সম্ভাবনা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতায় এগিয়ে চলছে রংপুরের হস্তজাত শিল্প
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
হস্তজাত পণ্য রুচিশীল মানুষের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন। বর্তমান সময়ে হস্তজাত পণ্যের কদর বেশ লক্ষনীয়। আর সে পণ্যগুলি যদি হয় মনের মাধুরি মেশানো শৈল্পিক সৌন্দর্যমন্ডিত আধুনিকতায় ভরা তাহলে তো কথাই নেই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচিবোধের আমুল পরিবর্তন এসেছে। ব্যবহার্য প্রতিটি পন্যেও এখন ভোক্তারা চায় নান্দনিকতার ছোঁয়া। দৃষ্টিনন্দন নান্দনিকতার ছোঁয়া নিয়ে রংপুর বিভাগে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তার মধ্যে রংপুর সদরের নিশবেতগঞ্জ (ঘাঘট ব্রিজ সংলগ্ন) শতরঞ্জি পল্লী অন্যতম।
কবে হতে এ শতরঞ্জি পল্লীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে তা জানা না গেলেও ৫০বছর আগেও এ অঞ্চলে শতরঞ্জি তৈরি হত। আধুনিক নান্দনিকতার ছোঁয়ায় ও সুতার কারুকার্য করা শতরঞ্জি ,পাপস,ওয়ালমেট,ফ্লোরমেট,টেবিলমেট,ব্যাগ তৈরি হয়। এখানে পাট দিয়ে তৈরি হয় স্যান্ডেল,ঝুড়ি,সিকিয়া,বাসকেট,ঝুড়িব্যাগ। এ পল্লীতে হস্তশিল্পজাত পণ্যের চারটি শো-রুম রয়েছে। এ শো-রুম হতেই শতরঞ্জি পল্লীর উৎপাদিত পন্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়।এই শতরঞ্জি পল্লীতে অধিকাংশ নারী শ্রমিক দিয়েই তৈরি হয় দৃষ্টি নন্দন হস্তজাত পণ্য। সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নারী শ্রমিকরা বাড়তি আয়ের জন্য এখানে খন্ডকালিন কাজ করেন। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক অতিরিক্ত কাজের মজুরি হিসেবে ২শত হতে ৩শত টাকা আয় করেন। সদরের নিশবেতগঞ্জ,ডারকাপাড়া,শেখপাড়া,শতরঞ্জিপাড়া,দামোদরপুর,রাধাকৃষ্ণপুর,বিন্নাটাড়ি,
গিলাবাড়ি গ্রামের প্রায় ৪হাজার নারী পুরুষ এই হস্তশিল্পের কাজের সাথে জড়িত।
এই কারুকার্যময় হস্তজাতশিল্প পন্যের রাজধানি ঢাকা সিলেট চট্রগ্রাম রাজশাহি বগুড়াতে আকাশচুম্বি চাহিদা রয়েছে । দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ হস্তজাতশিল্প আমেরিকা জাপান ও ফ্রান্সে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ব্যাংক লোন না পাওয়া, প্রচারের অভাবে
সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে কথা হয়; এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক হাসিনা বেগম(৪০) এর সাথে, তিনি এখানে খন্ডকালিন কাজ করেন, তার স্বামি রিক্সা চালায়। তার নিজের আয় এবং স্বামির আয় দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। অপর নারী শ্রমিক সুলতানা বেগম(২৫)জানান; এ হস্তজাত শিল্পের সাথে বেশিরভাগ নারী শ্রমিক জড়িত।
কথা হয় চারুশি দোকানের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে, তিনি জানান; সম্ভাবনা এই শিল্পটি শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারনে সামনের দিকে এগুতে পারছে না।
চারুশি দোকানের মালিক মাসুদুল হক মানিক জানান; নিজের মূলধন দিয়ে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব । আমাদের পন্য অনেক বেশি মানসম্পন্ন। দেশের বাহিরে এর অনেক চাহিদা রয়েছে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







