কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
গ্রামিন অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে শ্রমজীবি নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তাদের শ্রমকে খাটো করে দেখার কোন কারন নেই। এর সাথে যদি যুক্ত হয় নিজ বাড়ির সদস্য বোন ভাবি ননদ তাহলে কেমন হয় ! সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখার সময় উপজেলার গোপালপুর ইউপির শ্যামপুর পদাগঞ্জে গিয়ে চোখে পড়ে কৃষি শ্রমিকের অপ্রতুলতার কারনে এক পরিবারের মেয়ে সদস্যরাই নিজ জমির ফসল(আখ) কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কাছে গিয়ে ছবি তুলতে গেলে প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে ছবি তোলার অনুমতি দেন।
কথা হয় রহিমা বেগম(২২)সাথে,তিনি জানান; আমাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কেউ ব্যবসা করে কেউবা ঢাকায় থাকে। তারা তেমন সময় দিতে পারে না। আখ কাটতে হবে তো ? অনেক ঘোরাঘুরি করেও যখন কামলা(কৃষি শ্রমিক)পেলাম না, তাই নিজের কাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই করছি।
তিনি আরও জানান; নিজেদের জমিতে আখ কাটার দৃশ্য দেখে পাড়ার কয়েকজন শুভাকাঙ্খি (স্বেচ্ছাশ্রম) আমাদের সাথে কাজ করছে যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
কথা হয় ডিগ্রি শিক্ষার্থী আমেনা বেগম(১৮)সাথে,তিনি জানান; এখন আর গ্রামেও মজুর(কৃষি শ্রমিক) পাওয়া যায় না। মজুররা বর্তমানে ইটভাটা,রিক্সা কিংবা ঢাকায় গিয়ে কাজ করছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন শ্রমিক পেলাম না তাই বাড়িতে আমরা সিন্ধান্ত নিলাম নিজেদের দুই বিঘা(৫৬শতাংশ)জমির আখ আমরাই কেটে নেব।
এভাবেই শুরু। আজ জমির ফসল কাটা শেষ হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষিকর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, কৃষি ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছে,কারন হিসেবে তিনি কামলা(কৃষি শ্রমিক))না পাওয়াকে দায়ি করেন।
উপজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমান মোবাইল ফোনে জানান;এখন আর গ্রাম-গঞ্জে কামলা পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অদুর ভবিষ্যতে নিজের জমির ফসল হয়তোবা নিজেকেই কাটতে হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন