কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
বদরগঞ্জ পৌর শহরের রেলগেট এলাকা। দু-কদম এগিয়ে গেলেই নুরুশাহ্ নামে এক ব্যবসায়ির মিল চাতাল। বেড়ানোর ফাঁকে চাতালে গিয়ে চোখে পড়ে আম গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য আম। “অসময়ে আম গাছে ঝুলছে” বিষয়টি আমার কৌতুহলের সৃষ্টি হলে মিল চাতালের মালিকের সাথে দেখা করার চেষ্টা করি,তাকে না পাওয়ায় তার কেয়ারটেকারের খোঁজ করি। আমি ভাবতেই পারিনি এই সময়ে আমের খোঁজ পাবো। এরপর
বুকভরা আনন্দ নিয়ে গাছের কাছে গিয়ে আমের গুচ্ছে হাত স্পৃর্শ করি। এই সময়ে আম ভাবতেই যেন আনন্দে উদ্বেলিত আমার মন। আমটিকে দেখে তখন একে শুধু আর আমার আম মনে হল না। মনে হল এ যেন গ্রীন ডায়মন্ড।
কথা হয় মিল চাতালের কেয়ারটেকার কাশেম আলির সাথে,তিনি জানান, এই চাতালের মালিক নুরু শাহ্ নোয়াখালি জেলার এক নার্সারি হতে তিন পিস আমের চারা ৯ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে এখানে রোপন করেছিলেন। ২ টি আমের চারা নষ্ট হয়ে যায়। ১ টি আমের চারা বেঁচে আছে। গত বছরও এই গাছটিতে আম ধরছিল। আমগুলি খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,অসময়ে যে কোন ফসল মানে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া। অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে অসমের এই আমটি চাষ করে।
তিনি আরও জানান,এই আমটিকে অসময়ের আম বলি আর বারোমাসি আম বলি না কেন,আমটি নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষনা দরকার। কারন সু-স্বাদু এই ফলটির দেশে বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। শুধু তাই নয় এই ফলটি চাষ করে বেকার সমস্যা সমাধানও হতে পারে। বেকার যুবকরা যদি অহেতুক সময় নষ্ট না করে অসময়ের আমের বাগান করেন তাহলে তারা একদিকে যেমন স্বাবলম্বি হতে পারেন অন্যদিকে আমাদের দেশ ফলটি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান, অসময়ের এই আম চাষ করে কৃষকরা অনেক লাভবান হতে পারেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,আমের চাহিদা ব্যাপক। বেকার যুবকরা যদি অসময়ের এই আমটি চাষ করেন তাহলে তারা আর্থিভাবে লাভবান সহ স্বাবলম্বি হতে পারেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০১ ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪











