সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮

একটা কম্বল দেও বাহে !




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর তীরবর্তী ছনের তৈরি জীর্ন কুঠিরে বাস করেন বৃদ্ধা আয়েতন নেছা (৯০)।
আয়েতন নেছার বাড়ি বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া নামক মহল্লায়। স্বামি নেই। বৃদ্ধার ৩ মেয়ে ১ ছেলে। ২ মেয়ে মারা গেছে। বর্তমানে জোবেদা নামের যে মেয়েটি বেঁচে আছে সে মেয়েটিও বিধবা। ১ মাত্র ছেলে মানিক মিয়া রাজ মিস্ত্রির কাজ করে। সে তার সংসার নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করে।
বিধবা জোবেদা বেগম মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে মা আয়েতন নেছাকে নিয়ে অন্যের জমিতে ঝুঁপড়ি ঘরে বাস করে।
সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে বেড়ানোর এক ফাঁকে চলে যাই যমুনেশ^রি নদীর তীরে। শীতের দিনে প্রচন্ড ঠান্ডায় আর বেশিক্ষন থাকতে না পেরে চলে আসার এক পর্যায়ে দেখা হয় বৃদ্ধা আয়েতন নেছার।
বয়সের ভারে কোমর বেকে যাওয়া লাঠি দিয়ে ভর করে চলা বৃদ্ধা আয়েতন নেছা সংবাদকর্মি পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, মোক একটা কম্বল দেন বাহে,এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন পেপারোত লেখি দেন বাবা,তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে।
তিনি জানান, নদীর সাথে নাগা হামার বাড়ি,হু-হু করি আইসোছে ঠান্ডা বাতাস তার উপর ঠান্ডার দিন। মুই কেমন করি বাঁচো বাবা।
এ দিকে,শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি।
সরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়েছে ৭ হাজার ৫শত কম্বল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে,এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য। 
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,প্রয়োজনের তুলনায় কম্বল কম পাওয়ায় সকল ছিন্নমুল মানুষকে কম্বল বিতরন করা সম্ভব হয়নি। চাহিদা পাঠানো হয়েছে,কম্বল পেলেই বিতরন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...