

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রবল বর্ষন আর বন্যায় চারিদিক ডুবে গেছে। অথৈই পানি। যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। ইতোমধ্যে রাস্তাঘাট,জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। একমাত্র আবাসস্থল সেটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় বসতি গেড়েছেন বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির আজমল মিয়া। নৌকাতেই পেতেছেন নতুন সংসার। সরেজমিনে গতকাল বুধবার(১৬আগষ্ট)সকালে বানভাষি মানুষরা কেমন আছেন দেখতে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,পানিবন্দি মানুষরা কেউবা কলার ভেলায় চড়ে পারাপার,ইটের স্তুপের উপর বসে কোন রকমে গৃহিনীর রান্না,কোমর পর্যন্ত পানি ভেঙ্গে গৃহিনীর গবাদি পশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, এমনকি আশ্রয় কেন্দ্রের একমাত্র নলকুপটিও আংশিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া। বানভাষি মানুষের এমন দুর্দশার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় আজমল মিয়ার সাথে,তিনি জানান; কৃষিকাজ করেই চলে আমার সংসার। আমার বাড়ি পুরোপুরি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে নৌকাতেই সংসার পেতেছি। গত এক সপ্তাহের বন্যায় ত্রান বলতে শুধু ৫ কেজি চাল ও সামান্য ডাল পেয়েছি। বাধ্য হয়ে নৌকাতেই চালের জন্য ধান শুকাচ্ছি।
তিনি আরও জানান;বাড়ির গরু-ছাগলগুলো তো আর নৌকায় থাকতে পারবে না। তাই আশ্রয় কেন্দ্রে ওগুলোকে রেখে এসেছি। খাবারের সময় শুধুমাত্র গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে নৌকায় করে খাবার দিয়ে আসছি। নিজে খেতে না পারলেও গবাদিপশুগুলোকে সময় মত খাবার দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
বন্যার পানি ভেঙ্গে গরু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে কথা হয় জোহরা বেগমের সাথে,তিনি জানান; উপায় না পেয়ে গরুকে বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা কষ্ট করে নৌকাতে ঘর পাতলেও গবাদি পশু নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; ত্রান তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বন্যার কারনে উপদ্রুত এলাকায় পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেতে হচ্ছে নৌকায় করে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বানভাষি মানুষের জন্য ত্রান তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আমি নিজেও অনেক এলাকায় নৌকায় করে ত্রান তৎপরতা চালাচ্ছি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন