কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সন্ধ্যা ৭ টা। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো চারদিক। দুর হতে কাউকে দেখা বা চেনার উপায় নেই। জনশুন্যতা ও নীরবতা চারিদিকে বিরাজ করলেও বোমা ও ভেকু মেশিনের শব্দে প্রকম্পিত গোটা এলাকা। এলাকার মানুষজন সবাই জানে বোমা ও ভেকু মেশিনের সাহায্যে কতিপয় বালু খেকো দীর্ঘদিন ধরে নদীর বালু উত্তোলন করে আসছে। একারনেই প্রকম্পিত করা এই শব্দ তাদের সকলের কর্নকুহরে পৌঁছলেও তেমন কোন আগ্রহ নেই। আর আগ্রহ থেকেই বা কি লাভ ? যেখানে রয়েছে প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদ ও সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা। সেখানে সাধারন মানুষদের কি করার আছে ?
এ দিকে,যমুনেশ^রি নদীতে চর জেগে ওঠায় ওই এলাকার সাধারন মানুষদের মনে আশা জেগেছিলো তারা তাদের নদীতে বিলীন হওয়া কৃষি জমিতে নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করবেন। কিন্তু সরকারি দলের ও এলাকার প্রভাবশালি ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় তাদের জমি হতে এবং নদী হতে বালু উত্তোলনের কারনে শত শত জমি নিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন এলাকাবাসি
।
সরেজমিনে গত শুক্রবার(২৬জানুয়ারি) রাতে গিয়ে দেখা যায় চারিদিকে বালুর স্তুপ। থরে থরে সাজানো হয়েছে। ট্রাক ট্রাক্টর আর ট্রলি দিয়ে চলছে বালু বহনের কাজ। স্পট হতে একটু দুরে রাস্তার পাশে এক চায়ের গিয়ে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজন সরকারি দলের রাজনৈতিক পরিচয় ধারি কিছু নেতা এই কাজটি অবাধে চালিয়ে আসছে।
আরও জানা যায়,সারারাত ধরে চলে বোমা ও ভেকু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ ও বালু বিক্রির কাজ।
তারা আরও জানান,ভোরের আলো আসতে না আসতেই সবকিছুই পরিস্কার যেন এখানে কোন বালু উত্তোলনই হয়নি।
এ হল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ও কুতুবপুর ইউপির বালু খেকোদের যমুনেশ^রী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটি হওয়ায় বালু খেকোদের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এই অঞ্চলটিতে চলছে একাধিক পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ।
বালু উত্তোলনকারি একজন নাম না জানানোর শর্তে জানান,আমরা প্রশাসন সহ সবাইকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করছি। তিনি আরও জানান, বালু উত্তোলন অবৈধ কিনা তা আমার জানা নেই।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,গত কয়েকদিন আগে ওখানকার একটি পয়েন্টে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারা যে আবারও বালু তুলছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি সিরিয়াসলি দেখছি।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিবার প্রশাসনকে বলেছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে অবৈধ বালুর পয়েন্ট হতে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও জানান, যারা বালু উত্তোলন করছে তারা সরকারি দলের কেউ নয়।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন