মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮

রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ ঃ



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এখন শুধু দিন গননার পালা। দেখতে দেখতে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন এল বলে। মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পছন্দের প্রার্থী তথা পছন্দের প্রতীকে ভোট দিবেন বলে। যদি ভুল বলে না থাকি,আমার মনে হয় বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের ভোটারদের বড় অংশই ইতোমধ্যে তাদের পছন্দের প্রার্থী তথা প্রতীকে ভোট প্রদান করার জন্য মনস্থির করেই ফেলেছেন। যদিওবা পছন্দের প্রতীকে পছন্দের প্রার্থী অনেক সময় হয় না। তবুও স্ব-স্ব দলের কর্মিরা অনেকটা বাধ্য হয়েই তার দলের প্রার্থীকে জয়ী করতে মনোনিবেশ করেন। এটা হল প্রত্যেক দলের অনুসারিদের দলের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু সমস্যা হল সাধারন ভোটারদের নিয়ে। এই অংশটাই একটি নির্বাচনী এলাকার জন্য বড় ফ্যাক্টর। প্রার্থীদের ঘাম বের হয়ে যায় তাদের মন জয় করার কাজটি করতে। অনেক সময় প্রার্থীরা(১জন)সফল হন আবার ব্যর্থ হন। আর যিনি সফল হন তিনি অভিভাবকের দায়িত্ব পান ওই নির্বাচনী এলাকার সকল জনগনের। তিনি হন আমাদের এমপি(সংসদ সদস্য)।
সাধারন ভোটারদের আবেগ অনুভুতি অনুকম্পা আর ভালবাসার বিষয়টি নিজের পক্ষে নেয়ার বিষয়টি প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আমি রংপুর-২ আসনের একজন অতি নগন্য সাধারন ভোটার। আমার এই লেখাটি ব্যক্তিগত মতামতের বর্হিপ্রকাশ মাত্র। কাউকে(প্রার্থী/কর্মি)আক্রমন করে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখাটির উদেশ্য নয়। দয়া করে আমার এই লেখাটি পড়ে ভুল করেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
রংপুর-২ আসনটি স্বাধিনতার পর হতেই আওয়ামিলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পরবর্তিতে একবার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি জয় পায়। ৯০এর পর এই আসনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। ৯৬ এ এরশাদের ছেড়ে দেয়া আসনে অর্থ্যাৎ উপনির্বাচনে আওয়ামিলীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। তার পর ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির দখলে থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিলে আওয়ামিলীগের প্রার্থী জয়লাভ করে। এ বিষয়টি আমাদের এ আসনের মানুষের সকলেরই জানা।
এবার মুল প্রসঙ্গে আসি,জাতীয় পার্টি ও আওয়ামিলীগের দুর্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এগিয়ে যাওয়া তথা সাধারন মানুষের মধ্যে সহানুভুতির কারন কি ? আমরা সবাই জানি,নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর হতেই এবারই প্রথম এই আসনে প্রার্থী জটিলতা নিয়ে নানা রকমের আলোচনা সমালোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে প্রত্যেক দলই তাদের নিজ নিজ প্রার্থীর জন্য আসনটি উন্মুক্ত করে দেয়। তফসিল ঘোষনার তারিখ হতে প্রতীক বরাদ্দের সময় পর্যন্ত এই আসনটিতে ঝড়ো হাওয়ার মত ঘটে যায় এক আচমকা ঘটনা। যা বিএনপির জন্য আর্শিবাদ হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে হতবাক করে দেয়ার মত ঘটনার জন্ম দেয়। 
সংবাদকর্মি হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন ভোটারের সাথে কথা বলে যা জানতে পারি তা হল এবার তারা ভোট প্রদানের জন্য মনস্থির করেই ফেলেছেন বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীককে। যদিওবা নির্বাচনে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনের পরিবর্তনও ঘটে। 
এখন প্রশ্ন হল,কেন এমন হল। এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না। তফসিল ঘোষনার কয়েকদিন পরেও স্থানীয় বিএনপি নের্তৃবৃন্দ বুঝতেই পারেনি তাদের প্রতি মানুষের এই সহানুভুতির কথা। কেন এমনটি হল ? আমার দৃষ্টিতে এমনটি হবার প্রধান কারন হল,আমরা মানুষ। মানুষ মাত্রই অভ্যাসের দাস। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এ এলাকার মানুষ(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে আমরা অভ্যস্থ হয়ে পড়েছিলাম। পরে মহাজোটের বিষয়টিও আমরা অনেকটা মন হতে মেনে নিয়েছিলাম। যার কারনে এখানে মহাজোটের প্রার্থীরাও জয়ী হতে পেরেছিলেন। মুলতঃ এই আসনের মুল কর্তৃত্বটাই ছিল জাতীয় পার্টির। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচন হতে এ এলাকার মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে জাতীয় পার্টি প্রধানের(এরশাদ)ঘন ঘন সিন্ধান্ত বদল,তার স্ত্রী রওশন এরশাদের পার্টিতে কর্তৃত্বের কারনে জাতীয় পার্টির অনিচ্ছাকৃত অনেক সিন্ধান্ত বদলের বাস্তব চিত্র।  এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থীকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টাও মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। মুলতঃ এই কারনেই স্থানীয় জাতীয় পার্টিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর নেতিবাচক(বিরক্তির)প্রভাব পড়ে সাধারন ভোটারদের(মানুষের)মধ্যে। যদিওবা জাতীয় পার্টি পরবর্তিতে স্থানীয় নেতাকেই মনোনয়ন দেন। কিন্তু ততদিনে সব শেষ হয়ে যায়। আমি যদি ভুল বলে না থাকি বিরক্তি কিংবা সহানুভুতির কারনেই হোক তখনই সাধারন ভোটাররা(মানুষ) সিন্ধান্ত নেন ধানের শীষে ভোট দেবার জন্য।
আমিও একজন ভোটার। আমি জোরগলায় বলতে পারি স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মি কিংবা যিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তিনিও জানতেন না সাধারন মানুষের মনে এবার ধানের শীষ(বিএনপি)গেঁথে গেছে। সেই সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ধানের শীষের গনজোয়ারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই আসনে এবার যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে স্থানীয় বিএনপির যে কোন নেতা ধানের শীষের মনোনয়ন নিতেন এবং ভোটযুদ্ধে অবতীর্ন হতেন তিনিও এই লেখাটি প্রকাশ করার সময় পর্যন্ত(জনমতে)এগিয়ে থাকতেন। সব মিলিয়ে এই আসনে আচমকা তথা সবাইকে হতবাক করে এগিয়ে গেল ধানের শীষ।
আমি দৃঢভাবে এও বিশ^াস করি,সরকার দেশে দৃশ্যমান অনেক উন্নতি করেছেন। যা অনেক সরকারের আমলেই হয়নি। কিন্তু আমরা মানুষ তথা বাঙ্গালী। দীর্ঘ সময় ধরে এক সরকারের উপস্থিতি আমরা হয়তঃ ভালভাবে নেই না নতুবা পছন্দ করি না। এই বিষয়টি আমাদের মজ্জাগত সমস্যা। আমি এও মনে করি,একটি সরকার দীর্ঘ সময় হাতে পেলে দেশের উন্নতির জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে সুবিধা হয় তথা কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আর তখন কাজের সুফল পান সাধারন মানুষ।
রংপুর-২ আসনে স্থানীয় আওয়ামিলীগের রয়েছে আভ্যন্তরীন দ্বন্দ ও চাপা ক্ষোভ। ইতোমধ্যে যদিওবা আওয়ামিলীগ নেতাকর্মিরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিলেমিশে কাজ করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার এখানে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। সেই সাথে রয়েছে জাসদের ও বিকল্পধারার প্রার্থী। সাধারন ভোটাররা আগে হতেই ধারনা করেছিলেন আগের সংসদ নির্বাচনের মত এই আসনে একজনই মহাজোটের প্রার্থী হবেন। কিন্তু তা হয়নি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত মহাজোট।
আমার মত অতি নগন্য একজন সাধারন ভোটার মনে করে যে,এই নির্বাচনে এই মহাজোট সরকারকে জিতলে হলে এই আসনে একজনকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে রাখতে হবে তাহলেই তারা এই আসনটি দখলে নিতে পারবে। তা না হলে এই আসনটি তাদের হারাতে হবে। আমার মত সাধারন ভোটাররাও চায় ভোটযুদ্ধটি হোক সমানে সমান। আমরা সাধারন ভোটার শান্তিপুর্নভাবে ভোট দিতে চাই।
রংপুর-২ আসনের সকল প্রার্থীর প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও দোয়া।
দয়া করে এই লেখাটিতে যদি কারো মনে কোন আঘাত দিয়ে থাকি এটি আমার ইচ্ছাকৃত ক্রুটি নয় অনিচ্ছাকৃত ভুল। আশা করছি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে বিষয়টি সকলেই দেখবেন।  
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...