কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা। শীতের দাপট এতটাই যে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রচন্ড শীতের কারনে গরম কাপড়ের দোকানে ভীড় লেগেই আছে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত যেমন ঘর হতে বের হওয়া যায় না অন্যদিকে পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্ন হতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় বদরগঞ্জের রাস্তাঘাট পথপ্রান্তর। ঘন কুয়াশার সাথে লু-হাওয়া এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কনকনে ঠান্ডায় লোকশুন্য হওয়ার কারনে ব্যস্ত এই শহর যেন জনমানবহীন শ্মশানে পরিনত হয়।
গত সোমবার(১জানুয়ারি)রাত ৮টার দিকে পৌরশহর ঘুরে দেখার সময় জনমানবহীন চিত্রই চোখে পড়ে। দুর হতে দেখা যায় চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। ছোট ছোট পানের দোকানগুলিতে বৈদ্যুতিক লাইট জ¦লছে। কিন্তু কোন খরিদদার নেই। বড় বড় হোটেল রেস্তোরাগুলোতেও একই দশা। অর্থ্যাৎ জনশুন্য।
একটু এগিয়ে শহীদ মিনার চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়,রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসা গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে মধ্যবিত্ত নি¤œ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষদের একটুখানি উষ্ণতা পাবার জন্য গরম ও মোটা কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভীড়।
সকালের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে গতকাল মঙ্গলবার(২জানুয়ারি)সকালে ঠিক একই চিত্র চোখে পড়ে। দেখা যায় ছিন্নমুল ও মজুর শ্রেনির লোকজন কাজের আশায় রাস্তার ধারে গোল করে বসে একটুখানি উষ্ণতার জন্য খড় ও টায়ার জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের ইমারত শ্রমিক সইমুল হক(৪৫) এর সাথে,তিনি জানান,কাজের আশায় এই কনকনে শীতে রাস্তার ধারে বসে আছি। যদি কারো ডাক পাই তাহলে কাজে যাব। কাজ না পেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে।
অপর ইমারত শ্রমিক শাহাজাহান আলি(৩৮)জানান,কাজ না করলে পেটে ভাত জুঁটবে না। এই শীতে মন চায় না ঘর হতে বের হই কিন্তু কি করবো ? এখন সকাল ৯টা বাজে কেউ কেন জানি আমাদের ডাকলো না,আজ যে কি হবে ?
তিনি আরও জানান,ছোট বাচ্চাটা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ভাল ডাক্তার দেখাতে হবে। আজ যদি কারো ডাক না পাই তাহলে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হবে। বাচ্চাটাকেও ডাক্তার দেখাতে পারবো না।
রাস্তায় চাদর মুড়ে রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাচালক জুরান সাহা(৫৮)জানান,
কষ্ট করে হলেও প্রচন্ড এই কনকনে শীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি যাত্রির জন্য।
উর্দ্ধগতির বাজারে এনজিওর কিস্তি আর সংসার চালানো এমনিতেই দায় হয়ে পড়েছে তার কনকনে ঠান্ডায় মানুষ যদি বের হতে না পারে তাহলে আমার মত রিক্সা চালকদের কি হবে ?
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন,মধ্য-জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ১০ এর নিচে নেমে যেতে পারে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন