বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

ক্যানসার প্রতিরোধি ভেষজ ওষুধি গুনসম্পন্ন উদ্ভিদ করোসল

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম আর অনাদর অবহেলায় বেড়ে উঠে কিছু গাছ। যে গাছগুলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা সহ মানবজাতীর নানা উপকারে আসে।ক্যানসার প্রতিরোধি ভেষজ ওষুধি গুনসম্পন্ন এমন এক ধরনের গাছের নাম করোসল। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানোনা মিউরিকাটা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়;গাছটির উচ্চতা প্রায় ২০ফিট। গাছটির পাতা দেশি ফল বনকাঁঠাল পাতা সদৃশ, ফল অনেকটা নগ্নবীজি উদ্ভিদ সাইকাসের মত। ভেষজ গাছটির গুনাগুন এতটাই যে,পাতা ছাল ও ফল ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গাছটি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন নীলফামারির ডিমলা উপজেলার টুনিরহাট পূর্বখড়িবাড়ি গ্রামের আর্মি অফিসার কর্নেল আলমাস রাইসুল গনি। তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভোরি কোষ্টে গেলে সেখান হতে দশটি করোসল গাছের বীজ দেশে নিয়ে আসেন। পরে দেশে এসে তার গ্রামের বাড়ি ডিমলা টুনিরহাটে তার ভেষজ বাগানে সম্পূর্ন দেশিয় পদ্ধতিতে রোপন করেন। বীজ হতে চারা ধীরে ধীরে বড় হয়ে বৃক্ষে পরিনত হয়। গাছ রোপনের ৫বছর পর গাছ হতে ফল ধরা শুরু হয়। গতবছর হতে ৯টি গাছের মধ্যে ২টি গাছে ফল ধরেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ফল ধরা শুরু হয়,চার মাস পর অর্থ্যাৎ জুন মাসে ফল পাকা শুরু হয়। ফল পাকার প্রাক্কালে ফলের মৌ মৌ গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গাছটির জীবনী শক্তি এতটাই বেশি যে, সহজে মরে না ও  স্থানান্তর যোগ্য। ভেষজ বাগানের তত্বাবধায়ক তফিজুল ইসলাম ও জুয়েল হোসেন জেলে জানান; এই ভেষজ বাগানে কর্নেল স্যার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে বিভিন্ন প্রজাতির ভেষজ গাছ এনে রোপন করেছেন। এই বাগানে এমন কিছু গাছ আছে যার নাম আমরাও জানি না।
কর্নেল আলমাস রাইসুল গনির সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান; করোসল ফলটি তিনি পশ্চিম আফ্রিকার আইভোরি কোষ্ট হতে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান; ক্যানসার প্রতিরোধি এ ফলটি কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবে রোগিকে কাঁচা ফল খাওয়ানো হয়। তিনি আরও জানান; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোকজন এসে এই কেরোসল গাছের পাতা,ছাল,ফল নিয়ে যান এবং উপকৃত হচ্ছেন।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন; আমি কর্নেল সাহেবের ভেষজ বাগান আগে পরিদর্শন করেছি, দু-একদিনের মধ্যে পরিপক্ক করোসল ফল দেখার জন্য ভেষজ বাগানে যাব।
নীলফামারি জেলা কৃষি প্রশিক্ষন কর্মকর্তা আফতাব হোসেন জানান;কর্নেল সাহেবের ভেষজ বাগান সম্পর্কে জেনেছি,এটি একটি উত্তরাঞ্চলের মডেল ভেষজ বাগান। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে  এ ধরনের বাগান ছড়িয়ে দিতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

কীটনাশক ও সারের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে যেতে পারে
তামাকের তৈরি কম্পোস্ট সারে চাষিদের সমৃদ্ধি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
রংপুরের বদরগঞ্জ সহ সারা দেশে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের চাষ। এক দিকে কৃষকদের নগদ অর্থের মোহ অন্যদিকে টোবাকো কোম্পানি গুলোর অর্থের লোভ দেখিয়ে উৎসাহ; মূলতঃ এই দুটো কারণেই কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তামাকের চাষ। তামাকের চাষ হয় তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনের লক্ষ্যে,যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এই তামাক মূলতঃ চাষিরা টোবাকো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অধিক মুনাফার আশায়। চাষিরা যদি তামাক গাছ হতে সরাসরি কম্পোস্ট সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করে তাহলে দ্বিগুন ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন;এতে চাষাবাদে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার অর্থ্যাৎ খরচ কমে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও নজরদারিতে তামাকের ব্যবহারটি চাষিদের সূফল আনতে পারে। কম্পোস্ট সার তৈরি সম্পর্কে তিনি জানান; মাটির গর্তে (মাটির পিট) গোবর, ধঞ্চা,কচুরিপানা, খৈল,ঘাসপাতার সাথে কাঁচা তামাক গাছ ১ ইঞ্চি করে কেটে ভাল করে মিশিয়ে মিশ্রিত দ্রব্য মাটির গর্তে ৭০-৮০ দিন রাখতে হবে। মাঝে এক বার মিশ্রিত দ্রব্যগুলো উল্টে পূনরায় মাটির গর্তে রেখে দিতে হবে। পরবর্তিতে এই পিট হতে সার উত্তোলন করে কম্পোস্ট সার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; বদরগঞ্জ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে তামাকের আবাদ বাড়ছে। তবে তামাকজাত দ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও কম্পোস্ট সার হিসাবে এটি খুবই উপযোগি। তিনি বলেন; এই গাছ জমিতে ১২০-১৩৫ দিন পর্যন্ত থাকে। ঐ সময়ে তামাক গাছ মাটি হতে যে সার মিশ্রিত খাদ্য গ্রহন করে তা গাছের দেহে যৌগিক পদার্থ হিসাবে জমা থাকে। কাঁচা অবস্থায় ঐ গাছ কেটে সার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা হলে যৌগিক পদার্থ কম্পোস্ট সারের   সাথে মিশে যায়।  এতে তৈরি হয় এক সুষম সার। যা অন্যান্য ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


    




সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

পাম চাষ
পাম চাষিদের আশায় গুড়েবালি! হতাশ বদরগঞ্জের পাম চাষিরা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃঅনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে মধুপুর বোর্ড ঘরের কৃষক বাদশা মিয়া গ্রীন বাংলাদেশ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ নামে কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করে ২৫০-৫০০টাকা দরে প্রতিটি পাম চারা ক্রয় করেন। সেই সময় তারা প্রতিশ্রুতি দেন চারা গাছের পরিচর্যা পরামর্শ এবং ফল ক্রয় করবে। স্বপ্ন পূরনের প্রত্যয়ে কৃষক বাদশা মিয়া ৭০ শতাংশ জমিতে ৬৪ টি পাম গাছ ৫-৬ বছর আগে রোপন করেন। চারা রোপনের ২ বছরের মধ্যেই গুচ্ছাকার কালো থকথকে ফল আসতে শুরু করে। ফল আসার পর তিনি লক্ষ্য করেন ফলগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকে ৫-৬বছর। একদিকে ফল শুকিয়ে যাওয়া অন্যদিকে পাম ফল নিয়ে কি করবেন  এজন্য গ্রীন বাংলাদেশ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাড়া তিনি পাইনি।  তাই মনের দূঃখে জমির চারপাশের সীমানা ঘেঁষে পাম গাছগুলি রেখে সব গাছ কেটে ফেলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন ; এই পাম চাষ না করে যদি আমের বাগান করতাম তাহলে এ কয় বছরে লাখ টাকা আয় করতে পারতাম। সরেজমিনে উপজেলার কাঁচাবাড়ি, মীরাপাড়া, পৌরশহরের ফেচ্কি পাড়া , কাশীগঞ্জ এলাকার পাম বাগান ঘুরে দেখা গেছে কমবেশী সকল পাম চাষিরা তাদের পাম বাগান তুলে ফেলেছেন। কথা হয় কাশীগঞ্জের পাম চাষি সাজ্জাদ হোসেনের সাথে তিনি জানান ; পাম গাছের চারা নেবার সময় কোম্পানীর লোকজন অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, ফল শুকিয়ে যেতে দেখে তাদের  সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যখন পাইনি তখন উপজেলা কৃষি অফিসের শ্মরণাপন্ন হলে কৃষি অফিসের পরামর্শে  ওকোজিম নামের ওষুধ দিয়েও কাজ না হলে মনের দূঃখে তিনিও বাগান তুলে ফেলেন। গ্রীন বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজারের ০১৭১৬৯১২০৯৩ নম্বরে ফোন করলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান ; কোম্পানী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো আপনারা কাজ করে যান, কোন সমস্যা হবে না। এক সময় কোম্পানী আমাদেরই বেতন ভাতা দিচ্ছে না, তখন আমি চাকুরি ছেড়ে দেই   পাম চাষিদের এখন কি হবে বলতেই তিনি দূঃখিত বলে ফোন রেখে দেন।
উপজেলা সহকারি কৃষি-কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান ; পাম গাছটি দেশীয় কোন গাছ নয় এটি এসেছে মালদ্বীপ হতে। ফসলটি আমাদের দেশের উপযোগীও নয় । অনেক এনজিও এর চারা এনে কৃষকদের বিনিময় মূল্য নিয়ে সরবরাহ করেছিলেন, কৃষকরাও আশা নিয়ে বাগান গড়েছিলেন সত্য কিন্তু তাদের আশায় গুড়েবালি। আমি বলব সময় নষ্ট না করে পাম বাগান তুলে ফেলে দেশীয় প্রজাতির ফলের বাগান করলে তারা অনেক লাভবান হবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

অধরাই রয়ে গেল বদরগঞ্জের ঐতিহাসিক লালদিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুর বদরগঞ্জের ঐতিহাসিক লালদিঘি মসজিদ জনসাধারনের কাছে দৃষ্টিনন্দন হলেও প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে অধরায় রয়ে গেল। অযতœ অবহেলা আর অনাদরে হারিয়ে যেতে বসেছে মূল্যবান প্রতœ-তাত্তিক সামগ্রিগুলো।
গতকাল রবিবার (৪ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা সদর হতে ৮কিঃমিঃ পশ্চিমে লালদিঘি নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায় ;গোপিনাথপুর ইউনিয়নের লালদীঘি নামক স্থানে ওই মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটি নির্মাণের সঠিক দিন-ক্ষণ জানা না গেলেও প্রত্মতাত্ত্বিকদের মতে, এটি সম্ভবতঃ বৃটিশ আমলে নির্মিত। এতে শেষ মোঘল যুগের মসজিদে ব্যবহৃত গঠণ পদ্ধতি ও স্থাপত্য শৈলীর বিশেষ ছাপ রয়েছে। এলাকার অনেকেই  জানিয়েছেন এটি ১২১২ সালে নির্মিত হয়েছে। এ নিয়ে  লোকজনের মাঝে নানা কথারও প্রচলন আছে। কথিত রয়েছে ওই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ এবং মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি একরাতে খনন করা হয়েছে।
দেখা যায় মসজিদটি বর্গাকার এবং নয় গম্বুজ বিশিষ্ট। গম্বুজের শীর্ষদেশে শোভা পাচ্ছে পদ্মফুল সদৃশ শীর্ষচূড়া। আর নিুাংশে কিছুটা মারলন অলংকরন রয়েছে। প্রত্মতাত্ত্বিকরা জানান; মসজিদের প্রতিটি কোণায় অষ্টকোণাকৃতি কিউপলাযুক্ত মিনার রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব কোণে চার স্তর বিশিষ্ট মিনার রয়েছে। যা আজও শুধুমাত্র মসজিদের আযানের কাজে ব্যবহৃত হয়। মসজিদের সামনের দেয়ালের দৃশ্য চমৎকারভাবে নানা প্যানেল দ্বারা স-ুসজ্জিত করা হয়েছে। সম্মুখ দেয়ালের বহুভাঁজ বিশিষ্ট খিলান সদৃশ তিনটি প্রবেশ দ্বার রয়েছে। প্রবেশ দ্বারের ডানে ও বামে দেয়াল ঘেঁষে ক্ষীণ স্তম্ভের সন্নিবেশ রয়েছে। অন্যান্য দেয়ালেও প্যানেল অলংকরনের মাধ্যমে শ্রীবৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের উত্তর-দক্ষিণের দেয়ালে জালিযুক্ত জানালার মত রয়েছে। যা মূলতঃ মসজিদের অভ্যন্তরে আলো-বাতাস গমন-নির্গমণের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। প্রত্মতাত্ত্বিকরা জানান; প্রতিটি গম্বুজ পেনডেনটিভ খিলান ও স্কুইন্সের উপর ভর করে তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তম্ভ অষ্টকোণাকৃতি গম্বুজগুলোর জন্যই নির্মিত হয়েছে। এই চারটি স্তম্ভের নিচের অংশ আবার আয়তাকার প্রকৃতির। মাঝখানে অবস্থিত গম্বুজটির নীচ দন্ডাকৃতি এবং স্কুইন্সগুলোয় একইভাবে অলংকরন করা হয়েছে।  মসজিদের অভ্যন্তরে পশ্চিম দেয়ালের মিহরাবের শীর্ষদেশ বহুভাঁজ বিশিষ্ট খিলান সদৃশ। এর ডান ও বাম উভয় দিকে ক্যাপিটালযুক্ত ক্ষীণ স্তম্ভ রয়েছে যার নিচের অংশ কলসাকৃতির।
বগুড়া জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর  আব্দুল লতিফ প্রামানিক জানান ; লালদিঘি মসজিদ শুধু ঐতিহাসিক নয়। এটি প্রত্মতত্ত্বের অফুরন্ত ভান্ডার। এটা জাতীয় সম্পদ তাই এই মসজিদকে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত বলে  মন্তব্য করেন।
লালদিঘি এলাকার লোকজনের কাছ থেকে জানা যায় ; প্রত্ততত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ওই মসজিদটি বেশ ক’বার পরিদর্শণ করা হয়েছে। পরিদর্শকরা বার বার লোকজনকে জানিয়েছেন ওই মসজিদটি প্রত্মতত্ত্বের অফুরন্ত ভান্ডার। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে আজ পর্যন্ত সেটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্মসম্পদের তালিকায় স্থান করে নিতে পারেনি। এর মহা-মূল্যবান প্রত্মতাত্বিক সামগ্রি বিলীনের  দ্বার-প্রান্তে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

 

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

শারিরীক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি বদরগঞ্জের আহম্মদকে

শারিরীক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি বদরগঞ্জের আহম্মদকে

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
শ্রম মেধা ইচ্ছাশক্তি যে কোন মানুষকে তার স্বপ্নের চুড়ায় নিয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মানুষের বাধা হয় তার  শারিরীক গঠন। এক্ষেত্রে কোন বাধাই দমাতে পারেনি বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের দলপাড়া গ্রামের আবু হাশেমের পুত্র আহম্মেদকে।
কৃষক হাশেম ও আছিয়া বেগমের একমাত্র পুত্র সে। জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধি শিশু সন্তানকে নিয়ে পিতা-মাতা সবসময় দূঃচিন্তায় ভূগতেন। শিশুটি বড় হবার সাথে সাথে কৃষক পিতা লক্ষ্য করলেন আর দশটি শিশুর মত আহ¤্মেেদর লেখাপড়ায়  প্রচন্ড ঝোঁক। পরবর্তীতে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে কৃষক পিতাকে সাহায্য করে সে। শারিরীক সমস্যা নিয়েও  আহম্মেদ এস.এস.সি পরীক্ষায় কাজির হাট উচ্চবিদ্যালয় হতে জিপিএ ৩.৩৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ৫কিঃমিঃ দূর হতে হুইল চেয়ারে চড়ে বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাশ করে।
আহম্মেদ আলি জানায় ; আমরা এক ভাই এক বোন। ছোট বোন অষ্টম শ্রেনিতে পড়ে। বাবা কৃষক কোন রকমে সংসার চালায়। বাবার সাংসারিক কাজে যতদুর পারি সাহায্য করি । বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে আমি ব্যাংকার হতে চাই। কিন্তু অর্থের অভাবে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে কিনা তা এক মাত্র আল্লাহ্ জানে। কারন আমার কৃষক বাবার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করানোর মত সামর্থ্য নেই।
আহম্মদের পিতা আবু হাশেম জানান ; ছেলে আহাম্মেদ প্রতিবন্ধি হলেও আর দশজনের মত পড়ালেখা করছে। সে লেখাপড়া শিখে বড় অফিসার হতে চায়।  কিন্তু আমার পক্ষে তার পড়ালেখার ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাজেদ আলি জানান ; সে অত্যন্ত ভালো ছেলে। সে শারিরীক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলেছে, যা বর্তমান সময়ে সচরাচর দেখা যায় না। এ কারনে সে কলেজে বিনা বেতনে লেখাপড়া করেছে। আমি তার উন্নতি কামনা করি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঔষুধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আমলকি



ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঔষুধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আমলকি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ (রংপুর)ঃ


প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক ঔষধি গুন সম্পন্ন বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। তেমনি একটি উদ্ভিদ হল আমলকি। রংপুরের বদরগঞ্জ সহ দেশের প্রায় সর্বত্রই আমলকি  দেখা যেত এখন আর সচারাচর চোখেই পড়ে না। অধিক পরিমানে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এ ফলটিকে ভিটামিন সির রাজা বলা হয়। ইউফরবিয়েসি (Euphorbiaceae) গোত্রের এ ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইলানথাস এমবিলিকা (Phyllanthus embelica)। পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে ; খাদ্য উপযোগি প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে আছে ভিটামিন সি ৪৬৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৬.২ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আঁশ ৩.৪ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি, ক্যালসিয়াম ২২ মিলি গ্রাম, লৌহ ৩.১ মিলিগ্রাম।

দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভিটামিন- সির অভাবে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। দেশিয় ঔষধ ও প্রসাধনি সামগ্রি তৈরিতে আমলকি ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আমলকির আচার ও মোরব্বা সূ-স্বাদু এবং পুষ্টিকর। আমলকির রস সেবন করলে যকৃত, পেটের পীড়া, হাপানি, কাশি, বহুমুত্র, জন্ডিস ও বদহজম জনিত রোগ নিরাময়ে অসাধারন কাজ করে। এর পাতার রস খেলে আমাশয় ভাল হয় এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। চর্মরোগের চিকিৎসাতেও আমলকি ফল ব্যবহার হয়। কাচা আমলকির রস ২-৩ চামচ করে প্রতি দিন ২ বার চিনি অথবা মধু দিয়ে সেবন করলে ভিটামিন-সি, ভিটামিন বি- ১, এবং ভিটামিন বি-২ এর অভাব জনিত বিভিন্ন রোগের উপশম হয়। কাচা অথবা শুকনা আমলকি বেটে দুধে দিয়ে তার সাথে মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। অল্প বয়সে দৃষ্টিশক্তি  কমে যাওয়া হতে রক্ষা পেতে ২-৩ চামচ আমলকির রসে ১চামচ করে মধু মিশিয়ে কিছুদিন খেলে দৃষ্টি শক্তি ভালো হয়। প্রস্রাবের কঠিণ জ্বালা হতে মুক্তি পেতে ৩/৪ চামচ আমলকির রস আধা লিটার দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে গোসলের পর খেলে সম্পূর্ন আরোগ্য হয়। চুলের গোড়া নরম, উঠে যাওয়া এবং চুল পাকা বন্ধ করতে আমলকি বেটে মাথায় লেপে দিয়ে ৩/৪ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেললে ব্যাপক উপকার পাওয়া যায়। আমলকি ব্যবহারে একদিকে যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকা যায় অন্যদিকে অর্থ অপচয়ের হাত হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন; আগে আমাদের উপজেলায ব্যাপক আমলকির গাছ ছিল বর্তমানে চোখেই পড়েনা। বিলুপ্তপ্রায় এ উদ্ভিদটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এর সংরক্ষণ ও বংশ বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। তা না হলে প্রকৃতি হতে একদিন হারিয়ে যাবে।





বদরগঞ্জ রংপুর

তারিখ-০৩ ডিসেম্বর/১৬

মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬

কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দেশি ফল গাব 


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর) ঃ
অবহেলা অনাদর আর আপনাআপনি বেড়ে উঠা গাছের মধ্যে গাব গাছ একটি। অথচ প্রকৃতির খুব কাছাকাছি আপনা আপনি বেড়ে উঠা দেশি গাব ফল আর আমাদের চোখেই পড়েনা। গাছটির বৈজ্ঞানিক নামঃ ডাইওসপিরোস পিরেগরিনা (উরড়ংঢ়ুৎড়ং  ঢ়বৎবমৎরহধ)  গোত্রঃ ইবিনাসি(ঊনবহধপবধব) ।
এক সময় রংপুরের বদরগঞ্জ সহ সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তার ধারে কিংবা ঝোপঝাড়ে বেড়ে উঠা গাব গাছের অভাব ছিলনা। দেশিয় জাতের এই গাছটির সুস্বাদু ফলগুলি পাকলেই গ্রামের আবাল বৃদ্ধ বনিতা ছুটে যেত গাব গাছের নিচে সুমিষ্ট পাকা গাব ফল খাবার জন্য। এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা,কারন প্রকৃতি থেকে হয়তঃ গাব গাছ উধাও হয়ে গেছে। এভাবেই দেশিয় জাতের ফলের গাছ গুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ফল উৎসবে কমলা,আপেল, মালটা,আংগুর,নাসপাতি,বেদনা, সহ নানান ধরনের চেনা অচেনা ফল প্রদর্শন করা হয় অথচ সেই সব ফল উৎসবে দেশি ফলে দেখা মেলে না।
দেশি জাতের ফলের উৎপাদন বিপনন ও সংরক্ষনের বাস্তব সম্মত কোন পরিকল্পনা না থাকায় দেশি ফল আজ হুমকির সম্মখিন বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।তিনি আরও বলেন;সঠিক বাস্তব সম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশি ফল উৎপাদনে স্থানিয় কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে শুধু দেশের চাহিদা পুরন তো বটেই রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হত।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবার রহমান জানান; গাব গাছটি আর আমাদের চোখেই পড়ে না। এ গাছটির সংরক্ষন জরুরি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...