কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আর মাত্র ২৬ দিন পরেই ঈদুল আযহা। এই ঈদকে সামনে রেখে চলছে গরু তাজামোটা করার প্রতিযোগিতা। তাজামোটা সূঠামদেহি গরু মানে চড়া দাম পাওয়া। ভোক্তাকে আকৃষ্ট ও চড়া দাম পাওয়ার অনৈতিক প্রতিযোগিতায় এই দানব সদৃশ গরুর মাংস কতটা নিরাপদ !
সারা দেশের মত কোরবানির ঈদে রংপুরের বদরগঞ্জে খামার কিংবা বাড়িতে চলছে গরু তাজামোটা করার প্রতিযোগিতা। স্বল্প এই সময়ের মধ্যে গরুকে মোটাতাজা করতে গরুর শরীরে অবাধে পুশ করা হচ্ছে ক্ষতিকর ষ্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট,ইনজেকশন, হরমোন ও অতিভিটামিন জাতীয় ওষুধ। ষ্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধের মধ্যে ট্যাবলেট- ডেকাসন, ওরাডেক্সন,প্রেডনিসোলন, বেটনেনাল, কর্টান, ষ্টেরন, আ্যাডাম-৩৩। ইনজেকশন সমুহ-ডেকাসন, ওরাডেক্সন সহ অ্যানাবলিক ষ্টেরয়েড ইনজেকশন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে; হিলি বর্ডার দিয়ে দেশে অবাধে আসছে গরু মোটা-তাজা করনের এই ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন।
প্রানি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়; ক্ষতিকর এই সব ষ্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট,ইনজেকশন ও হরমোন/অতিভিটামিন জাতীয় ওষুধের রাসায়নিক উপাদান এতটাই শক্তিশালি যে,রান্নার সময় আগুনেও তা নষ্ট হয় না। এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে একদিকে যেমন মানুষের লিভার কিডনিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে অন্যদিকে এর যথেচ্ছ ব্যবহার গবাদি পশুর কলিজা ও ফুসফুস নষ্ট হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে পারে।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়; উপজেলায় গরু মালিকের সংখ্যা ৩৫৫১জন। তাদের গরু রয়েছে ৯০০০টি । এ ছাড়া উপজেলার অনেক বাসাবাড়িতে অনেক গরু রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অফিস হতে আরও জানা যায়; এ উপজেলায় কোরবানির জন্য আনুমানিক গরু প্রয়োজন ১৬হাজার। হিসেব অনুযায়ি বদরগঞ্জে কোরবানির জন্য আরও দরকার ৭ হাজার গরু।
পৌর শহরের গরু খামারি নজরুল ইসলাম জানান; আমরা খামারে যে সব গরু মোটা-তাজা করছি সেগুলো উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নিবিড় তত্বাবধানে রয়েছে। এই গরুগুলো স্বাস্থ্যসন্মত। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ষ্টেরয়েডের মাধ্যমে বাড়িতে গরু মোটা-তাজা করন করছে। এ ছাড়া গরু চোরাই পথে ভারত হতে আসছে,পাশ্ববর্তী দেশ নেপাল মিয়ানমার হতেও আসছে। এ গরুর মাংস কতটা স্বাস্থ্যসন্মত হবে তাও ভেবে দেখা দরকার !!
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সাখাওয়াৎ হোসেন জানান; চঞ্চল প্রকৃতির রোগমুক্ত স্বাভাবিক গরুটিই স্বাস্থ্যসন্মত গরু। কিন্তু দানব সদৃশ তাজা-মোটা গরুটি হয় দূর্বল প্রকৃতির। প্রাণিটির শরীরে হাত দিলে যদি আঙ্গুল তলিয়ে যায় তবে বুঝতে হবে ষ্টেরয়েড দ্বারা তাজা মোটা করা গরু। এ সব গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
তিনি আরও বলেন; ষ্টেরয়েড দিয়ে পশুর শরীর ফুলানোর কারনে পশুর শরীর পানিতে পূর্ণ থাকে এ কারনে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে যে কেউই বুঝতে পারবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন