রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

রংপুর-২ আসনে, নৌকার পালে হাওয়া, লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বরতা আর ধানের শীষে কম ফলনের শংকা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ ঃ
আর মাত্র ৬দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে,ততই বেড়ে যাচ্ছে প্রার্থীদের টেনশন আর ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)আসনে তৈরি হয়েছে নির্বাচন মুখর এক পরিবেশ। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রতীক/প্রার্থীকে ভোট প্রদানের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। আর তরুন ভোটার তথা নতুন ভোটাররা তো অস্থির হয়ে আছেন তাদের জীবনের প্রথম ভোটটি পছন্দের প্রার্থীকে প্রদানের জন্য।
গত ১৮ডিসেম্বর “রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম শিরোনামে”একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো। অনেকেই দেখেছেন আবার অনেকেই লাইক কমেন্ট ও শেয়ারও করেছেন। আপনাদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আমার সকল ফেসবুক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অন্তরের অন্তস্থল হতে নতুন বছরের(২০১৯)শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
আমি একজন সাধারন ভোটার ও সংবাদকর্মি হিসেবে “গত ১৮ডিসেম্বরের পর হতে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত যদি মুল্যায়ন করি” তাহলে বর্তমানে(২৩ডিসেম্বর)নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে,লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বর জমি তৈরি আর ধানের শীষে কম ফলনের শংকা দেখা দিয়েছে।
আমি আমার ১৮ ডিসেম্বরের “নির্বাচনী পোষ্ট মর্টেম” লেখার এক অংশে বলেছিলাম“নির্বাচনে শেষ কথা বলে কিছু নেই এবং সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন ঘটে।”
আজ এই বিষয়টি নিয়েই কিছু বলতে চাই।
আওয়ামিলীগের অর্থ্যাৎ নৌকার পালে জোরেসোরে হাওয়া লেগেছে এ জন্য যে,ঐক্যবদ্ধ আওয়ামিলীগ ও তাদের কর্মি সমর্থকরা যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আর ঘুরে দাঁড়াবেই না বা কেন ? বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ একটি ঐতিহ্যবাহি দল। যে দলটির রয়েছে পরতে পরতে ঐতিহ্য আর কঠিনতম সময়েও ঘুরে দাঁড়ানোর অসংখ্য (অভিজ্ঞতা)নজির। এছাড়াও রয়েছে বিশাল কর্মিবাহিনী ও তাদের ভোট ব্যাংক। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে প্রার্থী,নেতা-কর্মি ও সমর্থকদের দিনরাত পরিশ্রমের ফলে তারা তাদের একটি লক্ষে পৌঁছে গেছে বা পৌঁছাতে পারবে বলে আমি মনে করি। তবে তাদের আরও আরও বেশি পরিশ্রম করা প্রয়োজন বলে আমি এও মনে করি। আমি মনে প্রানে এও বিশ^াস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রি জননেত্রি শেখ হাসিনার রংপুর সফর আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের আরও উজ্জীবিত করবে তথা তাদেরকে(নৌকা প্রতীককে)অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে।  
লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বর জমি তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে এ কারনে বলছি যে,
এ আসনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয় পেয়েছে। রংপুরকে তারা তাদের ঘাঁটিও মনে করেন। কিন্তু গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পার্টি প্রধান ও রওশন এরশাদের সিন্ধান্ত বদল আর একাদশ জাতীয় সংসদে বহিরাগত প্রার্থীকে টেনে এনে এই আসনে দেয়ার বিষয়টি মানুষ ভাল চোখে দেখেনি। এখানে একটি কথা না বললেই নয় গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় পর্যন্ত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়িয়েছেন যা আজ অবধি চলছে। এই কাজটি আমার দৃষ্টিতে এই আসনে আর কোন প্রার্থীই করেননি। আমার মনে হয় এ কারনেই জাতীয় পার্টির উপর সাধারন মানুষের অনেকটা বিরক্তির পরেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী(লাঙ্গল প্রতীক)জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বা হচ্ছেন। ভুলে গেলেও চলবে না তাদেরও এই আসনে রয়েছে ভোট ব্যাংক।  
ধানের শীষে কম ফলনের শংকা এ কারনে বলছি যে,এই আসনটি কখনই ধানের শীষের অনুকুলে ছিল না। অনেক বছর পর এবারই ধানের শীষের কথা সাধারন মানুষ বলছিলো। আগেও বলেছি যে,হয়তঃ কোন দলের প্রতি বিরক্ত হয়ে (প্রার্থীকে দেখে নয়) ধানের শীষের নাম এই আসনের মানুষ অনেক বছর পর নিয়েছে। এ কথা সত্যি যে,ধানের শীষের ভোটগুলো হল ভাসমান ভোট। এ ভোটগুলো তাদের দলের অর্জনকৃত ভোট নয়। এই ভোটগুলোকে যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে না পারে তাহলে আগের অবস্থায় বিএনপি চলে যেতে বাধ্য। আমি যদি ভুল বলে না থাকি,দলটির প্রার্থী তথা নেতা কর্মিদের তৎপরতা অনেকটা কমে গেছে। হয়তঃ তারা মনে করছেন জিতে গেছি। ভুলে গেলে চলবে না, যে ভোটগুলো বর্তমানে আপনাদের কথা বলছে সে ভোটগুলো আপনাদের নয়। আমি আবারও বলছি,এই ভোটগুলি কোন ভাবেই বিএনপির অর্জনকৃত ভোট নয়। অনুকম্পা নয়তো বিরক্তি হতে এই ভোটগুলো আপনাদের পক্ষে চলে এসেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ভাসমান ভোট ধরে রাখা কিন্তু কঠিন কাজ। নেতা কর্মি সমর্থক তথা ভাসমান ভোটারদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ ধরে রাখাই ধানের শীষের বড় বিষয়।  
আমার এই লেখাটি ব্যক্তিগত মতামতের বর্হিপ্রকাশ মাত্র। কাউকে(প্রার্থী/কর্মি)আক্রমন করে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখাটির উদেশ্য নয়। দয়া করে আমার এই লেখাটি পড়ে ভুল করেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
পরিশেষে বলতে চাই,এখনও সময় আছে,প্রত্যেক দল, প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের নেতা কর্মিদের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সাথে বলতে চাই,আর একটু পরিশ্রম করুন আর একটু পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দিন অবশ্যই সফল হবেন। শুভ কামনা সকলের প্রতি।

 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


 



মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮

রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ ঃ



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এখন শুধু দিন গননার পালা। দেখতে দেখতে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন এল বলে। মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পছন্দের প্রার্থী তথা পছন্দের প্রতীকে ভোট দিবেন বলে। যদি ভুল বলে না থাকি,আমার মনে হয় বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের ভোটারদের বড় অংশই ইতোমধ্যে তাদের পছন্দের প্রার্থী তথা প্রতীকে ভোট প্রদান করার জন্য মনস্থির করেই ফেলেছেন। যদিওবা পছন্দের প্রতীকে পছন্দের প্রার্থী অনেক সময় হয় না। তবুও স্ব-স্ব দলের কর্মিরা অনেকটা বাধ্য হয়েই তার দলের প্রার্থীকে জয়ী করতে মনোনিবেশ করেন। এটা হল প্রত্যেক দলের অনুসারিদের দলের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু সমস্যা হল সাধারন ভোটারদের নিয়ে। এই অংশটাই একটি নির্বাচনী এলাকার জন্য বড় ফ্যাক্টর। প্রার্থীদের ঘাম বের হয়ে যায় তাদের মন জয় করার কাজটি করতে। অনেক সময় প্রার্থীরা(১জন)সফল হন আবার ব্যর্থ হন। আর যিনি সফল হন তিনি অভিভাবকের দায়িত্ব পান ওই নির্বাচনী এলাকার সকল জনগনের। তিনি হন আমাদের এমপি(সংসদ সদস্য)।
সাধারন ভোটারদের আবেগ অনুভুতি অনুকম্পা আর ভালবাসার বিষয়টি নিজের পক্ষে নেয়ার বিষয়টি প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আমি রংপুর-২ আসনের একজন অতি নগন্য সাধারন ভোটার। আমার এই লেখাটি ব্যক্তিগত মতামতের বর্হিপ্রকাশ মাত্র। কাউকে(প্রার্থী/কর্মি)আক্রমন করে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখাটির উদেশ্য নয়। দয়া করে আমার এই লেখাটি পড়ে ভুল করেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
রংপুর-২ আসনটি স্বাধিনতার পর হতেই আওয়ামিলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পরবর্তিতে একবার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি জয় পায়। ৯০এর পর এই আসনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। ৯৬ এ এরশাদের ছেড়ে দেয়া আসনে অর্থ্যাৎ উপনির্বাচনে আওয়ামিলীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। তার পর ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির দখলে থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিলে আওয়ামিলীগের প্রার্থী জয়লাভ করে। এ বিষয়টি আমাদের এ আসনের মানুষের সকলেরই জানা।
এবার মুল প্রসঙ্গে আসি,জাতীয় পার্টি ও আওয়ামিলীগের দুর্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এগিয়ে যাওয়া তথা সাধারন মানুষের মধ্যে সহানুভুতির কারন কি ? আমরা সবাই জানি,নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর হতেই এবারই প্রথম এই আসনে প্রার্থী জটিলতা নিয়ে নানা রকমের আলোচনা সমালোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে প্রত্যেক দলই তাদের নিজ নিজ প্রার্থীর জন্য আসনটি উন্মুক্ত করে দেয়। তফসিল ঘোষনার তারিখ হতে প্রতীক বরাদ্দের সময় পর্যন্ত এই আসনটিতে ঝড়ো হাওয়ার মত ঘটে যায় এক আচমকা ঘটনা। যা বিএনপির জন্য আর্শিবাদ হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে হতবাক করে দেয়ার মত ঘটনার জন্ম দেয়। 
সংবাদকর্মি হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন ভোটারের সাথে কথা বলে যা জানতে পারি তা হল এবার তারা ভোট প্রদানের জন্য মনস্থির করেই ফেলেছেন বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীককে। যদিওবা নির্বাচনে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনের পরিবর্তনও ঘটে। 
এখন প্রশ্ন হল,কেন এমন হল। এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না। তফসিল ঘোষনার কয়েকদিন পরেও স্থানীয় বিএনপি নের্তৃবৃন্দ বুঝতেই পারেনি তাদের প্রতি মানুষের এই সহানুভুতির কথা। কেন এমনটি হল ? আমার দৃষ্টিতে এমনটি হবার প্রধান কারন হল,আমরা মানুষ। মানুষ মাত্রই অভ্যাসের দাস। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এ এলাকার মানুষ(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে আমরা অভ্যস্থ হয়ে পড়েছিলাম। পরে মহাজোটের বিষয়টিও আমরা অনেকটা মন হতে মেনে নিয়েছিলাম। যার কারনে এখানে মহাজোটের প্রার্থীরাও জয়ী হতে পেরেছিলেন। মুলতঃ এই আসনের মুল কর্তৃত্বটাই ছিল জাতীয় পার্টির। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচন হতে এ এলাকার মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে জাতীয় পার্টি প্রধানের(এরশাদ)ঘন ঘন সিন্ধান্ত বদল,তার স্ত্রী রওশন এরশাদের পার্টিতে কর্তৃত্বের কারনে জাতীয় পার্টির অনিচ্ছাকৃত অনেক সিন্ধান্ত বদলের বাস্তব চিত্র।  এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থীকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টাও মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। মুলতঃ এই কারনেই স্থানীয় জাতীয় পার্টিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর নেতিবাচক(বিরক্তির)প্রভাব পড়ে সাধারন ভোটারদের(মানুষের)মধ্যে। যদিওবা জাতীয় পার্টি পরবর্তিতে স্থানীয় নেতাকেই মনোনয়ন দেন। কিন্তু ততদিনে সব শেষ হয়ে যায়। আমি যদি ভুল বলে না থাকি বিরক্তি কিংবা সহানুভুতির কারনেই হোক তখনই সাধারন ভোটাররা(মানুষ) সিন্ধান্ত নেন ধানের শীষে ভোট দেবার জন্য।
আমিও একজন ভোটার। আমি জোরগলায় বলতে পারি স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মি কিংবা যিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তিনিও জানতেন না সাধারন মানুষের মনে এবার ধানের শীষ(বিএনপি)গেঁথে গেছে। সেই সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ধানের শীষের গনজোয়ারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই আসনে এবার যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে স্থানীয় বিএনপির যে কোন নেতা ধানের শীষের মনোনয়ন নিতেন এবং ভোটযুদ্ধে অবতীর্ন হতেন তিনিও এই লেখাটি প্রকাশ করার সময় পর্যন্ত(জনমতে)এগিয়ে থাকতেন। সব মিলিয়ে এই আসনে আচমকা তথা সবাইকে হতবাক করে এগিয়ে গেল ধানের শীষ।
আমি দৃঢভাবে এও বিশ^াস করি,সরকার দেশে দৃশ্যমান অনেক উন্নতি করেছেন। যা অনেক সরকারের আমলেই হয়নি। কিন্তু আমরা মানুষ তথা বাঙ্গালী। দীর্ঘ সময় ধরে এক সরকারের উপস্থিতি আমরা হয়তঃ ভালভাবে নেই না নতুবা পছন্দ করি না। এই বিষয়টি আমাদের মজ্জাগত সমস্যা। আমি এও মনে করি,একটি সরকার দীর্ঘ সময় হাতে পেলে দেশের উন্নতির জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে সুবিধা হয় তথা কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আর তখন কাজের সুফল পান সাধারন মানুষ।
রংপুর-২ আসনে স্থানীয় আওয়ামিলীগের রয়েছে আভ্যন্তরীন দ্বন্দ ও চাপা ক্ষোভ। ইতোমধ্যে যদিওবা আওয়ামিলীগ নেতাকর্মিরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিলেমিশে কাজ করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার এখানে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। সেই সাথে রয়েছে জাসদের ও বিকল্পধারার প্রার্থী। সাধারন ভোটাররা আগে হতেই ধারনা করেছিলেন আগের সংসদ নির্বাচনের মত এই আসনে একজনই মহাজোটের প্রার্থী হবেন। কিন্তু তা হয়নি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত মহাজোট।
আমার মত অতি নগন্য একজন সাধারন ভোটার মনে করে যে,এই নির্বাচনে এই মহাজোট সরকারকে জিতলে হলে এই আসনে একজনকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে রাখতে হবে তাহলেই তারা এই আসনটি দখলে নিতে পারবে। তা না হলে এই আসনটি তাদের হারাতে হবে। আমার মত সাধারন ভোটাররাও চায় ভোটযুদ্ধটি হোক সমানে সমান। আমরা সাধারন ভোটার শান্তিপুর্নভাবে ভোট দিতে চাই।
রংপুর-২ আসনের সকল প্রার্থীর প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও দোয়া।
দয়া করে এই লেখাটিতে যদি কারো মনে কোন আঘাত দিয়ে থাকি এটি আমার ইচ্ছাকৃত ক্রুটি নয় অনিচ্ছাকৃত ভুল। আশা করছি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে বিষয়টি সকলেই দেখবেন।  
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

পানিশুন্য যমুনেশ^রি নদীতে কাঁটা,বিপাকে জেলে সম্প্রদায়


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ



শীত আসতে না আসতেই বদরগঞ্জ উপজেলার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদী এখন অনেকটাই পানিশুন্য। ইতোমধ্যেই কোথাও কোথাও নদীতে জেগেছে বড় বড় চর আবার কোথাওবা নদীর গভীরতা বেশি হওয়ার কারনে রয়েছে পানি। এরই মধ্যে বেশিরভাগ এলাকার স্থানিয় কৃষকরা জেগে উঠা নদীর চরে তৈরি করছেন বীজতলা। কেউবা করেছেন ভুট্টার চাষ আবার কেউবা করেছেন আলু। শুধু তাই নয় নদীর গভীরতা বুঝে এলাকার কিছু প্রভাবশালি ব্যক্তি আগেই বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে নদীতে দিয়েছেন কাঁটা(মাছের অভয়াশ্রম)। দুর হতে নদীতে মাছের জন্য অভয়াশ্রম মনে হলেও নদীর আর একটুখানি পানি কমলেই তারা জাল দিয়ে ঘিরে তাদের কাঁটাতে আটকে যাওয়া মাছগুলো তুলে নিবেন। এমতাবস্থায় জেলে সম্প্রদায় পড়েছেন চরম বিপাকে। কারন এমনিতেই নদীতে আগের মত মাছ নেই। তার উপর নদীতে বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে প্রভাবশালিদের তৈরি করা কাঁটা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
সরেজমিনে গত শনিবার(৮ডিসেম্বর)দুপুরে উপজেলার কালুপাড়া ইউপির চান্দামারি ব্রীজ সংলগ্ন যমুনেশ^রি নদীতে গিয়ে জাল দিয়ে ঘিরে কাঁটা হতে মাছ আহরনের দৃশ্যই চোখে পড়ে। 
কথা হয় জেলে রজনী কান্ত দাস(৫০) বসন্ত দাস(৩৫) ও সুশান্ত দাস(৪৫)এর সাথে। তাদের ৩ জনের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদাম পাড়া গ্রামে। এদের প্রত্যেকের আদি পেশা নদীতে মাছ ধরা। এক সময় তাদের প্রত্যেকের বাবা দাদারা এই যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় আগের মত আর নদীতে পানি এবং মাছ না থাকায় বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে তারা প্রত্যেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। মাঝে মধ্যে নিজের প্রয়োজনে কখনো বেকার থাকার কারনে কখনোবা বাপ দাদার আদি পেশার টানেই নদীতে ছুটে আসেন। আজ তারা তিন জনেই এসেছেন জাল নিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরতে।
নদীতে জাল ফেলার ফাঁকে কথা হয় জেলে রজনী কান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, সেই সকাল থাকি মাছ মারোচি, এখন দোপড় গড়োছে, মাছ পাইনো ১কেজির মতন। জাল ধরি হামার খালি ঘোরায় সার। মাছ আর পাইনো না।
তিনি জানান,আগে হামার বাপ দাদারা এই নদীত মাছ ধরি সংসার চালাইছে। হামরাও এক সময় বাপের সাথে মাছ ধরি বেড়াইছি। তখন অনেক মাছ আছিলো। এখন আর নদীত মাছ নাই। তার উপর নদীত মানুষ যেটে সেটে দিছে কাঁটা,ওটেকোনায় তো কমবেশি সউক মাছ আটকি গেইছে,হামার জালোত মাছ আসপে কোটে থাকি ? 
তিনি আরও জানান,নদীত মাছ নাই দেখি হামরা এখন বাধ্য হয়্যা কৃষি শ্রমিকের কাম করি। এই সময়টাতে তেমন কোন কাম নাই। বেকার হয়্যা আছি। ভাবনো,নদীত যাই,যদি মাছ পাই,তাইল্যে আজকের দিনটা অন্তঃত কোন রকমে চলবে। মাছ তো পাইনো না।
কথা হয় সুশান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান,এই যে হারা তিন জন। মাছ পাইনো কেজি খানেক। এতকোনা মাছ দিয়্যা কি হইবে ? মাছ মাইরব্যার আসস্যাটাই হামার ভুল হইছে।
অপর জেলে বসন্ত দাস বলেন,নদীই হামার জীবন। এমনিতেই নদীত মাছ নাই তার উপর কিছুদুর পর পর মানুষ নদীত দিছে কাঁটা। অতে জাল ধরি নদীত আলছি যদি মাছ পাই। আসোলে এই সময়টাত হামার কোন কাম নাই। বউ ছইল ধরি তো বাঁচপার নাগবে। এই জন্যে নদীত আইস্যা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান,নদ-নদীগুলোতে পানি না থাকায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি জানান,মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ এলাকায় দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এ কারনে জেলে সম্প্রদায়ের দুর্দিন যাচ্ছে। 
তিনি আরও জানান,কাঁটা দিয়ে মাছ আহরন করা অন্যায়। কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪










 

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৮

বদরগঞ্জে থেমে নেই তামাকের চাষ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

রংপুর বদরগঞ্জের কৃষকরা বিষ বৃক্ষ তামাক চাষ কমে দিলেও এখনও পুরোপুরি  কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা যায়নি। যদিও কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও চাষিদের উপলব্ধিতে উপজেলায় তামাক চাষ কমে গেলেও ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারে কিছু কিছু এলাকার কৃষকরা এখনও তামাক চাষ করেই চলেছেন। এক সময় এ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে বেড়েছিলো তামাকের চাষ।
ওই সময়টাতে নগদ অর্থ ও অধিক মুনাফার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে তামাকজাত দ্রব্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জেনেও কৃষকরা তামাক উৎপাদন করছিলো। পরবতীর্তে কৃষিবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্তরিকতা ও কৃষকদের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্ক জোরদার এবং তামাকের ক্ষতিকর দিক সমুহ কৃষকদের বোঝাতে সক্ষম হওয়ার কারনে তামাক চাষিরা দিন দিন নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,গত বছর এ উপজেলায় তামাকের চাষ হয়েছিলো ২৫ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর তামাকের চাষ আরও কমে যেতে পারে। যদিও ট্যাবাকো কোম্পানিগুলো গত বছর এই ২৫ হেক্টর জমির তামাকগুলো কৃষকদের কাছ হতে বেশি মুল্যে ক্রয় এবং আগাম লোনের ব্যবস্থা করার কারনে কৃষকরা তামাক চাষ করেছিলো।
আরও জানা যায়, গোটা উপজেলার মধ্যে মধুপুর ইউপিতে কৃষকরা তামাক চাষ করছে। এ ছাড়াও পৌরশহরের নদীর তীরবর্তী কিছু এলাকায় তামাক চাষ এখনও হচ্ছে।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির তামাক চাষি আজিজুল হকের সাথে,তিনি জানান,তামাক চাষে অধিক লাভ। তার বালু মিশ্রিত অল্প জমিতে তিনি তামাক চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন,ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার আমাকে আকৃষ্ট করেছে তামাক চাষে। ক্ষতিকর দিকের কথা জানালে,আগামিতে আর তামাক চাষ করবেন না বলে জানান।
পৌরশহরের গত বারের তামাক চাষি হরেন্দ্রনাথ রায় জানান,ক্ষতিকর দিকের কথা মাথায় রেখে ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফার ফিরিয়ে দিয়ে এ মৌসুমে তামাকের জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি।
তামাকের পরিবর্তে অন্যান্য ফসলে কৃষকরা যাতে ন্যার্য মুল্য পায় এ দাবিও জানান তিনি। 
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কারনে ভুট্টা,সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান,আমরা তামাক চাষিকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা সহ তামাক চাষিদের তামাকের চাষ সম্পর্কে কোন ধরনের পরামর্শ দেইনা। বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ জোবায়দুর রহমান মামুন জানান,ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর অধিক মুল্যে তামাক ক্রয় ও কৃষকদেরকে আগাম লোনের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও আমরা কৃষকদেরকে তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এ কারনে আমার উপজেলায় তামাক চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


    



রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

বদরগঞ্জে ধানের ফলন ভাল হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

হাঁড়ভাঙ্গাঁ খাটুনি আর কৃষানোক(কৃষি শ্রমিক)টাকা দিতেই হামার শ্যাষ,লাভের লাভ কিছুই হয় না। ধানোত কিছু নাই বাহে। ধান আবাদ করি বউ ছইল ধরি সংসার চালায় হামার দায় হয়্যা পড়ছে। কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বললেন উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল এলাকার কৃষক অতুল চন্দ্র রায়(৬০)।
রংপুরের বদরগঞ্জে আমন ধানের ফলন ভাল হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারন আমন ধান আবাদে কৃষকের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে বর্তমান বাজারমুল্যে স্থানভেদে বিঘা প্রতি কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সাথে তো কৃষি শ্রমিক সংকট রয়েছেই।  
সরেজমিনে গত শনিবার(২৪নভেম্বর)উপজেলা ঘুরে কৃষকদের ধান কাটা,ধান বহন করা এবং ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক হেমন্ত সরকারের সাথে,তিনি জানান,প্রতি বিঘা(৬০শতাংশ)জমিতে আমন চাষ করতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার ৫শত টাকা। জমিতে সেচ দিয়ে ধান পেলাম প্রতি বিঘায় প্রায় ৩৬মন ধান। আর যারা সেচ দেননি তারা ধান পেয়েছেন ৩০মনেরও কম।
তিনি আরও জানান,বর্তমান বাজার মুল্য ৪৪০টাকা(প্রতি মন)। ৩৬মন ধান বিক্রি করলে দাম পাবো প্রায় ১৬হাজার টাকা। বিঘা প্রতি লোকসানে আছি ১হাজার ৫শত টাকা। ধানের দাম ৫শত টাকার নীচে থাকলে সকল কৃষকই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ পৌরশহরের ডাঙ্গাপাড়া মহল্লার কৃষক কামরুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,আমার বাবা এক সময় ধান বিক্রি করে ইলিশ মাছ নিয়ে আসতো। কিন্তু আমি এখন ধান আবাদ করে আমার বাচ্চাদের ইলিশ মাছ খাওয়াতে পারি না। বিঘা প্রতি আমার লোকসান প্রায় ২হাজার হতে আড়াই হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান,আমি ১০বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। আমনের উৎপাদন খরচ আর কৃষি শ্রমিকদের টাকা দিতেই তো আমি শেষ। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই তো ধান আবাদ করতে হচ্ছে। সংসার চালাবো কি করে ?
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,উপজেলায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে ধানের দাম কম হওয়ায় এখন পর্যন্ত কৃষকরা লোকসানের মুখে রয়েছে। ধানের দাম ৫৫০টাকার নীচে হলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন না। 
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান মামুন জানান,আমার উপজেলায় চলতি বছর আমনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারনে বর্তমান বাজারমুল্যে ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪











শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

হারিয়ে যেতে বসেছে শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শিশু-কিশোরদের এক সময়ের জনপ্রিয় খেলার মধ্যে অন্যতম ছিল লাটিম খেলা । অথচ সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য গ্রামিন খেলাধুলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলাটি যেন আজ সময়ের পথপরিক্রমায় হারিয়ে গেছে।    
বিগত দিনের গ্রামিন শিশু-কিশোরেরা যে বয়সে খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকত ডিজিটাল এই যুগে এখন সে বয়সে তারা যান্ত্রিক খেলাধুলায় মেতে থাকে। আগের দিনের পাড়া মহল্লার শিশু-কিশোরেরা দলবেঁধে গ্রাম্য খেলায় বিশেষ করে লাটিম খেলায় মেতে হারিয়ে যেত তাদের আপন ভুবনে। অথচ বর্তমানে ওই বয়সের শিশু কিশোরেরা এখন গ্রাম্য খেলাধুলা(লাটিম)বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমস,ভিডিও গেমস খেলাধুলাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম(ফেসবুক) নিয়ে ব্যস্ত  থাকে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করলেও কালের বিবর্তনে যুগের গতানুগতিক হাওয়ায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা আজ হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার(১৬নভেম্বর) উপজেলা ঘুরে মধুপুর ইউপির সন্তোষপুর চারআনিপাড়া নামক গ্রামে গিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্য চোখে পড়লে দ্রুত মটরবাইক থামিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্যের স্থির চিত্র ধারন করি। 
এ সময় কথা হয় কিশোর জিম বাবুর সাথে,সে এই প্রতিবেদককে জানায়,আমি ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। লেখাপড়া ও অন্যান্য খেলাধুলার ভীড়ে লাটিম খেলা এখন আর হয়েই উঠেনা। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিন্ধান্ত নিয়েছি আজ লাটিম খেলবো।
একই কথা বলেন অপর কিশোর জয় বাবু,সে জানায়,ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা ছাড়া লাটিম খেলার জন্য সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক দিন পর আজ লাটিম খেলছি। ভীষন ভালো লাগছে।
দেশিয় সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহি খেলাধুলা(লাটিম)বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার।




বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

পাখিদের প্রতি ভালবাসা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

ছিমছাম পরিপাটি বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ। চারিদিকে সারি সারি ফলজ আর বনজ গাছে ভরা। আর তাতে বিশেষ করে (সারি সারি) নারিকেল গাছে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও পরিষদের শ্রীবৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হচ্ছে পানির ফোয়ারা। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে বদরগঞ্জবাসি স্বাগত জানিয়েছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(৬নভেম্বর)সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়,নারিকেল গাছগুলিতে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল সহ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তা দেখতে আসছেন উপজেলায় আগত বিভিন্ন এলাকার লোকজন।
পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় সহ পানির ব্যবস্থা করা দেখে উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ এলাকার স্কুল শিক্ষক আঃ রাজ্জাক এই প্রতিবেদকে জানান,আমি সত্যিই মুগ্ধ,উপজেলা প্রশাসন বিশেষ করে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক স্যারের প্রতি। কারন তিনি বদরগঞ্জে আসার পর উপজেলা পরিষদের চিত্রই পাল্টে গেছে। পাখিদের প্রতি মমত্ব এর আগে আমি আর কোন নির্বাহি অফিসারের দেখিনি।
উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মিম চৌধুরি জানান,আমাকে খুব ভাল লেগেছে উপজেলা প্রশাসন তথা নির্বাহি অফিসারের এই কর্মকান্ডে। আমি যতটুকু জানি,তিনি তার দাপ্তরিক কাজ সহ সকল কাজের প্রতি বেশ আন্তরিক। আর তার পাখিদের প্রতি এই মমত্ব আমার মনকে ভীষনভাবে নাড়া দিয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপজেলা নির্বাহি অফিসারের এ উদ্যোগকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,মুলতঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আমার এ কাজটি করা। তবে সবে শুরু করেছি মাত্র। আমার কাছে মনে হয়েছে,নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে দিনকে দিন  পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

 


  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...