বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

বদরগঞ্জে বানভাষি মানুষের পাশে রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে বানভাষি অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলো। তারা দিন রাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বানভাষি মানুষরা যাতে খাবারের জন্য কষ্ট না পায়। কেউ শুকনা খাবার কেউ রান্না করা খাবার কেউবা চাল ডাল স্যালাইন পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ বিতরন করছেন। বন্যার পর হতে তাদের এ ত্রান তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
রংপুর-২ আসনের এমপি ডিউক চৌধুরি ভয়াবহ বন্যায় বানভাষিদের পাশে থেকে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে ত্রান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় ডিউক চৌধুরি বলেন; আমি জনগনের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চাই। বর্তমান সরকার যথেষ্ট পরিমান ত্রান দিচ্ছেন। কাজেই কেউ না খেয়ে থাকবে না।
বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ^নাথ সরকার বিটু নিজ উদ্যোগে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে বানভাষি মানুষদের জন্য ত্রান(চাল ডাল ও নগদ অর্থ) তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ সময় বিশ^নাথ সরকার বিটু বলেন; বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জের ভয়াবহ বন্যার খবর শুনে ঢাকা হতে আমি ছুটে এসেছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ি চেষ্টা করছি বানভাষি মানুষদের পাশে থাকতে।
বদরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান চৌধুরি সাবলু বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে বানভাষি মানুষদের জন্য ত্রান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গত মঙ্গলবার(১৬আগষ্ট)রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে বানভাষি মানুষদের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে হাজির হন।
এ সময় তিনি বলেন; বানভাষি মানুষরা অনেক কষ্টে আছে। তাই আমার নিজ উদ্যোগে তাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।
স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন “এফডাব্লিওএস-৯৩” বন্যাদুর্গত ১ হাজার বানভাষি মানুষের জন্য চাল ডাল ও বিস্কুট বিতরন করেন। “এফডাব্লিওএস-৯৩” এর অন্যতম সদস্য খোরশেদ আলম জানান; বানভাষি মানুষদের জন্য আরও ত্রান দেয়া অব্যাহত থাকবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা,এফডাব্লিওএসের সদস্য রেজাউল ইসলাম। 
এ দিকে, বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; এখন
পর্যন্ত সরকারিভাবে ১৫ টন চাল, উপজেলা প্রশাসন হতে ১১টন চাল,শুকনো খাবার,৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও স্যালাইন বানভাষি মানুষের জন্য খুলে দেয়া ২২ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বিতরন করা হয়েছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

নৌকাতেই ঘর বাড়ি




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


প্রবল বর্ষন আর বন্যায় চারিদিক ডুবে গেছে। অথৈই পানি। যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। ইতোমধ্যে রাস্তাঘাট,জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। একমাত্র আবাসস্থল সেটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় বসতি গেড়েছেন বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির আজমল মিয়া। নৌকাতেই পেতেছেন নতুন সংসার। সরেজমিনে গতকাল বুধবার(১৬আগষ্ট)সকালে বানভাষি মানুষরা কেমন আছেন দেখতে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,পানিবন্দি মানুষরা কেউবা কলার ভেলায় চড়ে পারাপার,ইটের স্তুপের উপর বসে কোন রকমে গৃহিনীর রান্না,কোমর পর্যন্ত পানি ভেঙ্গে গৃহিনীর গবাদি পশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, এমনকি আশ্রয় কেন্দ্রের একমাত্র নলকুপটিও আংশিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া। বানভাষি মানুষের এমন দুর্দশার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় আজমল মিয়ার সাথে,তিনি জানান; কৃষিকাজ করেই চলে আমার সংসার। আমার বাড়ি পুরোপুরি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে নৌকাতেই সংসার পেতেছি। গত এক সপ্তাহের বন্যায় ত্রান বলতে শুধু ৫ কেজি চাল ও সামান্য ডাল পেয়েছি। বাধ্য হয়ে নৌকাতেই চালের জন্য ধান শুকাচ্ছি।
তিনি আরও জানান;বাড়ির গরু-ছাগলগুলো তো আর নৌকায় থাকতে পারবে না। তাই আশ্রয় কেন্দ্রে ওগুলোকে রেখে এসেছি। খাবারের সময় শুধুমাত্র গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে নৌকায় করে খাবার দিয়ে আসছি। নিজে খেতে না পারলেও গবাদিপশুগুলোকে সময় মত খাবার দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
বন্যার পানি ভেঙ্গে গরু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে কথা হয় জোহরা বেগমের সাথে,তিনি জানান; উপায় না পেয়ে গরুকে বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা কষ্ট করে নৌকাতে ঘর পাতলেও গবাদি পশু নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; ত্রান তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বন্যার কারনে উপদ্রুত এলাকায় পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেতে হচ্ছে নৌকায় করে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বানভাষি মানুষের জন্য ত্রান তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আমি নিজেও অনেক এলাকায় নৌকায় করে ত্রান তৎপরতা চালাচ্ছি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬আগষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৭

দুই ইউনিয়নের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যমুনেশ^রি নদী ভাঙ্গঁনে দিশেহারা ৫ শতাধিক পরিবার


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


নছর আলি(৫০)। একজন হতদরিদ্র মানুষ। কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কোন রকমে চলে তার সংসার। তার বাড়ির কোল ঘেঁষে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর ভাঙ্গঁন তাকে করেছে দিশেহারা। নছর আলি ভরসা ছিল নদী সংলগ্ন একটি রাস্তা। যে রাস্তা দিয়ে দুটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত  করে। সেই রাস্তাটিই আজ সকালে(১৪অগাষ্ট) নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ কারনে সহায় সম্বলহীন নছর আলি তার একমাত্র আবাসস্থলটি (বাড়ি) যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলিন হতে পারে এই দুঃচিন্তায় তার দিন কাটছে। নছর আলির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর আসামি পাড়ায়। এ পাড়ার আরও ৫ শতাধিক পরিবারের বাস। তারা সকলেই অজানা শংকায় দিন কাটাচ্ছেন।
কথা হয় আসামিপাড়ার রফিকুল ইসলাম(৩২)সাথে,তিনি জানান; প্রতিবছর বন্যায় নদী ভাঙ্গনে আমাদের এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে এবার রাস্তাটি সম্পুর্ন নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদীর পানি যে ভাবে বাড়ছে তাতে যে কোন মুহুর্তে আমাদের ঘর বাড়ি সহ ফসলি জমি বিলিন হয়ে যাবে।
আসামি পাড়ার বাসিন্দা মনজু মিয়া(৫৪) সাথে,তিনি জানান; এবারের বন্যায় পানি হু-হু করে বাড়ছে। আমি এ রকম বন্যা এর আগে দেখিনি।
তিনি আরও জানান; বন্যার সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। আসামি পাড়ার ৫শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কুতুবপুর ইউপির নাটারাম গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ আলি জানান; এই রাস্তাটি দিয়ে ২ ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তাটি আজ সম্পুর্ন্নরুপে নদী গর্ভে বিলিন হওয়ায় দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। জরুরি ভিক্তিতে রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানান তিনি।
কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক জানান; রাস্তাটি বারবার মেরামত করা হলেও নদীর কোল ঘেঁষে হওয়ায় প্রতিবছর এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তিনি আরও জানান; নদী ভাঙ্গনে আসামি পাড়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান; আসামি পাড়ার নদী ভাঙ্গনের ঘটনাটি জেনেছি। চেয়ারম্যানদেরকে বলা হয়েছে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। তাদেরকে প্রয়োজনীয় ত্রান সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আসামি পাড়ার বাসিন্দাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হবে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বিষয়টি আমি জানার সাথে সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭

বদরগঞ্জে দিনভর বৃষ্টিতে নাকাল জনজীবন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


দুপুর ১ টা। আকাশের অবিরাম ক্রন্দন। অঝোর ধারায় ঝরছে সে। অবিরাম বর্ষনে কাকরাও ভিজে ঘরের কোন এক চিলেকোঠায় আশ্রয় নিয়েছে। এ সময় ঘর হতে বের হওয়া যেন দায়। পৌরশহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উপস্থিতির হার নেই বললেই চলে। দোকানপাঠও বন্ধ। অবিরাম বর্ষনে ঘর হতে পৌরবাসি বের হতে না পারলেও জীবিকার প্রয়োজনে রাস্তার ধারে কোন এক দোকানের কোনে যবুথবু হয়ে দোকান দিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমান ছাতার কারিগররা। অভাব নামক আঁধার ঘেঁরা সংসারে একটুখানি রোজগারের আশায় তাদের এই কাজে নামা।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(১২অগাষ্ট)সকালে বৃষ্টির সময় পৌরশহর ঘুরে দেখা মেলে এই ভ্রাম্যমান ছাতার কারিগরদের।
কথা হয় ছাতা কারিগর শামিম,নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হোসেনের। এদের সকলের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
বৃষ্টির আগমনি বার্তা পেলেই রাস্তার ধারে কিংবা দোকানঘরের এক পাশে চট বিছিয়ে সুই-সূতা হাতে নিয়েই কাজে লেগে যায় ওরা। প্রচন্ড বৃষ্টিও তাদের কাবু করতে পারে না। সুঁই-সূতা চট আর অকেজো ছাতা কোন রকমে মাথায় দিয়ে যবুথবু অবস্থায় ফুটপাতের এক কোনে অবস্থান করে। ছিন্নমূল দিনমজুর কিংবা বর্গাচাষি ধরনের লোকজনরাই একটু বাড়তি আয়ের জন্য ছাতা মেরামতের কাজ করেন। বৃষ্টির যত বেশি ক্রন্দন ততবেশি তাদের আয়।
ছাতা মেরামত কারিগর শামিম জানান; সবচাইতে বেশি ছাতা মেরামতের ব্যবসা হয় বর্ষাকালে এবং গ্রীষ্মকালে। যখন বৃষ্টি কিংবা রোদ হয় তখন ব্যবসা ভাল হয়। মূলতঃ এই সময়গুলি বাদে আমরা এ ব্যবসা গুটিয়ে কৃষি শ্রমিক হিসেবে ক্ষেতে খামারে কাজ করে বেড়াই।
ছাতা মেরামতের কারিগর নূর ইসলাম জানান;সারা দিনে ছাতা মেরামতের কাজ করে ৪-৫শত টাকা আয় হয়। সে টাকা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে।
কারিগর মোজাম্মেল হোসেন জানান; এই কাজ(ব্যবসা)করার পর বাকি সময় মানূষের বাড়িতে কামলা(মজুর)দেন। ব্যবসা হতে বাড়তি যা আয় হয় তা দিয়ে বছরের অন্য সময়গুলোতে কোন রকমে জীবন চলে।
ছাতা মেরামত করতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;অহেতুক সময় নষ্ট না করে এই ব্যবসা দিয়ে বাড়তি আয় করে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে তারা কাজ করছে এটা অবশ্যই ভাল দিক। এভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যদি কোন কাজকে ছোট মনে না করে নিরলশভাবে পরিশ্রম করে যায় তবে দেশ অবশ্যই সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
 

রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৭

ভোক্তরা ভেবে দেখবেন কি ? মোটাতাজা গরু মানে কি স্বাস্থ্যসন্মত গরু!!



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আর মাত্র ২৬ দিন পরেই ঈদুল আযহা। এই ঈদকে সামনে রেখে চলছে গরু তাজামোটা করার প্রতিযোগিতা। তাজামোটা সূঠামদেহি গরু মানে চড়া দাম পাওয়া। ভোক্তাকে আকৃষ্ট ও চড়া দাম পাওয়ার অনৈতিক প্রতিযোগিতায় এই দানব সদৃশ গরুর মাংস কতটা নিরাপদ !
সারা দেশের মত কোরবানির ঈদে রংপুরের বদরগঞ্জে খামার কিংবা বাড়িতে চলছে গরু তাজামোটা করার প্রতিযোগিতা। স্বল্প এই সময়ের মধ্যে গরুকে মোটাতাজা করতে গরুর শরীরে অবাধে পুশ করা হচ্ছে ক্ষতিকর ষ্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট,ইনজেকশন, হরমোন ও অতিভিটামিন জাতীয় ওষুধ। ষ্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধের মধ্যে ট্যাবলেট- ডেকাসন, ওরাডেক্সন,প্রেডনিসোলন, বেটনেনাল, কর্টান, ষ্টেরন, আ্যাডাম-৩৩। ইনজেকশন সমুহ-ডেকাসন, ওরাডেক্সন সহ অ্যানাবলিক ষ্টেরয়েড ইনজেকশন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে; হিলি বর্ডার দিয়ে দেশে অবাধে আসছে গরু মোটা-তাজা করনের এই ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন।  
প্রানি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়; ক্ষতিকর এই সব ষ্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট,ইনজেকশন ও হরমোন/অতিভিটামিন জাতীয় ওষুধের রাসায়নিক উপাদান এতটাই শক্তিশালি যে,রান্নার সময় আগুনেও তা নষ্ট হয় না। এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে একদিকে যেমন মানুষের লিভার কিডনিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে অন্যদিকে এর যথেচ্ছ ব্যবহার গবাদি পশুর কলিজা ও ফুসফুস নষ্ট হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে পারে।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়; উপজেলায় গরু মালিকের সংখ্যা ৩৫৫১জন। তাদের গরু রয়েছে ৯০০০টি । এ ছাড়া উপজেলার অনেক বাসাবাড়িতে অনেক গরু রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অফিস হতে আরও জানা যায়; এ উপজেলায় কোরবানির জন্য আনুমানিক গরু প্রয়োজন ১৬হাজার। হিসেব অনুযায়ি বদরগঞ্জে কোরবানির জন্য আরও দরকার ৭ হাজার গরু।
পৌর শহরের গরু খামারি নজরুল ইসলাম জানান; আমরা খামারে যে সব গরু মোটা-তাজা করছি সেগুলো উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নিবিড় তত্বাবধানে রয়েছে। এই গরুগুলো স্বাস্থ্যসন্মত। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ষ্টেরয়েডের মাধ্যমে বাড়িতে গরু মোটা-তাজা করন করছে। এ ছাড়া গরু চোরাই পথে ভারত হতে আসছে,পাশ্ববর্তী দেশ নেপাল মিয়ানমার হতেও আসছে। এ গরুর মাংস কতটা স্বাস্থ্যসন্মত হবে তাও ভেবে দেখা দরকার !!  
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সাখাওয়াৎ হোসেন জানান; চঞ্চল প্রকৃতির রোগমুক্ত স্বাভাবিক গরুটিই স্বাস্থ্যসন্মত গরু। কিন্তু দানব সদৃশ তাজা-মোটা গরুটি হয় দূর্বল প্রকৃতির। প্রাণিটির শরীরে হাত দিলে যদি আঙ্গুল তলিয়ে যায় তবে বুঝতে হবে ষ্টেরয়েড দ্বারা তাজা মোটা করা গরু। এ সব গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
তিনি আরও বলেন; ষ্টেরয়েড দিয়ে পশুর শরীর ফুলানোর কারনে পশুর শরীর পানিতে পূর্ণ থাকে এ কারনে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে যে কেউই বুঝতে পারবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪














মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭

অন্ধত্ব দমাতে পারেনি বদরগঞ্জের সালিহুরকে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সালিহুর রহমান(২০)। শ্যামলা মাঝারি গড়নের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি ছাত্রের নাম। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ফয়েজের পাড়া গ্রামে। দিনমজুর পিতার ২ সন্তানের মধ্যে সালিহুর ছোট। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হলেও তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ এতটাই যে দিনমজুর পিতা আঃ রউফ বাধ্য হন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। বর্তমানে সে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে কথা হয় সালিহুরের সাথে।
সে জানায়; ছোট বেলা হতে লেখাপড়া করতে আমার ভীষন ভাল লাগতো। কিন্তু আমার কপালটাই খারাপ আমি জন্মান্ধ। আমার বাবা মা আমাকে নিয়ে খুবই চিন্তা করতো। আমি নিজেও বুঝতাম আমার দরিদ্র পিতা-মাতার আমাকে নিয়ে খুবই ভাবনা তাদের।
সালিহুর জানায়; পাশের গ্রামের এক স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে এবং আমার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমার দরিদ্র পিতা অনেকটা বাধ্য হয়েই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি স্কুলে ভর্তি করে দেন। সেখানে মুলতঃ আমাদের ব্রেইল(হাতের স্পর্শ) পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হয়। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় আমি জিপিএ ৪ পেয়েছি ।
সালিহুর আরও জানায়; আমার চাইতে জুনিয়র কোন শিক্ষার্থী আমার পরীক্ষার সময় সহযোগিতা করতে পারে। আমি তাকে উত্তর জানিয়ে দেই আর সে খাতায় লেখে। ডিগ্রি পরীক্ষা মোটামুটি ভালই হচ্ছে।
আমি লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হতে চাই। অন্ধদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
কালুপাড়া ইউপির ফয়েজের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান; সালিহুর অত্যন্ত ভাল ছেলে। প্রচন্ড আগ্রহ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে মানুষকে সামনের দিকে নিয়ে যায় অন্ধ সালিহুর তার প্রমান।  আমাদের গ্রামের সুস্থ্য শরীরের অসংখ্য ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করে না । অথচ সালিহুর ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি বিশ^াস করি সালিহুর একদিন বড় হবেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; একই গ্রামে আমাদের গ্রামের বাড়ি। সালিহুর অত্যন্ত ভাল ছেলে। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই,অন্ধত্ব তাকে দমাতে পারেনি। আমার বিশ^াস সে এগিয়ে যাবেই।  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; ডিগ্রি পরীক্ষার্থী সালিহুর অনেক ভাল ছেলে। মাঝে মাঝে তার রুমে গিয়ে যতটুকু বুঝতে পেরেছি সে পরীক্ষা ভাল দিচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জুলাই/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

শেখের বেটি হামাক কারেন্ট দেছে

 
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শেখের বেটি হামাক কারেন্ট দিছে। হামরা জীবনেও ভাববার পারি নাই হামার মতন গরীব মানুষের বাড়িত কারেন্ট আসপে। এলা থাকি আর হামাক আন্ধারোত থাকবার নাগবার নায়। গত কালই হামার স্বপ্ন পুরন হইছে। কথাগুলো বললেন বিলের ধারের বাসিন্দা আনজিরা বেগম(৫০)।
বদরগঞ্জ পৌরশহর হতে ৬ কিমি (পুর্বে) দুরে অবস্থিত শোবোডোবো নামক বিল। বিলের ধারে সরকারি পরিত্যক্ত জমিতে আশ্রয় নিয়েছে আনজিরা সহ ৭২টি অসহায় দুস্থ্য পরিবার। অসহায় দুস্থ্য এই মানুষগুলি অন্যের জমিতে কাজ করে,রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে ,মাটি কাটার কাজ করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করে। এরা সকলেই ভুমিহীন। প্রায় ২০বছর ধরে বিলের ধারে এরা বসতি স্থাপন করেছে। এত দিন এখানে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগলেও বর্তমান এমপি আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক তাদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে অসহায় এই মানুষগুলিকে নিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই শুক্রবার রাতে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রানালয়ের আওতায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৬০০ ওয়ার্ট বিশিষ্ট সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট উদ্বোধন করেন। এতে করে ৭২টি পরিবার সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হল। আরও আলোকিত হল মসজিদ,মাদরাসা,মন্দির,শ্বশা¦ান ও মৎস্যজীবি সমিতি। 
কথা হয় বিলের পাড়ের বাসিন্দা আলফাজ মিয়া(৬৫)সাথে,তিনি জানান; ডিউক(এমপি) বাবাজির জন্যে হামার দোয়া থাকিল। ওয় যেন আবারও এমপি হয়। হামার কথা এতদিন কেউ ভাবে নাই।
তিনি আরও জানান;একটা বাড়িত ১টা কারেন্টের বল দিছে,২টা করি বল দেলে ভাল হইল হয়।
রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; আওয়ামিলীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশে উন্নয়ন হয়েছে। আর এই উন্নয়নের রুপকার জননেত্রি শেখ হাসিনা।
আমি এমপি হওয়ার পর দুই উপজেলায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছি। আগামিতে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। উপজেলার সবখানে বিদ্যুৎ দেয়া হবে। যেখানে বিদ্যুৎ যাবে না সেখানে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান; বিলের ধারে দুস্থ্য পরিবারগুলো আজ হতে আলো পেল। এখন এ সব অসহায় দুস্থ্য পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য স্যানিটেশন সহ সকল বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫জুলাই/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...