শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮

সংরক্ষন জরুরি, বদরগঞ্জে বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক কলার গাছ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুর বদরগঞ্জের কৃষকরা ধান পাট তথা অর্থকরি ফসলের পাশাপাশি সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। কারন অর্থকরি ফসলে অনেক সময় কৃষক লাভজনক মুল্য না পেলেও সবজি চাষে লোকসানের ঝুঁকি কম ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সবজির চাষ।
উৎপাদিত এই সবজি বাজারজাত করনের সময় সবজি জাতীয় ফসলকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কলাগাছ(বিচি কলা)।
এইসব প্রাকৃতিক কলা গাছের ছাল-বাকল দিয়ে সবজি ব্যবসায়িরা তৈরি করছেন সবজি বহনের জন্য বিশেষ ধরনের ঝুরি। যা সবজি বহনে ও সুক্ষায় বিশেষ ভুমিকা রাখছে। এর ফলে দিন দিন গ্রামাঞ্চল হতে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কলাগাছ(বিচি কলা)।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়,মাঠের পর মাঠ নানা ধরনের সবজির চাষ। কৃষকরা তাদের জমি হতে তরতাজা সবজি তোলার পর এক জায়গায় স্তুপ করে রাখছেন  তারপর পাইকাড়রা এসে তা কিনে নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। এ সময় দেখা গেল পাইকাড়রা তাদের ক্রয়কৃত সবজি পরিবহনের ক্ষেত্রে চটের বস্তার পরিবর্তে ব্যবহার করছে কলা গাছের ছাল-বাকল।
কথা হয় লোহানিপাড়া ইউপির সবজি চাষি সাজু মিয়ার(৪০)সাথে, তিনি জানান; চলতি মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে তিনি ফুলকপি, বেগুন, ঝিঁঙ্গা, শিম ও পেঁপে জাতের সবজি চাষাবাদ করেছেন। সপ্তাহে ৩দিন করে ক্ষেতের সবজি তুলে ট্রাক যোগে ঢাকায় পাঠাতেন।
তিনি আরও জানান; সবজি বহন করতে পাটের(চটি)বস্তার চেয়ে কলাগাছের ছাল-বাকলের তৈরি ঝুঁরি বেশ ভাল হয় এবং ওই ঝুরিতে কাঁচামাল বেশি অক্ষত থাকে। তাই প্রতি সপ্তাহে আমার ২০-২৫টি কলা গাছের প্রয়োজন হত। আমি পাশের গ্রাম হতে ৬০টাকা দরে কলাগাছ কিনে ঝুরি তৈরি করে কাঁচামাল ঢাকায় পাঠাতাম।
কালুপাড়া ইউনিয়নের সবজি চাষি লোকমান হোসেন (৩৮) জানান, এ অঞ্চলে কৃষকদের দায়িত্ব শুধু সবজি ফলানো। কিন্তু বাজারজাত করার সম্পুর্ন দায়দায়িত্ব সবজি ব্যবসায়িদের। আমাদের এই এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক সবজি বিক্রেতা রয়েছে। যারা সারাদিন ধরে কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে সন্ধ্যায় ট্রাক লোড করে রাজধানীতে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,ব্যবসায়িরা আলু, বেগুন, কপি, ঝিঙ্গা, পটল, করলা, ইত্যাদি কাঁচা সবজি বহনের ক্ষেত্রে পাটের (চটি)বস্তার পরিবর্তে ব্যবহার করছে কলা গাছের ছাল-বাকলের তৈরি এক প্রকার ঝুরি। কলাগাছের তৈরি একটি বড় ঝুরিতে প্রায় ১২-১৪ মন সবজি বহন করা সম্ভব। তাছাড়াও বিচি কলার ছাল-বাকলের তৈরি ঝুরিতে বহন করা এসব সবজি সর্বদা তরতাজা থাকে।
কুতুবপুর ইউপির নাগেরহাট এলাকার কাঁচা মাল ব্যবসায়ি আসাদুল হক (৩৫), মন্সুর আলি (৪৫),শাহিন মিয়া (৪২), আজাহার আলি (৪৮) জানায়, আমরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৫০-৬০ টাকা দরে শতাধিক কলা গাছ ক্রয় করে তা দিয়ে সবজি বহনের জন্য বিশেষ ধরনের ঝুরি তৈরি করি। এর কারন হচ্ছে বিচি কলার ছালের তৈরি ঝুরিতে সবজি বহন করলে টাটকা সবজির গায়ে কোন প্রকার দাগ পড়েনা। পাশাপাশি সুর্যের আলো থেকেও রক্ষা পায়।    
কথা হয় প্রবীন ভেষজ চিকিৎসক কবিরাজ আব্দুল হাকিমের(৭৪) সাথে,তিনি জানান,আগের দিনের লোকজন পুরুষ লোকের মেহ ও স্ত্রী লোকের সূতিকা বাধকসহ নানা রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করতো এই কলা গাছ।
তিনি আরও জানান,মহাষৌধ হিসেবে এই প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কলাগাছের  জুড়ি মেলা ভার।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা প্রাকৃতিভাবে জন্মানো এই কলা গাছগুলি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারি ও ভেষজগুন সম্পন্ন এই প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কলাগাছগুলিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করা উচিত।
তিনি জানান, দিন দিন যেভাবে এই কলাগাছটি হারিয়ে যাচ্ছে তাতে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা একদিন জানতেই পারবে না প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো গাছটির নাম।
তিনি আরও জানান; বাড়ির আনাচে কানাচে রোপন করে এর বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সহ সু-স্বাদু ফলটিও খেতে পারবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
 

বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

ঘন কুয়াশায় মোড়ানো বদরগঞ্জ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা ১০মিনিট। রাস্তায় বেরুতেই দেখি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক। কিছুই চোখে পড়ছেনা। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া কোন মানুষকে যেন চোখে পড়ছে না রাস্তায়। তবুও দু-কদম হেঁটে রাস্তার দিকে এগুতেই হঠাৎ পিছন দিক হতে আসা এক মটরবাইক আমার কাছে এসে হর্ন দিলে চমকে গিয়ে রাস্তার বাম পাশে দিলাম এক লাফ। ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেলাম এ যাত্রায়। প্রয়োজনেই রাস্তায় বের হওয়া আমার। এ হল গতকাল বুধবার(১৭জানুয়ারি) রংপুর বদরগঞ্জের কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকালের একটি চিত্র।
প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পৌরশহর। শীতের দাপট এতটাই যে, ইচ্ছে হলেও ঘর হতে বের হতে পারছে না কেউ। কনকনে শীতের সাথে লু-হাওয়া আর ঘন কুয়াশা। এ যেন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।
কিছুটা পথ এগিয়ে দেখি রাস্তার ধারে জবথবু অবস্থায় খেটে খাওয়া মজুর শ্রেনির কিছু লোক খড় কুঠো দিয়ে একটুখানি উষ্ণতা পাওয়ার আশায় আগুন জ¦ালিয়েছে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের ইমারত শ্রমিক সইমুল হক(৪৫) এর সাথে,তিনি জানান,কাজের আশায় এই কনকনে শীতে রাস্তার ধারে বসে আছি। যদি কারো ডাক পাই তাহলে কাজে যাব। কাজ না পেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে।
অপর ইমারত শ্রমিক শাহাজাহান আলি(৩৮)জানান,কাজ না করলে পেটে ভাত জুঁটবে না। এই শীতে মন চায় না ঘর হতে বের হই কিন্তু কি করবো ? এখন সকাল সাড়ে ১০টা। কেউ কেন জানি আমাদের ডাকলো না,আজ যে কি হবে ?
রাস্তায় চাদর মুড়ে রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাচালক জুরান সাহা(৫৮)জানান,
কষ্ট করে হলেও প্রচন্ড এই কনকনে শীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি যাত্রির জন্য।
উর্দ্ধগতির বাজারে এনজিওর কিস্তি আর সংসার চালানো এমনিতেই দায় হয়ে পড়েছে তার উপর কনকনে ঠান্ডায় মানুষ যদি বের হতে না পারে তাহলে আমার মত রিক্সা চালকদের কি হবে ?
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,রংপুরে আজ (বুধবার)তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৯ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তিনি আরও জানান,ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,শীতার্থ মানুষদের জন্য ইতোমধ্যে গোটা উপজেলায় ৭৭৫০টি কম্বল বিতরন করা হয়েছে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  
   
 

শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে ডিজিটাল উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মহিলা ডিগ্রি কলেজ বিজয়ী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে ডিজিটাল উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজয়ী হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। গতকাল শুক্রবার (১২জানুয়ারি)সকালে ৩ দিনব্যাপি ডিজিটাল উন্নয়ন মেলার অংশ হিসেবে মেলা মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পক্ষে অংশগ্রহন করেন বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও বিপক্ষ দল বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বির্তকের বিষয় ছিল “শুধুমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনেই উন্নয়নের একমাত্র পথ”
বির্তক অনুষ্ঠানে মডারেটর এর দায়িত্ব পালন করেন বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক। বিচারক হিসেবে ছিলেন উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বদরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাফুজার রহমান।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিয়োগিরা হলেন রোজিনা আক্তার (১ম বর্ষ-মানবিক),জয়িতা সরকার(১ম বর্ষ-মানবিক) দলনেতা সিরাতুন জান্নাত কেয়া(১ম বর্ষ-বিজ্ঞান) ও আফসানা মিমি(অতিরিক্ত বিতার্কিক)।
বির্তকে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ বিজয়ী হয় এবং সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন  মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি সিরাতুন জান্নাত কেয়া।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,মেধা বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। বছরের কোন একটি নির্ধারিত সময়ে এমন প্রতিযোগিতামুলক অনুষ্ঠান উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেবার চিন্তাভাবনা করছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   


বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে “ঘোড় দৌঁড়”খেলা। আবহমান কাল হতে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক ঘোড় দৌঁড় খেলাটি এক সময় দেশের নানা প্রান্তে মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য প্রচলন থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে খেলাটি আর চোখে পড়তো না। হঠাৎ ঘোড় দৌঁড় খেলাটি হবে শুনে লোভ সামলাতে না পেরে গতকাল বৃহঃস্পতিবার (১১জানুয়ারি) দুপুরে চলে যাই বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর উপজেলার সংযোগ স্থল ধলাপীরের মাজার সংলগ্ন স্থানে। 
গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে উৎসুক জনতার ভীড়। এ যেন দুই উপজেলার মানুষের মিলনমেলা। আনন্দে উদ্বেলিত প্রতিটি মানুষ। কখন তাদের কাঙ্খিত ঘোড় দৌড় খেলা শুরু হবে। দুপুরে খেলাটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খেলাটি শুরু হয় শীতের কুয়াশায় মোড়ানো পড়ন্ত বিকেলে। তবুও যেন শীতকাতর উৎসুক জনতার লেশ মাত্র আক্ষেপ নেই। সবারই দৃষ্টি কখন শুরু হবে তাদের কাঙ্খিত ঘোড় দৌড় খেলা।
এক সময় ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হলেন প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রি মোস্তাফিজার রহমান এমপি,বিশেষ অতিথি রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক।
ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন দেশের নানা প্রান্ত হতে আসা ঘোড়া সওয়াররা।
এ সময় কথা হয় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারি পার্বতীপুর উপজেলার খয়েরপুকুরহাট গ্রামের সুমন মিয়া(১২)সাথে,সে জানায়; বাবার উৎসাহে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে খুব ভাল লাগছে।
নওগাঁ জেলার ধামুরহাট উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের প্রতিযোগি অষ্টম শ্রেনির ছাত্রি তাসলিমা আক্তার(১৪)জানান,ঘোড় দৌড় খেলতে আমার ভীষন ভাল লাগে। এ কারনে বাবাকে নিয়ে বদরগঞ্জে এসেছি ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।
খেলা পরিচলনা কমিটির অন্যতম সদস্য আকরাম আলি সরকার জানান, ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন করা হয়েছে এ বি সি ও ডি ক্যাটাগরিতে।
সি গ্রুপের প্রথম হয় নওগাঁ হতে আসা তাসলিমা আক্তার। তিনি আরও জানান, ইচ্ছে আছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘোড় দৌড় খেলাটি প্রতিবছর যেন করতে পারি এজন্য সকলের সহযোগিতা তিনি প্রত্যাশা করেন।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রি মোস্তাফিজার রহমান জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই ঘোড় দৌড় খেলাটি দেখতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি আশা করবো আয়োজকরা যেন প্রতিবছর খেলাটির আয়োজন করে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮

বদরগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
“বাড়ি যাইম কিন্তু এই ঠান্ডাত গোটা শরীল মোর হিম হয়া গেইছে,কোন রিক্সা ভ্যানও পাওচো না। এ্যাটেকোনা আগুন জ¦লাইচে, গাও সেইকবার আলচু” কথাগুলো বললেন রংপুর বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাটের কৃষক বাচ্চু মিয়া(৬৫)।
তিনি আরও জানান,বদরগঞ্জ মেডিকেলোত আলচিনু,ছইলটাক ধরি,ডাক্তার আর বাজার খরচ করতে সাজ (সন্ধ্যা)হয়া গেইল। এই ঠান্ডাত বাড়িত যাইম কেমন করি সেইটা ভাবোচো। খুব ঠান্ডা বাহে।”  
রংপুরের বদরগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে শীতের দাপট এতটাই যে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে।
একদিকে সকাল ১০টা পর্যন্ত যেমন ঘর হতে বের হওয়া যায় না অন্যদিকে পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্ন হতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় বদরগঞ্জের রাস্তাঘাট পথপ্রান্তর। ঘন কুয়াশার সাথে লু-হাওয়া এ যেন মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কনকনে ঠান্ডায় লোকশুন্য হওয়ার কারনে ব্যস্ত এই শহর যেন জনমানবহীন এক বসতি।
গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে এবং সকাল ১০টা পর্যন্ত পৌরশহর ঘুরে দেখার সময় জনমানবহীন চিত্রই চোখে পড়ে। দুর হতে দেখা যায় চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
গত রবিবার(৭জানুয়ারি)সন্ধ্যায় পৌরশহরের রেল গেট এলাকায় চোখে পড়ে খেটে খাওয়া মজুর শ্রেনির মানুষ ও পথচারিদের গোল হয়ে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আগুন তাপানোর দৃশ্য।  
একই চিত্র উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের। ছোট ছোট ছেলেরা খড় জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন।
শীত জেঁকে বসলেও এখন পর্যন্ত শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে চোখে পড়ার মত শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি। সরকারিভাবে এই উপজেলায় শীত বস্ত্র বিতরন করা হলেও তা যৎসামান্য। অথচ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৬০হাজার।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
এদিকে,শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে শিশু ও বৃদ্ধ রোগিদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।  
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঃ হাই রুবেল জানান,কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৮জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    
    


 

বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৮

ডিম দুধ আর ভাঁপাপিঠা, যত বেশি শীত তত বেশি বিক্রি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শীতের দাপটে কাতর খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষরা। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া আকাশ আর হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে যেন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারন মানুষ ঘর হতে বের হতে না পারলেও রাস্তার ধারে দোকানের কোন এক কোনে বসে থাকা ভ্রাম্যমান দোকানদারদের শীতের গরম গরম মজাদার ভাঁপাপুলি, দুধ আর ডিমের ব্যবসা চলছে রমরমা। রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদাররা কেউ ভাঁপাপুলির পসরা সাজিয়ে কেউবা দুধ আর ডিম নিয়ে বসে আছে। প্রতিটি দোকানেই যেন উপচে পড়া ভীড়। শীতের মজাদার নারিকেল ভাঁপাপুলি খেতে তারা এসেছেন এই সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে। কেউবা এসেছেন গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম খেতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই  বিক্রি।
সরেজমিনে গত রাতে ও সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমান ভাপাপুলি,দুধ আর সিদ্ধ ডিমের দোকানগুলিতে গিয়ে এ চিত্রই চোখে পড়ে। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ঢাঙ্গারপাড়া গ্রামের ভাঁপাপুলি বিক্রেতা ইয়ারুল ইসলামের(২৫)সাথে,তিনি জানান,ভাঁপাপুলি বিক্রি হয় সন্ধ্যা হতে রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি পিঠা ৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা হতে প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৬-৭শত টাকা। আমার অন্য ৩ ভাই আমার মত শীতের এই সময়টাতে পৌরশহরের অন্য মোড়ে ভাঁপাপুলির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ৪ ভাই ১ বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
অর্থাভাবে আমরা লেখাপড়া শিখতে পারি নাই। আমাদের আর্থিক অবস্থা বর্তমান সময়ের মত থাকলে আমার বাবা অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া শেখাতো।
তিনি আরও জানান, যত বেশি কুয়াশা আর ঠান্ডা,তত বেশি বিক্রি হয় ভাঁপাপুলি।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির কাশিগঞ্জ গ্রামের দুধ ও ডিম বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক(৫২)সাথে,তিনি জানান, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দুধ ও ডিমের ব্যবসা করছি। শীতকালে এই ব্যবসাটি বেশি চলে। গ্রাহক এতবেশি বেড়ে যায় যে,বসে থাকার সময় পাই না। প্রতি গ্লাস দুধ ১৫টাকা ও প্রতি পিস ডিম ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৮-৯শত টাকা। 
তিনি আরও জানান,এক সময় মানুষের বাড়িতে মজুর দিয়ে সংসার চলতো। তখন অভাব অনটনের অন্ত ছিল না। এই ব্যবসা করেই জমি কিনে বাড়ি ঘর করা সহ সংসার, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই চলে। আল্লাহ্র রহমতে আমি ভালো আছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,কনকনে শীতে এক শ্রেনির মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও রাস্তার ধারের এই সমস্ত ভাঁপাপুলি,দুধ ডিমের দোকানগুলো ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীতের দাপট বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৪জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৮

শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা। শীতের দাপট এতটাই যে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রচন্ড শীতের কারনে গরম কাপড়ের দোকানে ভীড় লেগেই আছে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত যেমন ঘর হতে বের হওয়া যায় না অন্যদিকে পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্ন হতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় বদরগঞ্জের রাস্তাঘাট পথপ্রান্তর। ঘন কুয়াশার সাথে লু-হাওয়া এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কনকনে ঠান্ডায় লোকশুন্য হওয়ার কারনে ব্যস্ত এই শহর যেন জনমানবহীন শ্মশানে পরিনত হয়।
গত সোমবার(১জানুয়ারি)রাত ৮টার দিকে পৌরশহর ঘুরে দেখার সময় জনমানবহীন চিত্রই চোখে পড়ে। দুর হতে দেখা যায় চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। ছোট ছোট পানের দোকানগুলিতে বৈদ্যুতিক লাইট জ¦লছে। কিন্তু কোন খরিদদার নেই। বড় বড় হোটেল রেস্তোরাগুলোতেও একই দশা। অর্থ্যাৎ জনশুন্য।
একটু এগিয়ে শহীদ মিনার চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়,রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসা গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে মধ্যবিত্ত নি¤œ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষদের একটুখানি উষ্ণতা পাবার জন্য গরম ও মোটা কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভীড়।
সকালের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে গতকাল মঙ্গলবার(২জানুয়ারি)সকালে ঠিক একই চিত্র চোখে পড়ে। দেখা যায় ছিন্নমুল ও মজুর শ্রেনির লোকজন কাজের আশায় রাস্তার ধারে গোল করে বসে একটুখানি উষ্ণতার জন্য খড় ও টায়ার জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের ইমারত শ্রমিক সইমুল হক(৪৫) এর সাথে,তিনি জানান,কাজের আশায় এই কনকনে শীতে রাস্তার ধারে বসে আছি। যদি কারো ডাক পাই তাহলে কাজে যাব। কাজ না পেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে।
অপর ইমারত শ্রমিক শাহাজাহান আলি(৩৮)জানান,কাজ না করলে পেটে ভাত জুঁটবে না। এই শীতে মন চায় না ঘর হতে বের হই কিন্তু কি করবো ? এখন সকাল ৯টা বাজে কেউ কেন জানি আমাদের ডাকলো না,আজ যে কি হবে ?
তিনি আরও জানান,ছোট বাচ্চাটা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ভাল ডাক্তার দেখাতে হবে। আজ যদি কারো ডাক না পাই তাহলে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হবে। বাচ্চাটাকেও ডাক্তার দেখাতে পারবো না।
রাস্তায় চাদর মুড়ে রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাচালক জুরান সাহা(৫৮)জানান,
কষ্ট করে হলেও প্রচন্ড এই কনকনে শীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি যাত্রির জন্য।
উর্দ্ধগতির বাজারে এনজিওর কিস্তি আর সংসার চালানো এমনিতেই দায় হয়ে পড়েছে তার কনকনে ঠান্ডায় মানুষ যদি বের হতে না পারে তাহলে আমার মত রিক্সা চালকদের কি হবে ?
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই বিতরন করা হবে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন,মধ্য-জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ১০ এর নিচে নেমে যেতে পারে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২জানুয়ারি/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   
   




  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...