কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বড় পুকুর,বিলের পাড় কিংবা গাছ-গাছালি ঘেঁরা মনোরম পরিবেশ এমন জায়গাকেই এক সময়ের শিশু-কিশোররা দলবেঁধে ভুরকাভাত খাওয়ার জায়গা হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেখানে সামিয়ানা, কলাগাছের পাতা আর পলিথিন দিয়ে ছোট আকারের ঘর তৈরি করা হতো। যেখানে রান্না করা খাবার সহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র রাখা হতো। এর পর রান্না শেষ হলে দলবদ্ধভাবে খাবার পরিবেশন করা হতো। প্রথমে তুলনামুলকভাবে বড়রা পরিস্কার কলার পাতায় (থালা) ছোটদের খাইয়ে দিয়ে পরে নিজেরা খেতে বসতো। পরম মমতায় একজন আরেক জনের সাথে মিলে মিশে আনন্দ উপভোগ করতো। সময়ের পথপরিক্রমায় শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত (পিকনিক)এখন স্মৃতি। আগের মত গ্রামে-গঞ্জে শিশু কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।
আধুনিক এই যুগে পিকনিকের বহুল প্রচলন থাকলেও শিশু-কিশোররা বাবা মা ভাই-বোন কিংবা বন্ধুদের সাথে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বাস কিংবা মাইক্রোতে চেপে গন্তব্যস্থলে যাওয়া আর আসা। সেখানে নেই কোন ভালবাসা,তেমন নেই কোন আনন্দ।
ছুটির দিনে বেড়ানোর ফাঁকে উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার বিরল দৃশ্য। তৎক্ষনাৎ মটরবাইক থামিয়ে চলে যাই শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার জায়গায়।
এ সময় কথা হয় কিশোর দলনেতা ফারুক মিয়া(১২)সাথে,সে জানায়;অনেকদিন ধরে ভুরকাভাত খাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাবা মাদের সাথে কথা বলে তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে আজ ভুরকাভাত খাওয়ার আয়োজন করেছি। অনেক ছোটরাও আমাদের সাথে ভুরকাভাত খাচ্ছে। ছোটদের দেখার জন্য আমাদের মধ্য হতে ৩জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা যেন আনন্দ করতে এসে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।
সে আরও জানায়, ডিম,মাছ,ডাল,ভর্তা,শাক-সবজি দিয়ে আমরা ভুরকাভাত খাচ্ছি। কষ্ট হলেও ভীষন আনন্দ লাগছে।
কথা হয় শিশু আমিনার (৫)সাথে,সে জানায়;আমি এসেছি আমার বড় ভাইয়ের সাথে। খুব মজা লাগছে।
মটরবাইক থামিয়ে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য দেখতে থাকা বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন জানান; বহু বছর পর বাচ্ছাদের ভুরকাভাত(পিকনিক)খাওয়ার দৃশ্য দেখে নিজেকে আর সামলাতে না পেরে দাঁড়িয়ে পড়লাম। খুব ভালো লাগছে। কতদিন দেখিনি এ দৃশ্য।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৯০) সাথে,তিনি জানান; বাচ্চাদের ভুরকাভাত(পিকনিক)খাওয়া দেখে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমরাও ছোট বেলায় অনেক ভুরকাভাত খেয়েছি। এখন আর ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে না। আধুনিক যুগে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য বিরল।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন