কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সামসুল হক(৫৪)। এক হতদরিদ্র মানুষের নাম। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির মোকসেদপুর বানুয়াপাড়া গ্রামে। এক সময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তখন দিনে যা আয় হতো তা দিয়ে অনেক কষ্টে চলতো তার ৫ সদস্যের সংসার। দিন মজুর সামসুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম ৩ সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে এনজিও হতে লোন নিয়ে কিনেছিলেন ৪ টি ছাগল। পরবর্তীতে তার ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ এ। এক বন্যার সময় আয়েশা বেগম তার ছাগলের খাবারের সংকুলান নিয়ে বিপদে পড়েন। কারন চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কি করবেন ভেবে না পেয়ে নিজের বাড়ির কাঠাঁল গাছের পাতা পরবর্তীতে কিছু টাকা দিয়ে অন্যের গাছের কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করেন। ওই বৈরি পরিবেশে এভাবেই তিনি তার ছাগলদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। মুলতঃ এই ভাবনা থেকেই সামসুল হকের কাঁঠাল পাতার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া।
গত সোমবার(১২ফেব্রুয়ারি)বিকেলে কাঁঠাল পাতার বাজার হিসেবে পরিচিত ষ্টেশন এলাকায় পাতা ব্যবসায়ি সামসুল হকের সাথে কথা হলে তিনি এ কথাগুলো জানান।
তিনি জানান, আগে দিন মজুরি করে সংসার ঠিক মতো চলতো না। এখন এই পাতার ব্যবসা করে সন্তানদের লেখাপড়া সহ সংসারের যাবতীয় খরচ ভালভাবেই চলছে।
তিনি আরও জানান,এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখন আমার মত অনেকে জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন। বর্তমানে ঘাসের বিকল্প হিসেবে কাঁঠাল পাতা ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
অপর কাঁঠাল পাতা ব্যবসায়ি মনির উদ্দিন (৫৫) জানান; সপ্তাহে তিন দিন তারা বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছ চুক্তি নিয়ে কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করেন। এক ভ্যান কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করতে তাদের খরচ হয় ৪শত-৫শত টাকা। এই পাতা বিক্রি করতে ৪-৫ দিন সময় লাগে। তাতে কখনো দ্বিগুন আবার কখনো দ্বিগুনেরও বেশি লাভ পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান,ছাগল পালনকারি খামারি বা যারা বাড়িতে ছাগল পালন করেন তারাই কাঁঠাল পাতা কিনছেন। বিশেষ করে ছাগল পালনের জন্য কাঁঠাল পাতা আবশ্যিক খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
পাতা ব্যবসায়ি দুলাল চন্দ্র (৫২) জানান; বদরগঞ্জের কাঁঠাল পাতা আশে পাশের অনেক জেলা শহরে যায়। ব্যবসায়িরা এখানে এসে পাইকারি দামে কাঁঠাল পাতা কিনে নিয়ে যায়। আমি আমার ফলের দোকানে বসে কাঁঠাল পাতা পাইকারি দামে কিনে মজুদ করি। পরে আঁটি বেঁধে বাজারে বিক্রি করি। প্রতি আটি ১০ টাকা। এতে আমার সপ্তাহে বাড়তি আয় হয় হাজার টাকা। এখন আমি আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছল।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,আসলেই পাতার ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে দারিদ্র জয়ের স্বপ্ন, এ কারনেই বদরগঞ্জে দিন দিন কাঁঠাল পাতার ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। দরিদ্র মানুষরাও স্বাবলম্বি হয়ে উঠছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কাঁঠাল গাছের অবাঞ্ছিত পাতা ছোটছোট ডালসহ ছাঁটাই করলে পরবর্তিতে ফল ভালো হয়। এ ব্যবসা করেই দিন দিন এ এলাকার হতদরিদ্র মানুষরা স্বচ্ছল হচ্ছেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন