রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ঝিনুকেই জীবিকা নির্বাহ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


ফাগুনের এই অগ্নি ঝরা দিনে বেশ গরম অনুভুত হয়। এ সময়টাতে নদীর তীরে বেড়াতে কার না ভালো লাগে। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে চলছে এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি নদী। সময়ের পথ পরিক্রমায় প্রমত্তা যমুনেশ^রি তার ভরা যৌবন হারিয়ে ফেললেও কিছুটা জৌলুস এখনও ধরে রেখেছে। তাই এখানকার মানুষ ¯িœগ্ধ কোমল নির্মল হাওয়ার আশার ভীড় জমায় যমুনেশ^রি নদীর তীরে।
সংবাদ সংগ্রহ ও নির্মল হাওয়ার আশায় গত শনিবার(২৪ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চলে যাই যমুনেশ^রি নদীর তীরে। একটু দুর হতে দেখতে পাই বেশ কিছু নারী নদীর হাটু পানিতে নেমে, কি যেন কাজ করছেন ? তারা তাদের দু-হাত ডুবিয়ে পরে শাড়ির বাড়তি অংশে তা মজুদ করছেন।
নদীতে আর আগের মত তেমন দেশি মাছ নেই তবুও পানিতে নেমে নারীরা কি করছেন, কৌতুহল বশতঃ এ বিষয়টি দেখতেই আমিও পানিতে নেমে পড়ি। কাছে গিয়ে দেখি,বেশ কয়েকজন নারী নদীতে নেমে ঝিনুক সংগ্রহ করছেন আর তাদের শাড়ির বাড়তি অংশে তা মজুদ করছেন। 
এ সময় কথা হয় নদীতে ঝিনুক সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত নারী,উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর গুদামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি রানির(২৬)সাথে,তিনি জানান,আমরা গরীব মানুষ। কৃষি শ্রমিকের কাজ করি। এই সময়টাতে আমাদের কোন কাজ না থাকায় আমরা নদী হতে ঝিনুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে আমার বাড়ি হতে চুন কারিগররা ও দিনাজপুর হতে পোল্ট্রি খামারিরা ৪শত টাকা মন দরে কিনে নিয়ে যায়। এ হতে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে আমার সংসার।
তিনি আরও জানান,সরকারি সাহায্য(ভাতা)সহযোগিতা আমরা পাই না।  তাই কর্মহীন এই সময়টাতে আমরা নদীতে ঝিনুক সংগ্রহ ও বিক্রি করে জীবন বাঁচাই। 
কথা হয়, একই এলাকার কাজলি রানি(২৫)সাথে,তিনি জানান, এক সময় আমার স্বামি কৃষি শ্রমিকের কাজ করতো,সে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে বড়িতে বসে আসে। অভাব অনটনের সংসার। বাড়িতে কোন খাবার নেই। ঝিনুক সংগ্রহ করে,স্থানিয় যুগিচুন ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করবো। 
তিনি আরও বলেন,পানিতে নেমে কষ্ট করে ঝিনুক সংগ্রহ করতে কার ভালো লাগে ? কিন্তু কোন উপায় নেই। এই সময়টাতে একদিন ঝিনুক সংগ্রহ করে বিক্রি করতে না পারলে সন্তানদের নিয়ে না খেয়েই থাকতে হবে।
দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান,এ সময়টাতে আমার ইউপির কিছু নারী নদী হতে ঝিনুক সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে।
তিনি আরও জানান,সবাইকে সরকারি সাহায্যের আওতায় আনতে আরও সময়ের প্রয়োজন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,এ সময়ে  গ্রামে কোন কাজ না থাকায় দরিদ্র ঘরের নারীরা ঝিনুক কুঁড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এই সকল হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সরকারি সাহায্যের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ওমর ফারুক জানান,আমি সদ্য যোগদান করেছি। এ ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

টার্কি জাতের মুরগীতেই স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের পাপ্পু ও রাকিব




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ



পরিশ্রম সততা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই যে মানুষকে তার স্বপ্নের চুঁড়ায় নিয়ে যেতে পারে তার জলন্ত উদাহরন বদরগঞ্জের দুই বন্ধু মাসুদ পারভেজ পাপ্পু (৩৫) ও মোঃ রাকিব(৩৬)। শুধুমাত্র টার্কি জাতের মুরগীর খামার করেই তারা আজ স্বাবলম্বি।
পাপ্পুর বাড়ি পৌরশহরের বালুয়াভাটা ও রাকিবের চাঁদকুঠি মহল্লায়। শ্রম সততা আর প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তিই তাদের সাহস যুগিয়েছে স্বাবলম্বি হতে।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(২৪ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌরশহরের বালুয়াভাটা ও চাঁদকুঠি মহল্লায় তাদের টার্কি জাতের মুরগীর খামারে গিয়ে দেখা যায়, রাকিব একটি বড় টার্কি মুরগীকে কোলে নিয়ে পরম মমতায় আদর করছেন। এ দৃশ্য দেখে হয়তো অন্য টার্কি মুরগীরা আনন্দে পেকোম তুলে নাচছে। পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে অপর খামারি বন্ধু পাপ্পু। এ যেন এক অভুর্তপুর্ব দৃশ্য।
কথা হয় টার্কি মুরগীর খামারি রাকিবের সাথে,তিনি জানান,আমি বগুড়া হতে টার্কি জাতের মুরগীর উপর প্রশিক্ষন নিয়ে বদরগঞ্জে প্রথম টার্কি জাতের মুরগীর খামার করি। আমার খামার দেখে অনুপ্রানিত হয়ে আমার বন্ধু পাপ্পু সহ বদরগঞ্জে আরও ৩জন টার্কি জাতের মুরগীর খামার গড়ে তোলেন। 
তিনি জানান,এক সময় বেকার ছিলাম। বেকারত্বের যন্ত্রনা কি তা আমি ভালভাবে জানি। এ কারনে এক সময় বদরগঞ্জ হতে বগুড়া চলে যাই। ওখানখার এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে টার্কি জাতের মুরগীর উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করি এবং কিছু দিন এক খামারে কাজও করি। পরে বাসায় এসে নিজেই খামার গড়ে তুলি।
তিনি আরও জানান, টার্কি জাতের মুরগী পালন বেশ লাভজনক। আমি মনে করি, বেকার যুবকরা অহেতুক সময় নষ্ট না করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে নিজেদের পছন্দ মত বিষয় ভিক্তিক প্রশিক্ষন নিয়ে কাজে মনোনিবেশ করলে তারা নিজে স্বাবলম্বি হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
অপর টার্কি খামারি মাসুদ পারভেজ পাপ্পু জানান,আমিও এক সময় বেকার ছিলাম। তখন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে প্রানি পালনের উপর ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষন গ্রহন করি। এর পর ব্যাংক হতে লোন নিয়ে বদরগঞ্জ বাজারে প্রানি খাদ্যের দোকান দেই। কিছুদিন পর বন্ধু বাকিবের পরামর্শে টার্কির খামার গড়ে তুলি। এখন বুঝতে পারছি, টার্কি জাতের মুরগী পালন বেশ লাভজনক ব্যবসা। কারন একটি টার্কি জাতের মুরগীর ওজন হয় ৭-৮কেজি। প্রতি কেজি মাংসের দাম ৬শত টাকা এবং প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ১৩৫-১৫০শত টাকা এবং ১ দিনের টার্কির বাচ্চা বিক্রি হয় ৩-৪শত টাকায়।
বদরগঞ্জ প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক জানান,টার্কি জাতের মুরগী পালন বেশ লাভজনক ব্যবসা। দিন দিন এ উপজেলায় টার্কির খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান,টার্কি জাতের মুরগী পালন করে রাকিব ও পাপ্পু সহ অন্যান্য খামারিরাও এখন স্বাবলম্বি।   


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

দানায় দানায় কৃষকের স্বপ্ন




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আমের দানায় দানায় রয়েছে কৃষকের আগামির স্বপ্ন। সেই সোনালি স্বপ্নকে বুকে ধারন করে রংপুর বদরগঞ্জের আম চাষিরা তাদের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে তাদের বাগানের আম গাছে আসতে শুরু করেছে সোনালি আভা ছড়ানো আমের মুকুল। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত আম বাগান এলাকা। এ এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। কয়েক দিনের মধ্যে আমের মুকুল পরিনত হবে এক পরিপুর্ন দানায়। কৃষকের কাছে এ দানা শুধু দানা নয় এ হল তাদের কাছে আগামির স্বপ্ন। এ স্বপ্নে বিভোর হয়ে কৃষকরা স্বপ্ন বুনে চলছেন তাদের মনে। কারন তাদের এই স্বপ্ন পুরন মানেই স্বাবলম্বি হওয়া।  
সরেজমিনে গত রবিবার (১৮ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে এ চিত্রই চোখে পড়ে। দেখা যায়,কৃষকরা তাদের বাগানে পানি সেচের ব্যবস্থা করছেন,কেউবা ভিটামিন প্রয়োগ করছেন। যেন তাদের  ব্যস্ততার অন্ত নেই।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক হাসান আল মাহামুদের সাথে,তিনি জানান,৩০ বিঘা জমিতে রয়েছে আমার আমের বাগান। সবে মাত্র গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুল রক্ষায় এই সময়টাতে ব্যাপক পরিচর্যা দরকার। তা না হলে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাগানে কৃষি শ্রমিক নিয়ে কাজ করছি।
তিনি আরও জানান,গত বছর আমি এই বাগান হতে ৪৫ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করেছি। আবহাওয়া ভাল থাকলে আমার বাগানে এখন পর্যন্ত যে পরিমান মুকুল এসেছে,তাতে গত বছরের চাইতে অনেক বেশি টাকার আম বিক্রি করতে পারবো।
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির আম বাগান মালিক মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে, তিনি জানান,আমার ২০ বিঘা জমিতে হাড়ি ভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে। গত বছর আমি ২০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করেছি।
তিনি আরও জানান,এই সময়টাতে যদি আম বাগানে ঠিকমতো পরিচর্যা করা না যায় তবে কাঙ্খিত আম পাওয়া যাবে না। তাই বাড়তি কৃষি শ্রমিক নিয়ে বাগানের পরিচর্যা করছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান, গোটা উপজেলায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় বদরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে আমের বাগান।
তিনি আরও জানান,ইতোমধ্যে আম বাগানে মুকুল হতে গুটি আসা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে(ঝড়-বৃষ্টি) আমের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান,দিন দিন এ উপজেলায় আম বাগানের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অধিক লাভের কারনে কৃষকরা এখন নিজস্ব জমিতে আম বাগান করছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে কমে গেছে বিষবৃক্ষ তামাকের চাষ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে কমে গেছে বিষ বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত তামাকের চাষ। কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও চাষিদের উপলব্ধি তামাক চাষে অনিহার একমাত্র কারন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারও কৃষকদের তামাক চাষে উৎসাহিত করতে পারেনি। এক সময় এ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে বেড়েছিলো তামাকের চাষ।
ওই সময়টাতে নগদ অর্থ ও অধিক মুনাফার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে তামাকজাত দ্রব্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জেনেও কৃষকরা তামাক উৎপাদন করছিলো। পরবতীর্তে কৃষিবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্তরিকতা ও কৃষকদের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্ক জোরদার এবং তামাকের ক্ষতিকর দিক সমুহ কৃষকদের বোঝাতে সক্ষম হওয়ার কারনে তামাক চাষিরা নিরুৎসাহিত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,চলতি বছর গোটা উপজেলার তামাক চাষ নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ হেক্টরে। যদিও ট্যাবাকো কোম্পানিগুলো এই ৩৮ হেক্টর জমির তামাকগুলো কৃষকদের কাছ হতে বেশি মুল্যে ক্রয় এবং আগাম লোনের ব্যবস্থা করেছিলো, তা না হলে এ উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হতো না।
আরও জানা যায়, গোটা উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র মধুপুর ইউপিতে কৃষকরা তামাক চাষ করছে। এ ছাড়াও পৌরশহরের নদীর তীরবর্তী কিছু এলাকায় তামাক চাষ হচ্ছে।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির পাকারমাথা এলাকার তামাক চাষি সিরাজুল হকের সাথে,তিনি জানান, তামাক চাষে অধিক লাভ। তার বালু মিশ্রিত অল্প জমিতে তিনি তামাক চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন,ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার আমাকে আকৃষ্ট করেছে তামাক চাষে। ক্ষতিকর দিকের কথা জানালে,তিনি আগামিতে আর তামাক চাষ করবেন না বলে জানান।
পৌরশহরের গত বারের তামাক চাষি মানিক রায় জানান,ক্ষতিকর দিকের কথা মাথায় রেখে ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফার ফিরিয়ে দিয়ে এ মৌসুমে তামাকের জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান,এ উপজেলায় কৃষকদেরকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কারনে ভুট্টা,সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান,তামাকের ক্ষতিকর দিক কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া গেলে অদুর ভবিষ্যতে এ উপজেলায় এক হেক্টর জমিতেও তামাক চাষ হবে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান,ট্যাবাকো কোম্পানিগুলোর অধিক মুল্যে তামাক ক্রয় ও কৃষকদেরকে আগাম লোনের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও আমরা কৃষকদেরকে তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এ কারনে এ উপজেলায় তামাক চাষ প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


    



মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে বসন্ত বরন উৎসব



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কোকিলের কুহুকুহু ডাক আর দখিনা মৃদু হাওয়াই জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনি বার্তা। বসন্ত মানে পুর্নতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রানের কলরব আর প্রকৃতির মিলন। ফাল্গুনের হাত ধরেই বসন্তের আগমন। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুন হৃদয়েও যেন আজ লেগেছে দোলা। তাই বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপি রংপুরের বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে পালিত হয় বসন্ত বরন উৎসব।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকারের উপস্থিতিতে বসন্ত বরন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মফিজুল ইসলাম শাহ্ ও একাদশ মানবিক বিভাগের ছাত্রি রোজিনা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ রুহুল আমিন পাইকাড়,বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক উম্মেহানি বেগম, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা, আইসিটি বিভাগের প্রভাষক সাইফুর রহমান সহ কলেজের সকল শিক্ষার্থীরা।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আজও বসন্ত বরন উৎসব পালিত হচ্ছে। সকল কুসংস্কার বিভেদ ভুলে নতুন কিছুর প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাব এই প্রত্যাশায় আজকের এই বসন্ত বরন উৎসব।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

কাঁঠাল পাতায় জীবিকা নির্বাহ






কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সামসুল হক(৫৪)। এক হতদরিদ্র মানুষের নাম। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির মোকসেদপুর বানুয়াপাড়া গ্রামে। এক সময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তখন দিনে যা আয় হতো তা দিয়ে অনেক কষ্টে চলতো তার ৫ সদস্যের সংসার। দিন মজুর সামসুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম ৩ সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে এনজিও হতে লোন নিয়ে কিনেছিলেন ৪ টি ছাগল। পরবর্তীতে তার ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ এ। এক বন্যার সময় আয়েশা বেগম তার ছাগলের খাবারের সংকুলান নিয়ে বিপদে পড়েন। কারন চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কি করবেন ভেবে না পেয়ে নিজের বাড়ির কাঠাঁল গাছের পাতা পরবর্তীতে কিছু টাকা দিয়ে অন্যের গাছের কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করেন। ওই বৈরি পরিবেশে এভাবেই তিনি তার ছাগলদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। মুলতঃ এই ভাবনা থেকেই সামসুল হকের কাঁঠাল পাতার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া।
গত সোমবার(১২ফেব্রুয়ারি)বিকেলে কাঁঠাল পাতার বাজার হিসেবে পরিচিত ষ্টেশন এলাকায় পাতা ব্যবসায়ি সামসুল হকের সাথে কথা হলে তিনি এ কথাগুলো জানান।
তিনি জানান, আগে দিন মজুরি করে সংসার ঠিক মতো চলতো না। এখন এই পাতার ব্যবসা করে সন্তানদের লেখাপড়া সহ সংসারের যাবতীয় খরচ ভালভাবেই চলছে।
তিনি আরও জানান,এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখন আমার মত অনেকে জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন। বর্তমানে ঘাসের বিকল্প হিসেবে কাঁঠাল পাতা ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
অপর কাঁঠাল পাতা ব্যবসায়ি মনির উদ্দিন (৫৫) জানান; সপ্তাহে তিন দিন তারা বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছ চুক্তি নিয়ে কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করেন। এক ভ্যান কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করতে তাদের খরচ হয় ৪শত-৫শত টাকা। এই পাতা বিক্রি করতে ৪-৫ দিন সময় লাগে। তাতে কখনো দ্বিগুন আবার কখনো দ্বিগুনেরও বেশি লাভ পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান,ছাগল পালনকারি খামারি বা যারা বাড়িতে ছাগল পালন করেন তারাই কাঁঠাল পাতা কিনছেন। বিশেষ করে ছাগল পালনের জন্য কাঁঠাল পাতা আবশ্যিক খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
পাতা ব্যবসায়ি দুলাল চন্দ্র (৫২) জানান; বদরগঞ্জের কাঁঠাল পাতা আশে পাশের অনেক জেলা শহরে যায়। ব্যবসায়িরা এখানে এসে পাইকারি দামে কাঁঠাল পাতা কিনে নিয়ে যায়। আমি আমার ফলের দোকানে বসে কাঁঠাল পাতা পাইকারি দামে কিনে মজুদ করি। পরে আঁটি বেঁধে বাজারে বিক্রি করি। প্রতি আটি ১০ টাকা। এতে আমার সপ্তাহে বাড়তি আয় হয় হাজার টাকা। এখন আমি আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছল।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,আসলেই পাতার ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে দারিদ্র জয়ের স্বপ্ন, এ কারনেই বদরগঞ্জে দিন দিন কাঁঠাল পাতার ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। দরিদ্র মানুষরাও স্বাবলম্বি হয়ে উঠছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কাঁঠাল গাছের অবাঞ্ছিত পাতা ছোটছোট ডালসহ ছাঁটাই করলে পরবর্তিতে ফল ভালো হয়। এ ব্যবসা করেই দিন দিন এ এলাকার হতদরিদ্র মানুষরা স্বচ্ছল হচ্ছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

শিক্ষা সফরে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ



ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৮.৩০ মিনিট। সকল ছাত্রির পদচারনায় মুখরিত বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা যেন সেজেছে বর্নিল সাজে। বাহারি পোষাক আর খোঁপায়(চুলে) ঝুলানো লাল ফুলে অদ্ভুদ লাগছিলো সবাইকে। মনে হচ্ছিলো গোটা ক্যাম্পাস যেন ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে।
সকাল ৯.৪০মিনিট বেজে ওঠার সাথে সাথে সকল শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ আসনে গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে উঠার সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে। এক সময় পৌঁছে যায় রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি। একে একে শিক্ষার্থীরা জমিদার বাড়ির গোটা এলাকা পরিদর্শন শেষে সকালের নাস্তা খেয়ে নিজ নিজ আসনে গাড়িতে উঠে বসে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম পিকনিক স্পট ভিন্নজগতে যাবার জন্য। 
দুপুর ১.৩০ মিনিটে পিকনিক স্পটে গিয়ে পৌঁছায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী বহনকারি গাড়িগুলি।
পিকনিক স্পটে পৌঁছামাত্রই শিক্ষার্থীরা ভিন্নজগতের সুন্দর সুন্দর দর্শনীয় স্থানগুলি পরিদর্শন ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এক সময় শিক্ষার্থীরা পিকনিক স্পটের নির্ধারিত জায়গায় এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নেয়।
পড়ন্ত বিকেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হয় গান বাজনা সহ র‌্যাফেল ড্র।
এ যেন এক ভিন্ন ধরনের অনুভুতি ভিন্ন ধরনের আনন্দ।
র‌্যাফেল ড্র পরিচালনা করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সিনিয়র প্রভাষক আলহাজ¦ মফিজুল হক শাহ্ এবং বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা।
শিক্ষার্থীদের হাতে র‌্যাফেল ড্র পুরস্কার বিতরন করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার।
এবার ফেরার পালা। অন্যরকম এক আনন্দ নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ আসনে গাড়িতে গিয়ে বসে যায়। এক সময় রাত ৮টার দিকে শিক্ষা সফর বহনকারি গাড়িগুলি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ গেটে এসে পৌঁছে যায়। পরে অভিভাবক ও শিক্ষকরা মিলে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসায় পৌছে দেন।
স্মৃতির পাতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আজ একটি বিশেষ দিন যুক্ত হল যা অত্যন্ত আনন্দের ও ভালোলাগার। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৭ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

   
 


সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

গ্রামাঞ্চলের মজাদার খাবার সিদল





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বাঙ্গালি তথা বাংলাদেশিদের মুখরোচক ও প্রিয় খাদ্যের তালিকা বেশ বড় হলেও যে খাবারটির জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে তার মধ্যে সিদল অন্যতম। সিদল পছন্দ করেন না এমন মানুষ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শীত মৌসুমে গ্রাম বাংলার কম বেশি প্রতিটি বাড়িতেই নারীরা তৈরি করেন সিদল নামের মজাদার খাবারটি। খাবারটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যও বটে। আর সাধারন খাবারের মত এই খাবারটি নয়, এর জন্য নারীদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। সিদল তৈরিতে বেশ কয়েকটি উপকরনের প্রয়োজন হয়। মুল উপাদান দেশি কচুর পাতা,ছোট ছোট মাছের শুটকিড় গুড়া। প্রথমে দেশি কচুকে মন্ড করতে হয় এর ভিতর দিতে হয় ছোট মাছের শুটকির গুড়া। তার পর একত্রে পিষে গোল কিংবা চ্যাপ্টা করে রোদে বেশ কয়েকদিন শুকাতে হয়। তারপর তৈরি হয় সিদল। এরপর সিদলকে ছাই দিয়ে মাটির হাড়িতে রাখা হয়। অবশ্য এ ভাবেই সিদলকে সংরক্ষন করতে হয়। তা না হলে নানা কারনে সিদল নষ্ট হতে পারে। সিদল রান্নার ক্ষেত্রেও গৃহিনীদের পোহাতে হয় অনেক ঝুক্কি ঝামেলা। যে দিন বাড়ির গৃহিনীরা সিদল রান্না করেন তাকে আনুসাঙ্গিক অনেক রান্নার উপকরন মজুদ করতে হয়। তবে গ্রাম-গঞ্জের সকল মানুষ জানে,এটি রান্নার সময় অবশ্যই বড় মাছ দিয়ে রান্না করতে হয়। বিশেষ করে বড় ধরনের বোয়াল মাছ হলে তো কথাই নেই। এ ছাড়াও শোল গজার ও টাকি মাছ দিয়ে রান্না করা সিদলটিও হবে অসম্ভব মজাদার।
সিদল সম্পর্কে কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের গৃহিনী আলতাপোন নেছার (৯০)সাথে,তিনি জানান,আমি আমার দীর্ঘজীবনে দেখেছি সিদল একটি জনপ্রিয় ও মজাদার খাবার। সিদল এতটাই জনপ্রিয় খাবার যে,গ্রামের মানুষদের কোন বাড়িতে সিদল রান্না হলে সেই বাড়িতে আর অন্য কোন তরকারির প্রয়োজনই পড়ে না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,সিদল অত্যন্ত মজাদার একটি খাবার। আমার গ্রামের বাড়িতে যে দিন সিদল রান্না হয় সে দিন অন্য তরকারি বাড়িতে থাকলেও কেউ আর সিদল ছাড়া কোন তরকারি নেয় না। আসলেই মজাদার খাবার(তরকারি)।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

গরীবের জ¦ালানি ঘষি আর লাকড়ি





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)সংবাদদাতাঃ


সুরবালা রায় (৪৯)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চম্পাতলি সংলগ্ন হিন্দুপাড়া গ্রামে। ছেলের বিধবা স্ত্রী ও তার ২ সন্তান নিয়ে কোন রকমে চলে ৪ সদস্যের সংসার। এমনিতেই সংসার চালানো দায় তার উপর প্রতিনিয়ত জ¦ালানি সমস্যা,তখন তিনি সিন্ধান্ত নিলেন গরুর গোবর দিয়ে ঘষি আর তার সাথে পাটকাঠি দিয়ে লাকড়ি বানাবেন এবং প্রতিদিনের রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ¦ালানি সমস্যার সমাধান করবেন।
গত শুক্রবার ছুটির দিনে (২ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গোবরের লাকড়ি ও ঘষি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে বদরগঞ্জ পৌরশহরের জুগিপাড়া ফেসকিপাড়া সহ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চম্পাতলি সংলগ্ন হিন্দুপাড়ায় গিয়ে ঘষি ও লাকড়ি তৈরি সহ শুকানোর দৃশ্যই চোখে পড়ে।
দেখা যায়,নিজের ব্যহৃত অব্যবহৃত ঘর সহ অন্যের ঘর,বাউন্ডারি প্রাচীরের গাত্র অনেক সময় জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারনে রাস্তার ধারের গাছগুলোকেও ঘষি ও লাকড়ি শুকানোর স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে।
এই কাজটি করছে মুলতঃ বাড়ির নারীরা ও তাদের স্কুল পড়–য়া সন্তানরা। স্কুল ছুটির পর লাকড়ি,ঘষি তৈরিতে ও শুকানোর কাজে মাকে সহায়তা করাই তাদের কাজ।
আরও দেখা যায়, হিন্দুপাড়া গ্রামের শুধু সুরবালা রায়ই নয় এই গ্রামের কমবেশি সকল নারী সদস্যরাই ব্যস্ত লাকড়ি আর গোবর দিয়ে ঘষি তৈরির কাজে। 
কথা হয়,হিন্দুপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা সম্পা রায় (৬৭)এর সাথে,তিনি জানান,হামরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। এমনিতেই কষ্ট করি সংসার চলে টাকা দিয়্যা কি হামার খড়ি কেনা সম্ভব ? কম বেশি যেহেতু হামার সবার বাড়িত গরু আছে এ জন্যে হারা গোবর দিয়্যা লাকড়ি বানাওছি।
তিনি আরও জানান,বাইরশ্যাত(বর্ষা)খুব কষ্ট হয় খড়ি(জ¦ালানি) না থাকলে, এই জন্যে এই সময়টাত হারা বেশি করি লাকড়ি ঘষি বানেয়া মজুদ করোচি।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন যমুনা বালা(৩৫)তিনি জানান,
বাড়িওয়ালা (স্বামি) বদরগঞ্জের একটা মিষ্টির দোকানোত কাম করে। ৫ জনের হামার সংসার। সউক জিনিষের যেংকা দাম তাতে একজনের টাকা দিয়্যা কি সংসার চলে,তার উপর খড়ির(জ¦ালানি)সমস্যা। এ জন্যে গোবর দিয়া ঘষি আর লাকড়ি বানাওছি।
তিনি আরও জানান,অনেক বছর ধরি হামরা লাকড়ি বানাই। যদি এই লাকড়ি দিয়্যা রান্নার কাম না করনো হয়, তাইলে প্রত্যেক দিনের রান্না করতে কত টাকা নাগিল হয়,এটা কি ভাবি দেখছেন।
পৌরশহরের জুগিপাড়া মহল্লার স্বরস্বতি রানি জানান,খড়ির যে দাম তাই আমি বাড়িতে গোবর দিয়ে ঘষি আর লাকড়ি তৈরি করি। যা দিয়ে আমার প্রতিদিনের রান্না হয়। জ¦ালানির টেনশন আর করতে হয় না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,গোবর দিয়ে তৈরি ঘষি ও লাকড়ি জ¦ালানি হিসেবে যেমন সহজলভ্য তেমনি সাশ্রয়ি। জ¦ালানি সমস্যা সমাধানে এই জ¦ালানি বিশেষ ভুমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন,বনায়ন কর্মসুচি তথা নির্বিচারে গাছ কাটা প্রতিরোধেও লাকড়ি ও ঘষি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে। সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি কাজ করছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 











বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

অবশেষে কম্বল পেল বদরগঞ্জের অসহায় বৃদ্ধা আয়েতন নেছা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবশেষে কম্বল পেল বদরগঞ্জের অসহায় বৃদ্ধা আয়েতন নেছা(৯০)।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের ব্লগে ও দৈনিক পত্রিকায় “একটা কম্বল দেও বাহে”শিরনামে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকা মিরপুরের বুটিক হাউজের স্বত্ত্বাধিকারি বেবি আক্তার নামের এক ব্যবসায়ি বৃদ্ধা আয়েতন নেছার জন্য কম্বল পাঠিয়ে দেন। এ ছাড়াও ঢাকা সদরঘাটের আদর্শ গার্মেন্টসের স্বত্ত্বাধিকারি হাজি মাসুম বদরগঞ্জের তৈরি কাপড় ব্যবসায়ি ও সাংবাদিক আদনান হুসাইনের মাধ্যমে বৃদ্ধা আয়েতন নেছার জন্য কম্বল পাঠিয়ে দেন।
গতকাল শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বৃদ্ধার হাতে তা তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা,সাংবাদিক শ্যামল লোহানী ও বদরগঞ্জের বিশিষ্ট তৈরি কাপড় ব্যবসায়ি ও সাংবাদিক আদনান হুসাইন।
উল্লেখ্য,বয়সের ভারে কোমর বেকে যাওয়া লাঠি দিয়ে ভর করে চলা বৃদ্ধা আয়েতন নেছা যমুনেশ^রি নদীর তীরবর্তী ছনের তৈরি জীর্ন কুঠিরে বাস করেন। তার বাড়ি বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া নামক মহল্লায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...