বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) মহাজোটে মহাজট,জোটেও একাধিক প্রার্থী


               


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

 







আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। পোষ্টার ব্যানার ফেষ্টুনের মাধ্যমে প্রার্থীরা এতদিন সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তারা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছে মটরসাইকেল শো-ডাউন আর জনসভা করে। রংপুর-২ আসনটি বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২হাজার ৭৭৫।
স্বাধীনতার পর হতে এই আসনটি আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও ৯০ দশকের পর হতে এ আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির দখলে। ওই সময়টাতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে। এ কারনে এ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সাথে সাথে জাতীয় পার্টির ঘন ঘন সিন্ধান্ত বদল সহ প্রার্থী বদলের কারনে জাতীয় পার্টির কর্মিদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় জনপ্রিয়তা অনেকটা ম্লান হতে চলেছে। যদিও এখনও গ্রামে গঞ্জে রয়েছে তাদের ভোট ব্যাংক।
গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এ আসনটিতে আগে আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে লড়াই চললেও এবারে আওয়ামিলীগ,জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মধ্যে হবে ত্রিমুখি লড়াই। আর যদি এখানে শুধু মহাজোটের প্রার্থী হয় তবে লড়াই হবে মহাজোট ও জোটের মধ্যে।
আওয়ামিলীগের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক যারা তারা হলেন,বর্তমান এমপি আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি। রাজশাহি কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ডঃ এম শাহ্ নওয়াজ আলি,বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ^নাথ সরকার বিটু,সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি আনিছুল হক চৌধুরির ছেলে বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরি।
১৪ দলের প্রার্থী হতে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন রংপুর জেলা জাসদ(ইনু) এর সাধারন সম্পাদক কুমারেশ রায়।
জাতীয় পার্টি তথা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বদরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান চৌধুরি সাবলু। এছাড়াও সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মন্ডল,মোকাম্মেল হক চৌধুরি।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে সাবেক এমপি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী,সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলি সরকার,সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদি আইনজীবি ফোরামের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট গোলাম রসুল বকুল ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও তরুন বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম।
এছাড়াও এখনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালাচ্ছেন তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন।
আওয়ামিলীগের বর্তমান এমপি আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,জননেত্রি শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ অনেকদুর এগিয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই আসনের এমপি হওয়ায় আমি বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নমুখি সরকার ক্ষমতায় আর তার আমি এমপি হওয়ার কারনে আমার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় তরুন ভোটারদের মধ্যে আস্থাসহ ভালবাসা অর্জন করতে পেরেছি। দল যদি আবারো আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি এই আসনটি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পারবো ইনশাল্লাহ্।  
বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ^নাথ সরকার বিটু জানান,আমি এক সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলাম। সেই ছাত্রজীবন হতে সুখে দুখে এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি। একারনে আমার এলাকার মানুষরা আমাকে ভালবেসে বর্তমান এমপিকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলো। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকায় গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি এবং ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। আমি আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড.এম শাহ্ নওয়াজ আলি জানান,দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।
সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি আনিছুল হক চৌধুরির ছেলে বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরি জানান,পৌরসভা নির্বাচন,উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সহ ইউপি পরিষদ নির্বাচনে নিজে বিজয়ী হয়ে প্রমান দিয়েছি এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা আছে। এ সব বিবেচনায় নেত্রি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি নেত্রিকে জয় উপহার দিতে পারবো।
১৪ দলের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জাসদ(ইনু)নেতা কুমারেশ রায় জানান,১৪ দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশি অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান চৌধুরি সাবলু জানান,জাতীয় পার্টিতে আমি একক প্রার্থী। কারন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মহাজোটের প্রার্থী ছিলাম। সেই সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নির্দেশেই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। পার্টি চেয়ারম্যান অনেক বার আমাকে এই আসনটির প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। তার নির্দেশেই আমি দীর্ঘদিন হতে গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।
জাতীয় পার্টির অপর নেতা সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মন্ডল জানান,যদি জাতীয় পার্টি আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে আমি নির্বাচন করবো।
সাবেক এমপি ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী জানান,দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো। দল যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকেও নমিনেশন দেয় তবুও আমি তার পক্ষে কাজ করবো। 
সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলি সরকার জানান,বিএনপি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।
বিএনপি হতে মনোনয়ন প্রত্যাশি তরুন নেতা এ্যাডভোকেট গোলাম রসুল বকুল জানান,দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকায় গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ বিএনপির সৎ যোগ্য ও তরুন নের্তৃত্বের পক্ষে থাকবে বলে আমি বিশ^াস করি। দল আমাকে নমিনেশন দিলে আমি ধানের শীষকে উপহার দিবো।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,স্বাধিনতার পর হতে এই আসনটি একবার পেয়েছিলো বিএনপি। তারপর হতে স্থানিয় নির্বাচন সহ জাতীয় নির্বাচনে কোন প্রার্থীই ভাল করতে পারেনি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল প্রার্থীর চাইতে বেশি সংখ্যক ভোট দিয়ে আমার এলাকার ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করেছে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করবো।
তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন জানান,আমি সরকার দলীয় লোক। আমাদের মহাজোটে প্রার্থী অনেক। তবুও যদি সুযোগ পাই তাহলে নির্বাচন করবো। 
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য আলোর বাতিঘর “বাংলা স্কুল”



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

স্বপ্ন সবাই দেখে কিন্তু স্বপ্নটি যদি হয় দেশ গড়ার তাহলে তো কথাই নেই। সত্যিকারের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপদান করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ়চেতা মন আর মনোবল এর সাথে আরও প্রয়োজন কঠিন অধ্যাবসায়। তবেই একজন মানুষ তার কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছতে পারে। দৃঢ়চেতা মনোবল আর স্বপ্নের দেশ গড়ার অঙ্গিকার নিয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে আলোর ছটা ছড়িতে দিতেই প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলা স্কুল নামে এক প্রতিষ্ঠান। যেখানে বিনাবেতনে পাঠদানের পাশাপাশি আইসিটিতে দক্ষতা সহ নৈতিক শিক্ষার উপর বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন রংপুর বদরগঞ্জের বিদেশ ফেরৎ এক যুবক রাশেদুল ইসলাম(৩৫)। সমাজে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে স্কুলটির নাম দেন বাংলা স্কুল। যা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫সালে। ৩ বছর ধরে চলছে এর কার্যক্রম।  
সরেজমিনে গত সোমবার(১৫অক্টোবর)সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহর হতে ১০কি.মি.দুরে দামোদরপুর ইউপির শেখপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত বাংলা স্কুলে গিয়ে কথা হয় বাংলা স্কুেলর প্রতিষ্ঠাতা রাশেদুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,দশ বছর আমি দেশের বাইরে ছিলাম।
বিদেশে মানুষের জীবনযাত্রা ও তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে আমার মনেও নিজ দেশে কিছু একটা করার স্বপ্ন জাগে। দেশে এসেই শুরু করি বাংলা স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। দেখতে দেখতে স্কুলটির বয়স ৩ বছর হতে চলেছে।
তিনি জানান,সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠির শিক্ষা ও জীবন মান উন্নয়নের জন্য আমার একটি ফাউন্ডেশন করার ইচ্ছেও রয়েছে। দেশ ফাউন্ডেশন নামে আমি সেটা করতে চাই। এরই প্রথম পদক্ষেপ হল আমার এই বাংলা স্কুল। আমার এই বাংলা স্কুলে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ও স্বচ্ছল পরিবারের শিশুরাও পড়ছে। পাশাপাশি আমরা বয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তিদের জন্য অক্ষর জ্ঞানের ব্যবস্থা করেছি। অবশ্য তাদের ক্লাস বিকেলে নেওয়া হয়। ২২ জন নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তি দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে শতাধিক নিরক্ষর ব্যক্তিকে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান,এক খন্ড জমিতে অস্থায়িভাবে স্কুলটি পরিচালিত হলেও স্কুলের পাশেই ৩৩শতাংশ জমিতে স্থায়িভাবে বাংলা স্কুলটি স্থানান্তরিত করা হবে। প্রয়োজনে আরও জমি দেয়া হবে। ইচ্ছে আছে স্কুলটিকে মাধ্যমিকে উন্নীত করার।   
বর্তমানে ৯২ জন শিশু এখানে পাঠ গ্রহন করছে। এখানকার শিক্ষকরাও সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরম মমতায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান। এখানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ্যসূচীর বাহিরেও রয়েছে আইটি ক্লাস ও নির্মল বিনোদনের চর্চা। এই স্কুলের শিশুরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস। শিশুদের প্রশিক্ষন দেয়া হয় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীতের।
বাংলা স্কুল গিয়ে আরও দেখা যায়,ফুল বাগান বেষ্টিত নির্মল ছাঁয়া ঘেরা পরিবেশে স্কুলটির অফিস ও আর রয়েছে ৪ টি শ্রেনি কক্ষ। শ্রেনি কক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছে বাঁশের বেড়া আর উপরে টিন দিয়ে। অফিস সহ ৪টি শ্রেনি কক্ষের মেঝেই কাঁচা। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কোন বেঞ্চ নেই। শিক্ষার্থীরা মেঝেতে চট বিছিয়ে বসে পাঠ গ্রহন করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্যান নেই কোন শ্রেনি কক্ষেই। শিক্ষকদের দাঁড়িয়ে ক্লাশ নিতে দেখা গেছে। তবুও শিক্ষার্থীরা যেন পরম আনন্দে পাঠ গ্রহন করছে।
বর্তমানে বাংলা স্কুলটিতে নার্সারি, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচ জন। এখানে নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে কম্পিউটার ও গানের ক্লাস হয় প্রতি সপ্তাহে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা শিক্ষক। গণিত ও ইংরেজি শিক্ষার ক্লাশ নেন জাহানারা বেগম নামে এক শিক্ষিকা। বাংলা-সমাজ ও নৈতিক শিক্ষার ক্লাস নেন সুফিয়া বেগম,তানিয়া আক্তার নামে এক শিক্ষিকা নেন গানের ক্লাস, আইসিটিতে শিক্ষা দেন জারমিনা বেগম এবং বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নেন আন্নাহার বেগম নামে এক শিক্ষিক। শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ জন শিক্ষকই অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকেই পাঠ দিচ্ছেন বাংলা স্কুলে। মাস শেষে তাদের হাতে যা তুলে দেওয়া হয় তা একেবারেই নগন্য।
কথা হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবা(৭)র সাথে,সে জানায়, বাংলা স্কুলে সে নিয়মিত আসে। এই স্কুলে পড়তে পেরে সে খুব খুশি। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা(৭) জানায়, তাদের পাঠ গ্রহন করতে  কোনো সমস্যা হয় না। কারন,তাদের ম্যাডামরা এতো ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেন যে তাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোয়াদ(৬) প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সপ্তমি সহ আরও একাধিক শিক্ষার্থী বেশ আনন্দের সঙ্গে তাদের ভালো লাগার কথা এই প্রতিবেদককে জানান।
অভিভাবকরাও বাংলা স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে খুশি। কথা হয় লাকি বেগম নামে এক অভিভাবকের সাথে, তিনি জানান, তার ছেলে ওই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পাশ^বর্তী অন্য স্কুলের চেয়েও বাংলা স্কুলের লেখাপড়ার মান অনেক ভালো বলে তিনি তার সন্তানকে এই স্কুলে ভর্তি করেছেন।
কথা হয় বাংলা স্কুলের গানের শিক্ষিকা তানিয়া আক্তারের সাথে,তিনি জানান,আমরা বাচ্চাদের নিয়মিত পাঠ্য বইয়ের বাইরেও নির্মল বিনোদন চর্চার জন্য গানের ক্লাস নিই। শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য বিনোদন অত্যন্ত জরুরি। তবে আইসিটির শিক্ষক জারমিনা জানান,স্কুলটির শ্রেনি কক্ষ বাঁশের বেড়া হওয়ায় স্কুলের আইসিটি ক্লাসের কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার বাড়িতে রাখা হয় এবং ক্লাশের সময় নিয়ে আসা হয়। এতে আমাদের কষ্ট হয়। কষ্ট করে হলেও আমরা নিয়মিত আইসিটির পাঠ দান করি।
স্কুল ছুটির পর বিকাল বেলা দুই শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম ও তানিয়া আক্তার নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়মিত পাঠদান করেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে আলোবর্তিকা ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলা স্কুল। স্কুলটি আমার ইউনিয়নে হওয়ায় আমি গর্বিত। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা রাশেদুল প্রশংসার দাবি রাখে। আমরাও বদরগঞ্জ উপজেলায় পশ্চাৎপদ নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ১৯৯৪ সালে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এই কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী এখন দেশের নামকরা বিশ^বিদ্যালয় সহ দেশের বাহিরে লেখাপড়া করছে। শুধু তাই নয় এ কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই কলেজ হতে বের হয়ে দেশের অনেক দায়িত্বশীল পদে থেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। শুভ কামনা করছি বাংলা স্কুলের জন্য।  
দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান,বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। নিরক্ষর মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও আমাদেরকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলা স্কুল তারই উদাহরন। দোয়া করি তারা একদিন সফল হবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শারদীয় দুর্গোৎসব আসন্ন তাই প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। দক্ষ কারিগরদের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় যেন প্রান ফিরে পাবে প্রতিমা। এ কারনে তাদের এই দিন রাত নিরলশ পরিশ্রম।
সরেজমিনে গত বুধবার(১০অক্টোবর)বদরগঞ্জ উপজেলার পুজামন্ডপ ঘুরে দেখা যায়,প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে কোথাওবা কারিগররা প্রতিমায় রং তুলির আঁছড় দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
কথা হয় পৌরশহরের চাঁদকুঠির ডাঙ্গাঁ বারোয়ারি কালি মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কারিগর সুবল চন্দ্রের সাথে,তিনি জানান, মন্দির কমিটি আমাকে প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেয় । কাজ শেষ করতে আর সময় লাগবে একদিন। এর পর চলবে রং তলির কাজ। পারিশ্রমিক হিসেবে পাবো ৩০হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান,এখন পর্যন্ত আমি ৫টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছি।
বদরগঞ্জ কেন্দ্রিয় বায়োয়ারি কালি মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা তৈরির কারিগর পার্বতীপুরের স্বদেশ কুমার জানান,কেন্দ্রিয় মন্দির কমিটি আমাকে ভারতের প্রতিমার নকশা অনুয়ায়ি দুর্গা প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেন। দিন রাত পরিশ্রম করে আমার কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে।
তিনি আরও জানান,এ প্রতিমা তৈরিতে পারিশ্রমিক হিসেবে আমি পাবো প্রায় ৪৫হাজার টাকা। 
বদরগঞ্জ পুজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুবোধ কুমার কুন্ডু জানান,এবারে গোটা উপজেলায় ১২৮টি পুজা মন্ডপে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠভাবে পুজা উদ্যাপন করা যাবে।
তিনি আরও জানান,পুজা উদ্যাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় কোথাও কোন ধরনের গোলযোগের আশংকা নেই।
বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান,১২৮টি পুজা মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপুর্ন পুজামন্ডপের সংখ্যা ২৯টি। কম ঝুঁকিপুর্ন মন্ডপের সংখ্যা ৪৭টি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবং ঝুঁকিপুর্ন পুজামন্ডপগুলোতে বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় আশা করছি পুজা সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে ধান বাঁচাতে কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। তবুও সুর্যের লেলিহান শিখার দাপট যেন কমছে না। তপ্ত মাঠে আর ভ্যাবসা গরমে নাকাল কৃষক। তবুও বৈরি পরিবেশে কৃষক মাঠে। কারন একটাই,প্রচন্ড রোদে ধান গাছ শুকিয়ে ঝিমিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির দেখা নাই জেনে কৃষকরা তাদের জমির ধান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ইঞ্জিনচালিত স্যালো মেশিন জমিতে বসিয়ে সেচ দিচ্ছেন। এ যেন কৃষককের ফসল বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা। এ চিত্র রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আমন মাঠের।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(২অক্টোবর)গোটা উপজেলা ঘুরে আমন ক্ষেতে ইঞ্জিনচালিত স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেয়ার দৃশ্যই চোখে পড়ে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আমন চাষি মামুন মিয়া(৪৫)এর সাথে,তিনি জানান,মুই গত দুই দিন পরপর মোর আমনের ভুইয়োত পানি দিনু। তাও যেন মনে হওছে ভুই শুকি গেইছে।
ধানোত থোর ধরার সময় জমি ভিজা না থাকলে কি ভাল ধান হইবে ? এবার আবাদ যে ক্যানক্যা হইবে মুই ভাবি পাওছো না। হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়্যা ধান আবাদ করি হামার কি লাভ ?
একই এলাকার অপর আমন চাষি এমারুল হক(৫৯)জানান,সুর্যের তাপ এতটাই যে,স্যালো দিয়া জমিত পানি দিলেও পানি থাকোছে না। ভুই শুকি কাঠ হয়্যা যাওছে। তা হইলে ধান হইবে কেমন করি। ধান ভাল না হইলে যে হারা শ্যাস হয়্যা যামো বাহে।
কথা হয় লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ এলাকার কৃষক রাজ্জাক আলির সাথে,তিনি জানান,ধানের থোড় আসার সময় জমি ভেজা থাকাটা খুবই গুরুত্বপুর্ন। তা না হলে তো ধান হবে না।
তিনি আরও জানান,ধান আবাদের খরচ তার উপর জমি শুকিয়ে যাওয়ার কারনে পানি দেয়ার জন্য বাড়তি খরচ। এতে উৎপাদন খরচ কৃষকদের আরও বেড়ে গেল। আরও যদি কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল না পান তাহলে তারা মাঠে মারা যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বৃষ্টির পানি না হওয়ায় আমরা কৃষকদের জমিতে সেচ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত উপজেলায় আমন আবাদ তুলনামুলক ভালই আছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিচ্ছেন এতে করে আমন আবাদে উৎপাদন ব্যয় অনেকটা বেড়ে যাবে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বাঁশের সাঁকোতে পারাপার,২ ইউনিয়নের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ


যমুনেশ^রি নদীর কোল ঘেঁষা গ্রামের নাম বড়াইবাড়ি। কালুপাড়া ইউনিয়নে গ্রামটি হলেও বদরগঞ্জ পৌরসভা হতে এর দুরত্ব ১কি.মি মধ্যে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীটি এতটাই ভয়াবহ রুপ ধারন করে যে,বড়াইবাড়ি,জেলেপাড়া গ্রাম সহ কুতুবপুর ইউনিয়নের সাথে বদরগঞ্জ সদরের যোগাযোগ সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কয়েক বছর আগে তাদের একমাত্র রাস্তাটি ভাঙ্গঁতে ভাঙ্গঁতে বিলিন হয়ে গ্রামের মাঝখানে গিয়ে ঠেকে। শুধু তাই নয় বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তার নিচ দিয়ে বড় ধরনের সুরঙ্গঁ পথের সৃষ্টি হয়। এ কারনে এ অঞ্চলের মানুষরা বাধ্য হয়ে নিজেদের প্রয়োজনেই তারা যাতায়াতের জন্য নির্মান করেন বাঁশের তৈরি সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই বড়াইবাড়ি জেলেপাড়া সহ কালুপাড়া ইউনিয়নের কিছু গ্রামের মানুষ এবং কুতুবপুর ইউনিয়নবাসি বদরগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁিক আরও বেড়ে বর্ষা মৌসুমে। এ নিয়ে এলাকাবাসির ক্ষোভের শেষ নেই। তাদের প্রানের দাবি নদীটিতে বাঁধ সহ ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত বৃহঃস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়,বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন কুতুবপুর দলপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন আর অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছেন কালুপাড়া ইউপির বাসিন্দা ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজকুর রহমান। কারন বাঁশের তৈরি সাঁকোটি দিয়ে দুইটি যানবাহন পারাপার সম্ভব নয়। এ কারনেই তার(প্রভাষক তাজকুরের) এই অপেক্ষা। 
এ সময় কথা হয় ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেনের সাথে,তিনি জানান,হামার পাকে(কষ্ট) কেউ দেখে না। সাংবাদিক মাঝে মধ্যে আসি ছবি তোলে, আর চেয়ারম্যান,মেম্বার,অফিসের মানুষ আসি খালি হামাক ভোগা দেয় কিন্তু হামার কাম আর হয় না।
কথা হয় প্রতিনিয়ত বাঁশের সাঁকো পারাপারকারি ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তাজকুর রহমানের সাথে,তিনি জানান,মটরসাইকেল নিয়ে এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে আমাকে প্রতিদিন কলেজে যেতে হয়। ভয় লাগে কখন স্লিপ কেটে নদীতে পড়ে যাই।
তিনি আরও জানান,দ্রুত বাঁধ সহ এই ব্রিজটি নির্মান জরুরি হয়ে পড়েছে।
একই কথা বলেন কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান চাপুল শাহ্। 
তিনি আরও জানান,এই রাস্তা দিয়েই আমাদের বদরগঞ্জে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এর ভুক্তভোগি। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করবো সরকার যেন বিষয়টিতে দৃষ্টি দেন এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। ব্রীজটি নির্মান হলে ২ ইউনিয়নের মানুষদের কষ্ট লাঘব হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্বতীপুর আতিকুর রহমান জানান,আমি এখানে নতুন বদলি হয়ে এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পর তারা এসে দেখে গিয়ে প্রোপোজাল ঢাকায় প্রেরন করেছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ডাক বাক্সের জৌলুস আর নেই


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

“চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে...” স্ত্রী তার স্বামির কাছে এখন আর আবেগতাড়িত হয়ে কোন চিঠি যেমন লেখেন না,অনুরুপভাবে মা তার সন্তানদের কাছে কিংবা কোন তরুন তরুনী তার প্রিয় জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক বাক্সে দিয়ে আসেন না। বর্তমান সময়ের মানুষরা তার প্রিয় জনের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন। বর্তমানে ডাক বাক্স যেন এক সুদুর অতীত। এক সময়ের ডাক বাক্সের জৌলুস আর আগের মত নেই। ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষা এখন আর কেউ করেন না।
মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে দ্রুত ভাব বিনিময় করা যায় সত্য কিন্তু প্রকৃত অর্থে লিখুনির মাধ্যমে তার আবেগতাড়িত ভালবাসার কথা তাতে তেমনভাবে ফুটে উঠে না। প্রিয়জনের কাছ হতে পাওয়া সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা কি যে মধুর, তা তখনকার প্রিয়জনরাই অনুভব করতেন। সময় পাল্টে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের মানষিকতাও পাল্টে গেছে। সময় নষ্ট করে আর কেউ যেমন চিঠি লেখেন না,তেমনি চিঠি অনেক দেরি করে প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে যাক এটাও কেউ চায় না। কালের গর্ভে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে হাতে লিখা চিঠি আর জৌলুস ছড়ানো ডাক বাক্সের কদর। এখন ডাক বাক্সে সরকারি চিঠি পত্র ছাড়া আর কোন চিঠিই পাওয়া যায় না।
দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর কথা হয় হাতে লেখা চিঠি নিয়ে ডাক বাক্সে ফেলতে আসা প্রবীন ব্যক্তি উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)এর সাথে,তিনি জানান,আমার নাতি ঢাকায় চাকুরি করে তার কাছে চিঠি পাঠাতে এখানে এসেছি। আমি বাবা আগের মানুষ। মোবাইলে মেসেজ দিতে পারি না। আর মেসেজ কিংবা মোবাইল ফোনে সব কথা বলা সম্ভব হয় না তাই চিঠি লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পোষ্টমাষ্টার সদরুল আলম জানান, বর্তমানে পোষ্ট অফিসে পার্সেল,বীমা,পরীক্ষার খাতা, সঞ্চয়পত্রের মত কাজগুলো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান,আগের দিনের মত এখন আর ব্যাপকভাবে চিঠি পত্র লেনদেন আর হয় না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

একটি ব্রীজ কমাতে পারে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি ব্রীজই কমাতে পারে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ।
ঘৃনই নদীর উপর দেয়া বাঁশের সাকোটির অবস্থান বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ১৫কি.মি দক্ষিনে লোহানীপাড়া ইউপির ঘৃনই মালতোলা নামক স্থানে। নদীর ওপারে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের দুরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভাল না হওয়ায় বদরগঞ্জের সীমান্ত ঘেঁষা নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউপির পশ্চিমপাড়া,ডিঙ্গাপাড়া,বাদিঘৃনই,মধ্যটারি সহ বদরগঞ্জের মালতোলা,ঘৃনই,ঘুনুরঘাট,আমতলা সহ অনেক গ্রামের লোকজন এই বাঁশের সাকো দিয়ে যাতায়াত করে।
দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াত এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে অথচ এখানে একটি ব্রীজ নেই, এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ আর কষ্টের অন্ত নেই। তাদের প্রানের দাবি এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(১১সেপ্টেম্বর)গিয়ে দেখা যায়,নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউপির পশ্চিমপাড়া গ্রামের মেহেরুল নামের এক যুবক সে তার কাঁধে বাইসাইকেল নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন।
কথা হয় মেহেরুলের সাথে,তিনি জানান,প্রতিনিয়ত কাজের জন্য আমাদেরকে বদরগঞ্জে আসতে হয়। কারন আমাদের ওপারের অসংখ্য মানুষের জমি এ পাড়ে রয়েছে। তাছাড়া আমাদের এখান হতে নবাবগঞ্জের দুরত্ব ও যোগাযোগ ভাল না হওয়ায় আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ বদরগঞ্জেই বেশি যাতায়াত করে।
কথা হয় ঘৃনই মালতোলা(বদরগঞ্জ)গ্রামের বাসিন্দা সাহারা বেগমের সাথে,তিনি জানান,সাঁকোর পাশেই আমার বাড়ি। ওপারে (নবাবগঞ্জ)আমাদের এ এলাকার মানুষের অনেক জমি রয়েছে। ধান কেটে সাঁকো দিয়ে নিয়ে আসতে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এখানে একটি ব্রীজ হবে এটাই আমাদের প্রানের দাবি হলেও জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময় এসে ব্রীজটি নির্মানের আশ^াস দিলেও ওই পর্যন্তই শেষ। ভোট হয়ে গেলে আমাদের আর কেউ খোঁজ রাখেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাকিব হাসান ডলু শাহ্ জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে পিআইও অফিসে ব্রীজটির জন্য আবেদন করি। মাপে বেশি হওয়ায় পিআইও অফিসের পক্ষে ব্রীজটি করা সম্ভব না। পরে এলজিইডিতে যোগাযোগ করেছি।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,নদীটির অবস্থান দুই উপজেলায় হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার এমপির সাথে যোগাযোগ করেছি। আমি চেষ্টা করছি ব্রীজটি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে হয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...