বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে গাছে ঝুলছে অসময়ের আম



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জ পৌর শহরের রেলগেট এলাকা। দু-কদম এগিয়ে গেলেই নুরুশাহ্ নামে এক ব্যবসায়ির মিল চাতাল। বেড়ানোর ফাঁকে চাতালে গিয়ে চোখে পড়ে আম গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য আম। “অসময়ে আম গাছে ঝুলছে” বিষয়টি আমার কৌতুহলের সৃষ্টি হলে মিল চাতালের মালিকের সাথে দেখা করার চেষ্টা করি,তাকে না পাওয়ায় তার কেয়ারটেকারের খোঁজ করি। আমি ভাবতেই পারিনি এই সময়ে আমের খোঁজ পাবো। এরপর
বুকভরা আনন্দ নিয়ে গাছের কাছে গিয়ে আমের গুচ্ছে হাত স্পৃর্শ করি। এই সময়ে আম ভাবতেই যেন আনন্দে উদ্বেলিত আমার মন। আমটিকে দেখে তখন একে শুধু আর আমার আম মনে হল না। মনে হল এ যেন গ্রীন ডায়মন্ড। 
কথা হয় মিল চাতালের কেয়ারটেকার কাশেম আলির সাথে,তিনি জানান, এই চাতালের মালিক নুরু শাহ্ নোয়াখালি জেলার এক নার্সারি হতে তিন পিস আমের চারা ৯ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে এখানে রোপন করেছিলেন। ২ টি আমের চারা নষ্ট হয়ে যায়। ১ টি আমের চারা বেঁচে আছে। গত বছরও এই গাছটিতে আম ধরছিল। আমগুলি খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,অসময়ে যে কোন ফসল মানে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া। অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে অসমের এই আমটি চাষ করে। 
তিনি আরও জানান,এই আমটিকে অসময়ের আম বলি আর বারোমাসি আম বলি না কেন,আমটি নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষনা দরকার। কারন সু-স্বাদু এই ফলটির দেশে বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। শুধু তাই নয় এই ফলটি চাষ করে বেকার সমস্যা সমাধানও হতে পারে। বেকার যুবকরা যদি অহেতুক সময় নষ্ট না করে অসময়ের আমের বাগান করেন তাহলে তারা একদিকে যেমন স্বাবলম্বি হতে পারেন অন্যদিকে আমাদের দেশ ফলটি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান, অসময়ের এই আম চাষ করে কৃষকরা অনেক লাভবান হতে পারেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,আমের চাহিদা ব্যাপক। বেকার যুবকরা যদি অসময়ের এই আমটি চাষ করেন তাহলে তারা আর্থিভাবে লাভবান সহ স্বাবলম্বি হতে পারেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০১ ফেব্রুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 















সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮

একটা কম্বল দেও বাহে !




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর তীরবর্তী ছনের তৈরি জীর্ন কুঠিরে বাস করেন বৃদ্ধা আয়েতন নেছা (৯০)।
আয়েতন নেছার বাড়ি বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া নামক মহল্লায়। স্বামি নেই। বৃদ্ধার ৩ মেয়ে ১ ছেলে। ২ মেয়ে মারা গেছে। বর্তমানে জোবেদা নামের যে মেয়েটি বেঁচে আছে সে মেয়েটিও বিধবা। ১ মাত্র ছেলে মানিক মিয়া রাজ মিস্ত্রির কাজ করে। সে তার সংসার নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করে।
বিধবা জোবেদা বেগম মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে মা আয়েতন নেছাকে নিয়ে অন্যের জমিতে ঝুঁপড়ি ঘরে বাস করে।
সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে বেড়ানোর এক ফাঁকে চলে যাই যমুনেশ^রি নদীর তীরে। শীতের দিনে প্রচন্ড ঠান্ডায় আর বেশিক্ষন থাকতে না পেরে চলে আসার এক পর্যায়ে দেখা হয় বৃদ্ধা আয়েতন নেছার।
বয়সের ভারে কোমর বেকে যাওয়া লাঠি দিয়ে ভর করে চলা বৃদ্ধা আয়েতন নেছা সংবাদকর্মি পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, মোক একটা কম্বল দেন বাহে,এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন পেপারোত লেখি দেন বাবা,তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে।
তিনি জানান, নদীর সাথে নাগা হামার বাড়ি,হু-হু করি আইসোছে ঠান্ডা বাতাস তার উপর ঠান্ডার দিন। মুই কেমন করি বাঁচো বাবা।
এ দিকে,শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি।
সরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়েছে ৭ হাজার ৫শত কম্বল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে,এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য। 
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,প্রয়োজনের তুলনায় কম্বল কম পাওয়ায় সকল ছিন্নমুল মানুষকে কম্বল বিতরন করা সম্ভব হয়নি। চাহিদা পাঠানো হয়েছে,কম্বল পেলেই বিতরন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে অনলাইন টিভি এম কে টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে অনলাইন ভিক্তিক টিভি চ্যানেল এম কে টেলিভিশনের ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত হয়। গতকাল রবিবার(২৮জানুয়ারি)রাতে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত এম কে টেলিভিশন দর্শক ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা, এম কে টেলিভিশনের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি আজমল হক আদিল, রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি প্রভাষক আহসান হাবিব,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা,সাংবাদিক বিপ্লব সরকার,ফয়সাল সরকার পলাশ,শ্যামল লোহানী,নুরুজ্জামান নুরু,মনজু পাইকাড়,ফারুক হোসেন নয়ন।
আরও উপস্থিত ছিলেন,মনিরুজ্জামান মিলন,আঃ কাদের সরকার প্রমুখ।
প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বলেন,বিশ^ায়নের যুগে অনলাইন ভিক্তিক টিভি চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। সমাজের ঘুষ দুর্নীতি অপরাধ বাল্যবিবাহ সহ নানা ধরনের অসংগতিগুলো জাতীর সামনে আরও বেশি করে তুলে ধরবে এই প্রত্যাশাই করি।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইন ভিক্তিক টিভি চ্যানেল এম কে টেলিভিশন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে “শেকড়ের সন্ধানে” এম কে টেলিভিশন দ্রুত এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাই করি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

কমিশন দিলেই বৈধ,না দিলে অবৈধ, বদরগঞ্জে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন, দেখার কেউ নেই !




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সন্ধ্যা ৭ টা। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো চারদিক। দুর হতে কাউকে দেখা বা চেনার উপায় নেই। জনশুন্যতা ও নীরবতা চারিদিকে বিরাজ করলেও বোমা ও ভেকু মেশিনের শব্দে প্রকম্পিত গোটা এলাকা। এলাকার মানুষজন সবাই জানে বোমা ও ভেকু মেশিনের সাহায্যে কতিপয় বালু খেকো দীর্ঘদিন ধরে নদীর বালু উত্তোলন করে আসছে। একারনেই প্রকম্পিত করা এই শব্দ তাদের সকলের কর্নকুহরে পৌঁছলেও তেমন কোন আগ্রহ নেই। আর আগ্রহ থেকেই বা কি লাভ ? যেখানে রয়েছে প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদ ও সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা। সেখানে সাধারন মানুষদের কি করার আছে ?
এ দিকে,যমুনেশ^রি নদীতে চর জেগে ওঠায় ওই এলাকার সাধারন মানুষদের মনে আশা জেগেছিলো তারা তাদের নদীতে বিলীন হওয়া কৃষি জমিতে নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করবেন। কিন্তু সরকারি দলের ও এলাকার প্রভাবশালি ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় তাদের জমি হতে এবং নদী হতে বালু উত্তোলনের কারনে শত শত জমি নিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন এলাকাবাসি

সরেজমিনে গত শুক্রবার(২৬জানুয়ারি) রাতে গিয়ে দেখা যায় চারিদিকে বালুর স্তুপ। থরে থরে সাজানো হয়েছে। ট্রাক ট্রাক্টর আর ট্রলি দিয়ে চলছে বালু বহনের কাজ। স্পট হতে একটু দুরে রাস্তার পাশে এক চায়ের গিয়ে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজন সরকারি দলের রাজনৈতিক পরিচয় ধারি কিছু নেতা এই কাজটি অবাধে চালিয়ে আসছে।
আরও জানা যায়,সারারাত ধরে চলে বোমা ও ভেকু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ ও বালু বিক্রির কাজ।
তারা আরও জানান,ভোরের আলো আসতে না আসতেই সবকিছুই পরিস্কার যেন এখানে কোন বালু উত্তোলনই হয়নি।
এ হল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ও কুতুবপুর ইউপির বালু খেকোদের যমুনেশ^রী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটি হওয়ায় বালু খেকোদের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এই অঞ্চলটিতে চলছে একাধিক পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ।
বালু উত্তোলনকারি একজন নাম না জানানোর শর্তে জানান,আমরা প্রশাসন সহ সবাইকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করছি। তিনি আরও জানান, বালু উত্তোলন অবৈধ কিনা তা আমার জানা নেই।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,গত কয়েকদিন আগে ওখানকার একটি পয়েন্টে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারা যে আবারও বালু তুলছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি সিরিয়াসলি দেখছি।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিবার প্রশাসনকে বলেছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে অবৈধ বালুর পয়েন্ট হতে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও জানান, যারা বালু উত্তোলন করছে তারা সরকারি দলের কেউ নয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে ৩১ কেজির বাঘাইড়




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে ৩১ কেজির একটি বাঘাইড় মাছ কিনে নিয়েছেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন পর ৩১ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছটি দেখতে উৎসুক জনতার ভীড় লেগে যায়।
বড় আকৃতির বাঘাইড় মাছটি দেখতে গতকাল শুক্রবার(২৬জানুয়ারি)সকালে সরেজমিনে বদরগঞ্জ পৌরশহরের শাহাপুর মহল্লায় গিয়ে মাছটি দেখা যায়।
জানা যায়,কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি রমনা ঘাটে এক জেলের জালে আটকা পড়ে ৩১ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ। সেখান হতে রমনা ঘাটের মাছ ব্যবসায়ি ফুল মিয়া প্রতি কেজি মাছ ৮শত টাকা দরে কিনে নেন। পরে ফুল মিয়া ওই মাছটি বদরগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে ৮শত ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। তবে মাছ ক্রেতা তার নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি রমনা বন্দর দিয়ে বয়ে চলা ব্রক্ষ্মপুত্র নদে বড় আকৃতির বাঘাইড় মাছটি ধরা পড়ে। এখন নদীর পানি কমার কারনে বড় বড় মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮

আমার দেখা বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সৎ বিনয়ী পরিশ্রমি রুচিশীল মিশুক প্রকৃতির এক উপজেলা প্রশাসকের নাম রাশেদুল হক। যার ছোঁয়ায় জাদুর কাঠির মত উপজেলা প্রশাসনে এসেছে আমুল পরিবর্তন। প্রশাসনে ফিরে এসেছে কাজের গতি। সাধারন মানুষকে আর কাজের জন্য অহেতুক সরকারি কোন দপ্তরে ঘুরতে হয় না। তার নিজস্ব কাজ ছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন সহ নানামুখি সামাজিক কর্মকান্ডে তার অবাধ বিচরন। কিছুদিন আগে যোগদান করা এই নির্বাহি অফিসার ইতোমধ্যে গোটা উপজেলায় অত্যন্ত সুনামের সাথে তার দায়িত্ব পালন করছেন।
আমি তখন খুবই ছোট। বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম উপজেলা নির্বাহি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মুরারি মোহন দত্ত নামে একজন দক্ষ প্রশাসক। ওই সময়ে আমি প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় উপজেলায় ২য় স্থান অধিকার করে তার হাত হতে প্রাইজবন্ড সহ সার্টিফিকেট গ্রহন করি। এভাবে তাকে দেখারও আমার সুযোগ হয় কিন্তু বয়সে ছোট হবার কারনে তাকে আমি তেমনভাবে চিনতে পারি নাই। আর পারারও কথা নয়। একে একে অনেক উপজেলা নির্বাহি অফিসার বদরগঞ্জে যোগদান করেন আবার চলেও যান। রেখে যান কিছু কাজ কিছু স্মৃতি। পরবর্তীতে তাদের কাজের মুল্যায়ন করেন উপজেলার মানুষ।
ধীরে ধীরে যখন বড় হই এবং বুঝতে শিখি তখন দেখা পাই একজন উপজেলা প্রশাসককে। নাম বলতে চাচ্ছি না। তখন আমি এসএসসি পরিক্ষার্থী। বলতে লজ্জা নেই ওই সময়টাতে বদরগঞ্জে পরীক্ষায় বেশ নকলের প্রচলন ছিল। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয় ওই সময়টাতে পুরোপুরিভাবে নকলকে প্রতিহত করলেন। ওই বার রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ছিল ১৪শতাংশ। আর আমি যে স্কুলে লেখাপড়া করেছি বদরগঞ্জ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে সেই বছর পাশের হার ১০ শতাংশে নেমে আসে। তখনও আমি এসএসসিতে ২ বিষয়ে লেটার সহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ন হই।
আমি একজন শিক্ষার্থী ও মানুষ হিসেবে ওই উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয়কে মনে মনে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। নকল প্রতিরোধে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কারনে। ওই প্রশাসককে আবার পরে দেখলাম তার নিজের ভাই যখন ওই স্কুল হতে(বদরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়,ব্যাচ-১৯৯১)এসএসসি পরীক্ষা দিল তখন আবার পুর্বের অবস্থায় ফিরে গেল পরীক্ষার দৃশ্যপট অর্থ্যাৎ নকলের ছড়াছড়ি। লজ্জায় আমার মাথা হেট হয়ে গেল তখন,যখন দেখলাম ওই  দায়িত্বশীল প্রশাসক নিজেই নিজের ভাইয়ের জন্য নকল সরবরাহ সহ শিক্ষকদের দিয়ে ভাইকে সহযোগিতা করতে বাধ্য করার দৃশ্য দেখে।
এভাবে অনেক প্রশাসক আমাদের এই উপজেলায় এসেছেন আবার বিদায়ও নিয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে,বদরগঞ্জে সৎ দক্ষ নির্বাহি অফিসার আসেনি। আমাদের উপজেলায় অনেক সৎ দক্ষ উপজেলা নির্বাহি অফিসার এসেছেন এবং বিদায় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুভকামনাও করেন এ উপজেলার মানুষ।
এখন মুল প্রসঙ্গে আসি; আমি একজন কলেজ শিক্ষক ও সংবাদিক কর্মি সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে যদি উপজেলা নির্বাহি অফিসারদের  মুল্যায়ন করি তাহলে আমার দৃষ্টিতে বর্তমান উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক সব চাইতে সেরা। 
সংবাদকর্মি হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের সাথে আমাদের যোগাযোগ করতেই হয়। এ কারনে প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ হতে দেখার সুযোগও হয়।
বর্তমান নির্বাহি অফিসারকে কাছ হতে যতটুকু দেখেছি,আমার জানা মতে তিনি কোন কাজ আটকে রাখেন না। প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিনই করেন যত রাতই হোক। ভুমি অফিসে এসিল্যান্ড না থাকার কারনে বাড়তি কাজ তিনিই করেন এবং ভুমি সংক্রান্ত কাজে মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হন ভেবে তার টেবিলে ফাইল আসা মাত্রই তিনি তার অতিরিক্ত অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন।
এ প্রসঙ্গে একটি কথা না বললেই নয়,আমার বদরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সহ কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে গিয়েছিলেন, তিনি তার চেয়ার হতে উঠে এসে শিক্ষকদের অর্ভ্যথনা জানিয়ে তার কক্ষে নিয়ে যান। শিক্ষকদের প্রতি এই সন্মান ক-জন দেখাতে পারেন। এটা একজন ভালো মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,বদরগঞ্জে আমার দেখা সকল নির্বাহি অফিসারের মধ্যে তিনি সেরা।
অসম্ভব ভালো মনের মানুষ তিনি।
তিনি আরও জানান,আগে কোন দিন দেখিনি সাধারন মানূষ কোন নির্বাহি অফিসারের চেম্বারে বসে তার সমস্যার কথা বলতে। এখন সাধারন মানুষজন তার কাছে যান তিনি তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমাধান সহ পরামর্শ দেন। একজন দক্ষ প্রশাসকের কাজতো এমনই হওয়া উচিত।
আমি বিশ^াস করি,একজন উপজেলা নির্বাহি অফিসার প্রথমে মানুষ। এর পর থাকা উচিত তার অন্যান্য গুনাবলি। উত্তম গুনাবলির মাঝেই মানুষ বেঁচে থাকে আজীবন। একজন মানুষের অর্থ্যাৎ প্রশাসকের যে সমস্ত গুনাবলি থাকা প্রয়োজন তার সবগুলোই রয়েছে বর্তমান উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হকের মধ্যে। এ কারনেই তিনি সেরা। 
পরিশেষে,তার মত একজন সৎ পরিশ্রমি বিনয়ী মার্জিত রুচিশীল ও দক্ষ প্রশাসক পেয়ে আমরা গর্বিত। আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি তিনি একদিন আরও বড় হবেন। সরকারের দায়িত্বশীল বড় বড় পদ তিনি অলংকৃত করবেন।
এ লেখাটি আমি লিখতাম না। কিন্তু আমি মনে করি একজন ভালো মানুষকে যদি তার প্রাপ্য সন্মান দেয়া না যায় তাহলে কোন ভালো মানুষের জন্মও হয় না ভালো কর্মও সম্পাদন হয় না। এ কারনেই আমার এই লেখাটি। 
শুভকামনা রইল রাশেদুল হক মহোদয়ের প্রতি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 



আলুর ক্ষতি পোষাতে বদরগঞ্জের কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন ভুট্টা চাষে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গোলাম হোসেন৭৫)। পেশায় কৃষক। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। প্রতি বছরই তিনি কমপক্ষে ১০-১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করতেন এবং জমি হতে আলু উত্তোলনের পর বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজে আলুগুলো রাখতেন। কিন্তু গত বছর আলুর দাম না থাকার কারনে কোল্ডস্টোরেজ হতে তিনি আলুই উত্তোলন করেননি। সব মিলিয়ে তার আলু চাষে ব্যাপক লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান। তাই এ বছর তিনি মনের দুঃখে আলু চাষ না করে ভুট্টা চাষ করেছেন।
সরেজমিনে গত বুধবার(২৪জানুয়ারি)উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের আলুর জমিতে ভুট্টা চাষের দৃশ্যই চোখে পড়ে। একদিন কৃষকরা যে জমিতে আলু চাষ করতেন সেই জমিতে দেখা গেল ভুট্টার চাষ।
স্থানিয় কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,রবি ও খরিপ দু-মৌসুম মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় দ্বিগুন। তবে কৃষি অফিস বলছে,ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা আরও ছাড়িয়ে যেতে পারে। 
পৌরশহরের আলু চাষি পিপুল মিয়া(৩৫)জানান,লোকসানের আংশকায় ২ বিঘা জমির আলু না তুলে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করেছি। এখন ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করে আলুর ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, আলু চাষে প্রচুর খরচ,আবার উৎপাদন অনুযায়ি আলুর দাম না থাকা এর সাথে আলুতে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি সহ নানা কারনে কৃষকরা আলু চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। 
পৌরশহরের অপর আলু চাষি লাভলু মিয়া(৩৮)জানান,আমি সহ অনেকেই কোল্ডস্টোরেজ হতে বাধ্য হয়ে আলু তুলে পরে কম দামে গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি করেছি।
কথা হয় রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল গ্রামের কৃষক মামুন মিয়া(৪৫)সাথে,তিনি জানান,গত বছর আমি আমার ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে এত বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি যে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। তাই এবার আলু চাষ না করে ভুট্টার চাষ করেছি।
তিনি আরও জানান,আলু চাষ করতে অনেক টাকা লাগে সে তুলনায় ভুট্টা চাষে তেমন খরচ নেই, লাভও বেশি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে তিনি আলুর ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,কিছু কিছু জায়গায় আলুতে সমস্যা দেখা দিলেও আমরা কৃষি অফিসের সবাই মিলে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,গত বারের কোল্ডস্টোরেজে রাখা আলুগুলো এখন আর খাওয়ার উপযোগি নয়,কারন বাজারে নতুন আলু চলে এসেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,গত বছর হতে আলুতে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আলুর রোগব্যাধির বিষয়ে সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করছি। আলুচাষে লোকসানের ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি ভুট্টা চাষে কৃষকের আগ্রহের কথা জানান।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...