা দরকার তা করা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে ঔষধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আমলকি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক ঔষধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আমলকি। রংপুরের বদরগঞ্জ সহ দেশের প্রায় সর্বত্রই এক সময় আমলকি দেখা যেত এখন আর সচারাচর চোখেই পড়ে না। অধিক পরিমানে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এ আমলকি ফলটিকে ভিটামিন সির রাজা বলা হয়। ইউফরবিয়েসি গোত্রের এ ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম- ফাইলানথাস এমবিলিকা।
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে; খাদ্য উপযোগি প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে আছে ভিটামিন সি ৪৬৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৬.২ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আঁশ ৩.৪ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি, ক্যালসিয়াম ২২ মিলি গ্রাম, লৌহ ৩.১ মিলিগ্রাম।
দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভিটামিন সির অভাবে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। দেশিয় ঔষধ ও প্রসাধনি সামগ্রি তৈরিতে আমলকি ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আমলকির আচার ও মোরব্বা সূ-স্বাদু এবং পুষ্টিকর। আমলকির রস সেবন করলে যকৃত, পেটের পীড়া, হাপানি, কাশি, বহুমুত্র, জন্ডিস ও বদহজম জনিত রোগ নিরাময়ে অসাধারন কাজ করে। এর পাতার রস খেলে আমাশয় ভাল হয় এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। চর্মরোগের চিকিৎসাতেও আমলকি ফল ব্যবহার হয়। কাচা আমলকির রস ২-৩ চামচ করে প্রতি দিন ২ বার চিনি অথবা মধু দিয়ে সেবন করলে ভিটামিন-সি, ভিটামিন বি- ১, এবং ভিটামিন বি-২ এর অভাব জনিত বিভিন্ন রোগের উপশম হয়। কাঁচা অথবা শুকনা আমলকি বেটে দুধে দিয়ে তার সাথে মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। অল্প বয়সে দৃষ্টিশক্তি  কমে যাওয়া হতে রক্ষা পেতে ২-৩ চামচ আমলকির রসে ১চামচ করে মধু মিশিয়ে কিছুদিন খেলে দৃষ্টি শক্তি ভালো হয়। প্রস্রাবের কঠিন জ্বালা হতে মুক্তি পেতে ৩/৪ চামচ আমলকির রস আধা লিটার দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে গোসলের পর খেলে সম্পূর্ন আরোগ্য হয়। চুলের গোড়া নরম, উঠে যাওয়া এবং চুল পাকা বন্ধ করতে আমলকি বেটে মাথায় লেপে দিয়ে ৩/৪ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেললে ব্যাপক উপকার পাওয়া যায়। আমলকি ব্যবহারে একদিকে যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকা যায় অন্যদিকে অর্থ অপচয়ের হাত হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আগে আমাদের উপজেলায় ব্যাপক আমলকির গাছ ছিল বর্তমানে চোখেই পড়েনা। বিলুপ্তপ্রায় এ উদ্ভিদটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এর সংরক্ষন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। তা না হলে প্রকৃতি হতে ভেষজ গুন সম্পন্ন আমলকি উদ্ভিদটি একদিন হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান; এক সময় ব্যাপক ভাবে আমলকির গাছ চোখে পড়লেও এখন আর চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন আমলকি উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করা উচিত। 

বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১৭অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবীনবরন অনুষ্ঠিত




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ



রংপুরের বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেনির ছাত্রিদের নবীনবরন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার(১৫অক্টোবর)সকালে কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত নবীনবরন অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান ডঃ জাকির হোসেন, বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ¦ মেছের উদ্দিন,মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজি খয়রাত হোসেন, কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আ.ম.আ.কাইয়ুম,বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক দুলু,বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান প্রধান।
শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করে নেয় দ্বিতীয় বর্ষ ও ডিগ্রির  শিক্ষার্থীরা। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পি রনজিন রায়,বদরগঞ্জের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পি পুর্নিমা সরকার। ফ্যাশন- শো পরিবেশন করেন মিতা ব্যানার্জি,মিষ্টি,চেতনা রায় ও তার দল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি আইরিন। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগের জৌলুস


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য চিঠি নিয়ে কবিতা “রানার” লিখেছিলেন। এছাড়া মনির খানের একটি জনপ্রিয় গান “চঠিি লখিছেে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে” গানটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। মুলতঃ চিঠিতে মনের মাধুরি মেশানো রং দিয়ে তাতে আল্পনা এঁকে প্রিয়জনকে তাদের আবেগ অনুভুতির কথা জানানোই ছিল মুল কাজ। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে  ডাক অফসি ও ডাকপয়িনদের আর তেমন কদর নইে  । একটা সময় ছিল চিঠি প্রদান সহ অতি গুরুত্বপুর্ন কাজ ডাক অফিস ছাড়া কল্পনাই করা যেত না। সময় পাল্টে গেছে। বর্তমানে কোনো যুবক-যুবতী আর মনরে মানুষরে চঠিি পতেে অধির আগ্রহে অপক্ষো করে না । গায়রে কোনো বধূ প্রবাসি স্বামির পাঠানো চঠিি পতেে ডাকপয়িনরে পথ চয়েে বসে থাকে না। কোনো পিতা মাতা তার ছলেরে ভালো-মন্দ খবররে জন্য চঠিরি জন্য অপেক্ষা করে না। 
আধুনিকতা আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ডাক বিভাগের স্থানে মোবাইল, কুরয়িার র্সাভসি, ফ্যাক্স, ইন্টারনটে, স্কাইপ,ি টুইটার ও ফইেসবুকসহ সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে । আধুনকি তথ্য-প্রযুক্তরি প্রসারে পোস্ট অফসিরে কার্যক্রম শুন্যের কোটায় এসে দাঁিড়য়েছে। এখন আর  পোস্ট অফসিরে র্কমর্কতা ও র্কমচারিদরে ব্যস্ত সময় কাটাতে দখো যায় না।  ডাকবভিাগরে সবোর ধীর গতরি কারণইে কুরয়িার র্সাভসি জনসাধারণরে কাছে জনপ্রয়ি হয়ে উঠছে।ে
বদরগঞ্জ উজেলা ঘুরে দেখা যায়; উপজলোসহ গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার ডাকঘরগুলোতে নইে মানুষরে আনাগোনা । এখন চঠিি বতিরণ করার জন্য নইে ডাক পিয়নদের ছোটাছুটি । এখন শুধুমাত্র কছিু চঠিপিত্র আসে সরকারি অফসি-আদালত আর ব্যাংক-বীমা অফসি।ে
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান, এক সময় পরবিার-পরজিনরে খোঁজ-খবর নিতে একমাত্র মাধ্যম ছলি চঠিি আদান-প্রদান । আর এর প্রধান বাহন ছলি ডাকঘর আর ডাকপয়িন। ওই সময় ডাকপয়িনরে কদর ছলি, চঠিি নয়িে গলেে বশে আদর-আপ্যায়ন করানো হতো । বর্তমানে মানুষরা  মুর্হূতইে  যোগাযোগ করছে মোবাইল ও এসএমএস এর মাধ্যম।েবর্তমানে ই-মইেল, ইন্টারনটে, ফ্যাক্স, স্কাইপওি যোগাযোগরে মাধ্যম হয়ে দাঁড়য়িছে।ে
বদরগঞ্জ উপজেলা ডাক বভিাগরে এক র্কমর্কতা নাম প্রকাশ না শর্তে  জানান, আগরে মতো এখন চঠিি আসে না। কছিু সরকারি অফসি-আদালতরে চঠিি আস।ে এখন চঠিরি প্রয়োজন মটিাচ্ছে বভিন্নি সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ও বভিন্নি কুরয়িার র্সাভসি। ডাকবভিাগকে আরো আধুনকি করা হলে ও শুন্য পদে জনবল নয়িোগ দলিে প্রয়োজন মতো সবার কাছে অনায়েসে পৌঁছানো যাব।ে আর সবার কাছে ডাক বিভাগের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
বদরগঞ্জ উপজলো পরষিদ ভাইস-চয়োরম্যান সাইদুল ইসলাম বলনে, র্বতমানে আধুনকি তথ্য-প্রযুক্তরি ছোঁয়ায় অনকে দূর এগয়িে গছেে অনকেইে। সবাই চায় কম সময়ে কম খরচে দনৈন্দনি চাহদিার সমাধান করত।ে তাই চঠিরি প্রয়োজনীয়তা কউে অনুভব করে না। এমতাবস্থায় ডাকবভিাগকে আরো আধুনকি করা প্রয়োজন। তা না হলে ডাক বিভাগ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

  

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭

মানবিকতায় পাহাড় সম উচ্চতায় আমার বাংলাদেশ





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মানবিকতায় পাহাড় সম উচ্চতায় অধিষ্ঠিত আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ। মানচিত্রে দেশটি ক্ষুদ্র হলেও মানবিকতায় পৃথিবীর মাঝে নজির স্থাপন করেছে। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ এখন বিশ^ শান্তি ও সৌহার্দের উজ্জল নক্ষত্র। আমি গর্ব বোধ করি আমার মাতৃভুমি বাংলাদেশ নিয়ে। যার হাত ধরে মানবিকতায় “বাংলাদেশ” পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন করে পাহাড় সম মর্যাদায় স্থান করে নিল, তিনি আমাদের ও আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথিবীর মানুষের কাছে আমাদের লাল সবুজের পতাকাটি আজ বিশ^ শান্তির প্রতীক।
আমি একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আমার দেশ বাংলাদেশ এবং আমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গর্ব বোধ করি।
বিনা উষ্কানিতে যখন মিয়ানমার(বার্মা)সরকার জাতি গত গোষ্ঠি নিধনে কাজ করছে,নিজ দেশের সাধারন মানুষকে যখন নিষ্ঠুর ভাবে ধর্ষন ও হত্যা করছে তখন আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের সীমান্ত খুলে দিয়ে অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ঘোষনা দিলেন; আমি যদি ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব নিতে পারি তাহলে এই অসহায় ১০ লক্ষ লোকেরও (রোহিঙ্গা) দায়িত্ব নিতে পারবো। একদিকে যখন মানুষরুপি পশুদের তান্ডব অন্যদিকে অসহায় মানুষদের আশ্রয় ও দায়িত্ব নেয়া, তখন আমার মত একজন সাধারন নাগরিকের বুক গর্ভে ভরে যায়। স্যালুট আমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

চলবে----


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

মাটির প্রাণ টপ সয়েলে ধারনা নেই বদরগঞ্জের কৃষকদের




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জসহ বাংলাদেশের কৃষকরা জীবন-জীবিকার তাগিদে ফসল উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কম বেশি সারা বছরই তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রম দেন তাদের কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনে। খাদ্য নিশ্চিত নিরাপত্তা দানকারি কৃষকদের এই কষ্টাজিত শ্রমকে খাটো করে দেখার কোন কারন নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, মাটির প্রাণ টপ সয়েল সম্পর্কে তারা কতটুকু অবগত। ফসল উৎপাদনে টপ সয়েলের ভুমিকা কতটুকু এ বিষয়ে কৃষি অফিস তথা কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের কি ধারনা দিয়েছেন ?
আগে জানা প্রয়োজন টপ সয়েল কি? মাটির উপরিভাগে হিউমাস সমৃদ্ধ অংশটিই হল টপ সয়েল। এই অংশটিতেই মূলতঃ উদ্ভিদের মাইক্রো ও ম্যাক্রো উপাদান বিদ্যমান। যার মাধ্যমে উদ্ভিদরা তার জীবনীশক্তি ফিরে পায় এবং দ্রুত বেড়ে উঠে।
সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক নওশাদ আলি(৪৩)সাথে তিনি জানান; সারা বছর হারা (আমরা) কমবেশি সউক (সব) আবাদ করি । ভূঁই চাষ করি সার দেই ফসল তুলি এইটাইতো হামার কাম। টপ সয়েল এটা ফির কি?
কথা হয় মধুপুর ইউপির কৃষক মেনাজুল ইসলাম চঞ্চল(৪৫) সাথে তিনি জানান; আমাদের মধুপুরে ইটভাটার সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫টি। আমাদের এখানকার কমবেশি সকল কৃষক তার জমির মাটি বিক্রি করে দেয় ইটভাটার মালিকদের কাছে। অধিক মুনাফার লোভে এখানকার কৃষকরা তাদের জমির মাটি অবলীয়ায় বিক্রি করে দিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি তেমনভাবে আমিও জানি না টপ সয়েল কি?
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; সাধারনতঃ ভূমির দুই-আড়াই ইঞ্চি পরিমান হিউমাস সমৃদ্ধ মাটিই হল টপ সয়েল। এই মাটিতেই সকল পুষ্টিগুন তথা মাইক্রো ও ম্যাক্রো এলিম্যান্টেস থাকে। ফসলের ধরন অনুযায়ি যৎসামান্য আরর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম) সার প্রয়োগ করে কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করা হয়। কৃষকরা যদি তাদের ভূমির প্রাণ ভোমরাকেই অন্যের হাতে তুলে দেয় তাহলে তাদের জমি হতে তারা কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হবেন।
কৃষকদের জানতে এবং বুঝতে হবে টপ সয়েল অন্যের কাছে বিক্রি করে দিলে এই ঘাটতি পূরনে তাদের লেগে যাবে ২০-২৫ বছর। আর এই সময়টাতে কৃষকরা যে ফসলই উৎপাদন করুক না কেন নিশ্চিত ভাবে বলা যায় তারা কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করতে পারবে না। না বুঝে হোক আর বাড়তি টাকার মোহেই হোক টপ সয়েল বিক্রির প্রবনতা কৃষকদের বন্ধ করতে হবে। তা না হলে কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সন্মূখিন হবেন। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের উপর নির্ভরশীল। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির গুনগত মান এমনিতেই নষ্ট হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ফসলে বাদ যাচ্ছে না জীববৈচিত্রেও। এর পর যদি টপ সয়েল ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে কৃষি তথা কৃষি ব্যবস্থা যাবে কোথায় ! তাই পরিবেশ বান্ধব কৃষি এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে কৃষি অফিস তথা কৃষি বিভাগকে অত্যন্ত আন্তরিক হয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং বোঝাতে হবে টপ সয়েল সম্পর্কে। অন্যথায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরন বাধাগ্রস্থ হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান; শুধুমাত্র লোভের বশবর্তী হয়েই কৃষকরা তাদের টপ সয়েল বিক্রি করে দেন। কিন্তু একবারও তারা উপলব্ধি করে না যে তারা কতবড় ক্ষতির সন্মূখিন হলেন। আমরা সবসময় কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করি এবং করছি যাতে কৃষকরা তাদের জমির টপ সয়েল বিক্রি না করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মোবাইল ফোনে জানান; টপ সয়েল রক্ষার্থে আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলেন টপ সয়েল সম্পর্কে। অনেক সময় কৃষকরা তা শুনেন আবার শুনেন না। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৩অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বদরগঞ্জে পুজাকে কেন্দ্র করে নারিকেল বিক্রির ধুম


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কয়েকদিন পরেই স্বারদীয় দুর্গাপুজা। এরই মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুন। বেড়েছে পুজার কেনাকাটাও। তারচাইতে বেড়ে গেছে নারিকেল বিক্রি। কারন দুর্গাপুজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের খাদ্য তালিকায় অন্যতম উপকরন হল নারিকেলের নাড়– ও নারিকেল দিয়ে তৈরি নানা রকমের পিঠা পায়েস। প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হবে নারিকেল দিয়ে তৈরি সুস্বাদু নানা ধরনের খাবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বদরগঞ্জ পৌরশহরের অলিগলিতে খুচরা বিক্রেতা সহ আড়তদাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন নারিকেল বিক্রি করে। 
কথা হয় নারিকেল বিক্রেতা জমসেদ আলির(৫৬)সাথে,তিনি জানান; দুর্গাপুজার সময় নারিকেলের চাহিদা অনেক গুন বেড়ে যায়। এবারের চাহিদা আরও বেশি। আমি বাগেরহাট জেলার চুলকাঠি বাজার হতে নারিকেল ক্রয় করে বদরগঞ্জে নিয়ে আসি। আমার কাছ হতে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়িরা নারিকেল ক্রয় করে ব্যবসা করছে।
তিনি আরও জানান; দুর্গাপুজা উপলক্ষে এ পর্যন্ত আমার আড়ত হতে কমপক্ষে ৫০হাজার পিস নারিকেল বিক্রি হয়েছে। কুড়িগ্রাম,লালমনিরহাট,তিস্তা সহ দেশের নানা প্রান্তের খুচরা ব্যবসায়িরা আমার কাছ হতে নারিকেল নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও খুচরা ক্রেতাদের কাছে প্রতি জোড়া নারিকেল ৮০ হতে ১শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি।
কথা হয় মৌসুমি নারিকেল ব্যবসায়ি মিনতি রানির(৪৫)সাথে,তিনি জানান;
পুজা উপলক্ষে নারিকেলের জমজমাট ব্যবসা চলছে বদরগঞ্জে। সারা দিনে আমি ৩শত জোড়া নারিকেল বিক্রি করছি। এতে আমার আয় ভাল হচ্ছে।
কথা হয় মৌসুমি নারিকেল ব্যবসায়ি মহাবীর(৪৩)সাথে,তিনি জানান; আমি মুলতঃ ফলমুলের খুচরা ব্যবসায়ি। দুর্গাপুজার এই সময়টাতে আমি নারিকেলের ব্যবসা করি। এতে আমার আয় বেড়ে যায় কয়েকগুন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; দুর্গাপুজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে মহিলারা নারিকেল দিয়ে তৈরি করে নাড়ু,পিঠা পায়েস সহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবার। নারিকেল দিয়ে তৈরি এ সুস্বাদু খাবারগুলো আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব সহ সবাইকে নিয়ে খাওয়ার মজাটাই আলাদা। যুগ যুগ ধরে এভাবেই চলে আসছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯সেপ্টেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪










মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন ক্ষেত্র রংপুরের বদরগঞ্জ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি মিলন ক্ষেত্র। যুগ যুগ ধরে সকল ধর্ম বর্নের মানুষরা একে অপরের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে। যেন একটি ফুলের নানা পাপড়ি। যুগ যুগ ধরে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের ধর্মীও আচার অনুষ্ঠানগুলোতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ভিন্ন ধর্মের মানুষরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াটা এ অঞ্চলের মানুষদের অনন্য বৈশিষ্ট্য।
বদরগঞ্জ উপজেলা যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জল উদাহরন, তার নমুনা হল মাত্র ১শত গজের মধ্যে একদিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ মাঝখানে বারোয়ারি কালি মন্দির এবং তার পরেই বদর পীরের মাজার।
কথা হয় বদরগঞ্জের প্রবীন বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেনের সাথে,তিনি জানান; যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি বদরগঞ্জ উপজেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি মিলন ক্ষেত্র। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে বলেই তো মসজিদ,মন্দির ও বদর বাবার মাজার একত্রে রয়েছে। তিনি আরও জানান; পুর্বে বদরগঞ্জের নাম ছিল বৈকুন্ঠপুর। পরবর্তীতে বদরপীর নামক একজন আলেম সুফি সাধকের আগমনে এ এলাকার উন্নতি সাধিত হয়। পরবর্তীতে এ সুফি সাধকের নামানুসারে এলাকার নামকরন হয় বদরগঞ্জ।
কথা হয় সাবেক এমপি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর সাথে,তিনি জানান; বাংলাদেশের মধ্যে নানা ধর্মের মানুষদের মাঝে এই বন্ধুপ্রতীম সম্পর্ক এটা বদরগঞ্জ উপজেলায় না এলে বুঝা যাবে না। আমি বিশ^াস করি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল উদাহরন হল আমার জন্মভুমি বদরগঞ্জ।
কথা হয় এ প্রজন্মের বিশেষ ব্যক্তিত্ব সমাজসেবক মাহাবুব সরকার দ্বীপের সাথে,তিনি জানান; বদরগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। এখানে না এলে বুঝা বা অনুভব করা যাবে না। আমি গর্বিত আমার জন্মভুমি বদরগঞ্জকে নিয়ে।
কথা হয় এ প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দানকারি ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান; বদরগঞ্জ উপজেলা একটি নানান ধর্মের মানুষদের মিলন ক্ষেত্র। যা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি আমাদের এ ভার্তৃত্বের বন্ধন চিরদিন অটুট থাকবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ- ৫ সেপ্টেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নরম হাতে রিক্সার শক্ত হ্যান্ডেল



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আশিকুর রহমান আশিক(১১)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির বৈরামপুর গ্রামে। যে বয়সে আশিকুরের বাবা মায়ের সাথে আনন্দে দিন কাটার কথা,স্কুলে যাবার কথা,লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবার কথা। সংসারের অর্থনৈতিক দৈন্যতা ফেরাতে এই ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুটি বাধ্য হয়েছেন নরম হাতে রিক্সার শক্ত হ্যান্ডেল ধরতে। অভাব আর অনটনে বেড়ে ওঠা আশিকুরদের মত শিশুদের যেন দেখার কেউ নেই! শুধুমাত্র সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে আশিকুর বইয়ের বদলে বেছে নিয়েছে তার সস্তা শ্রম বিক্রি করতে অন্যদিকে তার পরিবারও এক প্রকার বাধ্য করেছেন স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে তার কায়িক শ্রম বিকিয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখার সময় হঠাৎ চোখে পড়ে ছোট এক শিশু। যার কোমল হাত রিক্সার শক্ত হ্যান্ডেল চেপে যাত্রি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা পৌরসভা।
রিক্সা স্ট্যান্ডে কথা হয় শিশু আশিকুরের সাথে,সে জানায়; সে বৈরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনির ছাত্র। পিতা নুর হক একজন দিন মজুর। নানা অভাব অভিযোগের মধ্যেও সে স্কুলে যাতায়াত করতো।
তার পিতা বর্তমানে একটু অসুস্থ্য হওয়ার কারনে মুলতঃ সংসারের হাল ধরতেই রিক্সা চালানো। প্রতিদিন রোজগার হয় ২শত হতে ৩শত টাকা। যা দিয়ে চলছে আমাদের সংসার।
সে আরও জানায়; অভাবের সংসারে আর পড়তে পারবো কিনা জানি না।
লেখাপড়া আমিও করতে চাই,বাবা বর্তমানে অসুস্থ্য এই সময় আমাদের সংসার চালাবে কে ?
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আমাদের কাছে কষ্টের বিষয় এই সমস্ত কোমলমতি ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা আজ জীবিকার সন্ধানে লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিচ্ছে। সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও তারা লেখাপড়ার দিকে না ঝুঁকে পরিবারের অভাবের কারনে শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকিপুর্ন,কম ঝুঁকিপুর্ন কিংবা অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান; সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও অনেক শিশু লেখাপড়া না করে তাদের শ্রম দেয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও জানান; এবারই প্রথম আমরা শিশুশ্রম সম্পর্কিত কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। ধীরে ধীরে কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়াও পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১সেপ্টেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 






বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭

সরকারি ঘোষনার তালিকা প্রকাশ হওয়ায় বদরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের আনন্দ র‌্যালি




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

রংপুরের বদরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি ঘোষনার তালিকা প্রকাশ হওয়ায় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পৌরশহরে আনন্দ র‌্যালি বের করে এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনা ও রংপুর-২ আসনের এমপি ডিউক চৌধুরিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। গতকাল বুধবার (৩০আগষ্ট) ১২টার দিকে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ওই আনন্দ র‌্যালি বের করেন। পরে র‌্যালিটি স্থানিয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নেয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বদরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওবায়দুল হক চৌধুরি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনা ও রংপুর-২ আসনের এমপি ডিউক চৌধুরিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য প্রদান করেন,বদরগঞ্জ পৌর মেয়র উত্তম সাহা,কাউন্সিলর নীলকান্ত পাইকাড়,যুবলীগ বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক পলিন চৌধুরি,স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক মারুফুজ্জামান মারুফ,বদরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য আহসান হাবিব লাইজু,শম্ভু সাহা,মঞ্জুরুল হক,প্রধান শিক্ষক হেলাল হোসেন,বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পার্থ সরকার,আঃ রউফ সরকার,রিয়াজুল ইসলাম,চামোন আরা বেগম,অভিভাবক আনোয়ারুল হক,৯ম শ্রেনির শিক্ষার্থী সিলভিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম।
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭

ব্যস্ততা বেড়ে গেছে বদরগঞ্জের কামারদের




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ঈদ আসতে আর বেশি দেরি নেই। ব্যস্ততা বেড়ে গেছে ইতোমধ্যেই। কামারদের দোকানগুলোর টুংটাং শব্দই জানান দিচ্ছে ঈদ সন্নিকটে। যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। রংপুরের বদরগঞ্জে ছোট বড় মিলে কামারদের কমপক্ষে ১০০টি দোকান রয়েছে। সরেজমিনে কামারদের দোকানে গিয়ে দেখা যায় তাদের এই কর্ম ব্যস্ততার চিত্র।
কথা হয় কামার শিল্পের সাথে জড়িত প্রবীন কামার সুধির রায়ের(৮৫)সাথে,তিনি জানান; আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আমার দোকানে কর্ম ব্যস্ততা অনেক গুনে বেড়ে গেছে। এ মুহুর্তে দম ফেলার সময় নেই। পাইকাড়ি ব্যবসার সাথে সাথে স্থানিয় ক্রেতাদের অসংখ্য অর্ডার রয়েছে আমার। বছরের এই সময়টাতে রোজগার বেশি হলেও অন্য সময়ে তুলনামুলকভাবে রোজগার কম হয়।
তিনি জানান; মুলতঃ এটি আমাদের পুর্বপুরুষের পেশা। ব্রিটিশ আমলে আমার বাবা-দাদু কামারের কাজ করতো। তাদেরকে সহয়োগিতা করতে আমার এ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। আমার তিন সন্তানও এই ব্যবসার সাথে জড়িত।
তিনি আরও জানান;ভাল লাগে এই ভেবে যে,আমার এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৩০জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। তবে এ পেশাটি অত্যন্ত পরিশ্রমের।
কর্মচারি ধনঞ্জন মহন্ত(৪৭)জানান; বছরের এই সময়টাতেই আমাদের কাজ অনেক বেড়ে যায়। কাজের উপরই নির্ভর করে এখানে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। যত কাজ তত আয়।
কর্মচারি ধীরেন চন্দ্র রায়(৪৯)জানান; ঈদকে সামনে রেখে দম ফেলার সামান্য ফুসরত নেই। কারন এই সময়ের রোজগার দিয়েই সারাবছর চলতে হবে। বছরের বাকি দিন গুলোতে রোজগার অর্ধেকে নেমে আসবে।
লোহার তৈরি জিনিষ পত্রের খুচরা ব্যবসায়ি তোছাদ্দেক হোসেন জানান; বিশেষ করে ঈদের সময়টাতে সুধির কামারের কাছ হতে পাইকাড়ি দা,ছুরি,বটি,কোদাল,কুড়াল সহ নানা ধরনের মাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করি। এতে আমার ব্যবসা ভালই হয়।
কামার পল্লীতে দা,বটি,ছুরি কিনতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সিনিয়র প্রভাষক আঃ সালাম জানান; সামনে কোরবানির ঈদ। কোরবানি করতে দা,বটি,ছুরির প্রয়োজন হয়। একারনে এগুলো কিনতে এসেছি। তবে বরাবরের তুলনায় এবারে এ জিনিষগুলোর দাম একটু বেশি মনে হল।  
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; ঈদকে সামনে রেখে কামার পল্লী এখন মুখরিত। দা,বটি,কোদাল,ছুরি সহ নানা ধরনের জিনিষপত্র কামাররা তৈরি করেন। আসলে এটি একটি শিল্প। দেশিয় এই শিল্পটি যাতে টিকে থাকে এ জন্য আমাদের সকলের সহযোগিতা করা উচিত।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
  

রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

বদরগঞ্জে জেলের জালে বিরল প্রজাতির মাছ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে জেলের জালে বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। গতকাল রবিবার(২০আগষ্ট)সকালে পৌরশহরের মুন্সিপাড়া যমুনেশ^রি নদীতে জেলে চর্মন দাসের জালে এ প্রজাতির মাছটি আটকা পড়ে। চর্মন দাস উপজেলার শংকরপুর মাঝি পাড়ার ললিত দাসের পুত্র।
এ দিকে,খবরটি জানাজানি হলে উৎসুক জনতা মাছটিকে এক নজর দেখার জন্য সাংবাদিক শ্যামল লোহানীর বাড়িতে ভীড় জমায়।
খবর পেয়ে মাছটিকে দেখতে আসা বদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার রবিউল আলম পারভেজ জানান; এটি একটি “সাকার মাউথ ক্যাটফিস” নামে বিরল প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হাইপোসটোমাস প্লিকোসপোমাস। এরা নদীতে পানির সবচাইতে নিচু অংশে থাকে,এ কারনে এ মাছটি সহজে ধরা পড়ে না।
পরে,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা ও সাংবাদিক শ্যামল লোহানী মাছটি বিরল প্রজাতির হওয়ায় যমুনেশ^রি নদীতে ছেড়ে দেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২০আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

শিক্ষনীয়, বদরগঞ্জে বানভাষি মানুষদের পাশে “এফডাব্লিউএস”



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রবল বর্ষন আর বন্যায় চারিদিক ডুবে গেছে। অথৈই পানি। যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। ইতোমধ্যে রাস্তাঘাট,জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। একমাত্র আবাসস্থল সেটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিন খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে জীবনধারন। অসহায় বৃদ্ধ মানুষটি এসেছেন উপজেলার মধুপুর ইউপির সন্তোষপুর গ্রামের চাইরআনটারির মোকলেছ মিয়া(৭০)।
বদরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের এফডাব্লিউএস(ফ্রেন্ডস্ ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি) একটি টিম গত বুধবার (১৬আগষ্ট)সরেজমিনে গিয়ে অসহায় মোকলেছ মিয়ার হাতে নগদ অর্থ,চাল ডাল,চিড়া,স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট দিয়ে আসেন। পরে টিমের সদস্যরা অসহায় এই বৃদ্ধ মানুষটিকে আসতে বলেন তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে।
গতকাল শনিবার (১৯আগষ্ট) সকালে কথা হয় বদরগঞ্জ ডাকবাংলো চত্ত্বরে ত্রান নিতে আসা বানভাষি অসহায় মোকলেছ মিয়ার সাথে,তিনি জানান; মুই অসহায় মানুষ। মোর চার ব্যাটা। কেউ মোর পাকে দেখে না। এই ক্লাবের কয়েকটা ছইল সে দিনও মোর বাড়িত যায়য়া খাবার দিয়া আসছিল। আইজও মোর ফির ডাকাইছে। আল্লাহ্ ওমার ভাল করবে।
কথা হয় ত্রান নিতে আসা পৌরশহরের জামুবাড়ি যাদুনগর মহল্লার রাবেয়া বেগম(৫২)সাথে,তিনি জানান; বাবা মুই খায়া না খায়া আছু, এই ছইলগুল্যা মোক ডাকে আনি খাবার দিছে।
তিনি আরও জানান; মুই মুর্খ মানুষ। নেতারা বাদে কেউ যদি সাহার্যের হাত বাড়ে থাকে এর‌্যায় বাড়াইল।
কথা হয় এফডাব্লিউএসের(ফ্রেন্ডস্ ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি)অন্যতম সদস্য খোরশেদ আলম,জিয়াউর রহমান, নাহিদ নওয়াজ তসলিম(লিমন),পলাশ সরকার,রেজাউল ইসলাম ও ফারুক হোসেন বাবুর সাথে,তারা জানান; কয়েকদিন হতে বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রান দেয়ার পাশাপাশি আজ শনিবার(১৯আগষ্ট) স্থানীয় ডাকবাংলো চত্ত্বরে ২ হাজার বানভাষি অসহায় মানুষদের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তারা জানান; বানভাষি অসহায় মানুষদের কষ্ট লাঘবে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আমরা আশা করবো বদরগঞ্জের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও স্বচ্ছল মানুষরা যদি এই বানভাষি অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তারা খুব উপকৃত হবেন।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা জানান; স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন এফডাব্লিউএস যেভাবে বানভাষি অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে,এটি শিক্ষনীয়। সবার উচিত বানভাষি মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।   


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

বদরগঞ্জে বানভাষি মানুষের পাশে রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে বানভাষি অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলো। তারা দিন রাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বানভাষি মানুষরা যাতে খাবারের জন্য কষ্ট না পায়। কেউ শুকনা খাবার কেউ রান্না করা খাবার কেউবা চাল ডাল স্যালাইন পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ বিতরন করছেন। বন্যার পর হতে তাদের এ ত্রান তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
রংপুর-২ আসনের এমপি ডিউক চৌধুরি ভয়াবহ বন্যায় বানভাষিদের পাশে থেকে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে ত্রান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় ডিউক চৌধুরি বলেন; আমি জনগনের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চাই। বর্তমান সরকার যথেষ্ট পরিমান ত্রান দিচ্ছেন। কাজেই কেউ না খেয়ে থাকবে না।
বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ^নাথ সরকার বিটু নিজ উদ্যোগে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে বানভাষি মানুষদের জন্য ত্রান(চাল ডাল ও নগদ অর্থ) তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ সময় বিশ^নাথ সরকার বিটু বলেন; বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জের ভয়াবহ বন্যার খবর শুনে ঢাকা হতে আমি ছুটে এসেছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ি চেষ্টা করছি বানভাষি মানুষদের পাশে থাকতে।
বদরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান চৌধুরি সাবলু বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে বানভাষি মানুষদের জন্য ত্রান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গত মঙ্গলবার(১৬আগষ্ট)রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে বানভাষি মানুষদের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে হাজির হন।
এ সময় তিনি বলেন; বানভাষি মানুষরা অনেক কষ্টে আছে। তাই আমার নিজ উদ্যোগে তাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।
স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন “এফডাব্লিওএস-৯৩” বন্যাদুর্গত ১ হাজার বানভাষি মানুষের জন্য চাল ডাল ও বিস্কুট বিতরন করেন। “এফডাব্লিওএস-৯৩” এর অন্যতম সদস্য খোরশেদ আলম জানান; বানভাষি মানুষদের জন্য আরও ত্রান দেয়া অব্যাহত থাকবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা,এফডাব্লিওএসের সদস্য রেজাউল ইসলাম। 
এ দিকে, বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; এখন
পর্যন্ত সরকারিভাবে ১৫ টন চাল, উপজেলা প্রশাসন হতে ১১টন চাল,শুকনো খাবার,৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও স্যালাইন বানভাষি মানুষের জন্য খুলে দেয়া ২২ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বিতরন করা হয়েছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

নৌকাতেই ঘর বাড়ি




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


প্রবল বর্ষন আর বন্যায় চারিদিক ডুবে গেছে। অথৈই পানি। যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। ইতোমধ্যে রাস্তাঘাট,জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। একমাত্র আবাসস্থল সেটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় বসতি গেড়েছেন বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির আজমল মিয়া। নৌকাতেই পেতেছেন নতুন সংসার। সরেজমিনে গতকাল বুধবার(১৬আগষ্ট)সকালে বানভাষি মানুষরা কেমন আছেন দেখতে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,পানিবন্দি মানুষরা কেউবা কলার ভেলায় চড়ে পারাপার,ইটের স্তুপের উপর বসে কোন রকমে গৃহিনীর রান্না,কোমর পর্যন্ত পানি ভেঙ্গে গৃহিনীর গবাদি পশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, এমনকি আশ্রয় কেন্দ্রের একমাত্র নলকুপটিও আংশিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া। বানভাষি মানুষের এমন দুর্দশার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় আজমল মিয়ার সাথে,তিনি জানান; কৃষিকাজ করেই চলে আমার সংসার। আমার বাড়ি পুরোপুরি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে নৌকাতেই সংসার পেতেছি। গত এক সপ্তাহের বন্যায় ত্রান বলতে শুধু ৫ কেজি চাল ও সামান্য ডাল পেয়েছি। বাধ্য হয়ে নৌকাতেই চালের জন্য ধান শুকাচ্ছি।
তিনি আরও জানান;বাড়ির গরু-ছাগলগুলো তো আর নৌকায় থাকতে পারবে না। তাই আশ্রয় কেন্দ্রে ওগুলোকে রেখে এসেছি। খাবারের সময় শুধুমাত্র গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে নৌকায় করে খাবার দিয়ে আসছি। নিজে খেতে না পারলেও গবাদিপশুগুলোকে সময় মত খাবার দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
বন্যার পানি ভেঙ্গে গরু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে কথা হয় জোহরা বেগমের সাথে,তিনি জানান; উপায় না পেয়ে গরুকে বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা কষ্ট করে নৌকাতে ঘর পাতলেও গবাদি পশু নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; ত্রান তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বন্যার কারনে উপদ্রুত এলাকায় পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেতে হচ্ছে নৌকায় করে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বানভাষি মানুষের জন্য ত্রান তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আমি নিজেও অনেক এলাকায় নৌকায় করে ত্রান তৎপরতা চালাচ্ছি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৭

দুই ইউনিয়নের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যমুনেশ^রি নদী ভাঙ্গঁনে দিশেহারা ৫ শতাধিক পরিবার


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


নছর আলি(৫০)। একজন হতদরিদ্র মানুষ। কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কোন রকমে চলে তার সংসার। তার বাড়ির কোল ঘেঁষে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর ভাঙ্গঁন তাকে করেছে দিশেহারা। নছর আলি ভরসা ছিল নদী সংলগ্ন একটি রাস্তা। যে রাস্তা দিয়ে দুটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত  করে। সেই রাস্তাটিই আজ সকালে(১৪অগাষ্ট) নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ কারনে সহায় সম্বলহীন নছর আলি তার একমাত্র আবাসস্থলটি (বাড়ি) যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলিন হতে পারে এই দুঃচিন্তায় তার দিন কাটছে। নছর আলির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর আসামি পাড়ায়। এ পাড়ার আরও ৫ শতাধিক পরিবারের বাস। তারা সকলেই অজানা শংকায় দিন কাটাচ্ছেন।
কথা হয় আসামিপাড়ার রফিকুল ইসলাম(৩২)সাথে,তিনি জানান; প্রতিবছর বন্যায় নদী ভাঙ্গনে আমাদের এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে এবার রাস্তাটি সম্পুর্ন নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদীর পানি যে ভাবে বাড়ছে তাতে যে কোন মুহুর্তে আমাদের ঘর বাড়ি সহ ফসলি জমি বিলিন হয়ে যাবে।
আসামি পাড়ার বাসিন্দা মনজু মিয়া(৫৪) সাথে,তিনি জানান; এবারের বন্যায় পানি হু-হু করে বাড়ছে। আমি এ রকম বন্যা এর আগে দেখিনি।
তিনি আরও জানান; বন্যার সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। আসামি পাড়ার ৫শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কুতুবপুর ইউপির নাটারাম গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ আলি জানান; এই রাস্তাটি দিয়ে ২ ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তাটি আজ সম্পুর্ন্নরুপে নদী গর্ভে বিলিন হওয়ায় দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। জরুরি ভিক্তিতে রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানান তিনি।
কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক জানান; রাস্তাটি বারবার মেরামত করা হলেও নদীর কোল ঘেঁষে হওয়ায় প্রতিবছর এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তিনি আরও জানান; নদী ভাঙ্গনে আসামি পাড়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; আসামি পাড়ার নদী ভাঙ্গনের ঘটনাটি জেনেছি। চেয়ারম্যানদেরকে বলা হয়েছে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। তাদেরকে প্রয়োজনীয় ত্রান সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আসামি পাড়ার বাসিন্দাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হবে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বিষয়টি আমি জানার সাথে সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...