সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

কাউন চাষ আর নেই

স্বল্প খরচ পরিবেশ বান্ধব ও উপকারি ফসল হিসেবে পরিচিত কাউন চাষ আর নেই

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
রংপুরের বদরগঞ্জে এক সময় ব্যাপকভাবেই  চাষাবাদ হত কাউন নামের দেশি সূ-স্বাদু ফসলের। “ছিটারিয়া ইটালিকা” নামের গ্রামিনি গোত্রের এ ফসলটি বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে। দেড় যুগ আগেও  ফসলটি এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আবাদ হত। কিন্তু কালের গর্ভে ও উন্নত জাতের নানা ফসলের প্রতিযোগিতায় দেশি জাতের এ ফসলটি টিকতে না পেরে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। 
কাউন চাষ সম্পর্কে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ইসলাম উদ্দিন (৮৫) বলেন ; আমাদের এ অঞ্চলে আগে অনেক জমিতেই কাউন চাষ হত, এখন আর চোখে পড়ে না। ফসলটির চাষ পদ্ধতি সহজ,স্বল্প খরচ ও পরিবেশ বান্ধব। শুকনো জমিতে ঝুরঝুরে চাষের পর চৈত্র মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। আষাঢ় মাসে ফসল ঘরে উঠে। তিনি আরও বলেন ; কাউন চাষে একবার নিড়ানি দিলেই হয়,সেচের প্রয়োজন হয না। ফলন হয় বিঘা প্রতি ১০-১৫মন। বাজারে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাছাড়া কাউনের শীষ ছিড়ে নিয়ে অবশিষ্ট গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে জৈব সারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। আবার কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। কাউনের ভাত অত্যন্ত সূ-স্বাদু ও মুখরোচক, জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। পিঠা-পায়েস তৈরিতে এর কোন জুড়ি নেই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজামান মুক্তা জানান ; লাভজনক,সূ-স্বাদু পরিবেশ বান্ধব ও স্বল্প খরচে আবাদ যোগ্য কাউন নামের দেশি এই ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এ জন্য সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন ; কাউন ফসলটি আসলেই বিলুপ্তির পথে। উপজেলায় কোন চাষি কাউন আবাদ করে কিনা তা আমার জানা নেই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


বিলীন হতে চলেছে শিশু-কিশোরদের গ্রামিন খেলাধুলা !

বিলীন হতে চলেছে শিশু-কিশোরদের গ্রামিন খেলাধুলা !

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ( রংপুর)ঃ
 কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে শিশু কিশোরদের গ্রামিন খেলাধুলা। দিনের পর দিন গ্রামাঞ্চল ঘুরলেও এখন আর সচরাচর চোখে পড়েনা শিশু কিশোরদের সেকালের সেই গ্রাম্য  খেলাধুলা হা ডু-ডু ,গোল্লাছুট,বউছি, কিতকিত কানামাছি ভোঁ ভোঁ,লুকোচুরি,চোরডাকাত,পুতুল বিয়ে সহ নানা ধরনের খেলাধুলা। বিগত দিনের শিশু কিশোরেরা যে বয়সে এ সব খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকত এখন সে বয়সে তারা যান্ত্রিক খেলাধুলায় মেতে থাকে। সে কালের পাড়া মহল্লার শিশু কিশোরেরা দলবেঁধে গ্রাম্য খেলায় মেতে হারিয়ে যেত তাদের আপন ভুবনে। অথচ বর্তমানে ওই বয়সের শিশু কিশোরেরা গ্রাম্য খেলাধুলা বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমস,ভিডিও গেমস নিয়ে ব্যস্ত  থাকে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করলেও কালের বিবর্তনে যুগের গতানুগতিক হাওয়ায় আজ গ্রামের ঐতিহ্যবাহি খেলা ধুলা হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে সে কালের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা মার্বেল,হা ডু-ডু ঘুড়ি উড়ানো। বর্তমান সময়ের কিশোরদের মার্বেল হা ডু-ডু ও ঘুড়ি উড়ানোর মত খেলার সঙ্গে তাদের আর কোন পরিচয়ই নেই। অথচ এখন তারা খেলার মধ্যে ফুটবল বিশেষ করে ক্রিকেট খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। সম্প্রতি সরজমিনে বদরগঞ্জের ১০টি ইউনিয়ন ঘুরে কালুপাড়া ইউনিয়নের শংকরপুর নামক গ্রামে দেখা যায় অনেকগুলো শিশু কিশোর একত্রিত হয়েছে তাদের সাথে কথা হলে তারা জানায়;মাঠে খেলতে যাচ্ছি। এদের মধ্যে একজনের নাম সুজন। ৫ম শ্রেনীতে পড়ে সে। তাকে প্রশ্ন করলাম কি খেলা খেলতে যাচ্ছ? উত্তরে জানাল ক্রিকেট। গোল্লাছুট খেলতে পারো না? উত্তরে সে জানায়;সেটা আবার কি খেলা! দলবেঁধে আসা সকল শিশু কিশোরদের গ্রামিন খেলাধুলার সম্পর্কে জানতে চাইলেও কম বেশি সকলেই ঐতিহ্যবাহি গ্রামিন খেলাধুলার সাথে তারা কেউই পরিচিত নয়।
দেশিয় সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় কালের গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে গ্রামবাংলার এ সব খেলাধুলা বলে মনে করেন বদরগঞ্জ উপজেলা কলেজ শিক্ষক কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালাম।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার ‘চাই ‘টইয়া ‘পলো ‘ডারকি

হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার ‘চাই ‘টইয়া ‘পলো ‘ডারকি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
বাঙ্গালীর বিখ্যাত প্রবাদ ‘মাছে ভাতে বাঙ্গালী”। বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটিতে জালের মত বির্স্তৃত রয়েছে নদ-নদী খাল বিল। রংপুরের বদরগঞ্জ সহ দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৎস্য সম্পদকে আহরনের জন্য রয়েছে দেশিয় ভাবে তৈরি নানা ধরনের বাঁশ ও বেতের তৈরি যন্ত্র। এমনই কয়েকটি মাছ ধরার যন্ত্রের মধ্যে ‘চাই ‘টইয়া ‘পলো ‘ডারকি। গ্রামে গঞ্জে যখন খাল বিলে পানি কমে যায় তখন বাঁশের তৈরি এসব যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে মৎস্যপ্রেমিরা মাছ আহরন করে। চাই হচ্ছে আড়াই তিন ফিট লম্বা কৃতির গোলাকার যন্ত্র। টইয়া চ্যাপ্টা আকৃতির, মাছ ধরার ক্ষেত্রে চাই ও টইয়ার ব্যব্হার একই রকম। উচু জমি হতে পানি যখন সাধারনত নিচু জমিতে পড়ে তখন বাঁধ দিয়ে ছোট একটা জায়গা করে চাই,টইয়া ব্যবহার করা হয়। যাতে চাইয়ের ভিতর দিয়ে ও টইয়ার উপর দিয়ে পানি যায়। এতে বড় ছোট সকল প্রকার মাছ টইয়াতে আটকে যায়। জায়গা ও পানির প্রকার ভেদে চাই টইয়ার সাইজ ও বিভিন্ন আকৃতির ব্যবহার করতে হয়। টইয়াতে শুধু উপর দিকের পানি হতে আসা মাছগুলো ধরা পড়লেও চাইয়ের মধ্যে নিচের দিক হতে উজানে উঠা মাছ ধরা পড়ে। পলো হচ্ছে আড়াই তিন ফিট লম্বাকৃতির গোলকার যন্ত্র। কম পানির জায়গায় পানির উপরে ফেলে দিয়ে উপর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মাছ শিকার করা হয়। এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরেই ‘চাই ‘টইয়া ‘পলো ‘ডারকি দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল। বর্তমানে এ যেন এক সোনালি অতীত। এসব যন্ত্র আর এখন চোখেই পড়েনা।
মাছ ধরার দেশিয় যন্ত্র কিনতে আসা উপজেলার রামনাথপুর ইউপির মামুনুর রশিদ(৪৭)জানান;মাছ ধরার এই যন্ত্রগুলো এক সময় হাটে প্রচুর পরিমানে দেখা যেত। অনেক দিন পর হাটে মাছ ধরার যন্ত্রগুলো দেখতে পেয়ে ভাল লাগলো। তাই কয়েকটা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
মাছ শিকারের এসব দেশিয় যন্ত্রগুলো হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন;জলবায়ুর পরিবর্তন নদী নালা খাল বিলের পানি না থাকার কারনে দেশিয় প্রজাতির নানা ধরনের মাছ আর নেই বললেই চলে,এ জন্যই হয়তো আর এসব মাছ ধরার দেশিয় যন্ত্রগুলো আর চোখে পড়েনা।


বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১১ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
              


শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

পুস্প ও তার এলোমেলো স্বপ্ন

পুস্প ও তার এলোমেলো স্বপ্ন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
চারদিক অন্ধকারে ছেঁয়ে গেছে। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। হালকা বর্নিল স্বচ্ছ নীল আকাশটা বুঝি পেয়ে গেছে কোন অশনি সংকেত। এক্ষুনি বুঝি তার ন্যুইয়ে পড়া অসহ্য যন্ত্রনার যবনিকাপাত ঘটাবে অজ¯্র ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে।
এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। তবুও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেল,বুঝতে বাকি রইলো না পুষ্পের। তার এও বুঝতে বাকি রইল না যে, শৈশব কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়েছে সে।
বাবা মার রীতিমত উৎকন্ঠা আর দূঃচিন্তা দেখে পুষ্প নিজেকে প্রশ্ন করে সে কি সত্যিই বড় হয়েছে। তার সমবয়সী এক ভাই আছে তাকে নিয়ে তো বাবা মা এত টেনশন করেন না,তবে আমাকে নিয়ে তাদের এত কেন ভাবনা! এক সময় এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় সে। আর ভাবে সে যে নারী।
বাবা মা দাদু ঠাকুমার পীড়াপীড়ি রোধ করতে পারবে পুষ্প, কিন্তু এই ক্ষয়িষ্ণু ধ্বংসপ্রাপ্ত সমাজ ব্যবস্থার প্লাবন রোধ করবে সে কি দিয়ে ? একার কি শক্তি বা সামথ্য আছে যা দিয়ে পুষ্প এই সমাজ ব্যবস্থাটাকে পাল্টে দিতে পারে।
পাখির কিচির মিচির শব্দ আর ভোরের মৃদু সমীরনে শিরশির করে উঠল পুষ্পের শরীর। তৎক্ষনাৎ জেগে উঠলো সে।
চা নাস্তার টেবিলে বসে বাবা মা। এ সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। দরজাটা খুলে দিল পুষ্প। পিয়ন একটা পার্সেল ধরিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে বিদায় নিল।
পার্সেল খুলেই নজরে পড়লো বিয়ের কার্ড এবং একটি চিরকুট। কার্ডটি দেখে অবাক হয়ে চেয়ে রইল পুষ্প। অবাক হবার কারন হল যে মাসি তার মায়ের চাইতে অনেক ছোট তার একমাত্র মেয়ে কংকন ওর বিয়ে। কংকন সবে মাত্র নবম শ্রেনিতে পড়ে। বিশাল ব্যবসা ওর বাবার। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিয়ে। বাবা মার এত কিসের দায়,দায় সেরে গেলেই বুঝি বেঁচে যায় বাবা মা।
যথারীতি আয়োজন চলছে বিয়ের। যথাসময়ে পৌছে গেল পুষ্প সহ বাবা মা ভাই। পুষ্প অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াতে কংকন খুব খুশি হল। কিশোরি কংকন বুঝতে পারছে না যে আজ হতে সে শৃঙ্খলে বন্দি হবে। যে শৃঙ্খল সে কোন দিন ভাঙ্গঁতে পারবে না।
কিছুক্ষন পর মাসিকে জিজ্ঞেস করলাম ছেলেটা(হবু জামাই) কি করে ? মাসি দম্ভের সাথে উত্তর দিল জামাই পিএইচডি করে দেশে এসেছে কংকনকে বিয়ে করে আবার বিদেশে চলে যাবে। ওখানে বড় একটি কোম্পানিতে চাকুরি করে।
মাসির কথা শুনে অবাক হয় পুষ্প।  বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে পিএইচডি করা একটি ছেলের বয়স কমপক্ষে ৩৮। আর কংকনের বয়স বড়জোর ১৪। ব্যবধান অনেক(মূলতঃ গল্পে বয়সের ব্যবধানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে)। এও কি সম্ভব? মাসিকে জিজ্ঞাসা করলো পুষ্প,এত বয়সের একজন লোকের সাথে তুমি মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছো। মাসি কোন কথার উত্তর দিতে পারলো না,শুধু বুঝলাম নিভৃতে কাঁদছে তার মন।
সময় গড়িয়ে চলল। বর এল। সাত পাক ঘুরে বধুকে মালা পরিয়ে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করলো বাবার বয়সী লোকটা। কংকন উপোষ আছে,বাসি বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত মূখে কিছু দেবার যো নেই,এ নিয়ম না মানলে নাকি পতিধনের অমঙ্গল হয় ! সংসারের সূখ পতির দীর্ঘায়ু কামনায় কংকন উপোষ। এ দায় যেন নারীর একার। ফুলের মত মেয়েটি শুকিয়ে গেছে নিঃপ্রভ সলতের মত। সময় তার নিজস্ব গতিতে চলতে লাগলো,বাসি বিয়েও এক হয়ে গেল। এবার বিদায় লগ্ন।
এবার সবাই গাড়িতে উঠছে,তার আগে অবশ্য উঠে গেছে ছেলের বাবার যৌতুক অনুযায়ি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। কংকনের দু-চোখ বেয়ে ঝরছে অশ্রু। বাবা মাকে ছেড়ে যেতে চাইছে না কংকন। একবার বাবাকে আরেকবার মাকে জড়িয়ে কাঁদছে কংকন। এক প্রকার জোর করেই কারে(গাড়িতে)তোলা হল কংকনকে,আর তার সহযাত্রি হল পুষ্প। সে দেখছে আর ভাবছে একজন অপরিচিত যুবক,যুবক ঠিক নয়,মধ্যবয়সি মানুষের সাথে ঘর করতে হবে কংকনকে আজীবন। সমর্পন করে দিতে হবে তার নারীত্ব। এই সব কথা ভাবতে ভাবতেই পুষ্পের গহন অতল সমুদ্র হতে ঝরে এল লোনা পানি। রুমাল দিয়ে চোখ মুছলো পুষ্প ।
বরের বাড়ি চলে এল। পুষ্প একে একে গোটা বাড়ি দেখলো। শেষে চোখ পড়লো সুন্দর পরিপাটি একটি রুম তাকে ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে। মনে হল এটিই বাসর ঘর। সত্যিই সূখের বাসর হত যদি দুটি সম-বয়সি নারী পুরুষের মিলন হত। এটাকে নারীত্ব হরনকারি ঘর ছাড়া আর কিছুই মনে হল না পুষ্পের। যথা সময়ে বরাদ্দকৃত ঘর ছেড়ে দেয়া হল নব বর-বধুকে। যা হবার তাই হল।
পরদিন শোরগোলের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল পুষ্পের। একজন মাথায় পানি ঢালছে অন্যজন বাতাস করছে। পাশে বসে আছে ডাক্তার আর দূর হতে দেখছে কিংকর্তব্য বিমূঢ় পুষ্প। বেশ কিছুক্ষন পর স্বাভাবিক হল কংকন।
ঘরে বসে পুষ্প আর কংকন। শুধু দু-বোন। কংকন শুধু ফুপিয়ে কাঁদছে। জিজ্ঞেস করলো কংকনকে কি হয়েছে তার ? কংকন কোন কথার উত্তর দিতে পারলো না। শুধু পুষ্পের বুকের মাঝে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো। পুষ্প শুধু বুঝতে পারলো,হিং¯্র ক্ষুর্ধাত্ব শিংহের কাছ হতে ক্ষনিকের জন্য মুক্তি পাওয়া হরিন ছানার মায়ের কাছে লুকানোর আকুতি ! কি সাধ্য আছে মা হরিনের,হিং¯্র ক্ষুর্ধাত্ব শিংহের কাছ হতে হরিন ছানাকে বাঁচানোর। কংকনকে শান্ত হতে বললো পুষ্প। দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে। পুষ্পের মনে হল যেখানে অসহায় নারী, অসহায় তার নারীত্ব, আরও অসহায় এই নারী সমাজ। সেখানে একা পুষ্পের মত মেয়ের কি করার বা বলার আছে ?
পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্নে বাড়ি ছেড়ে রওনা দিল পুষ্প। কাউকে না জানিয়ে। কংকনকেও জানালো না সে। স্বার্থপরের মত চলে এল। এভাবে বেঁচে আছে কংকন নামের হাজারো কংকন। হাজারো কংকন হাজারো রকমের কষ্ট নিয়ে। কারুকার্যময় বাড়ির বেলকোনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে পুষ্প যেন তার কষ্ট ও এলোমেলো ভাবনাগুলোকে আধা ডুবো সূর্যের কাছে সমর্পন করে দিল।

বিঃদ্রঃ কোন ব্যক্তি,সম্প্রদায় অর্থ্যাৎ কাউকে অসন্মান বা হেয় করার জন্য গল্পটি প্রকাশ করা হয়নি। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   

কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে বহুমূখি ঔষধিগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ
 “বথুয়া”


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবজ্ঞা অবহেলা আর অনাদরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি বহুমূখি ওষুধীগুন সম্পন্ন যে সমস্ত উদ্ভিদগুলি বিলীন হতে চলেছে তার মধ্যে “বথুয়া” অন্যতম। ঈযবহড়ঢ়ড়ফরধপবধব(চিনোপোডিয়েসি)গোত্রের এর বৈজ্ঞানিক নাম ঈযবহড়ঢ়ড়ফরঁস ধষনঁস.(চিনোপডিয়াম এলবাম)। হাঁসের পায়ের পাতার মত চ্যাপ্টা আকৃতির পাতা বিশিষ্ট বলে একে ইংরেজীতে এড়ড়ংবভড়ড়ঃ বা হংসপদি বলে অভিহিত করা হয়। সারা বাংলা তথা ভারত বর্ষে এটি বথুয়া নামে পরিচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের শেষে ফসলের জমিতে, আইলে আপনা-আপনি বথুয়া জন্মে থাকে এবং সে সময় বাজারে সু-স্বাদু শাক হিসাবে বিক্রি করা হয়। সমগ্র পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৫ লক্ষ শিশু “ভিটামিন এ” অভাবে রাতকানা রোগ হয়। অথচ প্রচুর পরিমানে “ভিটামিন এ” সমৃদ্ধ এ বথুয়া উদ্ভিদকে আগাছা হিসাবে সহজেই উপড়িয়ে ফেলা হয়। খুব সাধারণ বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা কোন কোন পরিবার বছরে একবার এর পাতা ডগা শাক হিসাবে ব্যবহার করে। ব্রোঞ্চ যুগ থেকে ভোজ্য উদ্ভিদ হিসাবে বথুয়া পরিচিত হলেও বর্তমান প্রজন্মের নিকট এ উদ্ভিদটি অপরিচিতই রয়ে গেছে। বথুয়া এশিয়া ও ইউরোপের দেশজ উদ্ভিদ। ভারত এবং পাকিস্তানের দরিদ্র চাষিরা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের উপজাতিরা এখনও এ উদ্ভিদ চাষাবাদ করে। এর ফলগুলো গুড়ো করে ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ রুটি তারা তৈরি করে। অবহেলিত এ উদ্ভিদটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হিসাবে যকৃত রোগে হুকওয়ার্ম ও কেঁচো কৃমির জন্য ব্যবহৃত হয়। ভারতে ঢেঁড়সের পাতার মোজাইক রোগ দুর করতেও এর নির্যাস ব্যবহার করা হয়।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন ; অত্যন্ত উপকারি সহজলভ্য ও বহুমুখি গুন সম্পন্ন এই উদ্ভিদটি যাতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে বথুয়া উদ্ভিদ সম্পর্কে ধ্যান জ্ঞান দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মোবাইল ফোনে জানান; প্রকৃতির খুব কাছাকাছি উপকারি উদ্ভিদটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বথুয়ার সংরক্ষন যেমন জরুরি তেমনি নতুন প্রজন্মকে চিনিয়ে দেওয়াটাও জরুরি।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

     



বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে
সরিষার সাথে মধু চাষ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মাঠের পর মাঠ চোখ ধাঁধানো হলুদ ফুলের সমাহার আর মৌমাছির গুনগুন শব্দ নয়নাভিরাম চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য, যে কারোরই মনকে দোলা দেয়। শীতকাল এলেই দেশের গ্রামাঞ্চলের কম বেশি প্রতিটি মাঠই ভরে যায় হলুদের সমারোহে। সারা দেশের ন্যায় রংপুরের বদরগঞ্জও এর ব্যতিক্রম নয়। এ বছর বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে সরিষার চাষও হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে; চলতি বছর ২৩২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭৫হেক্টর বেশি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; সরিষা ক্ষেতে মৌ মাছি পরাগায়নে সহায়তা করে। এতে সরিষার ফলন ও দানা ভাল হয়। প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে সরিষা ফুল হতে মধু আহরনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং তা চলে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। সারাদেশে সরিষা চাষিদের যদি সরিষা চাষের পাশাপাশি মধু চাষের হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেয়া যায় তাহলে সকল কৃষকই অনেক লাভবান হবে। একটি জমিতে ১শত ৮টি কাঠের ফ্রেমে প্রতি সপ্তাহে চাষিরা তিন মনের অধিক মধু সংগ্রহ করতে পারে। তিনি আরও জানান; সরিষা ছাড়াও যে সমস্ত ফুলে মৌমাছি আকৃষ্ট হয় যেমন লিচু,সজিনা, ধনিয়া,কালোজিরা, তিল,সূর্যমূখি ফুল হতেও মধূ সংগ্রহ করা যেতে পারে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান;সরিষা চাষের সংগে মৌ চাষ করে কৃষকরা একদিকে যেমন নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন  করতে পারে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহযোগিতা করতে পারে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪     


বিজয়ের মাসে
বদরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আকুতি,দেখার কি কেউ নেই !

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমেনা বেগম(৮৫)। স্বামি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের স্ত্রী। যুদ্ধকালিন সময়ে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে স্বামিকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি তিনি(আমেনা বেগম) মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সরবরাহ,প্রতিদিন খাবার তৈরি করে পৌছিয়ে দেয়া সহ এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে ভারতের প্রশিক্ষন ক্যাম্পে পাঠানো ও তাদের উৎসাহ প্রদানই ছিল তার ওই সময়ের রুটিন মাফিক কাজ। যুদ্ধকালিন সময়ে সন্মূখ সমরে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধা স্বামি যখন ক্লান্ত হয়ে চুপিসারে বাড়িতে ফিরতেন তখন স্ত্রী আমেনা বেগম সারারাত জেগে স্বামির সেবা সহ এলাকার অবর্ননীয় দূর্ভোগ কথা ও কিভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে স্বামিকে পরামর্শ সহ সন্মূখ যুদ্ধের কথা এবং তাকে সাহস ও তার মনোবল অটুট রাখার জন্য তাকে সবসময় আমেনা বেগম প্রেরনা যুগিয়েছেন। স্বামি লুৎফর রহমানকে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দেন তুমি আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার চাইতেও বড় এখন আমার দেশের স্বাধীনতা। অসহায় মুক্তিকামি আমেনা বেগম আজ বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়েছেন। রোগ শোক তার এখন নিত্য সঙ্গী। শরীরে বাসা বেধেঁছে নানা ধরনের রোগ। অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তার। তার উপর একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, শেষ সম্বলটুকু স্বামির মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। এতে করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল বৃহঃস্পতিবার(৮ডিসেম্বর)সকালে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির ঘাগড়াবন্দ গ্রামে গেলে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির করুন চিত্র। ফাঁকা জায়গায় মাটির তৈরি দুটি ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন ছেলে,ছেলে বউ, নাতি-নাতনি মিলে দশ জন। কথা হয় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের স্ত্রী মুক্তিকামি অসহায় আমেনা বেগমের সাথে,তিনি জানান;১৯৭১ সালে বঙ্গঁবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তার স্বামি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন । এবং তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার কারনেই সে সময় রাজাকাররা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে ২১ দিন পর স্বামি লুৎফর রহমান বাড়িতে ফিরে আসেন এবং অনেক কষ্টে ভাংগাচোরা বাড়িতে সংসার শুরু করেন। কিন্তু বিধি বাম। দুশমনরা ১৯৮২ সালে তার স্বামিকে মেরে ফেলে। আমেনা বেগম আরও জানান;২০০৭ সালে স্বামির নামে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা শুরু হয়। তখন থেকেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভাতা ভোগ করেন আমেনা বেগম। এর পর ওই বছরের মে মাসে ভাতা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক হতে জানিয়ে দেন তার স্বামির নামের ভাতা বন্ধ। কি কারনে বন্ধ তা আমি আজও জানি না। মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম জানান;ভাতা বন্ধ হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রালয়ে আবেদন করলে সেখান হতে লুৎফর
রহমানের জন্মসনদ ও মৃত্যুসনদ চাওয়া হয়। যখন তার(লুৎফর রহমানের) জন্ম হয়েছিলো তখন জন্মসনদ চালুই হয়নি চালু হবার আগেই আমার বাবা মারা যায়। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সনদপত্র নেই তাই আমার বাবার ভাতা বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন;মুক্তিবার্তা লাল বই খুঁজে দেখেছি সেখানে আমার বাবার নাম আছে। মুক্তিবার্তার নম্বর-০৩১৩০৩০০০৩। মে ২০০৫ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে(মুক্তিযোদ্ধার তালিকা) কার নাম আছে। গেজেট নম্বর-৬১৫ আইডি নম্বর-০৬০৭০১০১৩৭। মুক্তিযুদ্ধকালিন ভারতীয় ক্যাম্পের সনদও তার আছে। এতকিছুর পরেও তার বাবার নামের ভাতা বন্ধ কেন আমিনুল ইসলাম এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই এলাকার সহযোদ্ধা সেকেন্দোর আলি(৭১) জানান; লুৎফর ভাই সহ আমি ৭নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। আমি ভাতা পেলে সে পাবে না কেন? তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে
তার ভাতাটি চালু করার জন্য অনুরোধ করছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলি জানান;বিষয়টি আমি জানি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি তার ভাতাটি বন্ধ করেছে। মানবিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা লুৎফরের ভাতাটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান; বিষয়টি আমার জানা নেই। এ রকম হলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। 
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বিষয়টি আমার জানা নেই। তবুও বলছি তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪












  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...