বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে গাছে ঝুলছে অসময়ের আম



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জ পৌর শহরের রেলগেট এলাকা। দু-কদম এগিয়ে গেলেই নুরুশাহ্ নামে এক ব্যবসায়ির মিল চাতাল। বেড়ানোর ফাঁকে চাতালে গিয়ে চোখে পড়ে আম গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য আম। “অসময়ে আম গাছে ঝুলছে” বিষয়টি আমার কৌতুহলের সৃষ্টি হলে মিল চাতালের মালিকের সাথে দেখা করার চেষ্টা করি,তাকে না পাওয়ায় তার কেয়ারটেকারের খোঁজ করি। আমি ভাবতেই পারিনি এই সময়ে আমের খোঁজ পাবো। এরপর
বুকভরা আনন্দ নিয়ে গাছের কাছে গিয়ে আমের গুচ্ছে হাত স্পৃর্শ করি। এই সময়ে আম ভাবতেই যেন আনন্দে উদ্বেলিত আমার মন। আমটিকে দেখে তখন একে শুধু আর আমার আম মনে হল না। মনে হল এ যেন গ্রীন ডায়মন্ড। 
কথা হয় মিল চাতালের কেয়ারটেকার কাশেম আলির সাথে,তিনি জানান, এই চাতালের মালিক নুরু শাহ্ নোয়াখালি জেলার এক নার্সারি হতে তিন পিস আমের চারা ৯ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে এখানে রোপন করেছিলেন। ২ টি আমের চারা নষ্ট হয়ে যায়। ১ টি আমের চারা বেঁচে আছে। গত বছরও এই গাছটিতে আম ধরছিল। আমগুলি খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,অসময়ে যে কোন ফসল মানে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া। অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে অসমের এই আমটি চাষ করে। 
তিনি আরও জানান,এই আমটিকে অসময়ের আম বলি আর বারোমাসি আম বলি না কেন,আমটি নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষনা দরকার। কারন সু-স্বাদু এই ফলটির দেশে বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। শুধু তাই নয় এই ফলটি চাষ করে বেকার সমস্যা সমাধানও হতে পারে। বেকার যুবকরা যদি অহেতুক সময় নষ্ট না করে অসময়ের আমের বাগান করেন তাহলে তারা একদিকে যেমন স্বাবলম্বি হতে পারেন অন্যদিকে আমাদের দেশ ফলটি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান, অসময়ের এই আম চাষ করে কৃষকরা অনেক লাভবান হতে পারেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,আমের চাহিদা ব্যাপক। বেকার যুবকরা যদি অসময়ের এই আমটি চাষ করেন তাহলে তারা আর্থিভাবে লাভবান সহ স্বাবলম্বি হতে পারেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০১ ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 















সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮

একটা কম্বল দেও বাহে !




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর তীরবর্তী ছনের তৈরি জীর্ন কুঠিরে বাস করেন বৃদ্ধা আয়েতন নেছা (৯০)।
আয়েতন নেছার বাড়ি বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া নামক মহল্লায়। স্বামি নেই। বৃদ্ধার ৩ মেয়ে ১ ছেলে। ২ মেয়ে মারা গেছে। বর্তমানে জোবেদা নামের যে মেয়েটি বেঁচে আছে সে মেয়েটিও বিধবা। ১ মাত্র ছেলে মানিক মিয়া রাজ মিস্ত্রির কাজ করে। সে তার সংসার নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করে।
বিধবা জোবেদা বেগম মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে মা আয়েতন নেছাকে নিয়ে অন্যের জমিতে ঝুঁপড়ি ঘরে বাস করে।
সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে বেড়ানোর এক ফাঁকে চলে যাই যমুনেশ^রি নদীর তীরে। শীতের দিনে প্রচন্ড ঠান্ডায় আর বেশিক্ষন থাকতে না পেরে চলে আসার এক পর্যায়ে দেখা হয় বৃদ্ধা আয়েতন নেছার।
বয়সের ভারে কোমর বেকে যাওয়া লাঠি দিয়ে ভর করে চলা বৃদ্ধা আয়েতন নেছা সংবাদকর্মি পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, মোক একটা কম্বল দেন বাহে,এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন পেপারোত লেখি দেন বাবা,তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে।
তিনি জানান, নদীর সাথে নাগা হামার বাড়ি,হু-হু করি আইসোছে ঠান্ডা বাতাস তার উপর ঠান্ডার দিন। মুই কেমন করি বাঁচো বাবা।
এ দিকে,শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি।
সরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়েছে ৭ হাজার ৫শত কম্বল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে,এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য। 
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,প্রয়োজনের তুলনায় কম্বল কম পাওয়ায় সকল ছিন্নমুল মানুষকে কম্বল বিতরন করা সম্ভব হয়নি। চাহিদা পাঠানো হয়েছে,কম্বল পেলেই বিতরন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে অনলাইন টিভি এম কে টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে অনলাইন ভিক্তিক টিভি চ্যানেল এম কে টেলিভিশনের ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত হয়। গতকাল রবিবার(২৮জানুয়ারি)রাতে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত এম কে টেলিভিশন দর্শক ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা, এম কে টেলিভিশনের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি আজমল হক আদিল, রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি প্রভাষক আহসান হাবিব,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা,সাংবাদিক বিপ্লব সরকার,ফয়সাল সরকার পলাশ,শ্যামল লোহানী,নুরুজ্জামান নুরু,মনজু পাইকাড়,ফারুক হোসেন নয়ন।
আরও উপস্থিত ছিলেন,মনিরুজ্জামান মিলন,আঃ কাদের সরকার প্রমুখ।
প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বলেন,বিশ^ায়নের যুগে অনলাইন ভিক্তিক টিভি চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। সমাজের ঘুষ দুর্নীতি অপরাধ বাল্যবিবাহ সহ নানা ধরনের অসংগতিগুলো জাতীর সামনে আরও বেশি করে তুলে ধরবে এই প্রত্যাশাই করি।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইন ভিক্তিক টিভি চ্যানেল এম কে টেলিভিশন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে “শেকড়ের সন্ধানে” এম কে টেলিভিশন দ্রুত এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাই করি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

কমিশন দিলেই বৈধ,না দিলে অবৈধ, বদরগঞ্জে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন, দেখার কেউ নেই !




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সন্ধ্যা ৭ টা। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো চারদিক। দুর হতে কাউকে দেখা বা চেনার উপায় নেই। জনশুন্যতা ও নীরবতা চারিদিকে বিরাজ করলেও বোমা ও ভেকু মেশিনের শব্দে প্রকম্পিত গোটা এলাকা। এলাকার মানুষজন সবাই জানে বোমা ও ভেকু মেশিনের সাহায্যে কতিপয় বালু খেকো দীর্ঘদিন ধরে নদীর বালু উত্তোলন করে আসছে। একারনেই প্রকম্পিত করা এই শব্দ তাদের সকলের কর্নকুহরে পৌঁছলেও তেমন কোন আগ্রহ নেই। আর আগ্রহ থেকেই বা কি লাভ ? যেখানে রয়েছে প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদ ও সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা। সেখানে সাধারন মানুষদের কি করার আছে ?
এ দিকে,যমুনেশ^রি নদীতে চর জেগে ওঠায় ওই এলাকার সাধারন মানুষদের মনে আশা জেগেছিলো তারা তাদের নদীতে বিলীন হওয়া কৃষি জমিতে নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করবেন। কিন্তু সরকারি দলের ও এলাকার প্রভাবশালি ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় তাদের জমি হতে এবং নদী হতে বালু উত্তোলনের কারনে শত শত জমি নিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন এলাকাবাসি

সরেজমিনে গত শুক্রবার(২৬জানুয়ারি) রাতে গিয়ে দেখা যায় চারিদিকে বালুর স্তুপ। থরে থরে সাজানো হয়েছে। ট্রাক ট্রাক্টর আর ট্রলি দিয়ে চলছে বালু বহনের কাজ। স্পট হতে একটু দুরে রাস্তার পাশে এক চায়ের গিয়ে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজন সরকারি দলের রাজনৈতিক পরিচয় ধারি কিছু নেতা এই কাজটি অবাধে চালিয়ে আসছে।
আরও জানা যায়,সারারাত ধরে চলে বোমা ও ভেকু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ ও বালু বিক্রির কাজ।
তারা আরও জানান,ভোরের আলো আসতে না আসতেই সবকিছুই পরিস্কার যেন এখানে কোন বালু উত্তোলনই হয়নি।
এ হল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ও কুতুবপুর ইউপির বালু খেকোদের যমুনেশ^রী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটি হওয়ায় বালু খেকোদের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এই অঞ্চলটিতে চলছে একাধিক পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ।
বালু উত্তোলনকারি একজন নাম না জানানোর শর্তে জানান,আমরা প্রশাসন সহ সবাইকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করছি। তিনি আরও জানান, বালু উত্তোলন অবৈধ কিনা তা আমার জানা নেই।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,গত কয়েকদিন আগে ওখানকার একটি পয়েন্টে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারা যে আবারও বালু তুলছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি সিরিয়াসলি দেখছি।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিবার প্রশাসনকে বলেছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে অবৈধ বালুর পয়েন্ট হতে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও জানান, যারা বালু উত্তোলন করছে তারা সরকারি দলের কেউ নয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে ৩১ কেজির বাঘাইড়




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে ৩১ কেজির একটি বাঘাইড় মাছ কিনে নিয়েছেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন পর ৩১ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছটি দেখতে উৎসুক জনতার ভীড় লেগে যায়।
বড় আকৃতির বাঘাইড় মাছটি দেখতে গতকাল শুক্রবার(২৬জানুয়ারি)সকালে সরেজমিনে বদরগঞ্জ পৌরশহরের শাহাপুর মহল্লায় গিয়ে মাছটি দেখা যায়।
জানা যায়,কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি রমনা ঘাটে এক জেলের জালে আটকা পড়ে ৩১ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ। সেখান হতে রমনা ঘাটের মাছ ব্যবসায়ি ফুল মিয়া প্রতি কেজি মাছ ৮শত টাকা দরে কিনে নেন। পরে ফুল মিয়া ওই মাছটি বদরগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে ৮শত ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। তবে মাছ ক্রেতা তার নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি রমনা বন্দর দিয়ে বয়ে চলা ব্রক্ষ্মপুত্র নদে বড় আকৃতির বাঘাইড় মাছটি ধরা পড়ে। এখন নদীর পানি কমার কারনে বড় বড় মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮

আমার দেখা বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সৎ বিনয়ী পরিশ্রমি রুচিশীল মিশুক প্রকৃতির এক উপজেলা প্রশাসকের নাম রাশেদুল হক। যার ছোঁয়ায় জাদুর কাঠির মত উপজেলা প্রশাসনে এসেছে আমুল পরিবর্তন। প্রশাসনে ফিরে এসেছে কাজের গতি। সাধারন মানুষকে আর কাজের জন্য অহেতুক সরকারি কোন দপ্তরে ঘুরতে হয় না। তার নিজস্ব কাজ ছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন সহ নানামুখি সামাজিক কর্মকান্ডে তার অবাধ বিচরন। কিছুদিন আগে যোগদান করা এই নির্বাহি অফিসার ইতোমধ্যে গোটা উপজেলায় অত্যন্ত সুনামের সাথে তার দায়িত্ব পালন করছেন।
আমি তখন খুবই ছোট। বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম উপজেলা নির্বাহি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মুরারি মোহন দত্ত নামে একজন দক্ষ প্রশাসক। ওই সময়ে আমি প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় উপজেলায় ২য় স্থান অধিকার করে তার হাত হতে প্রাইজবন্ড সহ সার্টিফিকেট গ্রহন করি। এভাবে তাকে দেখারও আমার সুযোগ হয় কিন্তু বয়সে ছোট হবার কারনে তাকে আমি তেমনভাবে চিনতে পারি নাই। আর পারারও কথা নয়। একে একে অনেক উপজেলা নির্বাহি অফিসার বদরগঞ্জে যোগদান করেন আবার চলেও যান। রেখে যান কিছু কাজ কিছু স্মৃতি। পরবর্তীতে তাদের কাজের মুল্যায়ন করেন উপজেলার মানুষ।
ধীরে ধীরে যখন বড় হই এবং বুঝতে শিখি তখন দেখা পাই একজন উপজেলা প্রশাসককে। নাম বলতে চাচ্ছি না। তখন আমি এসএসসি পরিক্ষার্থী। বলতে লজ্জা নেই ওই সময়টাতে বদরগঞ্জে পরীক্ষায় বেশ নকলের প্রচলন ছিল। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয় ওই সময়টাতে পুরোপুরিভাবে নকলকে প্রতিহত করলেন। ওই বার রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ছিল ১৪শতাংশ। আর আমি যে স্কুলে লেখাপড়া করেছি বদরগঞ্জ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে সেই বছর পাশের হার ১০ শতাংশে নেমে আসে। তখনও আমি এসএসসিতে ২ বিষয়ে লেটার সহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ন হই।
আমি একজন শিক্ষার্থী ও মানুষ হিসেবে ওই উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয়কে মনে মনে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। নকল প্রতিরোধে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কারনে। ওই প্রশাসককে আবার পরে দেখলাম তার নিজের ভাই যখন ওই স্কুল হতে(বদরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়,ব্যাচ-১৯৯১)এসএসসি পরীক্ষা দিল তখন আবার পুর্বের অবস্থায় ফিরে গেল পরীক্ষার দৃশ্যপট অর্থ্যাৎ নকলের ছড়াছড়ি। লজ্জায় আমার মাথা হেট হয়ে গেল তখন,যখন দেখলাম ওই  দায়িত্বশীল প্রশাসক নিজেই নিজের ভাইয়ের জন্য নকল সরবরাহ সহ শিক্ষকদের দিয়ে ভাইকে সহযোগিতা করতে বাধ্য করার দৃশ্য দেখে।
এভাবে অনেক প্রশাসক আমাদের এই উপজেলায় এসেছেন আবার বিদায়ও নিয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে,বদরগঞ্জে সৎ দক্ষ নির্বাহি অফিসার আসেনি। আমাদের উপজেলায় অনেক সৎ দক্ষ উপজেলা নির্বাহি অফিসার এসেছেন এবং বিদায় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুভকামনাও করেন এ উপজেলার মানুষ।
এখন মুল প্রসঙ্গে আসি; আমি একজন কলেজ শিক্ষক ও সংবাদিক কর্মি সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে যদি উপজেলা নির্বাহি অফিসারদের  মুল্যায়ন করি তাহলে আমার দৃষ্টিতে বর্তমান উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক সব চাইতে সেরা। 
সংবাদকর্মি হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের সাথে আমাদের যোগাযোগ করতেই হয়। এ কারনে প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ হতে দেখার সুযোগও হয়।
বর্তমান নির্বাহি অফিসারকে কাছ হতে যতটুকু দেখেছি,আমার জানা মতে তিনি কোন কাজ আটকে রাখেন না। প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিনই করেন যত রাতই হোক। ভুমি অফিসে এসিল্যান্ড না থাকার কারনে বাড়তি কাজ তিনিই করেন এবং ভুমি সংক্রান্ত কাজে মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হন ভেবে তার টেবিলে ফাইল আসা মাত্রই তিনি তার অতিরিক্ত অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন।
এ প্রসঙ্গে একটি কথা না বললেই নয়,আমার বদরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সহ কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে গিয়েছিলেন, তিনি তার চেয়ার হতে উঠে এসে শিক্ষকদের অর্ভ্যথনা জানিয়ে তার কক্ষে নিয়ে যান। শিক্ষকদের প্রতি এই সন্মান ক-জন দেখাতে পারেন। এটা একজন ভালো মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,বদরগঞ্জে আমার দেখা সকল নির্বাহি অফিসারের মধ্যে তিনি সেরা।
অসম্ভব ভালো মনের মানুষ তিনি।
তিনি আরও জানান,আগে কোন দিন দেখিনি সাধারন মানূষ কোন নির্বাহি অফিসারের চেম্বারে বসে তার সমস্যার কথা বলতে। এখন সাধারন মানুষজন তার কাছে যান তিনি তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমাধান সহ পরামর্শ দেন। একজন দক্ষ প্রশাসকের কাজতো এমনই হওয়া উচিত।
আমি বিশ^াস করি,একজন উপজেলা নির্বাহি অফিসার প্রথমে মানুষ। এর পর থাকা উচিত তার অন্যান্য গুনাবলি। উত্তম গুনাবলির মাঝেই মানুষ বেঁচে থাকে আজীবন। একজন মানুষের অর্থ্যাৎ প্রশাসকের যে সমস্ত গুনাবলি থাকা প্রয়োজন তার সবগুলোই রয়েছে বর্তমান উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হকের মধ্যে। এ কারনেই তিনি সেরা। 
পরিশেষে,তার মত একজন সৎ পরিশ্রমি বিনয়ী মার্জিত রুচিশীল ও দক্ষ প্রশাসক পেয়ে আমরা গর্বিত। আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি তিনি একদিন আরও বড় হবেন। সরকারের দায়িত্বশীল বড় বড় পদ তিনি অলংকৃত করবেন।
এ লেখাটি আমি লিখতাম না। কিন্তু আমি মনে করি একজন ভালো মানুষকে যদি তার প্রাপ্য সন্মান দেয়া না যায় তাহলে কোন ভালো মানুষের জন্মও হয় না ভালো কর্মও সম্পাদন হয় না। এ কারনেই আমার এই লেখাটি। 
শুভকামনা রইল রাশেদুল হক মহোদয়ের প্রতি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 



আলুর ক্ষতি পোষাতে বদরগঞ্জের কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন ভুট্টা চাষে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গোলাম হোসেন৭৫)। পেশায় কৃষক। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। প্রতি বছরই তিনি কমপক্ষে ১০-১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করতেন এবং জমি হতে আলু উত্তোলনের পর বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজে আলুগুলো রাখতেন। কিন্তু গত বছর আলুর দাম না থাকার কারনে কোল্ডস্টোরেজ হতে তিনি আলুই উত্তোলন করেননি। সব মিলিয়ে তার আলু চাষে ব্যাপক লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান। তাই এ বছর তিনি মনের দুঃখে আলু চাষ না করে ভুট্টা চাষ করেছেন।
সরেজমিনে গত বুধবার(২৪জানুয়ারি)উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের আলুর জমিতে ভুট্টা চাষের দৃশ্যই চোখে পড়ে। একদিন কৃষকরা যে জমিতে আলু চাষ করতেন সেই জমিতে দেখা গেল ভুট্টার চাষ।
স্থানিয় কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,রবি ও খরিপ দু-মৌসুম মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় দ্বিগুন। তবে কৃষি অফিস বলছে,ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা আরও ছাড়িয়ে যেতে পারে। 
পৌরশহরের আলু চাষি পিপুল মিয়া(৩৫)জানান,লোকসানের আংশকায় ২ বিঘা জমির আলু না তুলে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করেছি। এখন ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করে আলুর ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, আলু চাষে প্রচুর খরচ,আবার উৎপাদন অনুযায়ি আলুর দাম না থাকা এর সাথে আলুতে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি সহ নানা কারনে কৃষকরা আলু চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। 
পৌরশহরের অপর আলু চাষি লাভলু মিয়া(৩৮)জানান,আমি সহ অনেকেই কোল্ডস্টোরেজ হতে বাধ্য হয়ে আলু তুলে পরে কম দামে গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি করেছি।
কথা হয় রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল গ্রামের কৃষক মামুন মিয়া(৪৫)সাথে,তিনি জানান,গত বছর আমি আমার ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে এত বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি যে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। তাই এবার আলু চাষ না করে ভুট্টার চাষ করেছি।
তিনি আরও জানান,আলু চাষ করতে অনেক টাকা লাগে সে তুলনায় ভুট্টা চাষে তেমন খরচ নেই, লাভও বেশি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে তিনি আলুর ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,কিছু কিছু জায়গায় আলুতে সমস্যা দেখা দিলেও আমরা কৃষি অফিসের সবাই মিলে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,গত বারের কোল্ডস্টোরেজে রাখা আলুগুলো এখন আর খাওয়ার উপযোগি নয়,কারন বাজারে নতুন আলু চলে এসেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,গত বছর হতে আলুতে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আলুর রোগব্যাধির বিষয়ে সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করছি। আলুচাষে লোকসানের ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি ভুট্টা চাষে কৃষকের আগ্রহের কথা জানান।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে বিদ্যার দেবি “স্বরস্বতি পুজা” বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার(২২জানুয়ারি)সকাল হতে গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে পুরোহিত পুজার কাজ শুরু করেন। দুপুরে মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা আরতি পরিবেশন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার,বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা,প্রভাষক ফরহাদ হোসেন, বিজয় মন্ডল,অফিস কোষাধ্যক্ষ নগেন্দ্রনাথ রায়,শিক্ষার্থী জয়িতা সরকার প্রমুখ।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পর হতে প্রতি বছরের ন্যায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে বিদ্যার দেবি স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।  


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২জানুয়ারি/১৮
মোবাইল ০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮

প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে বোরো চাষে ব্যস্ত বদরগঞ্জের কৃষকরা





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বদরগঞ্জের কৃষকরা। 
বিস্তৃীর্ন অঞ্চল জুড়ে যেন চলছে বোরো চাষের মহোৎসব। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত এ দৃশ্য বিস্তৃীর্ন মাঠ জুড়ে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কিছুদিন পরেই কাদা মাটির বিস্তীর্ন ভূমি ভরে যাবে সবুজের সমারোহে। তৈরি হবে এক অভূতপূর্ব চিত্র।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়; এবারে বদরগঞ্জ উপজেলায় ১৭হাজার ৩শত ৪০হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় সেচ সুবিধা রয়েছে সেসব এলাকায় বোরো চারা রোপন করেছেন কৃষকরা। কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে; এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ১৫ ভাগ জমিতে বোরো চারা রোপনের কাজ শেষ করেছেন কৃষকরা।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা সাধারণতঃ সুপার হাইব্রিড(এসএলএইস),শংকর-৩,পারটেক্স,বালিয়া-১,বালিয়া-২,তেজগোল্ড,তেজ, টিয়া নবীন,দোয়েল শক্তি-২,সম্পদ,সাথি।
ব্রি-ধান-২৮,ব্রি ধান ২৯,ব্রি ধান-৫০,ব্রিধান ৬৩,ব্রিধান ৬৪,বিআর-১৫,বিআর-১৬ এছাড়াও কিছু মিনিকেট ও জিরাশাইল ধানের চারা রোপন করছেন।
গত শনিবার(২০জানুয়ারি)সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে; কৃষকরা মাঠে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ বোরো চারা রোপন করছেন,কেউ জমিতে চাষ দিচ্ছেন,কেউবা জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করছেন। আবার যেসব জমিতে সেচনালা নষ্ট হয়েছে সে সব জমির সেচনালা ঠিক করছেন।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিল এলাকার কৃষক মফিজুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান; আমার কয়েক বিঘা জমিতে ইতোমধ্যেই বোরো চারা রোপন করেছি। বর্তমানে এই জমির সেচনালা নষ্ট হওয়ায় তা ঠিক করছি, সেচনালা ঠিক হওয়ার সাথে সাথেই জমিতে চারা রোপন করা হবে। একই কথা বলেন ওই এলাকার কৃষক মামুন মিয়া ও মাজেদুল হক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান; বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন তা পুরোপুরি মজুদ রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে পরিমাণ চারা প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি চারা কৃষকরা উৎপাদন করেছেন। আশা করছি চলতি বছর এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার ছাড়িয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮

সংরক্ষন জরুরি, বদরগঞ্জে বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক কলার গাছ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুর বদরগঞ্জের কৃষকরা ধান পাট তথা অর্থকরি ফসলের পাশাপাশি সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। কারন অর্থকরি ফসলে অনেক সময় কৃষক লাভজনক মুল্য না পেলেও সবজি চাষে লোকসানের ঝুঁকি কম ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সবজির চাষ।
উৎপাদিত এই সবজি বাজারজাত করনের সময় সবজি জাতীয় ফসলকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কলাগাছ(বিচি কলা)।
এইসব প্রাকৃতিক কলা গাছের ছাল-বাকল দিয়ে সবজি ব্যবসায়িরা তৈরি করছেন সবজি বহনের জন্য বিশেষ ধরনের ঝুরি। যা সবজি বহনে ও সুক্ষায় বিশেষ ভুমিকা রাখছে। এর ফলে দিন দিন গ্রামাঞ্চল হতে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কলাগাছ(বিচি কলা)।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়,মাঠের পর মাঠ নানা ধরনের সবজির চাষ। কৃষকরা তাদের জমি হতে তরতাজা সবজি তোলার পর এক জায়গায় স্তুপ করে রাখছেন  তারপর পাইকাড়রা এসে তা কিনে নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। এ সময় দেখা গেল পাইকাড়রা তাদের ক্রয়কৃত সবজি পরিবহনের ক্ষেত্রে চটের বস্তার পরিবর্তে ব্যবহার করছে কলা গাছের ছাল-বাকল।
কথা হয় লোহানিপাড়া ইউপির সবজি চাষি সাজু মিয়ার(৪০)সাথে, তিনি জানান; চলতি মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে তিনি ফুলকপি, বেগুন, ঝিঁঙ্গা, শিম ও পেঁপে জাতের সবজি চাষাবাদ করেছেন। সপ্তাহে ৩দিন করে ক্ষেতের সবজি তুলে ট্রাক যোগে ঢাকায় পাঠাতেন।
তিনি আরও জানান; সবজি বহন করতে পাটের(চটি)বস্তার চেয়ে কলাগাছের ছাল-বাকলের তৈরি ঝুঁরি বেশ ভাল হয় এবং ওই ঝুরিতে কাঁচামাল বেশি অক্ষত থাকে। তাই প্রতি সপ্তাহে আমার ২০-২৫টি কলা গাছের প্রয়োজন হত। আমি পাশের গ্রাম হতে ৬০টাকা দরে কলাগাছ কিনে ঝুরি তৈরি করে কাঁচামাল ঢাকায় পাঠাতাম।
কালুপাড়া ইউনিয়নের সবজি চাষি লোকমান হোসেন (৩৮) জানান, এ অঞ্চলে কৃষকদের দায়িত্ব শুধু সবজি ফলানো। কিন্তু বাজারজাত করার সম্পুর্ন দায়দায়িত্ব সবজি ব্যবসায়িদের। আমাদের এই এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক সবজি বিক্রেতা রয়েছে। যারা সারাদিন ধরে কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে সন্ধ্যায় ট্রাক লোড করে রাজধানীতে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,ব্যবসায়িরা আলু, বেগুন, কপি, ঝিঙ্গা, পটল, করলা, ইত্যাদি কাঁচা সবজি বহনের ক্ষেত্রে পাটের (চটি)বস্তার পরিবর্তে ব্যবহার করছে কলা গাছের ছাল-বাকলের তৈরি এক প্রকার ঝুরি। কলাগাছের তৈরি একটি বড় ঝুরিতে প্রায় ১২-১৪ মন সবজি বহন করা সম্ভব। তাছাড়াও বিচি কলার ছাল-বাকলের তৈরি ঝুরিতে বহন করা এসব সবজি সর্বদা তরতাজা থাকে।
কুতুবপুর ইউপির নাগেরহাট এলাকার কাঁচা মাল ব্যবসায়ি আসাদুল হক (৩৫), মন্সুর আলি (৪৫),শাহিন মিয়া (৪২), আজাহার আলি (৪৮) জানায়, আমরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৫০-৬০ টাকা দরে শতাধিক কলা গাছ ক্রয় করে তা দিয়ে সবজি বহনের জন্য বিশেষ ধরনের ঝুরি তৈরি করি। এর কারন হচ্ছে বিচি কলার ছালের তৈরি ঝুরিতে সবজি বহন করলে টাটকা সবজির গায়ে কোন প্রকার দাগ পড়েনা। পাশাপাশি সুর্যের আলো থেকেও রক্ষা পায়।    
কথা হয় প্রবীন ভেষজ চিকিৎসক কবিরাজ আব্দুল হাকিমের(৭৪) সাথে,তিনি জানান,আগের দিনের লোকজন পুরুষ লোকের মেহ ও স্ত্রী লোকের সূতিকা বাধকসহ নানা রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করতো এই কলা গাছ।
তিনি আরও জানান,মহাষৌধ হিসেবে এই প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কলাগাছের  জুড়ি মেলা ভার।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা প্রাকৃতিভাবে জন্মানো এই কলা গাছগুলি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারি ও ভেষজগুন সম্পন্ন এই প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কলাগাছগুলিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করা উচিত।
তিনি জানান, দিন দিন যেভাবে এই কলাগাছটি হারিয়ে যাচ্ছে তাতে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা একদিন জানতেই পারবে না প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো গাছটির নাম।
তিনি আরও জানান; বাড়ির আনাচে কানাচে রোপন করে এর বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সহ সু-স্বাদু ফলটিও খেতে পারবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
 

বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

ঘন কুয়াশায় মোড়ানো বদরগঞ্জ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা ১০মিনিট। রাস্তায় বেরুতেই দেখি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক। কিছুই চোখে পড়ছেনা। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া কোন মানুষকে যেন চোখে পড়ছে না রাস্তায়। তবুও দু-কদম হেঁটে রাস্তার দিকে এগুতেই হঠাৎ পিছন দিক হতে আসা এক মটরবাইক আমার কাছে এসে হর্ন দিলে চমকে গিয়ে রাস্তার বাম পাশে দিলাম এক লাফ। ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেলাম এ যাত্রায়। প্রয়োজনেই রাস্তায় বের হওয়া আমার। এ হল গতকাল বুধবার(১৭জানুয়ারি) রংপুর বদরগঞ্জের কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকালের একটি চিত্র।
প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পৌরশহর। শীতের দাপট এতটাই যে, ইচ্ছে হলেও ঘর হতে বের হতে পারছে না কেউ। কনকনে শীতের সাথে লু-হাওয়া আর ঘন কুয়াশা। এ যেন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।
কিছুটা পথ এগিয়ে দেখি রাস্তার ধারে জবথবু অবস্থায় খেটে খাওয়া মজুর শ্রেনির কিছু লোক খড় কুঠো দিয়ে একটুখানি উষ্ণতা পাওয়ার আশায় আগুন জ¦ালিয়েছে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের ইমারত শ্রমিক সইমুল হক(৪৫) এর সাথে,তিনি জানান,কাজের আশায় এই কনকনে শীতে রাস্তার ধারে বসে আছি। যদি কারো ডাক পাই তাহলে কাজে যাব। কাজ না পেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে।
অপর ইমারত শ্রমিক শাহাজাহান আলি(৩৮)জানান,কাজ না করলে পেটে ভাত জুঁটবে না। এই শীতে মন চায় না ঘর হতে বের হই কিন্তু কি করবো ? এখন সকাল সাড়ে ১০টা। কেউ কেন জানি আমাদের ডাকলো না,আজ যে কি হবে ?
রাস্তায় চাদর মুড়ে রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাচালক জুরান সাহা(৫৮)জানান,
কষ্ট করে হলেও প্রচন্ড এই কনকনে শীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি যাত্রির জন্য।
উর্দ্ধগতির বাজারে এনজিওর কিস্তি আর সংসার চালানো এমনিতেই দায় হয়ে পড়েছে তার উপর কনকনে ঠান্ডায় মানুষ যদি বের হতে না পারে তাহলে আমার মত রিক্সা চালকদের কি হবে ?
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,রংপুরে আজ (বুধবার)তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৯ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তিনি আরও জানান,ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,শীতার্থ মানুষদের জন্য ইতোমধ্যে গোটা উপজেলায় ৭৭৫০টি কম্বল বিতরন করা হয়েছে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  
   
 

শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে ডিজিটাল উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মহিলা ডিগ্রি কলেজ বিজয়ী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে ডিজিটাল উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজয়ী হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। গতকাল শুক্রবার (১২জানুয়ারি)সকালে ৩ দিনব্যাপি ডিজিটাল উন্নয়ন মেলার অংশ হিসেবে মেলা মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পক্ষে অংশগ্রহন করেন বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও বিপক্ষ দল বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বির্তকের বিষয় ছিল “শুধুমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনেই উন্নয়নের একমাত্র পথ”
বির্তক অনুষ্ঠানে মডারেটর এর দায়িত্ব পালন করেন বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক। বিচারক হিসেবে ছিলেন উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বদরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাফুজার রহমান।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিয়োগিরা হলেন রোজিনা আক্তার (১ম বর্ষ-মানবিক),জয়িতা সরকার(১ম বর্ষ-মানবিক) দলনেতা সিরাতুন জান্নাত কেয়া(১ম বর্ষ-বিজ্ঞান) ও আফসানা মিমি(অতিরিক্ত বিতার্কিক)।
বির্তকে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ বিজয়ী হয় এবং সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন  মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি সিরাতুন জান্নাত কেয়া।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,মেধা বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। বছরের কোন একটি নির্ধারিত সময়ে এমন প্রতিযোগিতামুলক অনুষ্ঠান উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেবার চিন্তাভাবনা করছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   


বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে “ঘোড় দৌঁড়”খেলা। আবহমান কাল হতে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক ঘোড় দৌঁড় খেলাটি এক সময় দেশের নানা প্রান্তে মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য প্রচলন থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে খেলাটি আর চোখে পড়তো না। হঠাৎ ঘোড় দৌঁড় খেলাটি হবে শুনে লোভ সামলাতে না পেরে গতকাল বৃহঃস্পতিবার (১১জানুয়ারি) দুপুরে চলে যাই বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর উপজেলার সংযোগ স্থল ধলাপীরের মাজার সংলগ্ন স্থানে। 
গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে উৎসুক জনতার ভীড়। এ যেন দুই উপজেলার মানুষের মিলনমেলা। আনন্দে উদ্বেলিত প্রতিটি মানুষ। কখন তাদের কাঙ্খিত ঘোড় দৌড় খেলা শুরু হবে। দুপুরে খেলাটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খেলাটি শুরু হয় শীতের কুয়াশায় মোড়ানো পড়ন্ত বিকেলে। তবুও যেন শীতকাতর উৎসুক জনতার লেশ মাত্র আক্ষেপ নেই। সবারই দৃষ্টি কখন শুরু হবে তাদের কাঙ্খিত ঘোড় দৌড় খেলা।
এক সময় ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হলেন প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রি মোস্তাফিজার রহমান এমপি,বিশেষ অতিথি রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক।
ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন দেশের নানা প্রান্ত হতে আসা ঘোড়া সওয়াররা।
এ সময় কথা হয় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারি পার্বতীপুর উপজেলার খয়েরপুকুরহাট গ্রামের সুমন মিয়া(১২)সাথে,সে জানায়; বাবার উৎসাহে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে খুব ভাল লাগছে।
নওগাঁ জেলার ধামুরহাট উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের প্রতিযোগি অষ্টম শ্রেনির ছাত্রি তাসলিমা আক্তার(১৪)জানান,ঘোড় দৌড় খেলতে আমার ভীষন ভাল লাগে। এ কারনে বাবাকে নিয়ে বদরগঞ্জে এসেছি ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।
খেলা পরিচলনা কমিটির অন্যতম সদস্য আকরাম আলি সরকার জানান, ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন করা হয়েছে এ বি সি ও ডি ক্যাটাগরিতে।
সি গ্রুপের প্রথম হয় নওগাঁ হতে আসা তাসলিমা আক্তার। তিনি আরও জানান, ইচ্ছে আছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘোড় দৌড় খেলাটি প্রতিবছর যেন করতে পারি এজন্য সকলের সহযোগিতা তিনি প্রত্যাশা করেন।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রি মোস্তাফিজার রহমান জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই ঘোড় দৌড় খেলাটি দেখতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি আশা করবো আয়োজকরা যেন প্রতিবছর খেলাটির আয়োজন করে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
“বাড়ি যাইম কিন্তু এই ঠান্ডাত গোটা শরীল মোর হিম হয়া গেইছে,কোন রিক্সা ভ্যানও পাওচো না। এ্যাটেকোনা আগুন জ¦লাইচে, গাও সেইকবার আলচু” কথাগুলো বললেন রংপুর বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাটের কৃষক বাচ্চু মিয়া(৬৫)।
তিনি আরও জানান,বদরগঞ্জ মেডিকেলোত আলচিনু,ছইলটাক ধরি,ডাক্তার আর বাজার খরচ করতে সাজ (সন্ধ্যা)হয়া গেইল। এই ঠান্ডাত বাড়িত যাইম কেমন করি সেইটা ভাবোচো। খুব ঠান্ডা বাহে।”  
রংপুরের বদরগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে শীতের দাপট এতটাই যে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে।
একদিকে সকাল ১০টা পর্যন্ত যেমন ঘর হতে বের হওয়া যায় না অন্যদিকে পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্ন হতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় বদরগঞ্জের রাস্তাঘাট পথপ্রান্তর। ঘন কুয়াশার সাথে লু-হাওয়া এ যেন মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কনকনে ঠান্ডায় লোকশুন্য হওয়ার কারনে ব্যস্ত এই শহর যেন জনমানবহীন এক বসতি।
গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে এবং সকাল ১০টা পর্যন্ত পৌরশহর ঘুরে দেখার সময় জনমানবহীন চিত্রই চোখে পড়ে। দুর হতে দেখা যায় চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
গত রবিবার(৭জানুয়ারি)সন্ধ্যায় পৌরশহরের রেল গেট এলাকায় চোখে পড়ে খেটে খাওয়া মজুর শ্রেনির মানুষ ও পথচারিদের গোল হয়ে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আগুন তাপানোর দৃশ্য।  
একই চিত্র উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের। ছোট ছোট ছেলেরা খড় জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন।
শীত জেঁকে বসলেও এখন পর্যন্ত শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে চোখে পড়ার মত শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি। সরকারিভাবে এই উপজেলায় শীত বস্ত্র বিতরন করা হলেও তা যৎসামান্য। অথচ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৬০হাজার।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
এদিকে,শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে শিশু ও বৃদ্ধ রোগিদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।  
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঃ হাই রুবেল জানান,কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৮জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    
    


 

বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৮

ডিম দুধ আর ভাঁপাপিঠা, যত বেশি শীত তত বেশি বিক্রি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শীতের দাপটে কাতর খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষরা। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া আকাশ আর হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে যেন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারন মানুষ ঘর হতে বের হতে না পারলেও রাস্তার ধারে দোকানের কোন এক কোনে বসে থাকা ভ্রাম্যমান দোকানদারদের শীতের গরম গরম মজাদার ভাঁপাপুলি, দুধ আর ডিমের ব্যবসা চলছে রমরমা। রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদাররা কেউ ভাঁপাপুলির পসরা সাজিয়ে কেউবা দুধ আর ডিম নিয়ে বসে আছে। প্রতিটি দোকানেই যেন উপচে পড়া ভীড়। শীতের মজাদার নারিকেল ভাঁপাপুলি খেতে তারা এসেছেন এই সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে। কেউবা এসেছেন গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম খেতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই  বিক্রি।
সরেজমিনে গত রাতে ও সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমান ভাপাপুলি,দুধ আর সিদ্ধ ডিমের দোকানগুলিতে গিয়ে এ চিত্রই চোখে পড়ে। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ঢাঙ্গারপাড়া গ্রামের ভাঁপাপুলি বিক্রেতা ইয়ারুল ইসলামের(২৫)সাথে,তিনি জানান,ভাঁপাপুলি বিক্রি হয় সন্ধ্যা হতে রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি পিঠা ৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা হতে প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৬-৭শত টাকা। আমার অন্য ৩ ভাই আমার মত শীতের এই সময়টাতে পৌরশহরের অন্য মোড়ে ভাঁপাপুলির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ৪ ভাই ১ বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
অর্থাভাবে আমরা লেখাপড়া শিখতে পারি নাই। আমাদের আর্থিক অবস্থা বর্তমান সময়ের মত থাকলে আমার বাবা অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া শেখাতো।
তিনি আরও জানান, যত বেশি কুয়াশা আর ঠান্ডা,তত বেশি বিক্রি হয় ভাঁপাপুলি।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির কাশিগঞ্জ গ্রামের দুধ ও ডিম বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক(৫২)সাথে,তিনি জানান, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দুধ ও ডিমের ব্যবসা করছি। শীতকালে এই ব্যবসাটি বেশি চলে। গ্রাহক এতবেশি বেড়ে যায় যে,বসে থাকার সময় পাই না। প্রতি গ্লাস দুধ ১৫টাকা ও প্রতি পিস ডিম ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৮-৯শত টাকা। 
তিনি আরও জানান,এক সময় মানুষের বাড়িতে মজুর দিয়ে সংসার চলতো। তখন অভাব অনটনের অন্ত ছিল না। এই ব্যবসা করেই জমি কিনে বাড়ি ঘর করা সহ সংসার, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই চলে। আল্লাহ্র রহমতে আমি ভালো আছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,কনকনে শীতে এক শ্রেনির মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও রাস্তার ধারের এই সমস্ত ভাঁপাপুলি,দুধ ডিমের দোকানগুলো ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীতের দাপট বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৪জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৮

শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা। শীতের দাপট এতটাই যে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রচন্ড শীতের কারনে গরম কাপড়ের দোকানে ভীড় লেগেই আছে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত যেমন ঘর হতে বের হওয়া যায় না অন্যদিকে পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্ন হতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় বদরগঞ্জের রাস্তাঘাট পথপ্রান্তর। ঘন কুয়াশার সাথে লু-হাওয়া এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কনকনে ঠান্ডায় লোকশুন্য হওয়ার কারনে ব্যস্ত এই শহর যেন জনমানবহীন শ্মশানে পরিনত হয়।
গত সোমবার(১জানুয়ারি)রাত ৮টার দিকে পৌরশহর ঘুরে দেখার সময় জনমানবহীন চিত্রই চোখে পড়ে। দুর হতে দেখা যায় চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। ছোট ছোট পানের দোকানগুলিতে বৈদ্যুতিক লাইট জ¦লছে। কিন্তু কোন খরিদদার নেই। বড় বড় হোটেল রেস্তোরাগুলোতেও একই দশা। অর্থ্যাৎ জনশুন্য।
একটু এগিয়ে শহীদ মিনার চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়,রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসা গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে মধ্যবিত্ত নি¤œ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষদের একটুখানি উষ্ণতা পাবার জন্য গরম ও মোটা কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভীড়।
সকালের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে গতকাল মঙ্গলবার(২জানুয়ারি)সকালে ঠিক একই চিত্র চোখে পড়ে। দেখা যায় ছিন্নমুল ও মজুর শ্রেনির লোকজন কাজের আশায় রাস্তার ধারে গোল করে বসে একটুখানি উষ্ণতার জন্য খড় ও টায়ার জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের ইমারত শ্রমিক সইমুল হক(৪৫) এর সাথে,তিনি জানান,কাজের আশায় এই কনকনে শীতে রাস্তার ধারে বসে আছি। যদি কারো ডাক পাই তাহলে কাজে যাব। কাজ না পেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে।
অপর ইমারত শ্রমিক শাহাজাহান আলি(৩৮)জানান,কাজ না করলে পেটে ভাত জুঁটবে না। এই শীতে মন চায় না ঘর হতে বের হই কিন্তু কি করবো ? এখন সকাল ৯টা বাজে কেউ কেন জানি আমাদের ডাকলো না,আজ যে কি হবে ?
তিনি আরও জানান,ছোট বাচ্চাটা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ভাল ডাক্তার দেখাতে হবে। আজ যদি কারো ডাক না পাই তাহলে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হবে। বাচ্চাটাকেও ডাক্তার দেখাতে পারবো না।
রাস্তায় চাদর মুড়ে রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাচালক জুরান সাহা(৫৮)জানান,
কষ্ট করে হলেও প্রচন্ড এই কনকনে শীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি যাত্রির জন্য।
উর্দ্ধগতির বাজারে এনজিওর কিস্তি আর সংসার চালানো এমনিতেই দায় হয়ে পড়েছে তার কনকনে ঠান্ডায় মানুষ যদি বের হতে না পারে তাহলে আমার মত রিক্সা চালকদের কি হবে ?
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন,মধ্য-জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ১০ এর নিচে নেমে যেতে পারে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   
   




  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...