রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

রংপুর-২ আসনে, নৌকার পালে হাওয়া, লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বরতা আর ধানের শীষে কম ফলনের শংকা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ ঃ
আর মাত্র ৬দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে,ততই বেড়ে যাচ্ছে প্রার্থীদের টেনশন আর ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)আসনে তৈরি হয়েছে নির্বাচন মুখর এক পরিবেশ। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রতীক/প্রার্থীকে ভোট প্রদানের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। আর তরুন ভোটার তথা নতুন ভোটাররা তো অস্থির হয়ে আছেন তাদের জীবনের প্রথম ভোটটি পছন্দের প্রার্থীকে প্রদানের জন্য।
গত ১৮ডিসেম্বর “রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম শিরোনামে”একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো। অনেকেই দেখেছেন আবার অনেকেই লাইক কমেন্ট ও শেয়ারও করেছেন। আপনাদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আমার সকল ফেসবুক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অন্তরের অন্তস্থল হতে নতুন বছরের(২০১৯)শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
আমি একজন সাধারন ভোটার ও সংবাদকর্মি হিসেবে “গত ১৮ডিসেম্বরের পর হতে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত যদি মুল্যায়ন করি” তাহলে বর্তমানে(২৩ডিসেম্বর)নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে,লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বর জমি তৈরি আর ধানের শীষে কম ফলনের শংকা দেখা দিয়েছে।
আমি আমার ১৮ ডিসেম্বরের “নির্বাচনী পোষ্ট মর্টেম” লেখার এক অংশে বলেছিলাম“নির্বাচনে শেষ কথা বলে কিছু নেই এবং সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন ঘটে।”
আজ এই বিষয়টি নিয়েই কিছু বলতে চাই।
আওয়ামিলীগের অর্থ্যাৎ নৌকার পালে জোরেসোরে হাওয়া লেগেছে এ জন্য যে,ঐক্যবদ্ধ আওয়ামিলীগ ও তাদের কর্মি সমর্থকরা যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আর ঘুরে দাঁড়াবেই না বা কেন ? বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ একটি ঐতিহ্যবাহি দল। যে দলটির রয়েছে পরতে পরতে ঐতিহ্য আর কঠিনতম সময়েও ঘুরে দাঁড়ানোর অসংখ্য (অভিজ্ঞতা)নজির। এছাড়াও রয়েছে বিশাল কর্মিবাহিনী ও তাদের ভোট ব্যাংক। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে প্রার্থী,নেতা-কর্মি ও সমর্থকদের দিনরাত পরিশ্রমের ফলে তারা তাদের একটি লক্ষে পৌঁছে গেছে বা পৌঁছাতে পারবে বলে আমি মনে করি। তবে তাদের আরও আরও বেশি পরিশ্রম করা প্রয়োজন বলে আমি এও মনে করি। আমি মনে প্রানে এও বিশ^াস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রি জননেত্রি শেখ হাসিনার রংপুর সফর আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের আরও উজ্জীবিত করবে তথা তাদেরকে(নৌকা প্রতীককে)অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে।  
লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বর জমি তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে এ কারনে বলছি যে,
এ আসনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয় পেয়েছে। রংপুরকে তারা তাদের ঘাঁটিও মনে করেন। কিন্তু গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পার্টি প্রধান ও রওশন এরশাদের সিন্ধান্ত বদল আর একাদশ জাতীয় সংসদে বহিরাগত প্রার্থীকে টেনে এনে এই আসনে দেয়ার বিষয়টি মানুষ ভাল চোখে দেখেনি। এখানে একটি কথা না বললেই নয় গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় পর্যন্ত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়িয়েছেন যা আজ অবধি চলছে। এই কাজটি আমার দৃষ্টিতে এই আসনে আর কোন প্রার্থীই করেননি। আমার মনে হয় এ কারনেই জাতীয় পার্টির উপর সাধারন মানুষের অনেকটা বিরক্তির পরেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী(লাঙ্গল প্রতীক)জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বা হচ্ছেন। ভুলে গেলেও চলবে না তাদেরও এই আসনে রয়েছে ভোট ব্যাংক।  
ধানের শীষে কম ফলনের শংকা এ কারনে বলছি যে,এই আসনটি কখনই ধানের শীষের অনুকুলে ছিল না। অনেক বছর পর এবারই ধানের শীষের কথা সাধারন মানুষ বলছিলো। আগেও বলেছি যে,হয়তঃ কোন দলের প্রতি বিরক্ত হয়ে (প্রার্থীকে দেখে নয়) ধানের শীষের নাম এই আসনের মানুষ অনেক বছর পর নিয়েছে। এ কথা সত্যি যে,ধানের শীষের ভোটগুলো হল ভাসমান ভোট। এ ভোটগুলো তাদের দলের অর্জনকৃত ভোট নয়। এই ভোটগুলোকে যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে না পারে তাহলে আগের অবস্থায় বিএনপি চলে যেতে বাধ্য। আমি যদি ভুল বলে না থাকি,দলটির প্রার্থী তথা নেতা কর্মিদের তৎপরতা অনেকটা কমে গেছে। হয়তঃ তারা মনে করছেন জিতে গেছি। ভুলে গেলে চলবে না, যে ভোটগুলো বর্তমানে আপনাদের কথা বলছে সে ভোটগুলো আপনাদের নয়। আমি আবারও বলছি,এই ভোটগুলি কোন ভাবেই বিএনপির অর্জনকৃত ভোট নয়। অনুকম্পা নয়তো বিরক্তি হতে এই ভোটগুলো আপনাদের পক্ষে চলে এসেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ভাসমান ভোট ধরে রাখা কিন্তু কঠিন কাজ। নেতা কর্মি সমর্থক তথা ভাসমান ভোটারদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ ধরে রাখাই ধানের শীষের বড় বিষয়।  
আমার এই লেখাটি ব্যক্তিগত মতামতের বর্হিপ্রকাশ মাত্র। কাউকে(প্রার্থী/কর্মি)আক্রমন করে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখাটির উদেশ্য নয়। দয়া করে আমার এই লেখাটি পড়ে ভুল করেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
পরিশেষে বলতে চাই,এখনও সময় আছে,প্রত্যেক দল, প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের নেতা কর্মিদের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সাথে বলতে চাই,আর একটু পরিশ্রম করুন আর একটু পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দিন অবশ্যই সফল হবেন। শুভ কামনা সকলের প্রতি।

 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


 



মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮

রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ ঃ



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এখন শুধু দিন গননার পালা। দেখতে দেখতে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন এল বলে। মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পছন্দের প্রার্থী তথা পছন্দের প্রতীকে ভোট দিবেন বলে। যদি ভুল বলে না থাকি,আমার মনে হয় বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের ভোটারদের বড় অংশই ইতোমধ্যে তাদের পছন্দের প্রার্থী তথা প্রতীকে ভোট প্রদান করার জন্য মনস্থির করেই ফেলেছেন। যদিওবা পছন্দের প্রতীকে পছন্দের প্রার্থী অনেক সময় হয় না। তবুও স্ব-স্ব দলের কর্মিরা অনেকটা বাধ্য হয়েই তার দলের প্রার্থীকে জয়ী করতে মনোনিবেশ করেন। এটা হল প্রত্যেক দলের অনুসারিদের দলের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু সমস্যা হল সাধারন ভোটারদের নিয়ে। এই অংশটাই একটি নির্বাচনী এলাকার জন্য বড় ফ্যাক্টর। প্রার্থীদের ঘাম বের হয়ে যায় তাদের মন জয় করার কাজটি করতে। অনেক সময় প্রার্থীরা(১জন)সফল হন আবার ব্যর্থ হন। আর যিনি সফল হন তিনি অভিভাবকের দায়িত্ব পান ওই নির্বাচনী এলাকার সকল জনগনের। তিনি হন আমাদের এমপি(সংসদ সদস্য)।
সাধারন ভোটারদের আবেগ অনুভুতি অনুকম্পা আর ভালবাসার বিষয়টি নিজের পক্ষে নেয়ার বিষয়টি প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আমি রংপুর-২ আসনের একজন অতি নগন্য সাধারন ভোটার। আমার এই লেখাটি ব্যক্তিগত মতামতের বর্হিপ্রকাশ মাত্র। কাউকে(প্রার্থী/কর্মি)আক্রমন করে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখাটির উদেশ্য নয়। দয়া করে আমার এই লেখাটি পড়ে ভুল করেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
রংপুর-২ আসনটি স্বাধিনতার পর হতেই আওয়ামিলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পরবর্তিতে একবার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি জয় পায়। ৯০এর পর এই আসনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। ৯৬ এ এরশাদের ছেড়ে দেয়া আসনে অর্থ্যাৎ উপনির্বাচনে আওয়ামিলীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। তার পর ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির দখলে থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিলে আওয়ামিলীগের প্রার্থী জয়লাভ করে। এ বিষয়টি আমাদের এ আসনের মানুষের সকলেরই জানা।
এবার মুল প্রসঙ্গে আসি,জাতীয় পার্টি ও আওয়ামিলীগের দুর্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এগিয়ে যাওয়া তথা সাধারন মানুষের মধ্যে সহানুভুতির কারন কি ? আমরা সবাই জানি,নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর হতেই এবারই প্রথম এই আসনে প্রার্থী জটিলতা নিয়ে নানা রকমের আলোচনা সমালোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে প্রত্যেক দলই তাদের নিজ নিজ প্রার্থীর জন্য আসনটি উন্মুক্ত করে দেয়। তফসিল ঘোষনার তারিখ হতে প্রতীক বরাদ্দের সময় পর্যন্ত এই আসনটিতে ঝড়ো হাওয়ার মত ঘটে যায় এক আচমকা ঘটনা। যা বিএনপির জন্য আর্শিবাদ হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে হতবাক করে দেয়ার মত ঘটনার জন্ম দেয়। 
সংবাদকর্মি হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন ভোটারের সাথে কথা বলে যা জানতে পারি তা হল এবার তারা ভোট প্রদানের জন্য মনস্থির করেই ফেলেছেন বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীককে। যদিওবা নির্বাচনে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনের পরিবর্তনও ঘটে। 
এখন প্রশ্ন হল,কেন এমন হল। এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না। তফসিল ঘোষনার কয়েকদিন পরেও স্থানীয় বিএনপি নের্তৃবৃন্দ বুঝতেই পারেনি তাদের প্রতি মানুষের এই সহানুভুতির কথা। কেন এমনটি হল ? আমার দৃষ্টিতে এমনটি হবার প্রধান কারন হল,আমরা মানুষ। মানুষ মাত্রই অভ্যাসের দাস। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এ এলাকার মানুষ(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে আমরা অভ্যস্থ হয়ে পড়েছিলাম। পরে মহাজোটের বিষয়টিও আমরা অনেকটা মন হতে মেনে নিয়েছিলাম। যার কারনে এখানে মহাজোটের প্রার্থীরাও জয়ী হতে পেরেছিলেন। মুলতঃ এই আসনের মুল কর্তৃত্বটাই ছিল জাতীয় পার্টির। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচন হতে এ এলাকার মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে জাতীয় পার্টি প্রধানের(এরশাদ)ঘন ঘন সিন্ধান্ত বদল,তার স্ত্রী রওশন এরশাদের পার্টিতে কর্তৃত্বের কারনে জাতীয় পার্টির অনিচ্ছাকৃত অনেক সিন্ধান্ত বদলের বাস্তব চিত্র।  এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থীকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টাও মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। মুলতঃ এই কারনেই স্থানীয় জাতীয় পার্টিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর নেতিবাচক(বিরক্তির)প্রভাব পড়ে সাধারন ভোটারদের(মানুষের)মধ্যে। যদিওবা জাতীয় পার্টি পরবর্তিতে স্থানীয় নেতাকেই মনোনয়ন দেন। কিন্তু ততদিনে সব শেষ হয়ে যায়। আমি যদি ভুল বলে না থাকি বিরক্তি কিংবা সহানুভুতির কারনেই হোক তখনই সাধারন ভোটাররা(মানুষ) সিন্ধান্ত নেন ধানের শীষে ভোট দেবার জন্য।
আমিও একজন ভোটার। আমি জোরগলায় বলতে পারি স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মি কিংবা যিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তিনিও জানতেন না সাধারন মানুষের মনে এবার ধানের শীষ(বিএনপি)গেঁথে গেছে। সেই সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ধানের শীষের গনজোয়ারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই আসনে এবার যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে স্থানীয় বিএনপির যে কোন নেতা ধানের শীষের মনোনয়ন নিতেন এবং ভোটযুদ্ধে অবতীর্ন হতেন তিনিও এই লেখাটি প্রকাশ করার সময় পর্যন্ত(জনমতে)এগিয়ে থাকতেন। সব মিলিয়ে এই আসনে আচমকা তথা সবাইকে হতবাক করে এগিয়ে গেল ধানের শীষ।
আমি দৃঢভাবে এও বিশ^াস করি,সরকার দেশে দৃশ্যমান অনেক উন্নতি করেছেন। যা অনেক সরকারের আমলেই হয়নি। কিন্তু আমরা মানুষ তথা বাঙ্গালী। দীর্ঘ সময় ধরে এক সরকারের উপস্থিতি আমরা হয়তঃ ভালভাবে নেই না নতুবা পছন্দ করি না। এই বিষয়টি আমাদের মজ্জাগত সমস্যা। আমি এও মনে করি,একটি সরকার দীর্ঘ সময় হাতে পেলে দেশের উন্নতির জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে সুবিধা হয় তথা কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আর তখন কাজের সুফল পান সাধারন মানুষ।
রংপুর-২ আসনে স্থানীয় আওয়ামিলীগের রয়েছে আভ্যন্তরীন দ্বন্দ ও চাপা ক্ষোভ। ইতোমধ্যে যদিওবা আওয়ামিলীগ নেতাকর্মিরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিলেমিশে কাজ করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার এখানে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। সেই সাথে রয়েছে জাসদের ও বিকল্পধারার প্রার্থী। সাধারন ভোটাররা আগে হতেই ধারনা করেছিলেন আগের সংসদ নির্বাচনের মত এই আসনে একজনই মহাজোটের প্রার্থী হবেন। কিন্তু তা হয়নি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত মহাজোট।
আমার মত অতি নগন্য একজন সাধারন ভোটার মনে করে যে,এই নির্বাচনে এই মহাজোট সরকারকে জিতলে হলে এই আসনে একজনকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে রাখতে হবে তাহলেই তারা এই আসনটি দখলে নিতে পারবে। তা না হলে এই আসনটি তাদের হারাতে হবে। আমার মত সাধারন ভোটাররাও চায় ভোটযুদ্ধটি হোক সমানে সমান। আমরা সাধারন ভোটার শান্তিপুর্নভাবে ভোট দিতে চাই।
রংপুর-২ আসনের সকল প্রার্থীর প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও দোয়া।
দয়া করে এই লেখাটিতে যদি কারো মনে কোন আঘাত দিয়ে থাকি এটি আমার ইচ্ছাকৃত ক্রুটি নয় অনিচ্ছাকৃত ভুল। আশা করছি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে বিষয়টি সকলেই দেখবেন।  
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

পানিশুন্য যমুনেশ^রি নদীতে কাঁটা,বিপাকে জেলে সম্প্রদায়


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ



শীত আসতে না আসতেই বদরগঞ্জ উপজেলার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদী এখন অনেকটাই পানিশুন্য। ইতোমধ্যেই কোথাও কোথাও নদীতে জেগেছে বড় বড় চর আবার কোথাওবা নদীর গভীরতা বেশি হওয়ার কারনে রয়েছে পানি। এরই মধ্যে বেশিরভাগ এলাকার স্থানিয় কৃষকরা জেগে উঠা নদীর চরে তৈরি করছেন বীজতলা। কেউবা করেছেন ভুট্টার চাষ আবার কেউবা করেছেন আলু। শুধু তাই নয় নদীর গভীরতা বুঝে এলাকার কিছু প্রভাবশালি ব্যক্তি আগেই বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে নদীতে দিয়েছেন কাঁটা(মাছের অভয়াশ্রম)। দুর হতে নদীতে মাছের জন্য অভয়াশ্রম মনে হলেও নদীর আর একটুখানি পানি কমলেই তারা জাল দিয়ে ঘিরে তাদের কাঁটাতে আটকে যাওয়া মাছগুলো তুলে নিবেন। এমতাবস্থায় জেলে সম্প্রদায় পড়েছেন চরম বিপাকে। কারন এমনিতেই নদীতে আগের মত মাছ নেই। তার উপর নদীতে বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে প্রভাবশালিদের তৈরি করা কাঁটা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
সরেজমিনে গত শনিবার(৮ডিসেম্বর)দুপুরে উপজেলার কালুপাড়া ইউপির চান্দামারি ব্রীজ সংলগ্ন যমুনেশ^রি নদীতে গিয়ে জাল দিয়ে ঘিরে কাঁটা হতে মাছ আহরনের দৃশ্যই চোখে পড়ে। 
কথা হয় জেলে রজনী কান্ত দাস(৫০) বসন্ত দাস(৩৫) ও সুশান্ত দাস(৪৫)এর সাথে। তাদের ৩ জনের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদাম পাড়া গ্রামে। এদের প্রত্যেকের আদি পেশা নদীতে মাছ ধরা। এক সময় তাদের প্রত্যেকের বাবা দাদারা এই যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় আগের মত আর নদীতে পানি এবং মাছ না থাকায় বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে তারা প্রত্যেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। মাঝে মধ্যে নিজের প্রয়োজনে কখনো বেকার থাকার কারনে কখনোবা বাপ দাদার আদি পেশার টানেই নদীতে ছুটে আসেন। আজ তারা তিন জনেই এসেছেন জাল নিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরতে।
নদীতে জাল ফেলার ফাঁকে কথা হয় জেলে রজনী কান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, সেই সকাল থাকি মাছ মারোচি, এখন দোপড় গড়োছে, মাছ পাইনো ১কেজির মতন। জাল ধরি হামার খালি ঘোরায় সার। মাছ আর পাইনো না।
তিনি জানান,আগে হামার বাপ দাদারা এই নদীত মাছ ধরি সংসার চালাইছে। হামরাও এক সময় বাপের সাথে মাছ ধরি বেড়াইছি। তখন অনেক মাছ আছিলো। এখন আর নদীত মাছ নাই। তার উপর নদীত মানুষ যেটে সেটে দিছে কাঁটা,ওটেকোনায় তো কমবেশি সউক মাছ আটকি গেইছে,হামার জালোত মাছ আসপে কোটে থাকি ? 
তিনি আরও জানান,নদীত মাছ নাই দেখি হামরা এখন বাধ্য হয়্যা কৃষি শ্রমিকের কাম করি। এই সময়টাতে তেমন কোন কাম নাই। বেকার হয়্যা আছি। ভাবনো,নদীত যাই,যদি মাছ পাই,তাইল্যে আজকের দিনটা অন্তঃত কোন রকমে চলবে। মাছ তো পাইনো না।
কথা হয় সুশান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান,এই যে হারা তিন জন। মাছ পাইনো কেজি খানেক। এতকোনা মাছ দিয়্যা কি হইবে ? মাছ মাইরব্যার আসস্যাটাই হামার ভুল হইছে।
অপর জেলে বসন্ত দাস বলেন,নদীই হামার জীবন। এমনিতেই নদীত মাছ নাই তার উপর কিছুদুর পর পর মানুষ নদীত দিছে কাঁটা। অতে জাল ধরি নদীত আলছি যদি মাছ পাই। আসোলে এই সময়টাত হামার কোন কাম নাই। বউ ছইল ধরি তো বাঁচপার নাগবে। এই জন্যে নদীত আইস্যা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান,নদ-নদীগুলোতে পানি না থাকায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি জানান,মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ এলাকায় দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এ কারনে জেলে সম্প্রদায়ের দুর্দিন যাচ্ছে। 
তিনি আরও জানান,কাঁটা দিয়ে মাছ আহরন করা অন্যায়। কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪










 

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৮

বদরগঞ্জে থেমে নেই তামাকের চাষ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

রংপুর বদরগঞ্জের কৃষকরা বিষ বৃক্ষ তামাক চাষ কমে দিলেও এখনও পুরোপুরি  কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা যায়নি। যদিও কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও চাষিদের উপলব্ধিতে উপজেলায় তামাক চাষ কমে গেলেও ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারে কিছু কিছু এলাকার কৃষকরা এখনও তামাক চাষ করেই চলেছেন। এক সময় এ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে বেড়েছিলো তামাকের চাষ।
ওই সময়টাতে নগদ অর্থ ও অধিক মুনাফার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে তামাকজাত দ্রব্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জেনেও কৃষকরা তামাক উৎপাদন করছিলো। পরবতীর্তে কৃষিবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্তরিকতা ও কৃষকদের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্ক জোরদার এবং তামাকের ক্ষতিকর দিক সমুহ কৃষকদের বোঝাতে সক্ষম হওয়ার কারনে তামাক চাষিরা দিন দিন নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,গত বছর এ উপজেলায় তামাকের চাষ হয়েছিলো ২৫ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর তামাকের চাষ আরও কমে যেতে পারে। যদিও ট্যাবাকো কোম্পানিগুলো গত বছর এই ২৫ হেক্টর জমির তামাকগুলো কৃষকদের কাছ হতে বেশি মুল্যে ক্রয় এবং আগাম লোনের ব্যবস্থা করার কারনে কৃষকরা তামাক চাষ করেছিলো।
আরও জানা যায়, গোটা উপজেলার মধ্যে মধুপুর ইউপিতে কৃষকরা তামাক চাষ করছে। এ ছাড়াও পৌরশহরের নদীর তীরবর্তী কিছু এলাকায় তামাক চাষ এখনও হচ্ছে।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির তামাক চাষি আজিজুল হকের সাথে,তিনি জানান,তামাক চাষে অধিক লাভ। তার বালু মিশ্রিত অল্প জমিতে তিনি তামাক চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন,ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার আমাকে আকৃষ্ট করেছে তামাক চাষে। ক্ষতিকর দিকের কথা জানালে,আগামিতে আর তামাক চাষ করবেন না বলে জানান।
পৌরশহরের গত বারের তামাক চাষি হরেন্দ্রনাথ রায় জানান,ক্ষতিকর দিকের কথা মাথায় রেখে ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফার ফিরিয়ে দিয়ে এ মৌসুমে তামাকের জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি।
তামাকের পরিবর্তে অন্যান্য ফসলে কৃষকরা যাতে ন্যার্য মুল্য পায় এ দাবিও জানান তিনি। 
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কারনে ভুট্টা,সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান,আমরা তামাক চাষিকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা সহ তামাক চাষিদের তামাকের চাষ সম্পর্কে কোন ধরনের পরামর্শ দেইনা। বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ জোবায়দুর রহমান মামুন জানান,ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর অধিক মুল্যে তামাক ক্রয় ও কৃষকদেরকে আগাম লোনের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও আমরা কৃষকদেরকে তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এ কারনে আমার উপজেলায় তামাক চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


    



রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

বদরগঞ্জে ধানের ফলন ভাল হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

হাঁড়ভাঙ্গাঁ খাটুনি আর কৃষানোক(কৃষি শ্রমিক)টাকা দিতেই হামার শ্যাষ,লাভের লাভ কিছুই হয় না। ধানোত কিছু নাই বাহে। ধান আবাদ করি বউ ছইল ধরি সংসার চালায় হামার দায় হয়্যা পড়ছে। কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বললেন উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল এলাকার কৃষক অতুল চন্দ্র রায়(৬০)।
রংপুরের বদরগঞ্জে আমন ধানের ফলন ভাল হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারন আমন ধান আবাদে কৃষকের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে বর্তমান বাজারমুল্যে স্থানভেদে বিঘা প্রতি কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সাথে তো কৃষি শ্রমিক সংকট রয়েছেই।  
সরেজমিনে গত শনিবার(২৪নভেম্বর)উপজেলা ঘুরে কৃষকদের ধান কাটা,ধান বহন করা এবং ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক হেমন্ত সরকারের সাথে,তিনি জানান,প্রতি বিঘা(৬০শতাংশ)জমিতে আমন চাষ করতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার ৫শত টাকা। জমিতে সেচ দিয়ে ধান পেলাম প্রতি বিঘায় প্রায় ৩৬মন ধান। আর যারা সেচ দেননি তারা ধান পেয়েছেন ৩০মনেরও কম।
তিনি আরও জানান,বর্তমান বাজার মুল্য ৪৪০টাকা(প্রতি মন)। ৩৬মন ধান বিক্রি করলে দাম পাবো প্রায় ১৬হাজার টাকা। বিঘা প্রতি লোকসানে আছি ১হাজার ৫শত টাকা। ধানের দাম ৫শত টাকার নীচে থাকলে সকল কৃষকই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ পৌরশহরের ডাঙ্গাপাড়া মহল্লার কৃষক কামরুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,আমার বাবা এক সময় ধান বিক্রি করে ইলিশ মাছ নিয়ে আসতো। কিন্তু আমি এখন ধান আবাদ করে আমার বাচ্চাদের ইলিশ মাছ খাওয়াতে পারি না। বিঘা প্রতি আমার লোকসান প্রায় ২হাজার হতে আড়াই হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান,আমি ১০বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। আমনের উৎপাদন খরচ আর কৃষি শ্রমিকদের টাকা দিতেই তো আমি শেষ। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই তো ধান আবাদ করতে হচ্ছে। সংসার চালাবো কি করে ?
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,উপজেলায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে ধানের দাম কম হওয়ায় এখন পর্যন্ত কৃষকরা লোকসানের মুখে রয়েছে। ধানের দাম ৫৫০টাকার নীচে হলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন না। 
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান মামুন জানান,আমার উপজেলায় চলতি বছর আমনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারনে বর্তমান বাজারমুল্যে ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪











শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

হারিয়ে যেতে বসেছে শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শিশু-কিশোরদের এক সময়ের জনপ্রিয় খেলার মধ্যে অন্যতম ছিল লাটিম খেলা । অথচ সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য গ্রামিন খেলাধুলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলাটি যেন আজ সময়ের পথপরিক্রমায় হারিয়ে গেছে।    
বিগত দিনের গ্রামিন শিশু-কিশোরেরা যে বয়সে খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকত ডিজিটাল এই যুগে এখন সে বয়সে তারা যান্ত্রিক খেলাধুলায় মেতে থাকে। আগের দিনের পাড়া মহল্লার শিশু-কিশোরেরা দলবেঁধে গ্রাম্য খেলায় বিশেষ করে লাটিম খেলায় মেতে হারিয়ে যেত তাদের আপন ভুবনে। অথচ বর্তমানে ওই বয়সের শিশু কিশোরেরা এখন গ্রাম্য খেলাধুলা(লাটিম)বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমস,ভিডিও গেমস খেলাধুলাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম(ফেসবুক) নিয়ে ব্যস্ত  থাকে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করলেও কালের বিবর্তনে যুগের গতানুগতিক হাওয়ায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা আজ হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার(১৬নভেম্বর) উপজেলা ঘুরে মধুপুর ইউপির সন্তোষপুর চারআনিপাড়া নামক গ্রামে গিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্য চোখে পড়লে দ্রুত মটরবাইক থামিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্যের স্থির চিত্র ধারন করি। 
এ সময় কথা হয় কিশোর জিম বাবুর সাথে,সে এই প্রতিবেদককে জানায়,আমি ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। লেখাপড়া ও অন্যান্য খেলাধুলার ভীড়ে লাটিম খেলা এখন আর হয়েই উঠেনা। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিন্ধান্ত নিয়েছি আজ লাটিম খেলবো।
একই কথা বলেন অপর কিশোর জয় বাবু,সে জানায়,ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা ছাড়া লাটিম খেলার জন্য সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক দিন পর আজ লাটিম খেলছি। ভীষন ভালো লাগছে।
দেশিয় সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহি খেলাধুলা(লাটিম)বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার।




বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

পাখিদের প্রতি ভালবাসা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

ছিমছাম পরিপাটি বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ। চারিদিকে সারি সারি ফলজ আর বনজ গাছে ভরা। আর তাতে বিশেষ করে (সারি সারি) নারিকেল গাছে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও পরিষদের শ্রীবৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হচ্ছে পানির ফোয়ারা। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে বদরগঞ্জবাসি স্বাগত জানিয়েছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(৬নভেম্বর)সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়,নারিকেল গাছগুলিতে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল সহ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তা দেখতে আসছেন উপজেলায় আগত বিভিন্ন এলাকার লোকজন।
পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় সহ পানির ব্যবস্থা করা দেখে উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ এলাকার স্কুল শিক্ষক আঃ রাজ্জাক এই প্রতিবেদকে জানান,আমি সত্যিই মুগ্ধ,উপজেলা প্রশাসন বিশেষ করে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক স্যারের প্রতি। কারন তিনি বদরগঞ্জে আসার পর উপজেলা পরিষদের চিত্রই পাল্টে গেছে। পাখিদের প্রতি মমত্ব এর আগে আমি আর কোন নির্বাহি অফিসারের দেখিনি।
উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মিম চৌধুরি জানান,আমাকে খুব ভাল লেগেছে উপজেলা প্রশাসন তথা নির্বাহি অফিসারের এই কর্মকান্ডে। আমি যতটুকু জানি,তিনি তার দাপ্তরিক কাজ সহ সকল কাজের প্রতি বেশ আন্তরিক। আর তার পাখিদের প্রতি এই মমত্ব আমার মনকে ভীষনভাবে নাড়া দিয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপজেলা নির্বাহি অফিসারের এ উদ্যোগকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,মুলতঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আমার এ কাজটি করা। তবে সবে শুরু করেছি মাত্র। আমার কাছে মনে হয়েছে,নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে দিনকে দিন  পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

 


বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) মহাজোটে মহাজট,জোটেও একাধিক প্রার্থী


               


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

 







আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। পোষ্টার ব্যানার ফেষ্টুনের মাধ্যমে প্রার্থীরা এতদিন সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তারা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছে মটরসাইকেল শো-ডাউন আর জনসভা করে। রংপুর-২ আসনটি বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২হাজার ৭৭৫।
স্বাধীনতার পর হতে এই আসনটি আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও ৯০ দশকের পর হতে এ আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির দখলে। ওই সময়টাতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে। এ কারনে এ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সাথে সাথে জাতীয় পার্টির ঘন ঘন সিন্ধান্ত বদল সহ প্রার্থী বদলের কারনে জাতীয় পার্টির কর্মিদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় জনপ্রিয়তা অনেকটা ম্লান হতে চলেছে। যদিও এখনও গ্রামে গঞ্জে রয়েছে তাদের ভোট ব্যাংক।
গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এ আসনটিতে আগে আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে লড়াই চললেও এবারে আওয়ামিলীগ,জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মধ্যে হবে ত্রিমুখি লড়াই। আর যদি এখানে শুধু মহাজোটের প্রার্থী হয় তবে লড়াই হবে মহাজোট ও জোটের মধ্যে।
আওয়ামিলীগের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক যারা তারা হলেন,বর্তমান এমপি আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি। রাজশাহি কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ডঃ এম শাহ্ নওয়াজ আলি,বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ^নাথ সরকার বিটু,সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি আনিছুল হক চৌধুরির ছেলে বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরি।
১৪ দলের প্রার্থী হতে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন রংপুর জেলা জাসদ(ইনু) এর সাধারন সম্পাদক কুমারেশ রায়।
জাতীয় পার্টি তথা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বদরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান চৌধুরি সাবলু। এছাড়াও সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মন্ডল,মোকাম্মেল হক চৌধুরি।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে সাবেক এমপি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী,সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলি সরকার,সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদি আইনজীবি ফোরামের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট গোলাম রসুল বকুল ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও তরুন বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম।
এছাড়াও এখনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালাচ্ছেন তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন।
আওয়ামিলীগের বর্তমান এমপি আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,জননেত্রি শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ অনেকদুর এগিয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই আসনের এমপি হওয়ায় আমি বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নমুখি সরকার ক্ষমতায় আর তার আমি এমপি হওয়ার কারনে আমার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় তরুন ভোটারদের মধ্যে আস্থাসহ ভালবাসা অর্জন করতে পেরেছি। দল যদি আবারো আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি এই আসনটি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পারবো ইনশাল্লাহ্।  
বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ^নাথ সরকার বিটু জানান,আমি এক সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলাম। সেই ছাত্রজীবন হতে সুখে দুখে এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি। একারনে আমার এলাকার মানুষরা আমাকে ভালবেসে বর্তমান এমপিকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলো। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকায় গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি এবং ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। আমি আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড.এম শাহ্ নওয়াজ আলি জানান,দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।
সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি আনিছুল হক চৌধুরির ছেলে বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরি জানান,পৌরসভা নির্বাচন,উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সহ ইউপি পরিষদ নির্বাচনে নিজে বিজয়ী হয়ে প্রমান দিয়েছি এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা আছে। এ সব বিবেচনায় নেত্রি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি নেত্রিকে জয় উপহার দিতে পারবো।
১৪ দলের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জাসদ(ইনু)নেতা কুমারেশ রায় জানান,১৪ দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশি অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান চৌধুরি সাবলু জানান,জাতীয় পার্টিতে আমি একক প্রার্থী। কারন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মহাজোটের প্রার্থী ছিলাম। সেই সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নির্দেশেই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। পার্টি চেয়ারম্যান অনেক বার আমাকে এই আসনটির প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। তার নির্দেশেই আমি দীর্ঘদিন হতে গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।
জাতীয় পার্টির অপর নেতা সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মন্ডল জানান,যদি জাতীয় পার্টি আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে আমি নির্বাচন করবো।
সাবেক এমপি ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী জানান,দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো। দল যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকেও নমিনেশন দেয় তবুও আমি তার পক্ষে কাজ করবো। 
সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলি সরকার জানান,বিএনপি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।
বিএনপি হতে মনোনয়ন প্রত্যাশি তরুন নেতা এ্যাডভোকেট গোলাম রসুল বকুল জানান,দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকায় গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ বিএনপির সৎ যোগ্য ও তরুন নের্তৃত্বের পক্ষে থাকবে বলে আমি বিশ^াস করি। দল আমাকে নমিনেশন দিলে আমি ধানের শীষকে উপহার দিবো।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,স্বাধিনতার পর হতে এই আসনটি একবার পেয়েছিলো বিএনপি। তারপর হতে স্থানিয় নির্বাচন সহ জাতীয় নির্বাচনে কোন প্রার্থীই ভাল করতে পারেনি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল প্রার্থীর চাইতে বেশি সংখ্যক ভোট দিয়ে আমার এলাকার ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করেছে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করবো।
তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন জানান,আমি সরকার দলীয় লোক। আমাদের মহাজোটে প্রার্থী অনেক। তবুও যদি সুযোগ পাই তাহলে নির্বাচন করবো। 
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য আলোর বাতিঘর “বাংলা স্কুল”



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

স্বপ্ন সবাই দেখে কিন্তু স্বপ্নটি যদি হয় দেশ গড়ার তাহলে তো কথাই নেই। সত্যিকারের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপদান করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ়চেতা মন আর মনোবল এর সাথে আরও প্রয়োজন কঠিন অধ্যাবসায়। তবেই একজন মানুষ তার কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছতে পারে। দৃঢ়চেতা মনোবল আর স্বপ্নের দেশ গড়ার অঙ্গিকার নিয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে আলোর ছটা ছড়িতে দিতেই প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলা স্কুল নামে এক প্রতিষ্ঠান। যেখানে বিনাবেতনে পাঠদানের পাশাপাশি আইসিটিতে দক্ষতা সহ নৈতিক শিক্ষার উপর বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন রংপুর বদরগঞ্জের বিদেশ ফেরৎ এক যুবক রাশেদুল ইসলাম(৩৫)। সমাজে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে স্কুলটির নাম দেন বাংলা স্কুল। যা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫সালে। ৩ বছর ধরে চলছে এর কার্যক্রম।  
সরেজমিনে গত সোমবার(১৫অক্টোবর)সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহর হতে ১০কি.মি.দুরে দামোদরপুর ইউপির শেখপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত বাংলা স্কুলে গিয়ে কথা হয় বাংলা স্কুেলর প্রতিষ্ঠাতা রাশেদুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,দশ বছর আমি দেশের বাইরে ছিলাম।
বিদেশে মানুষের জীবনযাত্রা ও তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে আমার মনেও নিজ দেশে কিছু একটা করার স্বপ্ন জাগে। দেশে এসেই শুরু করি বাংলা স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। দেখতে দেখতে স্কুলটির বয়স ৩ বছর হতে চলেছে।
তিনি জানান,সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠির শিক্ষা ও জীবন মান উন্নয়নের জন্য আমার একটি ফাউন্ডেশন করার ইচ্ছেও রয়েছে। দেশ ফাউন্ডেশন নামে আমি সেটা করতে চাই। এরই প্রথম পদক্ষেপ হল আমার এই বাংলা স্কুল। আমার এই বাংলা স্কুলে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ও স্বচ্ছল পরিবারের শিশুরাও পড়ছে। পাশাপাশি আমরা বয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তিদের জন্য অক্ষর জ্ঞানের ব্যবস্থা করেছি। অবশ্য তাদের ক্লাস বিকেলে নেওয়া হয়। ২২ জন নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তি দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে শতাধিক নিরক্ষর ব্যক্তিকে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান,এক খন্ড জমিতে অস্থায়িভাবে স্কুলটি পরিচালিত হলেও স্কুলের পাশেই ৩৩শতাংশ জমিতে স্থায়িভাবে বাংলা স্কুলটি স্থানান্তরিত করা হবে। প্রয়োজনে আরও জমি দেয়া হবে। ইচ্ছে আছে স্কুলটিকে মাধ্যমিকে উন্নীত করার।   
বর্তমানে ৯২ জন শিশু এখানে পাঠ গ্রহন করছে। এখানকার শিক্ষকরাও সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরম মমতায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান। এখানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ্যসূচীর বাহিরেও রয়েছে আইটি ক্লাস ও নির্মল বিনোদনের চর্চা। এই স্কুলের শিশুরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস। শিশুদের প্রশিক্ষন দেয়া হয় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীতের।
বাংলা স্কুল গিয়ে আরও দেখা যায়,ফুল বাগান বেষ্টিত নির্মল ছাঁয়া ঘেরা পরিবেশে স্কুলটির অফিস ও আর রয়েছে ৪ টি শ্রেনি কক্ষ। শ্রেনি কক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছে বাঁশের বেড়া আর উপরে টিন দিয়ে। অফিস সহ ৪টি শ্রেনি কক্ষের মেঝেই কাঁচা। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কোন বেঞ্চ নেই। শিক্ষার্থীরা মেঝেতে চট বিছিয়ে বসে পাঠ গ্রহন করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্যান নেই কোন শ্রেনি কক্ষেই। শিক্ষকদের দাঁড়িয়ে ক্লাশ নিতে দেখা গেছে। তবুও শিক্ষার্থীরা যেন পরম আনন্দে পাঠ গ্রহন করছে।
বর্তমানে বাংলা স্কুলটিতে নার্সারি, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচ জন। এখানে নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে কম্পিউটার ও গানের ক্লাস হয় প্রতি সপ্তাহে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা শিক্ষক। গণিত ও ইংরেজি শিক্ষার ক্লাশ নেন জাহানারা বেগম নামে এক শিক্ষিকা। বাংলা-সমাজ ও নৈতিক শিক্ষার ক্লাস নেন সুফিয়া বেগম,তানিয়া আক্তার নামে এক শিক্ষিকা নেন গানের ক্লাস, আইসিটিতে শিক্ষা দেন জারমিনা বেগম এবং বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নেন আন্নাহার বেগম নামে এক শিক্ষিক। শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ জন শিক্ষকই অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকেই পাঠ দিচ্ছেন বাংলা স্কুলে। মাস শেষে তাদের হাতে যা তুলে দেওয়া হয় তা একেবারেই নগন্য।
কথা হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবা(৭)র সাথে,সে জানায়, বাংলা স্কুলে সে নিয়মিত আসে। এই স্কুলে পড়তে পেরে সে খুব খুশি। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা(৭) জানায়, তাদের পাঠ গ্রহন করতে  কোনো সমস্যা হয় না। কারন,তাদের ম্যাডামরা এতো ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেন যে তাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোয়াদ(৬) প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সপ্তমি সহ আরও একাধিক শিক্ষার্থী বেশ আনন্দের সঙ্গে তাদের ভালো লাগার কথা এই প্রতিবেদককে জানান।
অভিভাবকরাও বাংলা স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে খুশি। কথা হয় লাকি বেগম নামে এক অভিভাবকের সাথে, তিনি জানান, তার ছেলে ওই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পাশ^বর্তী অন্য স্কুলের চেয়েও বাংলা স্কুলের লেখাপড়ার মান অনেক ভালো বলে তিনি তার সন্তানকে এই স্কুলে ভর্তি করেছেন।
কথা হয় বাংলা স্কুলের গানের শিক্ষিকা তানিয়া আক্তারের সাথে,তিনি জানান,আমরা বাচ্চাদের নিয়মিত পাঠ্য বইয়ের বাইরেও নির্মল বিনোদন চর্চার জন্য গানের ক্লাস নিই। শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য বিনোদন অত্যন্ত জরুরি। তবে আইসিটির শিক্ষক জারমিনা জানান,স্কুলটির শ্রেনি কক্ষ বাঁশের বেড়া হওয়ায় স্কুলের আইসিটি ক্লাসের কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার বাড়িতে রাখা হয় এবং ক্লাশের সময় নিয়ে আসা হয়। এতে আমাদের কষ্ট হয়। কষ্ট করে হলেও আমরা নিয়মিত আইসিটির পাঠ দান করি।
স্কুল ছুটির পর বিকাল বেলা দুই শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম ও তানিয়া আক্তার নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়মিত পাঠদান করেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে আলোবর্তিকা ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলা স্কুল। স্কুলটি আমার ইউনিয়নে হওয়ায় আমি গর্বিত। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা রাশেদুল প্রশংসার দাবি রাখে। আমরাও বদরগঞ্জ উপজেলায় পশ্চাৎপদ নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ১৯৯৪ সালে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এই কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী এখন দেশের নামকরা বিশ^বিদ্যালয় সহ দেশের বাহিরে লেখাপড়া করছে। শুধু তাই নয় এ কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই কলেজ হতে বের হয়ে দেশের অনেক দায়িত্বশীল পদে থেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। শুভ কামনা করছি বাংলা স্কুলের জন্য।  
দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান,বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। নিরক্ষর মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও আমাদেরকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলা স্কুল তারই উদাহরন। দোয়া করি তারা একদিন সফল হবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শারদীয় দুর্গোৎসব আসন্ন তাই প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। দক্ষ কারিগরদের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় যেন প্রান ফিরে পাবে প্রতিমা। এ কারনে তাদের এই দিন রাত নিরলশ পরিশ্রম।
সরেজমিনে গত বুধবার(১০অক্টোবর)বদরগঞ্জ উপজেলার পুজামন্ডপ ঘুরে দেখা যায়,প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে কোথাওবা কারিগররা প্রতিমায় রং তুলির আঁছড় দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
কথা হয় পৌরশহরের চাঁদকুঠির ডাঙ্গাঁ বারোয়ারি কালি মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কারিগর সুবল চন্দ্রের সাথে,তিনি জানান, মন্দির কমিটি আমাকে প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেয় । কাজ শেষ করতে আর সময় লাগবে একদিন। এর পর চলবে রং তলির কাজ। পারিশ্রমিক হিসেবে পাবো ৩০হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান,এখন পর্যন্ত আমি ৫টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছি।
বদরগঞ্জ কেন্দ্রিয় বায়োয়ারি কালি মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা তৈরির কারিগর পার্বতীপুরের স্বদেশ কুমার জানান,কেন্দ্রিয় মন্দির কমিটি আমাকে ভারতের প্রতিমার নকশা অনুয়ায়ি দুর্গা প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেন। দিন রাত পরিশ্রম করে আমার কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে।
তিনি আরও জানান,এ প্রতিমা তৈরিতে পারিশ্রমিক হিসেবে আমি পাবো প্রায় ৪৫হাজার টাকা। 
বদরগঞ্জ পুজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুবোধ কুমার কুন্ডু জানান,এবারে গোটা উপজেলায় ১২৮টি পুজা মন্ডপে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠভাবে পুজা উদ্যাপন করা যাবে।
তিনি আরও জানান,পুজা উদ্যাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় কোথাও কোন ধরনের গোলযোগের আশংকা নেই।
বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান,১২৮টি পুজা মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপুর্ন পুজামন্ডপের সংখ্যা ২৯টি। কম ঝুঁকিপুর্ন মন্ডপের সংখ্যা ৪৭টি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবং ঝুঁকিপুর্ন পুজামন্ডপগুলোতে বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় আশা করছি পুজা সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে ধান বাঁচাতে কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। তবুও সুর্যের লেলিহান শিখার দাপট যেন কমছে না। তপ্ত মাঠে আর ভ্যাবসা গরমে নাকাল কৃষক। তবুও বৈরি পরিবেশে কৃষক মাঠে। কারন একটাই,প্রচন্ড রোদে ধান গাছ শুকিয়ে ঝিমিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির দেখা নাই জেনে কৃষকরা তাদের জমির ধান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ইঞ্জিনচালিত স্যালো মেশিন জমিতে বসিয়ে সেচ দিচ্ছেন। এ যেন কৃষককের ফসল বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা। এ চিত্র রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আমন মাঠের।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(২অক্টোবর)গোটা উপজেলা ঘুরে আমন ক্ষেতে ইঞ্জিনচালিত স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেয়ার দৃশ্যই চোখে পড়ে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আমন চাষি মামুন মিয়া(৪৫)এর সাথে,তিনি জানান,মুই গত দুই দিন পরপর মোর আমনের ভুইয়োত পানি দিনু। তাও যেন মনে হওছে ভুই শুকি গেইছে।
ধানোত থোর ধরার সময় জমি ভিজা না থাকলে কি ভাল ধান হইবে ? এবার আবাদ যে ক্যানক্যা হইবে মুই ভাবি পাওছো না। হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়্যা ধান আবাদ করি হামার কি লাভ ?
একই এলাকার অপর আমন চাষি এমারুল হক(৫৯)জানান,সুর্যের তাপ এতটাই যে,স্যালো দিয়া জমিত পানি দিলেও পানি থাকোছে না। ভুই শুকি কাঠ হয়্যা যাওছে। তা হইলে ধান হইবে কেমন করি। ধান ভাল না হইলে যে হারা শ্যাস হয়্যা যামো বাহে।
কথা হয় লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ এলাকার কৃষক রাজ্জাক আলির সাথে,তিনি জানান,ধানের থোড় আসার সময় জমি ভেজা থাকাটা খুবই গুরুত্বপুর্ন। তা না হলে তো ধান হবে না।
তিনি আরও জানান,ধান আবাদের খরচ তার উপর জমি শুকিয়ে যাওয়ার কারনে পানি দেয়ার জন্য বাড়তি খরচ। এতে উৎপাদন খরচ কৃষকদের আরও বেড়ে গেল। আরও যদি কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল না পান তাহলে তারা মাঠে মারা যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বৃষ্টির পানি না হওয়ায় আমরা কৃষকদের জমিতে সেচ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত উপজেলায় আমন আবাদ তুলনামুলক ভালই আছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিচ্ছেন এতে করে আমন আবাদে উৎপাদন ব্যয় অনেকটা বেড়ে যাবে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বাঁশের সাঁকোতে পারাপার,২ ইউনিয়নের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ


যমুনেশ^রি নদীর কোল ঘেঁষা গ্রামের নাম বড়াইবাড়ি। কালুপাড়া ইউনিয়নে গ্রামটি হলেও বদরগঞ্জ পৌরসভা হতে এর দুরত্ব ১কি.মি মধ্যে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীটি এতটাই ভয়াবহ রুপ ধারন করে যে,বড়াইবাড়ি,জেলেপাড়া গ্রাম সহ কুতুবপুর ইউনিয়নের সাথে বদরগঞ্জ সদরের যোগাযোগ সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কয়েক বছর আগে তাদের একমাত্র রাস্তাটি ভাঙ্গঁতে ভাঙ্গঁতে বিলিন হয়ে গ্রামের মাঝখানে গিয়ে ঠেকে। শুধু তাই নয় বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তার নিচ দিয়ে বড় ধরনের সুরঙ্গঁ পথের সৃষ্টি হয়। এ কারনে এ অঞ্চলের মানুষরা বাধ্য হয়ে নিজেদের প্রয়োজনেই তারা যাতায়াতের জন্য নির্মান করেন বাঁশের তৈরি সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই বড়াইবাড়ি জেলেপাড়া সহ কালুপাড়া ইউনিয়নের কিছু গ্রামের মানুষ এবং কুতুবপুর ইউনিয়নবাসি বদরগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁিক আরও বেড়ে বর্ষা মৌসুমে। এ নিয়ে এলাকাবাসির ক্ষোভের শেষ নেই। তাদের প্রানের দাবি নদীটিতে বাঁধ সহ ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত বৃহঃস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়,বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন কুতুবপুর দলপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন আর অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছেন কালুপাড়া ইউপির বাসিন্দা ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজকুর রহমান। কারন বাঁশের তৈরি সাঁকোটি দিয়ে দুইটি যানবাহন পারাপার সম্ভব নয়। এ কারনেই তার(প্রভাষক তাজকুরের) এই অপেক্ষা। 
এ সময় কথা হয় ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেনের সাথে,তিনি জানান,হামার পাকে(কষ্ট) কেউ দেখে না। সাংবাদিক মাঝে মধ্যে আসি ছবি তোলে, আর চেয়ারম্যান,মেম্বার,অফিসের মানুষ আসি খালি হামাক ভোগা দেয় কিন্তু হামার কাম আর হয় না।
কথা হয় প্রতিনিয়ত বাঁশের সাঁকো পারাপারকারি ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তাজকুর রহমানের সাথে,তিনি জানান,মটরসাইকেল নিয়ে এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে আমাকে প্রতিদিন কলেজে যেতে হয়। ভয় লাগে কখন স্লিপ কেটে নদীতে পড়ে যাই।
তিনি আরও জানান,দ্রুত বাঁধ সহ এই ব্রিজটি নির্মান জরুরি হয়ে পড়েছে।
একই কথা বলেন কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান চাপুল শাহ্। 
তিনি আরও জানান,এই রাস্তা দিয়েই আমাদের বদরগঞ্জে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এর ভুক্তভোগি। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করবো সরকার যেন বিষয়টিতে দৃষ্টি দেন এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। ব্রীজটি নির্মান হলে ২ ইউনিয়নের মানুষদের কষ্ট লাঘব হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্বতীপুর আতিকুর রহমান জানান,আমি এখানে নতুন বদলি হয়ে এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পর তারা এসে দেখে গিয়ে প্রোপোজাল ঢাকায় প্রেরন করেছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ডাক বাক্সের জৌলুস আর নেই


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

“চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে...” স্ত্রী তার স্বামির কাছে এখন আর আবেগতাড়িত হয়ে কোন চিঠি যেমন লেখেন না,অনুরুপভাবে মা তার সন্তানদের কাছে কিংবা কোন তরুন তরুনী তার প্রিয় জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক বাক্সে দিয়ে আসেন না। বর্তমান সময়ের মানুষরা তার প্রিয় জনের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন। বর্তমানে ডাক বাক্স যেন এক সুদুর অতীত। এক সময়ের ডাক বাক্সের জৌলুস আর আগের মত নেই। ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষা এখন আর কেউ করেন না।
মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে দ্রুত ভাব বিনিময় করা যায় সত্য কিন্তু প্রকৃত অর্থে লিখুনির মাধ্যমে তার আবেগতাড়িত ভালবাসার কথা তাতে তেমনভাবে ফুটে উঠে না। প্রিয়জনের কাছ হতে পাওয়া সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা কি যে মধুর, তা তখনকার প্রিয়জনরাই অনুভব করতেন। সময় পাল্টে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের মানষিকতাও পাল্টে গেছে। সময় নষ্ট করে আর কেউ যেমন চিঠি লেখেন না,তেমনি চিঠি অনেক দেরি করে প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে যাক এটাও কেউ চায় না। কালের গর্ভে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে হাতে লিখা চিঠি আর জৌলুস ছড়ানো ডাক বাক্সের কদর। এখন ডাক বাক্সে সরকারি চিঠি পত্র ছাড়া আর কোন চিঠিই পাওয়া যায় না।
দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর কথা হয় হাতে লেখা চিঠি নিয়ে ডাক বাক্সে ফেলতে আসা প্রবীন ব্যক্তি উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)এর সাথে,তিনি জানান,আমার নাতি ঢাকায় চাকুরি করে তার কাছে চিঠি পাঠাতে এখানে এসেছি। আমি বাবা আগের মানুষ। মোবাইলে মেসেজ দিতে পারি না। আর মেসেজ কিংবা মোবাইল ফোনে সব কথা বলা সম্ভব হয় না তাই চিঠি লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পোষ্টমাষ্টার সদরুল আলম জানান, বর্তমানে পোষ্ট অফিসে পার্সেল,বীমা,পরীক্ষার খাতা, সঞ্চয়পত্রের মত কাজগুলো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান,আগের দিনের মত এখন আর ব্যাপকভাবে চিঠি পত্র লেনদেন আর হয় না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

একটি ব্রীজ কমাতে পারে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি ব্রীজই কমাতে পারে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ।
ঘৃনই নদীর উপর দেয়া বাঁশের সাকোটির অবস্থান বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ১৫কি.মি দক্ষিনে লোহানীপাড়া ইউপির ঘৃনই মালতোলা নামক স্থানে। নদীর ওপারে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের দুরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভাল না হওয়ায় বদরগঞ্জের সীমান্ত ঘেঁষা নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউপির পশ্চিমপাড়া,ডিঙ্গাপাড়া,বাদিঘৃনই,মধ্যটারি সহ বদরগঞ্জের মালতোলা,ঘৃনই,ঘুনুরঘাট,আমতলা সহ অনেক গ্রামের লোকজন এই বাঁশের সাকো দিয়ে যাতায়াত করে।
দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াত এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে অথচ এখানে একটি ব্রীজ নেই, এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ আর কষ্টের অন্ত নেই। তাদের প্রানের দাবি এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(১১সেপ্টেম্বর)গিয়ে দেখা যায়,নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউপির পশ্চিমপাড়া গ্রামের মেহেরুল নামের এক যুবক সে তার কাঁধে বাইসাইকেল নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন।
কথা হয় মেহেরুলের সাথে,তিনি জানান,প্রতিনিয়ত কাজের জন্য আমাদেরকে বদরগঞ্জে আসতে হয়। কারন আমাদের ওপারের অসংখ্য মানুষের জমি এ পাড়ে রয়েছে। তাছাড়া আমাদের এখান হতে নবাবগঞ্জের দুরত্ব ও যোগাযোগ ভাল না হওয়ায় আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ বদরগঞ্জেই বেশি যাতায়াত করে।
কথা হয় ঘৃনই মালতোলা(বদরগঞ্জ)গ্রামের বাসিন্দা সাহারা বেগমের সাথে,তিনি জানান,সাঁকোর পাশেই আমার বাড়ি। ওপারে (নবাবগঞ্জ)আমাদের এ এলাকার মানুষের অনেক জমি রয়েছে। ধান কেটে সাঁকো দিয়ে নিয়ে আসতে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এখানে একটি ব্রীজ হবে এটাই আমাদের প্রানের দাবি হলেও জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময় এসে ব্রীজটি নির্মানের আশ^াস দিলেও ওই পর্যন্তই শেষ। ভোট হয়ে গেলে আমাদের আর কেউ খোঁজ রাখেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাকিব হাসান ডলু শাহ্ জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে পিআইও অফিসে ব্রীজটির জন্য আবেদন করি। মাপে বেশি হওয়ায় পিআইও অফিসের পক্ষে ব্রীজটি করা সম্ভব না। পরে এলজিইডিতে যোগাযোগ করেছি।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,নদীটির অবস্থান দুই উপজেলায় হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার এমপির সাথে যোগাযোগ করেছি। আমি চেষ্টা করছি ব্রীজটি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে হয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রতিবন্ধি মেয়েটি কে ?



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

নিজের ও পিতা মাতার নাম বলতে পারলেও আর বেশি কিছু বলতে পারছে না প্রতিবন্ধি কিশোরি সীমা ঘোষ(১৪)। পরিচয়হীন মেয়েটিকে পাওয়া যায় গত শনিবার(১সেপ্টেম্বর)উপজেলার রামনাথপুর ইউপির হাসিনা নগর নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভারতী রানির উঠান হতে। এর পর তার আশ্রয় হয় গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থায়। যদিওবা তারা কাজ করে পরিচয়হীন,গৃহহীন অসুস্থ্য মানুষদের স্বেচ্ছায় সেবা দানের মাধ্যমে।  তবুও তারা মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমাকে আশ্রয় দিয়েছে। ইচ্ছে করলে সীমার স্বজনরা যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে নিয়ে যেতে পারেন। সীমা তার বাবার নাম বলছে মানিক ঘোষ আর মার নাম চন্দনা ঘোষ। এ ছাড়া সে আর কিছুই বলতে পারছে না।
গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মারুফ কেইন জানান,যদিও আমরা যাদেরকে সেবা দেই সেই ক্যাটাগরিতে সীমা পড়ে না,তবুও অসহায় প্রতিবন্ধি ও তার নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছি। সীমার স্বজনরা পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে নিয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরও জানান,আমাদের এখানে আরও ১৪ জন গৃহহীন অসুস্থ্য মানুষ রয়েছে। আমরা তাদেরকেও সেবা দিচ্ছি,পাশাপাশি তাদেও ঠিকানা সন্ধান করছি। 
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮

কাঠ ফাটা গরমে জনজীবন স্থবির




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কাঠ ফাটা গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরম আর তাপদাহে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে। গত দু-দিন হতে রংপুরের বদরগঞ্জে প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমের দাপট এতটাই যে,প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘর হতে বের হচ্ছেন না। এই সময়টাতে সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছোট বাচ্চা বৃদ্ধ আর শ্রমজীবি মানুষরা।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(২০জুলাই)দুপুরে গোটা পৌরশহর ঘুরে দেখা যায়,জনমানবহীন তপ্ত সড়ক। সড়কে রিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার দেখা নেই। অথচ দু-একদিন আগেও রিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার দাপটে সড়কে চলাচল করাই যেন দায় হয়ে যেত। আরও দেখা যায়, হাতে গোনা দু-একটি দোকান ছাড়া সকল দোকান বন্ধ। যে দু-একটি দোকান খোলা রয়েছে তাতেও হাতে গোনা লোকজন দোকানের মধ্যে বসে আসে। খোলা রয়েছে শুধু ঔষধের দোকান। ঔষধের দোকানগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক স্যালাইন বিক্রির কথা দোকানদাররা জানান।
কথা হয় স্যালাইন কিনতে আসা পৌরশহরের সি.ও রোড মহল্লার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের গনিত বিভাগের শিক্ষক নিখিল সরকারের সাথে,তিনি জানান,প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমে ঘর হতে বের হওয়া যাচ্ছে না।
গরমে শরীর হতে ঘাম বের হবার কারনে স্যালাইন কিনতে এসেছি।
তিনি আরও জানান,প্রচন্ড গরমে আমার ছোট মেয়ে আর আমার মায়ের অবস্থা একেবারেই খারাপ। এই মাত্র ডাক্তারের সাথে কথা বলে স্যালাইন কিনতে এসেছি।
কথা হয় রাস্তার এক কোনে ছাঁয়ায় দাঁড়ানো রিক্সাচালক জুরান সাহার সাথে,তিনি জানান,আমি গরীব মানুষ রিক্সা না চালালে খাবো কি ? কিন্তু সকাল হতে রিক্সা নিয়ে বের হলেও এখন দুপুর পর্যন্ত মাত্র একজন যাত্রি পেয়েছি। তার কাছ হতে ভাড়া পেয়েছি দশ টাকা। এই হল দুপুর পর্যন্ত আমার রোজগার।
তিনি আরও জানান,এই রোদে মানুষতো বাইরে বের হতেই পারছে না। আমার রিক্সায় চড়বে কে ?
রেলষ্টেশন এলাকার লেবু শরবত বিক্রেতা এরশাদ আলি জানান,প্রচন্ড গরমে সকাল হতে গভীর রাত অবধি তার লেবু শরবতের দোকানে ভিড় লেগেই আছে। প্রতি গ্লাস লেবু শরবত ৫ টাকায় বিক্রি করি।
এদিকে,রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,আজ (শুক্রবার)রংপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.০৪। তিনি আরও জানান,আজ কোথাও বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা না থাকলেও আগামিকাল শনিবার কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইফতেখারুল আলম মারুফ জানান,অতিরিক্ত গরমে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুন রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পেটের পীড়া ডায়রিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগি। এই গরমে শরীর হতে অতিরিক্ত লবন পানি ঘাটতি পুরনে সকলকে খাবার স্যালাইন ও বেশি বেশি পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২০জুলাই/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮

শোলার খোঁজে মালিরা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শোলা বদ্ধ জলাশয়ে জন্মানো একটি জলজ উদ্ভিদের নাম। রোঁমশ লম্বাটে ফাঁপা পাতলা এই উদ্ভিদটি আগে বদরগঞ্জ উপজেলার কমবেশি সকল বদ্ধ জলাশয়ে দেখা গেলেও এখন উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে শোলার কদর অত্যন্ত বেশি। দেব-দেবির পুজা অর্চনা বিয়ের মুকুট সহ বিয়ে বাড়ি সাজাতে বেশি প্রয়োজন হয় এই শোলা। এছাড়াও বাচ্চাদের নানা ধরনের খেলনা তৈরিতে উদ্ভিদটির জুড়ি মেলা ভার।
সরেজমিনে গত সোমবার(১৬জুলাই)সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির মন্ডলপাড়া এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে কিছু লোকজন বদ্ধ জলাশয় হতে শোলা নামক জলজ উদ্ভিদটি তুলে রাস্তার ধারে স্তুপ করছেন।  কাছে গিয়ে তাদের স্থির চিত্র ধারন করি।
 এ সময় কথা হয় নীলফামারি জেলার মাগুড়া হতে আসা মালি দুলাল চন্দ্রের (৩৫) সাথে, তিনি জানান, আমরা প্রতি বছর নীলফামারির মাগুরা এলাকা থেকে এই এলাকায় শোলা সংগ্রহ করতে আসি।
অপর মালি সুবল দাস (৪০) জানান,নীলফামারির মাগুরা থেকে বদরগঞ্জের দুরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। আমরা সবাই বাইসাইকেলে করে এসেছি। জলাশয় এলাকায় আসতে গেলে বাইসাইকেলই উত্তম বাহন।
তিনি আরও জানান,অনেক জলাশয় আছে যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ভাল যাতায়াত ব্যবস্থাই নেই। এখান হতে এই শোলা সংগ্রহ করে আমরা নীলফামারি সহ আশে পাশের জেলা উপজেলায় বিক্রি করি।
মালি সুবাস চন্দ্র (৩০) জানান, দেশের বড় বড় জলাশয় পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে যাওয়ায় আর আগের মত শোলা পাওয়া যায় না। তাই আমরা আগেই বিভিন্ন জলাশয় এলাকার খোঁজখবর নিয়েই যেখানে শোলা পাওয়া যায় সেখানে চলে আসি।
তিনি আরও জানান, শোলা দিয়ে পুজোর সামগ্রি তৈরি করে থাকি। যেমন কদম ফুল, মুকুট ও নানা প্রকার খেলনা সামগ্রি। প্রথমে আমরা শোলা সংগ্রহ করি তারপর সংগ্রহীত শোলা শুকিয়ে বাহারি রঙ্গে রাঙ্গিয়ে পণ্য সামগ্রি তৈরি করে পুজোর বাজারে বিক্রি করি। প্রতি বছর এই শোলা সামগ্রি বিক্রি করে ২৫-৩০হাজার টাকা আয় করি। এছাড়াও পেশাটি আমাদের পুর্বপুরুষের। তাই কষ্ট করে হলেও ধরে রাখার চেষ্টা করছি।
বদরগঞ্জ বারোয়ারি কালিমন্দিরের পুরোহিত দিনেশ চক্রবর্তী জানান, শোলা দিয়ে আমাদের অনেক কাজ সারতে হয়। যেমন বিয়ের মুটুক, সাজসজ্জা, দেব-দেবির গলার হার, মনষা ও ছায়া মন্ডব তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রকম ফুল এবং পুজার কাজে শোলার ব্যবহার হয়। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক রায় জানান, এক সময় বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর পরিমান শোলা পাওয়া যেত। এ কারনে বদরগঞ্জের একটি এলাকার নামকরন হয়েছে শোলাগাড়ি।
বর্তমানে শোলা এখন পশুখাদ্য,রান্নার কাজে জ্বালানি ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান,সময়ের সাথে সাথে শোলা নামক এই জলজ উদ্ভিটির বিকল্প সামগ্রি ব্যবহার করার ফলে এর চাহিদা অনেকটাই কমেছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬জুলাই/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪         












শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮

এক সময়ের ক্যাসেটের রিল এখন শুধুই দোকানের সৌন্দর্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভিসিডি, ডিভিডি প্লেয়ার, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে বর্তমান সময়ে অকেজো হয়ে পড়ে আছে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দির মানুষের শ্রেষ্ঠ বিনোদন মাধ্যম ক্যাসেট ও ক্যাসেটের রেশমি ফিতা (রিল)। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে এক সময়ের সাড়া জাগানো ক্যাসেটের রিল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এগুলোর খোঁজ করার মত এখন আর কোন ক্রেতা নেই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাছে হেরে যাওয়া রিলগুলো দেখে মনে হয় এগুলো যেন এখন শুধুই স্মৃতি। দোকানের বাড়তি সৌন্দর্য ছাড়া আর কিছুই নয়।
গতকাল শনিবার(৩০জুন)পৌর শহরের ‘সুর ঝংকার ইলেকট্রনিক্স,অথৈই ইলেকট্রনিক্স,খোকন ইলেকট্রনিক্স,জেরিন ইলেকট্রনিক্স,সবুজ ইলেকট্রনিক্স, আব্দুল ‘মান্নান ইলেকট্রনিক্স, আনারুল টেলিকমসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স দোকানে গিয়ে চোখে পড়ে অবিক্রিত অবস্থায় দোকানে পড়ে থাকা হাজার হাজার রেশমি ফিতা (রিল)।  
গত  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল হতে  এ সব ক্যাসেটের রিল দোকানে পড়ে থাকলেও এখন ভুলক্রমেও কোন ক্রেতা এসে এগুলোর খোঁজ খবর নেননা। তাই দোকানদাররা কবে কখন এই ক্যাসেটের শেষ রিল বিক্রি করেছেন সেটাও তারা বলতে পারেননা। এক সময়ের সাড়া জাগানো বাংলা,হিন্দি ছায়া ছবি,নাটক, গান, সংলাপ ও ওয়াজ মাহফিলের রিল গুলোর প্রচুর চাহিদা থাকায় দোকানদাররা সেগুলো পাইকারি হারে ২৮-৩০ টাকায় ক্রয় করে ৪৫-৫০টাকায় বিক্রি করতেন। কিন্তু এর পর হতে বাজারে ভিসিডি, ডিভিডি, মোবাইল ফোন আসার পর লোকজন ক্যাসেটের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্যাসেটের নাম পর্যন্ত মানুষ ভুলে যেতে বসেছে বলে দোকানদাররা জানান।
আরও জানা যায়,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল শেষ হওয়ার পরেও এ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে কিছু কিছু মানুষ ক্যাসেটের গান শুনতো বলে সে সময় কিছু কিছু করে রিল বিক্রি হতো। কিন্তু এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির তৈরি ইলেকট্রনিক সামগ্রি গুলো শহরের বাইরে গ্রামের মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে যাওয়ায় (রেশমি ফিতা) ক্যাসেটের রিলগুলো একেবারে অচল হয়ে গেছে।
সুর ঝংকার ইলেকট্রিক্স এর সত্ত্বাধিকারি মোকছেদুল হক শাহ্ জানান, আমার দোকানে বর্তমানে ৮ হাজার রিল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার মুল্য ২৫হাজার টাকা। সে সময় রিলগুলো কেনার পর ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারিনি। ক্যাসেটের রিলগুলো এখন আমার দোকানের স্মৃতি বহন করছে। একারনে রিলগুলো র‌্যাকের মধ্যে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছি।  
বদরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ও ক্যাসেটের প্রবীন শ্রোতা  আব্দুল আলিম (৭৪) জানান,এক সময়ের এই ক্যাসেটের গান শুনে আমার সারাদিন আনন্দে কাটতো। তিনি আরও জানান,অনেক টাকা খরচ করে চট্রগ্রাম হতে একটি বড় ধরনের ক্যাসেট সেট কিনে এনেছিলাম। বর্তমানে আমার সেই ক্যাসেটটি খেলনা সামগ্রিতে পরিনত হয়েছে।



বদরগঞ্জ, রংপুর
তারিখ-৩০জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪          
 

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮

কান পরিস্কার করে জীবিকা নির্বাহ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ছিপছিপে কালচে হালকা পাতলা গড়নের যুবক হাবিবুর রহমান হাবিব(২৪)। বাড়ি লালমনিরহাট জেলার ইটাপতা গ্রামে। কান পরিস্কার করাই তার পেশা। অতি সাধারন দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয়া হাবিব এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। রাজমিস্ত্রির কাজ করে বাবা মা স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে ভালই দিন কাটছিলো। হঠাৎ তার পেটে অপারেশন করতে গিয়ে তিনি যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন,পাশাপাশি আগের মতো তেমন ভারি কাজও তিনি করতে পারেন না। বাড়ির কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ার কারনে ওই সময়টাতে তার পরিবার নিয়ে তিনি কষ্টেই দিন কাটাচ্ছিলেন। এভাবে অতি কষ্টে ৬ মাস বাড়িতে অতিবাহিত করার পর হাবিরের এক বন্ধুর(কান পরিস্কার কারক)পরামর্শে দরিদ্র যুবক হাবিব জড়িয়ে পড়েন এ পেশায়।
গত বৃহঃস্পতিবার(২৮জুন)সকালে পৌরশহরের বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায় দেখা মেলে হাবিবের। মাথায় লেন্স পরিহিত অবস্থায় হাবিব এক ব্যক্তির কান পরিস্কার করছেন। কাজ শেষ হলে কথা হয় হাবিবের সাথে।
তিনি জানান,দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এ কাজ করছি। শারীরিক অক্ষমতার জন্য যখন কোন কাজ করতে পারছিলাম না তখন আমার এক বন্ধুর পরামর্শেই কান পরিস্কারের কাজ শুরু করি। সে আমাকে কান পরিস্কারের অনেক টেকনিক শিখিয়ে দেয়। নরমাল কান পরিস্কার ২০টাকা,সামান্য সমস্যা জনিত কান পরিস্কার করা ৪০টাকা আর কানে পুঁজ আসা পরিস্কার করতে ১শত টাকা।
তিনি জানান,প্রতিদিন সকাল বেলা ট্রেনে বাসে চড়ে আশে পাশের জেলা উপজেলায় ঘুরে কাজ করি আর রাতে বাড়ি ফিরি। প্রতিদিন আয় হয় ৭শত হতে ২হাজার টাকার মতো। যা দিয়ে চলে আমার সংসার।
তিনি আরও জানান,অহেতুক সময় অপচয় না করে পছন্দ অনুযায়ি সকলের কাজ করে যাওয়া উচিত। তাহলে নিজের,সমাজের এবং সংসারের উপকার হবে। বেকার হয়ে সময় অপচয় করা মোটেও ঠিক না।
বদরগঞ্জ কলেজগেট এলাকার বাসিন্দা হাবিবের কাছে কান পরিস্কার করা যুবক আঃ বাকি জানান,আমার কানে কিছুটা সমস্যা ছিল। হাবিবকে দেখে অনেকটা খেয়ালের বশে তার কাছে কান পরিস্কার করি। আমার কানে আগে যে সমস্যা অনুভব করতাম কান পরিস্কারের পর অনেকটা সুস্থতা অনুভব করছি। হাবিবের কান পরিস্কার করাটা আমার ভালো লেগেছে এ জন্য যে,সে যতœ সহকারে কান পরিস্কার করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কলেজ রেল গেট এলাকার বাসিন্দা ইউনুস আলি জানান,অনেক দিন পর পর কান পরিস্কার করতে হাবিব বদরগঞ্জে আসে। বেকার হয়ে বাড়িতে না থেকে সে কাজ করে যে জীবিকা নির্বাহ করছে এটাই আমার ভালো লেগেছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  


শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮

লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে হাড়িভাঙ্গাঁ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পাতলা পর্দা মাংস বিশিষ্ট আর রসে টইটুম্বুর আম হাড়িভাঙ্গাঁ। আমটিকে পছন্দ করেন না দেশে এমন মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমের রাজা হিসেবে খ্যাত হাড়িভাঙ্গাঁ আমটি আর দিন দশেক পরেই বাজারে আসতে শুরু করবে। ইতোমধ্যে আমটি লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে। রংপুর অঞ্চলের মানুষ এখন আর হাড়িভাঙ্গা আমটিকে শুধু আর আম হিসেবেই দেখছেন না,দেখছেন গ্রামিন অর্থনীতির অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(২৩জুন)বদরগঞ্জ উপজেলার আম বাগান ঘুরে হাড়িভাঙ্গা আমের লালচে বর্ন ধারন করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির হাড়িভাঙ্গা আমচাষি মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে,তিনি জানান,গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমার বাগানে অনেক বেশি আম ধরেছে। শুধু আমার বাগানেই আম বেশ ধরেছে তাই নয় কম বেশি সকলের আম বাগানে পর্যাপ্ত পরিমানে আম ধরেছে।
তিনি জানান,এ বছর আমি আম বাগান বিক্রি করেছি ৪০ লক্ষ টাকায়। কিন্তু যাদের কাছে আম বাগান বিক্রি করেছি তারা ভীষন চিন্তায় আছে। কারন এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন এত বেশি হয়েছে যে,দাম নিয়ে তারা শংকা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও জানান,এ বছর আম বাগানগুলোতে যে পরিমানে আম ধরেছে,যদি আমগুলো সংরক্ষন করা যেতো তাহলে কয়েক বছরের ঘাটতি পুরন করা সম্ভব হতো।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আমচাষি হাসান আল মাহমুদের সাথে,তিনি জানান,এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আম বিক্রি নিয়ে খুব টেনশনে আছি। দামে দরে বাগান ক্রেতা না মেলায় সিন্ধান্ত নিয়েছি আমার বাগানের আম আমি নিজে খুচরা ও পাইকাড়ি বিক্রি করবো। এ কারনে বাগানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছি।
তিনি জানান, ১২’শত হাড়িভাঙ্গা আম গাছ নিয়ে আমার বাগান। ইতোমধ্যে আমে রং আসতে শুরু করেছে। বাজারে আসতে আরও কমপক্ষে ১০দিন লাগবে।
তিনি আরও জানান,আমে অহেতুক কীটনাশক প্রয়োগ কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যহানি হবে না এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমি আমার বাগান পরিচর্যায় নিজেই সময় দিয়েছি। দাম দিয়ে মানুষ আম কিনবে আর আম স্বাস্থ্য স¤œত হবে না এটা কি হয় ? আমি চাই আমার বাগানের আম মানুষ নিশ্চিন্তে ক্রয় করুক। কারন এটাই আমার ব্যবসার পুঁজি। সততা ছাড়া তো আর ব্যবসা হবে না।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তিনি আরও জানান,এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,বদরগঞ্জে হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানের সংখ্যাই বেশি। ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় হাড়িভাঙ্গা আম বাগানের সংখ্যা এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে। যদিও এবার দাম নিয়ে আমচাষিরা শংকায় আছেন।
তিনি আরও জানান,হাড়িভাঙ্গা আমটিকে যদি প্রকৃত অর্থে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে শুধু রংপুর অঞ্চলে নয় জাতীয় অর্থনীতিতে আমটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারতো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 


শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮

যমুনেশ^রি নদীর ব্রীজের এক ধার আর্জেন্টিনা অন্য ধার ব্রাজিলের পতাকার দখলে


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জের বুক চিড়ে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর ব্রীজের(এরশাদ ব্রীজ)এক ধার আর্জেন্টিনা ও অন্য ধার ব্রাজিল সমর্থকদের পতাকার দখলে। পতপত করে উড়ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। পতাকায় মোড়ানো ব্রীজের এ দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি এ এলাকার মানুষ। প্রচন্ড গরমে একটু খানি শীতল পরশ ও পতাকায় মোড়ানো যমুনেশ^রি ব্রীজ দেখতে ছুটে আসছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। ব্রীজের এই নৈসগ্রিক দৃশ্য দেখতে মুলতঃ ভিড় বাড়ে সন্ধ্যার পর হতে মধ্যরাত অবধি। যদিও বিশ^কাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দর্শক হৃদয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোন ভালো খেলা উপহার দিতে পারেনি। তবুও দল দুটির ভক্ত বলে কথা।
সরেজমিনে গত বৃহঃস্পতিবার(২১জুন)পড়ন্ত বিকেলে রংপুর বদরগঞ্জের যমুনেশ^রি ব্রীজে গিয়ে চোখে পড়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ভক্তদের ব্রীজের দু-ধার দু-দেশের পতাকায় মোড়ানোর দৃশ্য। পতপত করে উড়ছে পতাকাগুলি। দেখে মনে হচ্ছে দল দুটির প্রতি ভক্তদের কতটাই না আস্থা আর ভালবাসা। যার কারনে ভক্তরা নিজ খরচে পতাকা তৈরি ও নিজেদের বাঁশ ঝাড় হতে বাঁশ কেটে এই আয়োজন করেছেন।
কথা হয় যমুনেশ^রি ব্রীজের মাঝখানে মটরবাইক থামানো বদরগঞ্জের বিশিষ্ট ঠিকাদার মাহ্বুব সরকার দ্বীপের সাথে, তিনি জানান,কমবেশি প্রতিদিনই আমি রংপুরে যাই। কখনো ব্রীজের এই সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়েনি। আজ ব্রীজের দু-ধার পতাকায় মোড়ানো দেখে এতটাই ভালো লাগলো যে,মটরবাইক না থামিয়ে পারলাম না। আমিও আর্জেন্টিনার ভক্ত। আর্জেন্টিনার সফলতা কামনা করছি।
কথা হয়,ব্রীজের এক ধারে ব্রাজিলের পতাকা উড়ানো যুবক হাবিবুর রহমান হাবিবের সাথে,তিনি জানান,আমি ব্রাজিলের ভক্ত। খেলার শুরুতেই আমি আমার নিজ অর্থে ২শত পতাকা ও নিজের বাঁশ ঝাড় হতে ২শত বাঁশ কেটে ব্রীজের এক ধাওে পতাকা লাগিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরও জানান,খুব ভালো লাগছে এই ভেবে যে, ব্রীজের এই দৃশ্য দেখে প্রতিদিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ তা দেখতে আসছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক ও ব্রীজে পতাকা উড়ানো ব্যক্তি বাইসাইকেল মেকার লুৎফর রহমান জানান,আমি গরীব মানুষ। আর্জেন্টিনা দলকে ভালবেসেই নিজ খরচে পতাকা তৈরি ও বাঁশ কিনে ব্রীজের এক ধারে লাগিয়েছি। আমারও খুব ভালো লাগছে এই ভেবে যে,ব্রীজের এ দৃশ্য দেখতে উপজেলার হাজারো মানুষ এখানে আসছে।
তিনি আরও জানান,আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা বিশ^কাপে ভাল করবে এই প্রার্থনাই করছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪     
   

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮

আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা


আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। বাবাই আমার আদর্শ। বাবাই আমার প্রেরনা। যদিও সকলেরই বাবা সকলের কাছেই শ্রেষ্ঠ। সেই ছোট বেলা হতে আজ অবধি আমার কোন সাধ আমার বাবা অপুর্ন রাখেনি। আমার আবদার পুরনে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন সবসময়। ছোট বেলা হতে বাবা আমাদের সব সময় বলতেন,কাউকে কষ্ট দিও না,কারো উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করো না,মানুষকে সন্মান করো,অন্যের সম্পদের উপর লোভ করো না,বিবেক বোধের বাহিরে যেও না। তবেই তুমি প্রকৃত মানুষ হবে। মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে। মানুষের ভালোবাসা পাওয়াতে যে কতো সুখ বড় হলে বুঝতে পারবে। বাবার কথা মনে প্রানে ধারন লালন করে আমি আজও চলার চেষ্টা করছি। জানি না আমি মানুষকে ভালোবাসতে পেরেছি কিনা ?
ছোট বেলা হতে বাবাকে আমি আরও দেখেছি,অনেক দায়িত্বশীল পদে থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহার কখনো করেননি। অর্থের ব্যাপারেও তিনি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সাথে তার স্বীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারনেই হয়তো আল্লাহ্ তাকে দেশের শ্রেষ্ঠ সমবায়ি হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদক দিয়েছেন। গর্বে আমার বুক ভরে যায় এ কারনে যে,রংপুর অঞ্চলের ক-জনের বাবা রাষ্ট্রপতি পদকে ভুষিত হতে পেরেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি,রংপুর-২ এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি,যিনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ইতিহাসে টানা ১১বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ এক বিরাট পাওয়া। তিনি আমার বাবা। এখন পর্যন্ত সকল মানুষ তাকে সন্মান,শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার চোখে দেখে। পিতার এই অর্জন সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হতে অনুপ্রেরনা জোগাবে বলে আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি। 
বাবাকে অনেক সময় অনেক জ¦ালিয়েছি। কষ্ট দিয়েছি। অবাধ্য হয়েছি। তবুও তিনি আমাকে কিছু বলেননি। এখন নিজে বাবা হয়ে বুঝি,বাবা কি,আর সন্তান কি ? বাবা দিবসে বাবাকে জানাই আমার বিন¤্র শ্রদ্ধা। বাবা তুমি বেঁচে থাকো হাজার বছর।

কামরুজ্জামান মুক্তা
প্রভাষক,বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

সভাপতি,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব
রংপুর।

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...