রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

পানিশুন্য যমুনেশ^রি নদীতে কাঁটা,বিপাকে জেলে সম্প্রদায়


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ



শীত আসতে না আসতেই বদরগঞ্জ উপজেলার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদী এখন অনেকটাই পানিশুন্য। ইতোমধ্যেই কোথাও কোথাও নদীতে জেগেছে বড় বড় চর আবার কোথাওবা নদীর গভীরতা বেশি হওয়ার কারনে রয়েছে পানি। এরই মধ্যে বেশিরভাগ এলাকার স্থানিয় কৃষকরা জেগে উঠা নদীর চরে তৈরি করছেন বীজতলা। কেউবা করেছেন ভুট্টার চাষ আবার কেউবা করেছেন আলু। শুধু তাই নয় নদীর গভীরতা বুঝে এলাকার কিছু প্রভাবশালি ব্যক্তি আগেই বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে নদীতে দিয়েছেন কাঁটা(মাছের অভয়াশ্রম)। দুর হতে নদীতে মাছের জন্য অভয়াশ্রম মনে হলেও নদীর আর একটুখানি পানি কমলেই তারা জাল দিয়ে ঘিরে তাদের কাঁটাতে আটকে যাওয়া মাছগুলো তুলে নিবেন। এমতাবস্থায় জেলে সম্প্রদায় পড়েছেন চরম বিপাকে। কারন এমনিতেই নদীতে আগের মত মাছ নেই। তার উপর নদীতে বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে প্রভাবশালিদের তৈরি করা কাঁটা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
সরেজমিনে গত শনিবার(৮ডিসেম্বর)দুপুরে উপজেলার কালুপাড়া ইউপির চান্দামারি ব্রীজ সংলগ্ন যমুনেশ^রি নদীতে গিয়ে জাল দিয়ে ঘিরে কাঁটা হতে মাছ আহরনের দৃশ্যই চোখে পড়ে। 
কথা হয় জেলে রজনী কান্ত দাস(৫০) বসন্ত দাস(৩৫) ও সুশান্ত দাস(৪৫)এর সাথে। তাদের ৩ জনের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদাম পাড়া গ্রামে। এদের প্রত্যেকের আদি পেশা নদীতে মাছ ধরা। এক সময় তাদের প্রত্যেকের বাবা দাদারা এই যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় আগের মত আর নদীতে পানি এবং মাছ না থাকায় বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে তারা প্রত্যেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। মাঝে মধ্যে নিজের প্রয়োজনে কখনো বেকার থাকার কারনে কখনোবা বাপ দাদার আদি পেশার টানেই নদীতে ছুটে আসেন। আজ তারা তিন জনেই এসেছেন জাল নিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরতে।
নদীতে জাল ফেলার ফাঁকে কথা হয় জেলে রজনী কান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, সেই সকাল থাকি মাছ মারোচি, এখন দোপড় গড়োছে, মাছ পাইনো ১কেজির মতন। জাল ধরি হামার খালি ঘোরায় সার। মাছ আর পাইনো না।
তিনি জানান,আগে হামার বাপ দাদারা এই নদীত মাছ ধরি সংসার চালাইছে। হামরাও এক সময় বাপের সাথে মাছ ধরি বেড়াইছি। তখন অনেক মাছ আছিলো। এখন আর নদীত মাছ নাই। তার উপর নদীত মানুষ যেটে সেটে দিছে কাঁটা,ওটেকোনায় তো কমবেশি সউক মাছ আটকি গেইছে,হামার জালোত মাছ আসপে কোটে থাকি ? 
তিনি আরও জানান,নদীত মাছ নাই দেখি হামরা এখন বাধ্য হয়্যা কৃষি শ্রমিকের কাম করি। এই সময়টাতে তেমন কোন কাম নাই। বেকার হয়্যা আছি। ভাবনো,নদীত যাই,যদি মাছ পাই,তাইল্যে আজকের দিনটা অন্তঃত কোন রকমে চলবে। মাছ তো পাইনো না।
কথা হয় সুশান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান,এই যে হারা তিন জন। মাছ পাইনো কেজি খানেক। এতকোনা মাছ দিয়্যা কি হইবে ? মাছ মাইরব্যার আসস্যাটাই হামার ভুল হইছে।
অপর জেলে বসন্ত দাস বলেন,নদীই হামার জীবন। এমনিতেই নদীত মাছ নাই তার উপর কিছুদুর পর পর মানুষ নদীত দিছে কাঁটা। অতে জাল ধরি নদীত আলছি যদি মাছ পাই। আসোলে এই সময়টাত হামার কোন কাম নাই। বউ ছইল ধরি তো বাঁচপার নাগবে। এই জন্যে নদীত আইস্যা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান,নদ-নদীগুলোতে পানি না থাকায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি জানান,মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ এলাকায় দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এ কারনে জেলে সম্প্রদায়ের দুর্দিন যাচ্ছে। 
তিনি আরও জানান,কাঁটা দিয়ে মাছ আহরন করা অন্যায়। কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪










 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...