কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
শিশু-কিশোরদের এক সময়ের জনপ্রিয় খেলার মধ্যে অন্যতম ছিল লাটিম খেলা । অথচ সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য গ্রামিন খেলাধুলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলাটি যেন আজ সময়ের পথপরিক্রমায় হারিয়ে গেছে।
বিগত দিনের গ্রামিন শিশু-কিশোরেরা যে বয়সে খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকত ডিজিটাল এই যুগে এখন সে বয়সে তারা যান্ত্রিক খেলাধুলায় মেতে থাকে। আগের দিনের পাড়া মহল্লার শিশু-কিশোরেরা দলবেঁধে গ্রাম্য খেলায় বিশেষ করে লাটিম খেলায় মেতে হারিয়ে যেত তাদের আপন ভুবনে। অথচ বর্তমানে ওই বয়সের শিশু কিশোরেরা এখন গ্রাম্য খেলাধুলা(লাটিম)বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমস,ভিডিও গেমস খেলাধুলাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম(ফেসবুক) নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করলেও কালের বিবর্তনে যুগের গতানুগতিক হাওয়ায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা আজ হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার(১৬নভেম্বর) উপজেলা ঘুরে মধুপুর ইউপির সন্তোষপুর চারআনিপাড়া নামক গ্রামে গিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্য চোখে পড়লে দ্রুত মটরবাইক থামিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্যের স্থির চিত্র ধারন করি।
এ সময় কথা হয় কিশোর জিম বাবুর সাথে,সে এই প্রতিবেদককে জানায়,আমি ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। লেখাপড়া ও অন্যান্য খেলাধুলার ভীড়ে লাটিম খেলা এখন আর হয়েই উঠেনা। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিন্ধান্ত নিয়েছি আজ লাটিম খেলবো।
একই কথা বলেন অপর কিশোর জয় বাবু,সে জানায়,ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা ছাড়া লাটিম খেলার জন্য সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক দিন পর আজ লাটিম খেলছি। ভীষন ভালো লাগছে।
দেশিয় সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহি খেলাধুলা(লাটিম)বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন