শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭

বদরগঞ্জে নাতির আবদার পুরনে দাদার প্রানবন্ত চেষ্টা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

একান্নবর্তী পরিবার আর নেই। আধুনিক এই যুগে মানুষ নিজে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এখন প্রতিটি মানুষ জীবনের প্রয়োজনে পরিবার পরিজন ছেড়ে কিংবা শুধুমাত্র সন্তানদের নিয়ে শহর নগরে ছোট এক কুঁঠুরিতে বসবাস করছেন। এটাই জীবন। সেখানে নেই কোন মমতা ভরা ভালবাসা নেই কোন আনন্দ। এভাবে আমরাও অভ্যস্ত হয়েছি কিংবা নিজেকে মেনে নিয়েছি সেভাবেই।
সংবাদকর্মি হিসেবে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলা ঘুরার এক পর্যায়ে চোখে পড়ে এক বিরল দৃশ্য। 
পরম মমতা ভালবাসা আর দরদ দিয়ে ভালবাসার ছোট অবুঝ শিশুটির জিদ ভাঁঙ্গাতে এক দাদা তার প্রিয় নাতিকে বাড়ি হতে কিছুটা দুরের মেঠোপথে একেবারে সাদামাটা পোষাকে পরম ¯েœহে সুপারি গাছের পাতার সম্পুর্ন অংশ(ডাল)দিয়ে গাড়ির ন্যায় টেনে তাকে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করছে। এই সময়ে এমন বিরল দৃশ্য দেখে লোভ সামলাতে না পেরে মটরবাইক থামিয়ে স্থির চিত্র ধারন করি। এই বিরল দৃশ্যটি চোখে পড়ে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ নামক এলাকায়।
এক পর্যায়ে দাদা আলতাব হোসেন(৬৯)সাদরে আমন্ত্রন জানিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে গিয়ে দেখি অনেক বড় দালানের বাড়ি আর অসংখ্য ঘর। যার  প্রতিটি ঘরেই আধুনিক সকল প্রকার সুযোগ সুবিধাই রয়েছে। ঘরগুলিতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আসবাবপত্র যা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। অথচ বাড়িতে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ। বাড়ি দেখে মনে হল আলতাব হোসেন বিত্তশালি অভিজাত পরিবারের সন্তান।
কথা হয় দাদা আলতাব হোসেনের সাথে,তিনি জানান; আমার ৫ছেলে ৩মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মেয়ে সবাই চাকুরি করে। আমার অন্য ছেলে সন্তানরা ঈদের সময় আর মেয়েরা ৪-৫ বছর অন্তর বাড়িতে আসে। এখন এই বাড়িতে আমি,আমার স্ত্রী, ছোট ছেলে,বউ ও তার সস্তানকে নিয়েই থাকি। সারাদিন শুয়ে বসে আর ছোট ছেলের সন্তানকে নিয়ে আনন্দ করি। ওর যত আবদার সবকিছুই আমার কাছে। আপ্রান চেষ্টা করি ওর আবদার পুরন করতে,এতে আমারও ভীষন ভালো লাগে।
তিনি জানান; সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করতে হবে এ কারনে প্রতিটি সন্তানকে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় হতে এমএ পাশ করিয়েছি। পরে সকল সন্তান যখন চাকুরির সুবাদে নিজ নিজ পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে অবস্থান করছে তখন আমরা ভীষন একাকিত্ব অনুভব করলাম। ওই সময়টাতে এত বড় বাড়িতে আমি আর আমার স্ত্রী। একসময় সিন্ধান্ত নেই ছোট ছেলেটি বিশ^বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করলেই নিজের কাছে রাখবো। ছেলে পাশ করে আসার পর অনেকটা জোর করে তাকে আমাদের পাশর্^বর্তী উপজেলা মিঠাপুরের এক কলেজে চাকুরির ব্যবস্থা করি। 
তিনি আরও জানান; সকল সন্তানদের সাথে মোবাইল ফোনে প্রতিদিন কথা হলেও তারা তো আমাদের কাছে থাকে না। এখন অনুভব করি এই বৃদ্ধ বয়সে এত জমি(শত বিঘা) আর বাড়ি,গাড়ি দিয়ে কি হবে ? মনের মধ্যে যদি কোন আনন্দ না থাকে ! 
এই নাতিটাই আমার বৃদ্ধ বয়সের অবলম্বন। ওকে নিয়েই আমরা দুই মানুষ বেঁচে আছি,আনন্দে আছি। এ যে কি সুখ,আনন্দ,তা তোমাদের বোঝাতে পারবো না। আর তোমরাও বৃদ্ধ না হলে অনুভব করতে পারবে না।
একই এলাকার বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক রাজ্জাক আলি জানান; আলতাব চাচা বিত্তশালি হলেও অতি সাধারন পোষাক পরিধান করতে অভ্যস্থ। সন্তানদেরও তিনি এভাবেই মানুষ করেছেন। তার প্রতিটি সন্তানও বাবার মত। একেবারে সাধামাটা। তিনি আরও জানান; চাচা একজন সহজ সরল পরোপকারি মানুষ। দুঃখের বিষয়, তার এত বড় বাড়িতে তেমন কোন মানুষই থাকে না। এক ছেলে বাড়িতে থাকলেও কলেজে চাকুরি আর ব্যস্ততার কারনে বাড়িতে কম সময় দিতে পারেন। বাড়িতে বৃদ্ধ চাচা চাচি নাতিকে নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান। নাতিই চাচার প্রান।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 







বিদায়-২০১৭



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

বিদায় লগ্ন সত্যিই বিরহের। তবু বিদায় নিতে হয়। এটাই জাগতিক নিয়ম। বিদায় বেলায় মানুষ রেখে যায় সুখ-দুঃখের অসংখ্য স্মৃতি।
এই সুন্দুর পৃথিবী ছেড়ে আমরাও একদিন বিদায় নেব। পড়ে থাকবে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি।
ব্লগ ও ফেসবুকে লেখালেখির সুবাদে অসংখ্য বন্ধুর সাথে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বন্ধুরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো,তোমরা সকলেই ভাল থেকো, সুস্থ্য থেকো। ছোট একটি কবিতার মাধ্যমে আমি আমার পৃথিবীর সকল বন্ধুদের ২০১৮ সালের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানাতে চাই।
 
“চলেই যখন যাবে তুমি,
একটু ফিরে চাও
আমার ভালবাসাটুকু
ফেরৎ দিয়ে যাও”

 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত(পিকনিক)এখন স্মৃতি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বড় পুকুর,বিলের পাড় কিংবা গাছ-গাছালি ঘেঁরা মনোরম পরিবেশ এমন জায়গাকেই এক সময়ের শিশু-কিশোররা দলবেঁধে ভুরকাভাত খাওয়ার জায়গা হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেখানে সামিয়ানা, কলাগাছের পাতা আর পলিথিন দিয়ে ছোট আকারের ঘর তৈরি করা হতো। যেখানে রান্না করা খাবার সহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র রাখা হতো। এর পর রান্না শেষ হলে দলবদ্ধভাবে খাবার পরিবেশন করা হতো। প্রথমে তুলনামুলকভাবে বড়রা পরিস্কার কলার পাতায় (থালা) ছোটদের খাইয়ে দিয়ে পরে নিজেরা খেতে বসতো। পরম মমতায় একজন আরেক জনের সাথে মিলে মিশে আনন্দ উপভোগ করতো। সময়ের পথপরিক্রমায় শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত (পিকনিক)এখন স্মৃতি। আগের মত গ্রামে-গঞ্জে শিশু কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।
আধুনিক এই যুগে পিকনিকের বহুল প্রচলন থাকলেও শিশু-কিশোররা বাবা মা ভাই-বোন কিংবা বন্ধুদের সাথে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বাস কিংবা মাইক্রোতে চেপে গন্তব্যস্থলে যাওয়া আর আসা। সেখানে নেই কোন ভালবাসা,তেমন নেই কোন আনন্দ।   
ছুটির দিনে বেড়ানোর ফাঁকে উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার বিরল দৃশ্য। তৎক্ষনাৎ মটরবাইক থামিয়ে চলে যাই শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার জায়গায়।
এ সময় কথা হয় কিশোর দলনেতা ফারুক মিয়া(১২)সাথে,সে জানায়;অনেকদিন ধরে ভুরকাভাত খাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাবা মাদের সাথে কথা বলে তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে আজ ভুরকাভাত খাওয়ার আয়োজন করেছি। অনেক ছোটরাও আমাদের সাথে ভুরকাভাত খাচ্ছে। ছোটদের দেখার জন্য আমাদের মধ্য হতে ৩জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে,  তারা যেন আনন্দ করতে এসে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।
সে আরও জানায়, ডিম,মাছ,ডাল,ভর্তা,শাক-সবজি দিয়ে আমরা ভুরকাভাত খাচ্ছি। কষ্ট হলেও ভীষন আনন্দ লাগছে।
কথা হয় শিশু আমিনার (৫)সাথে,সে জানায়;আমি এসেছি আমার বড় ভাইয়ের সাথে। খুব মজা লাগছে।
মটরবাইক থামিয়ে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য দেখতে থাকা বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন জানান; বহু বছর পর বাচ্ছাদের ভুরকাভাত(পিকনিক)খাওয়ার দৃশ্য দেখে নিজেকে আর সামলাতে না পেরে দাঁড়িয়ে পড়লাম। খুব ভালো লাগছে। কতদিন দেখিনি এ দৃশ্য।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৯০) সাথে,তিনি জানান; বাচ্চাদের ভুরকাভাত(পিকনিক)খাওয়া দেখে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমরাও ছোট বেলায় অনেক ভুরকাভাত খেয়েছি। এখন আর ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে না। আধুনিক যুগে শিশু-কিশোরদের ভুরকাভাত খাওয়ার দৃশ্য বিরল।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 

বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

কৃষিকাজে যখন বাড়ির নারীরাই ভরসা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রামিন অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে শ্রমজীবি নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তাদের শ্রমকে খাটো করে দেখার কোন কারন নেই। এর সাথে যদি যুক্ত হয় নিজ বাড়ির সদস্য বোন ভাবি ননদ তাহলে কেমন হয় !  সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে দেখার সময় উপজেলার গোপালপুর ইউপির শ্যামপুর পদাগঞ্জে গিয়ে চোখে পড়ে কৃষি শ্রমিকের অপ্রতুলতার কারনে এক পরিবারের মেয়ে সদস্যরাই নিজ জমির ফসল(আখ) কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 
কাছে গিয়ে ছবি তুলতে গেলে প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে ছবি তোলার অনুমতি দেন।
কথা হয় রহিমা বেগম(২২)সাথে,তিনি জানান; আমাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কেউ ব্যবসা করে কেউবা ঢাকায় থাকে। তারা তেমন সময় দিতে পারে না। আখ কাটতে হবে তো ? অনেক ঘোরাঘুরি করেও যখন কামলা(কৃষি শ্রমিক)পেলাম না, তাই নিজের কাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই করছি।
তিনি আরও জানান; নিজেদের জমিতে আখ কাটার দৃশ্য দেখে পাড়ার কয়েকজন শুভাকাঙ্খি (স্বেচ্ছাশ্রম) আমাদের সাথে কাজ করছে যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। 
কথা হয় ডিগ্রি শিক্ষার্থী আমেনা বেগম(১৮)সাথে,তিনি জানান; এখন আর গ্রামেও মজুর(কৃষি শ্রমিক) পাওয়া যায় না। মজুররা বর্তমানে ইটভাটা,রিক্সা কিংবা ঢাকায় গিয়ে কাজ করছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন শ্রমিক পেলাম না তাই বাড়িতে আমরা সিন্ধান্ত নিলাম নিজেদের দুই বিঘা(৫৬শতাংশ)জমির আখ আমরাই কেটে নেব।
এভাবেই শুরু। আজ জমির ফসল কাটা শেষ হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষিকর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, কৃষি ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছে,কারন হিসেবে তিনি কামলা(কৃষি শ্রমিক))না পাওয়াকে দায়ি করেন।
উপজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমান মোবাইল ফোনে জানান;এখন আর গ্রাম-গঞ্জে কামলা পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অদুর ভবিষ্যতে নিজের জমির ফসল হয়তোবা নিজেকেই কাটতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

বড় দিনে উপলক্ষে ক্যাথলিক মিশনে একদিন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আজ ২৫ ডিসেম্বর। শুভ বড় দিন। আহিৃক গতির হিসেবে দক্ষিন গোলার্ধে এই দিনটি আক্ষরিক অর্থেই দীর্ঘতর। তবে উত্তর গোলার্ধে বিপরীত। অর্থ্যাৎ ক্ষুদ্রতর।
কিন্তু দুই গোলার্ধ মিলে পৃথিবীব্যাপি আজ বড় দিন। ইংরেজিতে এই দিনটিকে খ্রিষ্টমাস বলা হলেও বাংলা সাহিত্যের উজ্জল নক্ষত্র ইশ^র চন্দ্র গুপ্ত একে বড় দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বিদের বিশ^াস অনুযায়ি বড় দিন মানে সৃষ্টিকর্তা ঈশ^রের সবচাইতে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুর দিন। এই দিনটি তারা পালন করেন মিথ্যা,প্রতারনা,ভন্ডামি সহ যাবতীয় পাপ কাজ ছেড়ে পূন্য পথে চলার দিন হিসেবে।
অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল বড় দিনের উৎসবে অংশ নেয়ার। এ কারনে বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ১৫কিঃমিঃ দুরে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামে অবস্থিত ক্যাথলিক মিশনে গিয়ে মিশন ইনচার্জ ফাদার বনিফাস মুরমুরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও শুভেচ্ছা বিনিময় করি। পরে তার সাথে কিছু ছবি তুলি।
মিশন ইনচার্জ ফাদার বনিফাস মুরমু এবং দায়িত্বশীল মানুষদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।
বড় দিন উপলক্ষে বিশে^র খ্রিষ্টান ধর্ম্বাবলম্বি ভাই-বোনদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ইত্তেফাকের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকি আমার ইত্তেফাক




আমার ইত্তেফাক

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পঁচিশ পয়সা হতে দশ টাকা। দীর্ঘ পথ। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ইত্তেফাক মানে বাংলাদেশ আর লাল সবুজের পতাকা। বাংলাদেশের প্রাচীনতম পত্রিকার মধ্যে ইত্তেফাক অন্যতম। আর এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের কিংবদন্তি সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। অনন্যগুন সম্পন্ন মানুষটির(একজন মানুষের যে সমস্ত গুনাবলি থাকে) পরিচয় দেবার মত যোগ্যতা আমার মত এক অখ্যাত সংবাদকর্মির আজন্ম হবে কিনা সন্দেহ। সেই ছোট বেলা হতে বাবার হাতে যে পত্রিকাটি আমি দেখেছিলাম তা হল দৈনিক ইত্তেফাক। সেই হতে ইত্তেফাকের প্রতি আমার প্রেম আমার ভালবাসা। কলেজ শিক্ষক ও সংবাদকর্মি হিসেবে এখন বুঝি দেশের শত পত্রিকার মাঝে এখনও কেন ইত্তেফাক এত জনপ্রিয়।
দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকিতে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ হতে জানাই প্রানঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।


প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা
সভাপতি,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব

দৈনিক ইত্তেফাকের একজন পাঠক,ভক্ত।
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

খরা জাল দিয়েও মাছ মিলছে না নদীতে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

“কাইল সারা রাইত ধরি খরা দিয়া মাছ পানু আধা সেরের মতন। নদীত আর মাছ নাই বাহে”কথাগুলো বললেন বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মাছুয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ঝড়–য়া মাঝি(৩৮)। 
তিনি জানান,খরা এইংকা একটা জাল,ওই জাল দিয়া কোন মাছ বেরবার পাবার ন্যায়।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার(২৪ডিসেম্বর)সকালে গিয়ে দেখা যায় খরা জাল দিয়েও মাছ মিলছে না নদীতে। আরও দেখা যায়,নদীতে কোথাও হাটু পানি,কোথাও ধু-ধু বালু চর,আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার। এ চিত্র হল বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি,চিকলি,করতোয়া মরাতিস্তা ও ঘৃনই নদীর।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন টনি জাল(টানা জাল)দিয়ে মাছ মারতে আসা একই এলাকার আফজাল মিয়া। তিনি জানান,নদীতে আর আগের মত মাছ নেই। এক সময় আমাদের বাড়িতে মাছের গন্ধে থাকা যেত না। আর এখন খাবার মাছটুকুই পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলে আলম মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। নদীতে মাছ না থাকায় অতি কষ্টে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি।
ইতোমধ্যে এ নদীগুলো হতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা,ধেদাই,পাবদা সহ নানা প্রজাতির মাছ।
গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার গুলোতেও আর এসব প্রজাতির মাছ সহজে চোখে পড়েনা।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে; প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং ছোট মাছ সংরক্ষনে আইন না থাকায় নদ-নদী,খালবিলের ছোট প্রজাতির মাছ আজ ঝুঁকির মধ্যে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন; নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী সংশ্লিষ্ট খালবিলের গভীরতা কমে যাওয়া, নদী ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা,জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার,জলাশয় দুষন,রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান, নদ-নদীগুলোতে মাছের হয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি বলেন, মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ অঞ্চলে দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে,তবে মৎস্য বিভাগ প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টি মাধ্যমে দেশিয় মাছের অভাব পূরনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 















মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

বিষমুক্ত সবজি চাষে সফল বদরগঞ্জের বাবু




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

বছর পাঁচেক আগেও যে ছিল বাউন্ডেলে জীবনে অভ্যস্ত। বন্ধুবান্ধবদের সাথে অহেতুক সময় নষ্ট করা যার ছিল একমাত্র কাজ। সেই মানুষটিই আজ বিষমুক্ত সবজ্ িচাষ এবং একই জমিতে একাধিক শষ্য চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
পরিশ্রম সততা আর ইচ্ছাশক্তি যে কোন মানুষকে যে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে তার জলন্ত উদাহরন বদরগঞ্জের বাবলুর রহমান বাবু।
এইসএসসি পাশের পর লেখাপড়ায় মন বসে না তার। জায়গা জমি বেশ থাকলেও পিতা আব্বাস আলির তাকে নিয়ে টেনশনের অন্ত ছিল না।
একদিন বাবু তাদের আবাদি জমির ধার দিয়ে যেতে যেতে লক্ষ্য করলো কৃষকরা সবজি ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করছেন। এ বিষয়টি তার ভাল না লাগাতে, সে মনে মনে স্থির করলো বিষমুক্ত সবজি চাষ এবং একই জমিতে একাধিক ফসলের চাষ করবেন। এভাবেই শুরু। এর পর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। চলতি বছর সামান্য জমিতে মাত্র ৪ হাজার টাকা খরচ করে শীতের আগাম জাতের বাঁধা কপি ও ফুল কপি বিক্রি করেছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার।
গতকাল মঙ্গলবার(১৯ডিসেম্বর)সকালে সরেজমিনে তার এই বিষমুক্ত সবজি চাষ এবং একই জমিতে একাধিক ফসলের চাষ দেখতে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে পশ্চিমে ৫ কিঃমিঃ দুরে ট্যাক্সের হাট বালাপাড়া নামক এলাকায়।
জমিতে গিয়ে দেখা যায় কৃষক বাবলুর রহমান বাবু পরম যতেœ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বাবলুর রহমান বাবু জানান,এক সময় আমাকে নিয়ে আমার পিতা মাতার টেনশনের অন্ত ছিল না। অনেক ত্যাগ আর শ্রম দিয়ে গড়ে তুলেছি বিষমুক্ত সবজি খামার।
তিনি জানান,কিছুদিন আগে সামান্য জমিতে বিষমুক্ত কপি বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেছি। বর্তমানে আমার জমির সীমানা ঘেঁষে রোপন করেছি বরবটি। জমিতে আছে আগাম জাতের বিষমুক্ত টমেটো যা কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে আসবে। আশা করছি এখান হতেই কয়েক লক্ষ টাকা আয় করতে পারবো। টমেটোর পাশ দিয়ে লাইন করে রয়েছে পটল,তার পাশে রয়েছে মরিচ,বেগুন ও বাঁধাকপি।
তিনি দুঃখ করে জানান,গতকাল কে বা কাহারা আমার জমিতে গিয়ে বরবটি গাছগুলি নষ্ট করে দিয়েছে।
আমি চাই আমার মত বেকার যুবকরা অহেতুক সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ কাজে মনোনিবেশ করুক তাহলে তারা সফল হবেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আগামি কালই আমি বিষমুক্ত সবজি বাগানটি দেখতে যাবো।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,একই জমিতে একাধিক সবজি চাষ করে বাবু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 




সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

যমুনেশ্বরি নদী এখন পানি শুন্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

 

কোথাও হাটু পানি,কোথাও ধু-ধু বালু চর,আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার। এ চিত্র রংপুর বদরগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ^রি নদীর। যমুনেশ্বরি নদী এখন পানি শুন্য।
পুরোপুরি শুস্ক মৌসুম না আসতেই নদীতে কোন পানি নেই। জেগে ওঠেছে চর। এককালে এ নদী অনেক খরস্রোতা ছিল। কিন্তু কালের আবর্তে তা বিলিন হতে চলেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদীতে চাষিরা ফসল আবাদ করছেন। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে জেলে পরিবারের দুঃখ দূর্দশা চরমে পৌঁছেছে। যমুনেশ্বরি নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য ড্রেজিং না করার কারণে নদী যেমন তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে অন্যদিকে নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।
এক সময়ে এই যমুনেশ্বরি নদীতে বড় বড় নৌকা আর ইঞ্জিনচালিত নৌকা পারাপারের জন্য প্রচলন ছিল। এখন তা সূদুর অতীত। কোথাও কোথাও পানি না থাকায় লোকজন পায়ে হেঁটেই পার হচ্ছে আবার কোথাও হাঁটু পানিতেই লোকজন পারাপার করছে। যেখানে কিছুটা পানি আছে সেখানে বাশেঁর সাঁকো নির্মাণ করে চলছে পারাপারের কাজ। যমুনেশ¦ির নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পুরোপুরি শুস্ক মৌসুম আসার আগেই টিউবওয়েলের পানি ওঠা কমে গেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার নাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চল মিয়া জানান; নদীতে পানি না থাকায় আমাদের খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফসলের ক্ষেত খামারে পানির স্বল্পতা দেখা দেয়ায় আবাদ ঠিকমতো হচ্ছে না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; যমুনেশ¦ির নদীর পানি শুকিয়ে যাবার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক বছরে এ এলাকার উৎপাদন কমে গেছে। আগামিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে বলে মনে করেন তিনি। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শুস্ক মৌসুমে যমুনেশ্বরি নদীর উৎস মুখে পলি পড়তে শুরু করে। কিন্তু খনন কাজ না করা সহ অব্যবস্থাপনার কারণে দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে নদী। এছাড়া অবৈধ দখলদারতো রয়েছেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কনক চন্দ্র রায় বলেন; নদী খনন না করার কারণে নদীতে পলি জমে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ভূ-গর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত ব্যবহারে পানির স্তর নিম্নমূখি হচ্ছে। এমতবস্থায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান,দ্রুত নদী খনন করা না হলে নদীর তীরবর্তী জমির ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ছাড়াও নদীতে পানি না থাকায় জেলে সম্প্রদায়েরও দুর্দিন বিরাজ করছে।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

কীটনাশক ও সারের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে যেতে পারে, তামাকের তৈরি কম্পোস্ট সার




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের চাষ। এক দিকে কৃষকদের নগদ অর্থের মোহ অন্যদিকে টোবাকো কোম্পানি গুলোর অর্থের লোভ দেখিয়ে উৎসাহ; মূলতঃ এই দুটো কারণেই কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তামাকের চাষ। তামাকের চাষ হয় তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনের লক্ষ্যে,যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এই তামাক মূলতঃ চাষিরা টোবাকো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অধিক মুনাফার আশায়।
চাষিরা যদি তামাক গাছ হতে সরাসরি কম্পোস্ট সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করে তাহলে দ্বিগুন ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন; এতে চাষাবাদে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার অর্থ্যাৎ খরচ কমে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও নজরদারিতে তামাকের ব্যবহারটি চাষিদের সূফল আনতে পারে।
কম্পোস্ট সার তৈরি সম্পর্কে তিনি জানান; মাটির গর্তে (মাটির পিট) গোবর, ধঞ্চা,কচুরিপানা, খৈল,ঘাসপাতার সাথে কাঁচা তামাক গাছ ১ ইঞ্চি করে কেটে ভাল করে মিশিয়ে মিশ্রিত দ্রব্য মাটির গর্তে ৭০-৮০ দিন রাখতে হবে। মাঝে এক বার মিশ্রিত দ্রব্যগুলো উল্টে পূনরায় মাটির গর্তে রেখে দিতে হবে। পরবর্তিতে এই পিট হতে সার উত্তোলন করে কম্পোস্ট সার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; বদরগঞ্জ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের আবাদ । তবে তামাকজাত দ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও কম্পোস্ট সার হিসাবে এটি খুবই উপযোগি। তিনি বলেন; এই গাছ জমিতে ১২০-১৩৫ দিন পর্যন্ত থাকে। ঐ সময়ে তামাক গাছ মাটি হতে যে সার মিশ্রিত খাদ্য গ্রহন করে তা গাছের দেহে যৌগিক পদার্থ হিসাবে জমা থাকে। কাঁচা অবস্থায় ঐ গাছ কেটে সার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা হলে যৌগিক পদার্থ কম্পোস্ট সারের সাথে মিশে যায়। এতে তৈরি হয় এক সুষম সার। যা অন্যান্য ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


    



শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

বিজয় দিবসে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করেছেন। গতকাল শনিবার(১৬ডিসেম্বর)সকাল ৭টায় এ পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,রিপোর্টার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক মোস্তাফিজার রহমান,সহ-কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক সাইদুজ্জামান রিপন,সাংবাদিক শ্যামল লোহানী প্রমুখ।
পুস্পমাল্য অর্পন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ১ মিনিট নীরবতা ও মোনাজাত করা হয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬ডিসেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...