কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
পরিশ্রম সততা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই যে মানুষকে তার স্বপ্নের চুঁড়ায় নিয়ে যেতে পারে তার জলন্ত উদাহরন বদরগঞ্জের দুই বন্ধু মাসুদ পারভেজ পাপ্পু (৩৫) ও মোঃ রাকিব(৩৬)। শুধুমাত্র টার্কি জাতের মুরগীর খামার করেই তারা আজ স্বাবলম্বি।
পাপ্পুর বাড়ি পৌরশহরের বালুয়াভাটা ও রাকিবের চাঁদকুঠি মহল্লায়। শ্রম সততা আর প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তিই তাদের সাহস যুগিয়েছে স্বাবলম্বি হতে।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(২৪ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌরশহরের বালুয়াভাটা ও চাঁদকুঠি মহল্লায় তাদের টার্কি জাতের মুরগীর খামারে গিয়ে দেখা যায়, রাকিব একটি বড় টার্কি মুরগীকে কোলে নিয়ে পরম মমতায় আদর করছেন। এ দৃশ্য দেখে হয়তো অন্য টার্কি মুরগীরা আনন্দে পেকোম তুলে নাচছে। পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে অপর খামারি বন্ধু পাপ্পু। এ যেন এক অভুর্তপুর্ব দৃশ্য।
কথা হয় টার্কি মুরগীর খামারি রাকিবের সাথে,তিনি জানান,আমি বগুড়া হতে টার্কি জাতের মুরগীর উপর প্রশিক্ষন নিয়ে বদরগঞ্জে প্রথম টার্কি জাতের মুরগীর খামার করি। আমার খামার দেখে অনুপ্রানিত হয়ে আমার বন্ধু পাপ্পু সহ বদরগঞ্জে আরও ৩জন টার্কি জাতের মুরগীর খামার গড়ে তোলেন।
তিনি জানান,এক সময় বেকার ছিলাম। বেকারত্বের যন্ত্রনা কি তা আমি ভালভাবে জানি। এ কারনে এক সময় বদরগঞ্জ হতে বগুড়া চলে যাই। ওখানখার এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে টার্কি জাতের মুরগীর উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করি এবং কিছু দিন এক খামারে কাজও করি। পরে বাসায় এসে নিজেই খামার গড়ে তুলি।
তিনি আরও জানান, টার্কি জাতের মুরগী পালন বেশ লাভজনক। আমি মনে করি, বেকার যুবকরা অহেতুক সময় নষ্ট না করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে নিজেদের পছন্দ মত বিষয় ভিক্তিক প্রশিক্ষন নিয়ে কাজে মনোনিবেশ করলে তারা নিজে স্বাবলম্বি হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
অপর টার্কি খামারি মাসুদ পারভেজ পাপ্পু জানান,আমিও এক সময় বেকার ছিলাম। তখন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে প্রানি পালনের উপর ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষন গ্রহন করি। এর পর ব্যাংক হতে লোন নিয়ে বদরগঞ্জ বাজারে প্রানি খাদ্যের দোকান দেই। কিছুদিন পর বন্ধু বাকিবের পরামর্শে টার্কির খামার গড়ে তুলি। এখন বুঝতে পারছি, টার্কি জাতের মুরগী পালন বেশ লাভজনক ব্যবসা। কারন একটি টার্কি জাতের মুরগীর ওজন হয় ৭-৮কেজি। প্রতি কেজি মাংসের দাম ৬শত টাকা এবং প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ১৩৫-১৫০শত টাকা এবং ১ দিনের টার্কির বাচ্চা বিক্রি হয় ৩-৪শত টাকায়।
বদরগঞ্জ প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক জানান,টার্কি জাতের মুরগী পালন বেশ লাভজনক ব্যবসা। দিন দিন এ উপজেলায় টার্কির খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান,টার্কি জাতের মুরগী পালন করে রাকিব ও পাপ্পু সহ অন্যান্য খামারিরাও এখন স্বাবলম্বি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন