শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬

কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দেশি ফল গাব 


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর) ঃ
অবহেলা অনাদর আর আপনাআপনি বেড়ে উঠা গাছের মধ্যে গাব গাছ একটি। অথচ প্রকৃতির খুব কাছাকাছি আপনা আপনি বেড়ে উঠা দেশি গাব ফল আর আমাদের চোখেই পড়েনা। গাছটির বৈজ্ঞানিক নামঃ ডাইওসপিরোস পিরেগরিনা (উরড়ংঢ়ুৎড়ং  ঢ়বৎবমৎরহধ)  গোত্রঃ ইবিনাসি(ঊনবহধপবধব) ।
এক সময় রংপুরের বদরগঞ্জ সহ সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তার ধারে কিংবা ঝোপঝাড়ে বেড়ে উঠা গাব গাছের অভাব ছিলনা। দেশিয় জাতের এই গাছটির সুস্বাদু ফলগুলি পাকলেই গ্রামের আবাল বৃদ্ধ বনিতা ছুটে যেত গাব গাছের নিচে সুমিষ্ট পাকা গাব ফল খাবার জন্য। এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা,কারন প্রকৃতি থেকে হয়তঃ গাব গাছ উধাও হয়ে গেছে। এভাবেই দেশিয় জাতের ফলের গাছ গুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ফল উৎসবে কমলা,আপেল, মালটা,আংগুর,নাসপাতি,বেদনা, সহ নানান ধরনের চেনা অচেনা ফল প্রদর্শন করা হয় অথচ সেই সব ফল উৎসবে দেশি ফলে দেখা মেলে না।
দেশি জাতের ফলের উৎপাদন বিপনন ও সংরক্ষনের বাস্তব সম্মত কোন পরিকল্পনা না থাকায় দেশি ফল আজ হুমকির সম্মখিন বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।তিনি আরও বলেন;সঠিক বাস্তব সম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশি ফল উৎপাদনে স্থানিয় কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে শুধু দেশের চাহিদা পুরন তো বটেই রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হত।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবার রহমান জানান; গাব গাছটি আর আমাদের চোখেই পড়ে না। এ গাছটির সংরক্ষন জরুরি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

সম্ভাবনা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতায় এগিয়ে চলছে রংপুরের হস্তজাত শিল্প


 সম্ভাবনা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতায় এগিয়ে চলছে রংপুরের হস্তজাত শিল্প
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
হস্তজাত পণ্য রুচিশীল মানুষের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন। বর্তমান সময়ে হস্তজাত পণ্যের কদর বেশ লক্ষনীয়। আর সে পণ্যগুলি যদি হয় মনের মাধুরি মেশানো শৈল্পিক সৌন্দর্যমন্ডিত আধুনিকতায় ভরা তাহলে তো কথাই নেই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচিবোধের আমুল পরিবর্তন এসেছে। ব্যবহার্য প্রতিটি পন্যেও এখন ভোক্তারা চায় নান্দনিকতার ছোঁয়া। দৃষ্টিনন্দন নান্দনিকতার ছোঁয়া নিয়ে রংপুর বিভাগে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তার মধ্যে রংপুর সদরের নিশবেতগঞ্জ (ঘাঘট ব্রিজ সংলগ্ন) শতরঞ্জি পল্লী অন্যতম।
কবে হতে এ শতরঞ্জি পল্লীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে তা জানা না গেলেও ৫০বছর আগেও এ অঞ্চলে শতরঞ্জি তৈরি হত। আধুনিক নান্দনিকতার ছোঁয়ায় ও সুতার কারুকার্য করা শতরঞ্জি ,পাপস,ওয়ালমেট,ফ্লোরমেট,টেবিলমেট,ব্যাগ তৈরি হয়। এখানে পাট দিয়ে তৈরি হয় স্যান্ডেল,ঝুড়ি,সিকিয়া,বাসকেট,ঝুড়িব্যাগ। এ পল্লীতে হস্তশিল্পজাত পণ্যের চারটি শো-রুম রয়েছে। এ শো-রুম হতেই শতরঞ্জি পল্লীর উৎপাদিত পন্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়।এই শতরঞ্জি পল্লীতে অধিকাংশ নারী শ্রমিক দিয়েই তৈরি হয় দৃষ্টি নন্দন হস্তজাত পণ্য। সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নারী শ্রমিকরা বাড়তি আয়ের জন্য এখানে খন্ডকালিন কাজ করেন। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক অতিরিক্ত কাজের মজুরি হিসেবে ২শত হতে ৩শত টাকা আয় করেন। সদরের নিশবেতগঞ্জ,ডারকাপাড়া,শেখপাড়া,শতরঞ্জিপাড়া,দামোদরপুর,রাধাকৃষ্ণপুর,বিন্নাটাড়ি,
গিলাবাড়ি গ্রামের প্রায় ৪হাজার নারী পুরুষ এই হস্তশিল্পের কাজের সাথে জড়িত।
এই কারুকার্যময় হস্তজাতশিল্প  পন্যের রাজধানি ঢাকা সিলেট চট্রগ্রাম রাজশাহি বগুড়াতে আকাশচুম্বি চাহিদা রয়েছে । দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ হস্তজাতশিল্প আমেরিকা জাপান ও ফ্রান্সে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ব্যাংক লোন না পাওয়া, প্রচারের অভাবে
সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে কথা হয়; এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক হাসিনা বেগম(৪০) এর সাথে, তিনি এখানে খন্ডকালিন কাজ করেন, তার স্বামি রিক্সা চালায়। তার নিজের আয় এবং স্বামির আয় দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। অপর নারী শ্রমিক সুলতানা বেগম(২৫)জানান; এ হস্তজাত শিল্পের সাথে বেশিরভাগ নারী শ্রমিক জড়িত।
কথা হয় চারুশি দোকানের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে, তিনি জানান; সম্ভাবনা এই শিল্পটি শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারনে সামনের দিকে এগুতে পারছে না।
চারুশি দোকানের মালিক মাসুদুল হক মানিক জানান; নিজের মূলধন দিয়ে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব । আমাদের পন্য অনেক বেশি মানসম্পন্ন। দেশের বাহিরে এর অনেক চাহিদা রয়েছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

মোবাইল চার্জই যার জীবিকা

মোবাইল চার্জই যার জীবিকা
জীবন যেখানে যেমন!

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
জীবন চলে তার নিজস্ব গতিতে আপন ভঙ্গিমায়। সে যেন চলে ঘড়ির কাঁটার মত টিকটিক করে। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকে। সংসারের বড় সন্তান সঞ্জয় কুন্ডু (৩৫)। বাড়ি পৌরশহরের ডাঙ্গাপাড়া নামক মহল্লায়। বাবা সেই ছোট বেলায় গত হয়েছে। সঞ্জয়রা ২ভাই ১বোন।  উপার্জনক্ষম লোক বলতে কেউ নেই। কোন রকমে মামাদের সংসারে থেকে কষ্ট করে এসএসসি পাশের পর এক সময় বদরগঞ্জ উপজেলার নামকরা মিষ্টির দোকানে ম্যানেজারের দায়িত্ব নেয়। কিছুদিন পর সে সেখান হতে বের হয়ে পৌরশহরের ডিগ্রি কলেজ রেলগেট এলাকায় ৩০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে গালামালের দোকান নেয়। কিন্তু বিধি বাম ! বাকি পড়ে তার সে ব্যবসাও লাটে উঠার উপক্রম। সংসার কিভাবে চলবে এ চিন্তায় তার ঘুম আসে না ? তার দোকানে অসংখ্য গ্রামের লোকজন বাজারের ব্যাগ রেখে যেত। মাঝে মাঝে কিছু লোকজন মোবাইল চার্জ দেয়ার জন্য অনুরোধ করতো।
এভাবেই তার মাথায় বুদ্ধি এল এখন হতে সে তার দোকানে মোবাইলেই চার্জ দিবে। এভাবে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হল না। প্রতিদিন গড়ে আড়াই শত হতে তিন শত মোবাইল চার্জ দেয় এবং চার্জ প্রতি মোবাইল ৫টাকা করে নেয়। বর্তমানে তার ওই দোকান হতে প্রতি মাসে রোজগার হয় ৩৫-৪০হাজার টাকা। এখন পৌরশহরের মোবাইল চার্জের দোকান বলতে সবাই মিশুক বিনয়ি মানুষ সঞ্জয় বাবুর দোকানকেই বুঝে। সে ওই দোকান দিয়ে ঘরবাড়ি পাকাকরন সহ সংসার সন্তানের লেখাপড়া সবই করেছে।
মোবাইল চার্জকারি সঞ্জয় কুন্ডু জানান; গালামালের দোকান দিয়ে আমি যখন লোকসানের পথে ওই সময় যদি এই মোবাইল চার্জের ব্যবসা শুরু না করি তাহলে আমাকে আজ পথে বসতে হত। আমি ভগবানের কৃপায় ভালই আছি ।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০নভেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য বাংলার পক্ষীকূল


প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য বাংলার পক্ষীকূল


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃপ্রকৃতির অমোঘ নিয়মে আপনাআপনি বেড়ে ওঠে বাংলার পক্ষীকূল। ধরিত্রির সবুজ শ্যামল ভুখন্ডের মাঝে পাখিদের বিচরন ও তাদের মধুর কলকানি প্রকৃতি যেন সাজে তার আপন মহিমায়। এ এক অপরুপ দৃশ্য! প্রকৃতিপ্রেমি যে কারোরই এতে মুগ্ধ করে। গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য পক্ষীকুলের  মধ্যে দেশিয় প্রজাতির ঘুঘু পানকৌড়ি ও বক অন্যতম। ছুটির দিনে বেড়ানোর এক ফাঁকে সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখার প্রাক্কালে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। দেশিয় প্রজাতির পাখি সম্পর্কে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের এমারুল হকের(৫৯) সাথে,তিনি জানান; ছোট বেলায় আমাদের গ্রামের পথে প্রান্তরে ফলজ-বনজ গাছে অসংখ্য পক্ষীকূলের উপস্থিতি দেখা যেত। মাঝখানে এসব দেশিয় প্রজাতির পাখিদের চোখেই পড়তো না। বন্যপ্রাণি সংরক্ষন আইন মাঠপর্যায়ে কার্যকর হওয়াতে পাখি শিকারি মূলতঃ পাখি নিধন না হওয়াতে আজ অনেক দিন পর জমিতে গাছে ঘুঘু পানকৌড়ি ও বক দেখে খুব ভাল লাগলো।
একই ইউপির কিসমত ঘাটাবিল এলাকার কলেজ শিক্ষক গোপিনাথ মন্ডলের সাথে কথা হলে তিনি জানান; আমাদের বাড়ির ওঠানে ২ শত বছরের একটা পুরোনো বট আছে,এক সময় এই বট গাছে দেশি প্রজাতির অসংখ্য পাখিদের আবাস্থল ছিল। মাঝখানে কেন জানি না পাখিগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। অত্যন্ত আশার কথা
ইতোমধ্যে সেই দেশিয় প্রজাতির পাখিগুলোর পথচারনা বেড়ে গেছে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; দেশিয় প্রজাতির ফলজ ও বনজ বৃক্ষ বেশি বেশি করে রোপন করতে হবে। তাহলে এদের ফল খেয়ে জীবনধারন সহ পাখিদের আবাসস্থল তৈরি হবে। এ ব্যাপারে আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে এ জন্যই যে,বিদেশি জাতের গাছে আমাদের দেশিয় কোন ধরনের পাখি বাসা বাঁধে না। আমরা যদি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারি দেশিয় পাখিগুলিকে রক্ষা করতে চাই তাহলে বিদেশি জাতের বৃক্ষ রোপন না করে দেশিয় জাতের গাছ রোপন করতে হবে।
বদরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরেনারি সার্জন ডাঃ শাখাওয়াৎ হোসেন জানান; প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারি দেশিয় প্রজাতির পাখিগুলিকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই তাহলে অবশ্যই বিদেশি জাতের বৃক্ষ রোপন না করে দেশিয় জাতের গাছ রোপন করতে হবে। তাহলে এদের বংশবৃদ্ধি হবে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০ নভেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪












অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের পাল সম্প্রদায়

বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে জমি চাষ করেও অস্তিত্ব সংকটে
রংপুরের পাল সম্প্রদায়


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃধরনি কান্ত পাল(৮০) রংপুর সদরের পালপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি। ছোট বেলা হতে তার সম্প্রদায়কে দেখেছেন রাত দিন বাহারি রকমের মাটির তৈজষপত্র বানাতে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করতে। চাহিদার কারনে বাবা-ঠাকুরদাদের দম ফেলানোর সময় ছিল না। তখন আর্থিক অনটন কি বুঝতেই পারিনি। এসব যেন সবই স্মৃতি।
গতকাল সোমবার (২৮নভেম্বর) সকালে পালপাড়া ঢুকে তার সাথে দেখা হলে তিনি এসব কথা জানান। তিনি দূঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন ; যাদের বর্তমান নেই তাদের আবার ভবিষ্যত। যেটুকু জমি ছিল দাদনের(সুদের) টাকা শোধ করতেই শেষ। এজন্য আমাদের ছেলেরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকুরি করছে। মাসে কিছু টাকা পাঠায় যা দিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছি।  এই গ্রামের ২৫০ পরিবার তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রাখতে না পেরে জীবন জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছেন । বর্তমানে প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ গামের্ন্টস, রিক্সা কিংবা নিজের নয়তো বর্গা নেয়া জমিতে চাষাবাদ করে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছে। ফলশ্র“তিতে গ্রাম বাংলার আবহমান এতিহ্য মৃৎশিল্প আজ বিলীন হওয়ার পথে। এখনও যে কয়েকটি পাল পরিবার তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা ধরে রেখেছেন তারাও পেশা বদলের কথা ভাবছেন।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে যোগেন চন্দ্র পাল (৫০) চন্ডি চরন পাল (৫৫) জানান ; পূর্ব পুরুষের পেশা ছাড়তে কার ভালো লাগে। বেলে-এঁটেল মাটি স্বল্পতা, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, মাটির তৈরী আসবাবপত্রের চাহিদা কমে যাওয়া,সরকারি-বেসরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা না পাওয়া এবং দাদনের জালে জড়িয়ে পুঁজি হারিয়ে ৫-৬ বছর আগে এ পেশা ছেড়ে দিয়ে কৃষি কাজ করছি। বাবা-ঠাকুরদারা যে টুকু জমি রেখে গেছে এর সাথে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান আবাদ করি। ধানের দাম কম হওয়াতে এখানেও সুবিধা করতে পারছি না। শুধু কি ধান আবাদ করে পেট চলে ?  রবি শষ্যের চাষাবাদ করতে ভয় হয় কারন পালপাড়ার মধ্য দিয়ে তিস্তার ক্যানেল বের হয়ে গেছে। পূর্বে আমাদের এই জমিতে তিন ফসলি আবাদ হত কিন্তু এই ক্যানেল এসে ধান ছাড়া অন্য কোন ফসলের কথা চিন্তাও করা যায় না । কখন পানি ছেড়ে দেয় তখন সব শষ্যই পানিতে তলিয়ে যাবে। এই ভয়ে আমরা রবি শষ্যের চাষাবাদ করি না।
মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন প্রামানিকের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান ; পালদের জন্য মন্দির, শ্মশানের জায়গা এবং তাদের তৈরি পন্য যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে পারে এজন্য রাস্তা প্রশস্ত করে দিয়েছিলাম। বর্তমানে এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমার ছেলের বউ সেও পালদের জন্য আমার অসমাপ্ত কাজগুলি করছে। 
মৃৎশিল্পের বিকাশ ও মান উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি ও দাতা সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন মমিনপুরের সূধীজনরা।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯নভেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  




সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৬

Badarganj Fish News



বদরগঞ্জে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


“মাছে ভাতে বাঙ্গালী”একটি বিখ্যাত প্রবাদ। বর্তমানে এটি শুধুই স্মৃতি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মত রংপুর বদরগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে নানা প্রজাতির দেশিয় মাছ আজ বিলুপ্তির পথে।

এ অঞ্চলের খাল বিল নদী-নালা মুক্ত জলাশয় গুলো মাছ শুন্য হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এ অঞ্চল হতে প্রায় বিলুপ্তির পথে শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা সহ নানা প্রজাতির মাছ। গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার গুলোতেও আর এসব প্রজাতির মাছ   সহজে চোখে পড়েনা। দেশি প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধির হার আশংকাজনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামি দশ বছরের মধ্যে নদ-নদী খাল বিল সহ মুক্ত জলাশয় গুলো মাছ শুন্য হয়ে পড়বে ।

গতকাল সোমবার(২৮নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে যমুনেশ্বরি নদী পরিদর্শনকালে মাছ ধরতে আসা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার আলির(৫৬) সাথে কথা হলে তিনি জানান ; সেই ভোর বেলা থাকি মাছ মারচো, এখন দোপর গড়ছে, মাছ পানু আধসেরের মতন । এখন নদীতো মাছ নাই বাহে !

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে; প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং ছোট মাছ সংরক্ষনে আইন না থাকায় নদ-নদী খালবিলের ছোট প্রজাতির মাছ আজ ঝুঁকির মধ্যে।

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন ; নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, নদী সংশ্লিষ্ট খালবিলের গভীরতা কমে যাওয়া, নদী ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দুষন, রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন ।



বদরগঞ্জ রংপুর

তারিখ-২৮নভেম্বর/১৬

মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

অদম্য ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে এগিয়ে চলছে বদরগঞ্জের প্রতিবন্ধি স্বাধীন

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃবুক ভরা আশা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে যে শিশুটি এগিয়ে চলছে সামনের দিকে তার নাম স্বাধীন (৯)। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর পাঠান পাড়া গ্রামে। দিনমজুর পিতা আলতাফ হোসেন তার শারিরীক প্রতিবন্ধি শিশু সন্তান স্বাধীনকে নিয়ে এক সময় চিন্তার অন্ত ছিল না। কারন আর দশটা শিশুর  মত সে কোন স্বাভাবিক শিশু নয়। এ কারনেই পিতা হিসেবে তার বাড়তি টেনশন। পিতা-মাতার সকল টেনশন উপেক্ষা করে আর দশটি শিশুর ন্যায় প্রতিবন্ধি স্বাধীন লেখাপড়া করে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে।
স্বাধীনের অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনে  দিনমজুর পিতা এক সময় বাধ্য হন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। শিশুটি তার কচি কোমল দু-হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তাতে কলম নিয়ে পিএসসির সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরীক্ষাও সে ভাল দেয়। শিশু স্বাধীন উপজেলার শংকরপুর পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।
দিনমজুর স্বাধীনের পিতা আলতাফ হোসেন জানান; আমার ধারনাও ছিল না আমার স্বাধীন লেখাপড়া করতে পারবে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিই আমাকে বাধ্য করেছে তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। আমি গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই । আমার এই প্রতিবন্ধি শিশুটিকে যে আমি কতদূর লেখাপড়া করাতে পারবো জানি না।
শিশু স্বাধীন জানান; আমি শারিরীক প্রতিবন্ধি হলেও সকল প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে লেখাপড়া শিখে আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মত দেশের জন্য কাজ করতে চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন।
প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক জানান; স্বাধীন অত্যন্ত বিনয়ি ও মেধাবি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭ নভেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...