সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

যমুনেশ্বরি নদী এখন পানি শুন্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

 

কোথাও হাটু পানি,কোথাও ধু-ধু বালু চর,আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার। এ চিত্র রংপুর বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি নদীর। যমুনেশ্বরি নদী এখন পানি শুন্য।
পুরোপুরি শুস্ক মৌসুম না আসতেই নদীতে কোন পানি নেই। জেগে ওঠেছে চর। এককালে এ নদী অনেক খরস্রোতা ছিল। কিন্তু কালের আবর্তে তা বিলিন হতে চলেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদীতে চাষিরা ফসল আবাদ করছেন। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে জেলে পরিবারের দুঃখ দূর্দশা চরমে পৌঁছেছে। যমুনেশ্বরি নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য ড্রেজিং না করার কারণে নদী যেমন তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে অন্যদিকে নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।
এক সময়ে এই যমুনেশ্বরি নদীতে বড় বড় নৌকা আর ইঞ্জিনচালিত নৌকা পারাপারের জন্য প্রচলন ছিল। এখন তা সূদুর অতীত। কোথাও কোথাও পানি না থাকায় লোকজন পায়ে হেঁটেই পার হচ্ছে আবার কোথাও হাঁটু পানিতেই লোকজন পারাপার করছে। যেখানে কিছুটা পানি আছে সেখানে বাশেঁর সাঁকো নির্মাণ করে চলছে পারাপারের কাজ। যমুনেশ¦ির নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পুরোপুরি শুস্ক মৌসুম আসার আগেই টিউবওয়েলের পানি ওঠা কমে গেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার নাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চল মিয়া জানান; নদীতে পানি না থাকায় আমাদের খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফসলের ক্ষেত খামারে পানির স্বল্পতা দেখা দেয়ায় আবাদ ঠিকমতো হচ্ছে না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; যমুনেশ¦ির নদীর পানি শুকিয়ে যাবার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক বছরে এ এলাকার উৎপাদন কমে গেছে। আগামিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে বলে মনে করেন তিনি। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শুস্ক মৌসুমে যমুনেশ্বরি নদীর উৎস মুখে পলি পড়তে শুরু করে। কিন্তু খনন কাজ না করা সহ অব্যবস্থাপনার কারণে দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে নদী। এছাড়া অবৈধ দখলদারতো রয়েছেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কনক চন্দ্র রায় বলেন; নদী খনন না করার কারণে নদীতে পলি জমে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ভূ-গর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত ব্যবহারে পানির স্তর নিম্নমূখি হচ্ছে। এমতবস্থায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান,দ্রুত নদী খনন করা না হলে নদীর তীরবর্তী জমির ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ছাড়াও নদীতে পানি না থাকায় জেলে সম্প্রদায়েরও দুর্দিন বিরাজ করছে।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...