বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮

আমার দেখা বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সৎ বিনয়ী পরিশ্রমি রুচিশীল মিশুক প্রকৃতির এক উপজেলা প্রশাসকের নাম রাশেদুল হক। যার ছোঁয়ায় জাদুর কাঠির মত উপজেলা প্রশাসনে এসেছে আমুল পরিবর্তন। প্রশাসনে ফিরে এসেছে কাজের গতি। সাধারন মানুষকে আর কাজের জন্য অহেতুক সরকারি কোন দপ্তরে ঘুরতে হয় না। তার নিজস্ব কাজ ছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন সহ নানামুখি সামাজিক কর্মকান্ডে তার অবাধ বিচরন। কিছুদিন আগে যোগদান করা এই নির্বাহি অফিসার ইতোমধ্যে গোটা উপজেলায় অত্যন্ত সুনামের সাথে তার দায়িত্ব পালন করছেন।
আমি তখন খুবই ছোট। বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম উপজেলা নির্বাহি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মুরারি মোহন দত্ত নামে একজন দক্ষ প্রশাসক। ওই সময়ে আমি প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় উপজেলায় ২য় স্থান অধিকার করে তার হাত হতে প্রাইজবন্ড সহ সার্টিফিকেট গ্রহন করি। এভাবে তাকে দেখারও আমার সুযোগ হয় কিন্তু বয়সে ছোট হবার কারনে তাকে আমি তেমনভাবে চিনতে পারি নাই। আর পারারও কথা নয়। একে একে অনেক উপজেলা নির্বাহি অফিসার বদরগঞ্জে যোগদান করেন আবার চলেও যান। রেখে যান কিছু কাজ কিছু স্মৃতি। পরবর্তীতে তাদের কাজের মুল্যায়ন করেন উপজেলার মানুষ।
ধীরে ধীরে যখন বড় হই এবং বুঝতে শিখি তখন দেখা পাই একজন উপজেলা প্রশাসককে। নাম বলতে চাচ্ছি না। তখন আমি এসএসসি পরিক্ষার্থী। বলতে লজ্জা নেই ওই সময়টাতে বদরগঞ্জে পরীক্ষায় বেশ নকলের প্রচলন ছিল। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয় ওই সময়টাতে পুরোপুরিভাবে নকলকে প্রতিহত করলেন। ওই বার রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ছিল ১৪শতাংশ। আর আমি যে স্কুলে লেখাপড়া করেছি বদরগঞ্জ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে সেই বছর পাশের হার ১০ শতাংশে নেমে আসে। তখনও আমি এসএসসিতে ২ বিষয়ে লেটার সহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ন হই।
আমি একজন শিক্ষার্থী ও মানুষ হিসেবে ওই উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয়কে মনে মনে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। নকল প্রতিরোধে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কারনে। ওই প্রশাসককে আবার পরে দেখলাম তার নিজের ভাই যখন ওই স্কুল হতে(বদরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়,ব্যাচ-১৯৯১)এসএসসি পরীক্ষা দিল তখন আবার পুর্বের অবস্থায় ফিরে গেল পরীক্ষার দৃশ্যপট অর্থ্যাৎ নকলের ছড়াছড়ি। লজ্জায় আমার মাথা হেট হয়ে গেল তখন,যখন দেখলাম ওই  দায়িত্বশীল প্রশাসক নিজেই নিজের ভাইয়ের জন্য নকল সরবরাহ সহ শিক্ষকদের দিয়ে ভাইকে সহযোগিতা করতে বাধ্য করার দৃশ্য দেখে।
এভাবে অনেক প্রশাসক আমাদের এই উপজেলায় এসেছেন আবার বিদায়ও নিয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে,বদরগঞ্জে সৎ দক্ষ নির্বাহি অফিসার আসেনি। আমাদের উপজেলায় অনেক সৎ দক্ষ উপজেলা নির্বাহি অফিসার এসেছেন এবং বিদায় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুভকামনাও করেন এ উপজেলার মানুষ।
এখন মুল প্রসঙ্গে আসি; আমি একজন কলেজ শিক্ষক ও সংবাদিক কর্মি সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে যদি উপজেলা নির্বাহি অফিসারদের  মুল্যায়ন করি তাহলে আমার দৃষ্টিতে বর্তমান উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক সব চাইতে সেরা। 
সংবাদকর্মি হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের সাথে আমাদের যোগাযোগ করতেই হয়। এ কারনে প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ হতে দেখার সুযোগও হয়।
বর্তমান নির্বাহি অফিসারকে কাছ হতে যতটুকু দেখেছি,আমার জানা মতে তিনি কোন কাজ আটকে রাখেন না। প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিনই করেন যত রাতই হোক। ভুমি অফিসে এসিল্যান্ড না থাকার কারনে বাড়তি কাজ তিনিই করেন এবং ভুমি সংক্রান্ত কাজে মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হন ভেবে তার টেবিলে ফাইল আসা মাত্রই তিনি তার অতিরিক্ত অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন।
এ প্রসঙ্গে একটি কথা না বললেই নয়,আমার বদরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সহ কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে গিয়েছিলেন, তিনি তার চেয়ার হতে উঠে এসে শিক্ষকদের অর্ভ্যথনা জানিয়ে তার কক্ষে নিয়ে যান। শিক্ষকদের প্রতি এই সন্মান ক-জন দেখাতে পারেন। এটা একজন ভালো মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,বদরগঞ্জে আমার দেখা সকল নির্বাহি অফিসারের মধ্যে তিনি সেরা।
অসম্ভব ভালো মনের মানুষ তিনি।
তিনি আরও জানান,আগে কোন দিন দেখিনি সাধারন মানূষ কোন নির্বাহি অফিসারের চেম্বারে বসে তার সমস্যার কথা বলতে। এখন সাধারন মানুষজন তার কাছে যান তিনি তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমাধান সহ পরামর্শ দেন। একজন দক্ষ প্রশাসকের কাজতো এমনই হওয়া উচিত।
আমি বিশ^াস করি,একজন উপজেলা নির্বাহি অফিসার প্রথমে মানুষ। এর পর থাকা উচিত তার অন্যান্য গুনাবলি। উত্তম গুনাবলির মাঝেই মানুষ বেঁচে থাকে আজীবন। একজন মানুষের অর্থ্যাৎ প্রশাসকের যে সমস্ত গুনাবলি থাকা প্রয়োজন তার সবগুলোই রয়েছে বর্তমান উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হকের মধ্যে। এ কারনেই তিনি সেরা। 
পরিশেষে,তার মত একজন সৎ পরিশ্রমি বিনয়ী মার্জিত রুচিশীল ও দক্ষ প্রশাসক পেয়ে আমরা গর্বিত। আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি তিনি একদিন আরও বড় হবেন। সরকারের দায়িত্বশীল বড় বড় পদ তিনি অলংকৃত করবেন।
এ লেখাটি আমি লিখতাম না। কিন্তু আমি মনে করি একজন ভালো মানুষকে যদি তার প্রাপ্য সন্মান দেয়া না যায় তাহলে কোন ভালো মানুষের জন্মও হয় না ভালো কর্মও সম্পাদন হয় না। এ কারনেই আমার এই লেখাটি। 
শুভকামনা রইল রাশেদুল হক মহোদয়ের প্রতি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...