শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

কবিতা- ছেড়ে থাকা




“আমার ভালবাসার ফুলদানিতে,
                     তুমিই একমাত্র ফুল,
যে ফুলকে আমি সাজিয়েছি,
                     হৃদয়ের ফুলদানিতে,
বর্তমানে তোমার বসতি,
                     আমার হৃদয়ের গোপন কুঠিরে,
বুঝেছি এখন আমি,
                     তোমায় ছেড়ে থাকা মানে,
গহীন অরন্যে গন্তব্যহীন পথচারি হওয়া।”


কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭

প্রানিজ আমিষের উৎস শুটকি মাছে ক্ষতিকর কেমিকেল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মানব দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান আমিষ বা প্রোটিন। নানা উৎস হতে আমিষের চাহিদা পুরন করে মানুষ। এর মধ্যে শুটকি মাছ অন্যতম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়,যে উৎস হতে আমরা বেশি পরিমানে আমিষ পেয়ে থাকি সেই শুটকি মাছে যদি দেয়া হয় ক্ষতিকর কেমিকেল তাহলে একবার অনুভব করুন, কতটা হুমকিতে আমাদের জনস্বাস্থ্য।
সরেজমিনে রংপুর বিভাগের শুটকি মাছের বড় আড়ত নীলফামারির সৈয়দপুরে গিয়ে দেখা যায় এর বাস্তব চিত্র। শুটকির আড়তের কম বেশি সকল দোকান ঘুরে যায় ক্ষতিকর কেমিকেল ডিডিটি পাউডার সহজলভ্য হওয়ায় এসব আড়তে শুটকি মাছে পোকা দমনের নামে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পাউডারটিই ব্যবহৃত হচ্ছে সবচাইতে বেশি। সেই সাথে দেয়া হচ্ছে শুঁটকির স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বিভিন্ন দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়; বর্তমানে ওই আড়তে শুটকি মাছের ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করছে।
অনেক ব্যবসায়ি ব্যবসায় পুঁজি হারিয়ে এবং ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পারায় নিঃস্ব হয়েছেন। কেউবা আবার বাড়ি ঘর বিক্রি করে লোন পরিশোধ করে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন। এই আড়ত হতে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকাড়রা এসে শুটকি মাছ ক্রয় করে বিক্রি করছেন তারা  দেশের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে। এতে করে ভোক্তরা চড়া দাম দিয়ে শুটকি মাছ কিনলেও কেমিকেল মিশ্রিত এই শুটকি মাছ কিনে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন অন্যদিকে রয়েছেন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
আরও জানা যায়;বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভেজাল বিরোধি অভিযানে সৈয়দপুরের বেশকিছু শুঁটকির আড়তে অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ শুঁটকিতে ক্ষতিকর ডিডিটি পাউডার মিশ্রনের দায়ে অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালা করে দেয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়িরা পূনরায় শুঁটকিতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ডিডিটিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রন শুরু করে দিয়েছে।
বর্তমানে শুঁটকির আড়তে ভেজাল বিরোধি অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় ব্যবসায়িরা অবাধেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা।
শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের  এই প্রতিবেদককে জানান; ১৯৮৩ সালে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল (নিয়ামতপুর) এলাকায় গড়ে উঠে এ শুঁটকি মাছ ব্যবসার আড়ত। প্রথম দিকে এখানে ১০-১৫ জন আড়তদার ছিল। ধীরে ধীরে আজ এ ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের দেশের ২য় বৃহত্তম শুঁটকি মাছের বন্দর এটি। এখানে স্থানীয় ফড়িয়া রয়েছে ৫৬ জন আড়তদার রয়েছে ১৫ জন। দেশের নানা প্রান্ত হতে এখানে শুটকি মাছের ব্যবসায়িরা আসেন প্রায় কয়েক হাজার। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি মাছ কেনা-বেচা হয়ে থাকে এখানে। মাছ আসে দেশের চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং পাবনা থেকে। এছাড়াও ভারতীয় শুঁটকি মাছ আসে বৈধভাবে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। বর্তমানে এখানে মিঠা পানি ও সামুদ্রিক শুঁটকি মাছ কেনা বেচা হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান;, আগের তুলনায় শুঁটকি মাছের দাম অনেকটা বেশি। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে গাড়ি ভাড়া। এখানকার বেশির ভাগ ফড়িয়া ও আড়তদার রয়েছেন পাবনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফরিদপুর এলাকার।
সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান; রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো শুঁটকি মাছ খেলে মানুষের কিডনি ড্যামেজ, চর্ম রোগসহ নানা ধরনের  সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ সব খাবার পরিহার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে কদম নামক বৃক্ষটি




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কদম একটি গাছের নাম। ফুল ফোটে মুলতঃ বর্ষাকালে। গাছটি লম্বাটে ধরনের। এর পাতা বড় ও চ্যাপ্টা ধরনের। ফুলগুলো দেখতে ছোট ছোট বাতির মত গোল গোল। ফল ৩সে.মি চওড়া, শাঁসাল ও হলুদ রংয়ের। ফুলটি আসলে অনেকগুলো ফুলের গুচ্ছ। এর সুগন্ধ খুবই উপভোগ্য।  
কদমের বৈজ্ঞানিক নাম- অ্যানথোসিফালাস সাইনেনসিস। গোত্র- রুবিয়েসি।
গাছটির উচ্চতা ২০ হতে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে কদম নামক উদ্ভিদটি। চিরচেনা পরিবেশ বান্ধব এই উদ্ভিদটি এক সময় বাংলাদেশের সবখানে দেখা গেলেও বর্তমানে তেমন আর চোখে পড়ে না।
সরেজমিনে ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা মেলে কদম গাছটির।
কদম গাছ সম্পর্কে কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিনের (৬৫)সাথে,তিনি জানান; এক সময় কমবেশি সকল স্থানে কদমের গাছ চোখে পড়তো। বর্তমানে আর দেখা যায় না। গাছগুলি কেটে ফেলে নতুন চারা না লাগানোর কারনে গাছটি আজ বিলুপ্তির পথে।
কথা হয় একই গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা(৬০)সাথে,তিনি জানান; আম লিচুর গাছ আমরা যেভাবে রোপন করছি তার কিঞ্চিত পরিমানও কদম গাছের চারা রোপন করছি না। উপরন্তু যে সকল কদম গাছ ছিল তা কেটে আমরা সাবাড় করে ফেলেছি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রকৃতি বান্ধব কদম গাছটি আর নেই বললেই চলে। কারনে অকারনে আমরা গাছটিকে কেটে শেষ করে দিয়েছি। নতুন প্রজন্মকে কদম গাছ সম্পর্কে জানাতে হবে।
তিনি আরও জানান; আমাদের প্রয়োজনে গাছটিকে সংরক্ষন করতে হবে তা না হলে কদম নামের প্রকৃতি বান্ধব গাছটি একদিন হারিয়ে যাবে নিশ্চিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির কদম নামক গাছটিকে আমাদের স্বার্থে সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি হতে একদিন হারিয়ে যাবে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে কামিনী নামক উদ্ভিদটি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে উঠা উদ্ভিদের মধ্যে“কামিনী” অন্যতম। ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা জ্বালানি হিসেবে এদের আমরা কেটে ফেলি। অথচ অযন্তে পড়ে থাকা গুল্ম জাতীয় দেশিয় প্রজাতির উদ্ভিদটির সাদা সাদা ছোট ফুলের ঘ্রান এতটাই চমৎকার যে কারোরই মন ভরিয়ে দেয়।
এক সময় বাংলাদেশের বন-জঙ্গল সহ সর্বত্রই কমবেশি কামিনী নামক ফুলের গাছটির দেখা গেলেও বর্তমানে তা আর সচারাচর দেখা যায় না।
কামিনীর বৈজ্ঞানিক নাম মুরায়া প্যানিকুলেটা। গোত্র-রুটাসি। গাছটি তুলনামুলক ছোট। কামিনীর ফুল ছোট ছোট সাদা রংয়ের হয়। গাছটির পাতা ঘন ও ছোট ।  
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে“কামিনী” নামক ফুল গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান;এখন আর কামিনী নামক ফুল গাছটি পাওয়া যায় না। কামিনী ফুলের ঘ্রান এতটাই যে, ফুল ফুটলে এর ঘ্রান আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান; ছোট বেলা হতে দেখেছি আগে আমাদের এলাকায় যেখানে সেখানে কামিনী নামক ফুলের গাছ ছিল। বর্তমানে আর তেমন চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির পরিবেশ বান্ধব কামিনী ফুল গাছটির সংরক্ষন জরুরি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীবজ্ঞিান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মুল্যবান কামিনী নামক পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির ফুল গাছটি আর সচরাচর দেখা যায় না। গাছটির সংরক্ষন জরুরি। তা না হলে ফুল গাছটি একদিন প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; কামিনী নামক ফুল গাছটি আর চোখে পড়ে না। গাছটির সংরক্ষন জরুরি। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭

“আলোক ফাঁদ” ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ভু-প্রকৃতি ও ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ নামক ভৃ-খন্ড সৃষ্টির সময় বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি। পুর্বে জনসংখ্যা কম থাকার পরও আমাদের দেশে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিত। অথচ বর্তমানে জনসংখ্যা দ্বি-গুন হবার পরেও খাদ্য শষ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব ! মুলতঃ কৃষকরা সনাতন ধারনা হতে বের হয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগি কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং দেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের কৃষি খাত আজ সমৃদ্ধ হয়েছে। যারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্তকরনে আলোক ফাঁদ স্থাপন করেছে। অন্ধকারে আলোক ফাঁদ স্থাপন করলে আলো দেখে পোকা তাতে আকৃষ্ট হয়। ফাঁদে আটকে যাওয়া পোকা পর্যবেক্ষন করলে বুঝা যায় ফসলে ক্ষতিকর পোকার আর্বিভাব হয়েছে কিনা। এভাবেই কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ ব্যতিরেকে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের কৌশল শিখেছেন অধুনালব্ধ জ্ঞান হতে। 
রংপুরের বদরগঞ্জে ফসলের জমিতে(ইরি ধান) ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে কিছু ফসলের মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপন করছে কৃষি অফিস। এখন পর্যন্ত তেমন কোন ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত না হওয়ায় বদরগঞ্জ কৃষি অফিস আশা করছে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হবে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়; চলতি মৌসুমে বদরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোট ১৭হাজার ৪১০হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়েছে। ইরি ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার আবির্ভাব ঘটতে পারে। এ কারণে কৃষকরা তাদের জমিতে স্থাপন করেছে আলোক ফাঁদ। যাতে করে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করা যায়।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত কৃষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; পুর্বে কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের কারনে তাদের উৎপাদিত ফসলের ফলন কম হতো। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেত। বর্তমানে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সন্মত জ্ঞান লাভের ফলেই ফসলের উৎপাদন বেড়ে গেছে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকা দমনের ফলে উৎপাদন খরচও কমে গেছে। ফলশ্রুতিতে কৃষিতে এসেছে সমৃদ্ধি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন) কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; ধান ক্ষেতে রাতের অন্ধকারে আলোক ফাঁদ স্থাপন করলে তাতে পোকা আকৃষ্ট হয়। আর ওই ফাঁদ থেকে প্রাপ্ত পোকা পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই বোঝা যায় ক্ষতিকর পোকার আবির্ভাব হয়েছে কিনা।
তিনি জানান; ইরি ক্ষেতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর পোকার নাম মাজরা পোকা। এ কারনে জমিতে বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া হয়েছে। পাখি ওই কঞ্চিতে বসে মাজরা পোকার ডিম(মথ) খেয়ে ফেললে আর মাজরা পোকা ফসলের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এ ছাড়াও কিছুটা বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার ভয় রয়েছে। যার কারনে কৃষকরা জমিতে আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান;অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ইরি ক্ষেত ও স্যাঁৎ স্যাঁতে স্থান হল বাদামি গাছ ফড়িংয়ের বা কারেন্ট পোকার আশ্রয় স্থল। এরা ধান গাছের গোড়ায় অবস্থান করে। যদি কোন ক্ষেতে বাদামি গাছ ফড়িং থাকে তাহলে ওই ক্ষেতের গাছ সরিয়ে মাটিতে ভালোভাবে চোখ রাখলেই দেখা যায় বাদামি রঙের পাখনাযুক্ত ছোট ছোট পোকা ভরাপেট নিয়ে কৌণিকভাবে ছুটে চলছে। এ দৃশ্য চোখে পড়ার সাথে সাথেই ধান গাছের মাথা সরিয়ে দিতে হবে। যাতে করে মাটিতে সহজেই আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। কারণ, বাদামি গাছ ফড়িং আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে কখনোই থাকতে পারে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান; ফসল রক্ষায় কৃষকরা আগের চাইতে অনেক বেশি সচেতন। আশা করছি বড় কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে ইরির ফলন বাম্পার হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭

আমরা মানুষকে ভাল রাখার চেষ্টা করলেও আমরা ভাল নেই! রাস্তায় যাদের জীবন জীবিকা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবনের প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশার সাথে জড়িয়ে পড়ে। বাঁচার তাগিদে মানুষ জীবনের ঝুকি নিতেও ভয় পায় না। মেইন সড়কে যানযট নিরসনে কয়েকজন পৌর পুলিশ সকাল হতে রাত পর্যন্ত নিরলশভাবে কাজ করে চলেছেন তাদের একজন আনোয়ার হোসেন(৪০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির কাজিপাড়ায়।
তিনি জানান; ২ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও মেইন সড়কে যানযট নিরসনে দিন রাত কাজ করছি। কখন কি হবে আমি জানি না। লেখাপড়া তেমন জানি না। গরীব মানুষ কিছু একটা কাজ করে তো সংসার চালাতে হবে। তিনি আরও জানান;মেইন সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা মানুষকে ভাল(নিরাপদ) রাখার চেষ্টা করলেও আমরা ভাল নেই।
পৌর পুলিশ জাবেদ মিয়া(৩২)জানান; আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। মাঝে মাঝে মনে হয় আজ বাড়ি ফিরতে পারবো তো ! তিনি আরও জানান;গরীব মানুষ লেখাপড়া কম। কি আর করার আছে। ৫ হাজার টাকা বেতন পাই। এই টাকা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাতে হয়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো,বেতন যদি আর কিছুটা বাড়িয়ে দিত তাহলে উপকৃত হতাম।
অপর পৌর পুলিশ নুর আলম(৪২)জানান; রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে আমরা রাস্তায় থাকি। যানযট নিরসনে কাজ করি। যা বেতন পাই তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাই। তিনি আরও জানান;পৌরসভা হতে আমাদের যা বেতন দেয়,উর্দ্ধমুল্যের বাজারে তাতে কিছু হয় না। পৌরসভা কর্তপক্ষ যদি বেতন বৃদ্ধি সহ পেনশনের ব্যবস্থা আমাদের করে দিত তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।  
বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহা জানান; আগে পৌর পুলিশদের ভাতা কম ছিল সাম্প্রতিক সময়ে ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের ভাতা আরও যাতে বৃদ্ধি করা যায় এ বিষয়টি আমার মাথায় রয়েছে। আমি তাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই দেখবো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

খই ভেজেই জীবিকা নির্বাহ যে গ্রামের মানুষদের



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বাঙ্গালীরা সবসময় ভোজন প্রিয় জাতি। বাহারি রকমের আহার গ্রহন করতে তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের মানুষরা সকালে নানা ধরনের আহার(খাদ্য) গ্রহন করেন তার মধ্যে ধান দিয়ে তৈরি খই অন্যতম। ভোজনপ্রিয় বাঙ্গালীদের আহারের জন্য তৈরিকৃত খাদ্য সরবরাহ করে একটি সম্প্রদায়ের ২ শতাধিক নারী-পুরুষ দীর্ঘসময় ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এরা হলেন রংপুর বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউপির মোকছেদপুর হিন্দুপাড়ার গ্রামের বাসিন্দরা। এই গ্রামের সকল নারী পুরুষ প্রতিদিন খই ভাজা ও তাদের তৈরিকৃত খই বাজারজাত কাজে সদা ব্যস্ত সময় পার করেন। খই ভাজার আয় দিয়েই চলে তাদের প্রত্যেকের সংসার। বদরগঞ্জ উপজেলার সকল মানুষ ওই গ্রামকে চেনে খই গ্রাম নামে।
সরেজমিনে খই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়; চুলোর উনুনে বসে কাজ করা অগ্নি নারীরা নিজের সংসার সামলানোর পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে কাজ করে চলেছেন। প্রতিদিন এই গ্রামের অগ্নি নারীরা ৫মন পর্যন্ত ধানের খই ভাজতে পারেন। শুধুমাত্র খই ভাজার কাজ করে এই গ্রামের অনেকেই এখন স্বাবলম্বি হলেও বাপ-দাদার আদি পেশা তারা এখনও ধরে রেখেছেন।
কথা হয় ধান হতে তৈরি খই ভাজা নারী শ্রমিক উষা রানির(৩৫) সাথে,তিনি জানান; আমরা গরীব মানুষ। আমাদের বসতভিটা ছাড়া আর কিছু নাই। তাই খই ভেজে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। হাতে সবকিছু মজুদ থাকলে আমরা নারীরা প্রতিদিন ৫মণ ধানের খই ভাজতে পারি।
নারী শ্রমিক কনিকা রাণী(৩২)জানান; দীর্ঘ সময় আমরা আগুনের কাছে থাকি। কষ্ট হলেও আমাদের সয়ে গেছে। আগুনের তাপে আর আমাদের কিছু হয় না। আর এই কাজ না করলে আমরা খাবো কি?
খই গ্রামের বাসিন্দা ও নারী শ্রমিক টোলো রানী, চন্দ্রনা রাণী, ও রঞ্জিতা রানি জানান;খইয়ের চাহিদা বেশি থাকায় এই অঞ্চলের মহাজনরা আমাদের কাছ থেকে প্রতি কেজি খই ৫০ টাকা দরে কিনে তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক যোগে পাঠায়।
রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুলাহ আল মামুন জানান;মোকছেদপুর বটতলি হিন্দুপাড়া গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে খই তৈরি করে আসছেন। প্রতিদিন গ্রামের পার্শ্বে বটতলিতে বসে বিরাট খইয়ের বাজার। সেখানে খই বিক্রি করে এখন এই গ্রামের অনেকেই স্বাবলম্বি হচ্ছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...