কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
“কাইল সারা রাইত ধরি খরা দিয়া মাছ পানু আধা সেরের মতন। নদীত আর মাছ নাই বাহে”কথাগুলো বললেন বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মাছুয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ঝড়–য়া মাঝি(৩৮)।
তিনি জানান,খরা এইংকা একটা জাল,ওই জাল দিয়া কোন মাছ বেরবার পাবার ন্যায়।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার(২৪ডিসেম্বর)সকালে গিয়ে দেখা যায় খরা জাল দিয়েও মাছ মিলছে না নদীতে। আরও দেখা যায়,নদীতে কোথাও হাটু পানি,কোথাও ধু-ধু বালু চর,আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার। এ চিত্র হল বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি,চিকলি,করতোয়া মরাতিস্তা ও ঘৃনই নদীর।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন টনি জাল(টানা জাল)দিয়ে মাছ মারতে আসা একই এলাকার আফজাল মিয়া। তিনি জানান,নদীতে আর আগের মত মাছ নেই। এক সময় আমাদের বাড়িতে মাছের গন্ধে থাকা যেত না। আর এখন খাবার মাছটুকুই পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলে আলম মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। নদীতে মাছ না থাকায় অতি কষ্টে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি।
ইতোমধ্যে এ নদীগুলো হতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা,ধেদাই,পাবদা সহ নানা প্রজাতির মাছ।
গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার গুলোতেও আর এসব প্রজাতির মাছ সহজে চোখে পড়েনা।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে; প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং ছোট মাছ সংরক্ষনে আইন না থাকায় নদ-নদী,খালবিলের ছোট প্রজাতির মাছ আজ ঝুঁকির মধ্যে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন; নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী সংশ্লিষ্ট খালবিলের গভীরতা কমে যাওয়া, নদী ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা,জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার,জলাশয় দুষন,রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান, নদ-নদীগুলোতে মাছের হয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি বলেন, মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ অঞ্চলে দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে,তবে মৎস্য বিভাগ প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টি মাধ্যমে দেশিয় মাছের অভাব পূরনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন