মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

কবিতা - জীবন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 


“জীবন একটা অমসৃন চলার পথ,
কতই না চড়াই উৎরাই তাতে।
জীবনে কখনও থাকে আনন্দ,
কখনওবা  বেদনায় ভরা।
তবুও চলতে হয় একাগ্রচিত্ত্বে।
সব কিছুকে পেছনে ফেলে,
আগামির সুন্দর স্বপ্নীল স্বপ্নের কথা ভেবে।
এটাই মনে হয় জীবনের মানে।
জীবন মানেই শুধু সামনের দিকে এগিয়ে চলা.......”

 

তারিখ-০১জুলাই/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

আসুন,কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে একটু দাঁড়াই


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
“মানুষ বাঁচে আশায়,দেশ বাঁচে সকলের ভালবাসায়”। মানুষকে ভালবাসার মধ্যেই পরম সুখ নিহিত। ভয়াবহ করোনার প্রার্দুভাবে শংকিত আমাদের দেশ বাংলাদেশ। গোটা দেশ আজ অবরুদ্ধ এবং আমরা পরস্পর পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন। বাংলাদেশ সরকার ভয়াবহ করোনার ছোবল হতে দেশ তথা দেশের মানুষকে বাঁচাতে সাধ্যমত অনেক কিছুই করছে। এ কারনে আমাদের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা প্রশংসার দাবি রাখে। আমি একজন অতি সাধারন মানুষ হিসেবে বলতে পারি,দেশের আজ এই কঠিন সময়ে নিজ নিজ অবস্থান হতে দেশকে তথা দেশের মানুষকে ভালবাসা দেবার সময় এসে গেছে। মনে রাখতে হবে,দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালবাসা দেবার সুযোগ সব সময় আসে না। আমি ১৯৯০সালের এসএসসি ব্যাচের তৎকালিন সকল শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,আমরা কি পারি না, দেশের এই কঠিন সময়ে কর্মহীন অসহায় অভুক্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমাদের সামর্থ্যনুযায়ি আমরা সকলেই যদি একত্রিত হয়ে নিজ নিজ এলাকার অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে এই কর্মহীন অসহায় অভুক্ত মানুষগুলো বেঁচে যায়। আপনাদের একটুখানি আন্তরিকতায় দুস্থ্য অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটতে পারে।
শুধু সরকারের উপর নির্ভর করলে চলবে না,কঠিন এই সময়ে মানুষ হিসেবেও আমাদের কিছু করনীয় আছে। প্লিজ,আর বসে থাকবেন না, কিছু একটা করুন। 
পরিশেষে,চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্টের পিতা তার ছেলেকে(বর্তমান প্রেসিডেন্ট)  দেয়া একটি উপদেশের কথা মনে পড়ে গেল,“তুমি জীবনে যদি অন্যের জন্য ভাব,অন্যকে দাও,জীবনও তোমার কথা ভাববে,তোমাকে আরও বহুগুনে ফিরিয়ে দেবে।
আসুন,সকলে মিলে দেশের জন্য তথা দেশের মানুষের জন্য কিছু একটা করি। সবার জন্য শুভকামনা। ভুল ক্রুটি মার্জনীয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২এপ্রিল/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

বাবা,আমি আর তোমার কাছে বায়না ধরবো না,কোন কিছুই চাইবো না,তুমি বাহিরে যেও না।


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমার একমাত্র সন্তান তাসিন। বয়স ৫বছর পার হলেও  ৬ বছর পূর্ন হয়নি। গতকাল রবিবার(১২এপ্রিল)সকালে আমার বুকে মাথা রেখে সে বলছে,বাবা আমি আর কোন কিছুর জন্য তোমার কাছে বায়না ধরবো না। কোন কিছু আনতে বলবো না,তুমি আর বাড়ি হতে বের হবে না। টিভিতে করোনা ভাইরাসের কথা বার বার বলছে,আমাকে খুব ভয় লাগছে। তুমি আর বাহিরে যাবে না। প্রাণ প্রিয় অবুঝ সন্তানের মুখে এমন কথা শোনার পর হৃদপিন্ডটা যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। অবুঝ শিশুটিও যেন বুঝতে পেরেছে করোনা নামক দানবের ভয়াবহতা।
আমার সন্তানের মত আপনার সন্তানও আঁতকে আছে করোনার প্রার্দুভাবে। সন্তানের মায়া ভরা মুখ,পরিবারের তথা দেশের কথা ভেবে অযথা বাহিরে বের হবার প্রবনতা বন্ধ করি। সরকারের নির্দেশনা মেনে চলি। জানি,বাড়িতে থাকতে সবার কিছুটা কষ্ট হবে সত্যি কিন্তু প্রিয়জন হারানোর বেদনার চাইতে সে কষ্ট অবশ্যই বেশি নয়। এখন আমাদের সিন্ধান্ত নেবার সময় এসেছে,ঘরের ভিতরে সুরক্ষিত থাকবো নাকি ঘরের বাহিরে বের হয়ে নিজে অপরকে তথা দেশকে অরক্ষিত রাখবো।
সকলের জ্ঞাতার্থে বিনয়ের সাথে জানাতে চাই,এই জীবনে কখনো কি দেখেছেন, সরকার নিজে থেকেই দিনের পর দিন অফিস আদালত,এইসএসসি পরীক্ষা,  ট্রেন,বাস,নৌপথ,ব্যবসা বানিজ্য সহ সকল বিষয় বন্ধ করে দেয়। এতে সরকারের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কেন সরকারকে এই সিন্ধান্ত নিতে হল। শুধুমাত্র আমাদের কথা তথা বাংলাদেশের মানুষের কথা ভেবে সরকার এই সিন্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি আমাদের সকলকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।  সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সরকারের (স্বাস্থ্য বিষয়ক) নির্দেশনা মানতে হবে। মনে রাখতে হবে,কোন অযুহাত জীবনের চাইতে বড় হতে পারে না। নিজে বাঁচতে হবে,দেশকে বাঁচাতে হবে এই ভয়াবহ করোনা নামক দানবের হাত হতে। এ ক্ষেত্রে ভয় না পেয়ে ধৈর্য্যরে সাথে সকলকে এর মোকাবেলা করতে হবে। অতি প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 
পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই,মানুষ বাঁচে আশায়,দেশ বাঁচে সকলের ভালবাসায়।
আশায় বুক বেঁধে আছি,অন্ধকারের বুক চিঁড়ে একদিন আলোর দেখা মিলবেই।
সকলেই ভাল থাকুন,ঘরে থাকুন,সুরক্ষিত থাকুন,সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩এপ্রিল/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

করোনার প্রভাব, প্যাটের আগুন বড় আগুন,কাম না করলে খামো কি ?



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মোস্তাফিজার রহমান(৩৮)।বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির বক্সিপাড়া গ্রামে। পেশায় রিক্সা চালক। ২ সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ক্লাশ দশম শ্রেনিতে আর ছোট ছেলে নবম শ্রেনিতে পড়ে। আগে রিক্সা চালিয়ে যা আয় হত তা দিয়ে ৪জনের সংসার কষ্টের মধ্য দিয়ে হলেও মোটামুটি চলতো। কিন্তু করোনা ভীতির কারনে মানুষ এখন আর তেমন বাহিরে বের হচ্ছেন না। আয়-রোজগারও থেমে গেছে তার। সংসারের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই তিনি রিক্সা নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন যাত্রির অপেক্ষায়।  তার মধ্যেও রয়েছে করোনা ভীতি কিন্তু কি করবেন তিনি?
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(৩এপ্রিল)সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত গোটা পৌরশহর ঘুরে রিক্সাচালকদের মোড়ে মোড়ে রিক্সায় বসে অলস সময় পার করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় রিক্সা চালক মোস্তাফিজারের সাথে,তিনি জানান,প্যাটের আগুন বড় আগুন,কাম না করলে খামো কি? হামরাও চাই বাইরোত বাহির না হবার।
দামোদরপুর ইউপির তুফানুপাড়া গ্রামের অপর রিক্সা চালক জগীন্দ্রনাথ(৪২)জানান,করোনার ভয় হামারও আছে। কিন্তু কি করমো? একদিন কাম না করলে হামার প্যাটোত ভাত যাবা নায়। রিক্সা নিয়া বাহির হছি, কিছু আয়পানি  হইলেই  চাউল ডাইল কিনি বাড়ি যামো।
রামনাথপুর ইউপির রামকৃষ্ণপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের অপর রিক্সাচালক আকতার হোসেন(৫৫)জানান,হামরাও কি চাই হামার ওসুখ হউক ? হামাক যদি কেউ সাহায্য করিল হয় তাইলে হামরাও আর বাহিরোত বের হইনো না হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)বাবুল চন্দ্র জানান,এখন পর্যন্ত এই উপজেলায় ২৩মে.টন চাল,৪শত ব্যাগ সয়াবিন তেল ও আলু এসেছে। এর মধ্যে ৭টন পৌরসভার জন্য এবং উপজেলার ১০ইউপির জন্য দেড় টন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান,উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে এবং আমার ব্যক্তিগত তহবিল হতে কর্মহীন দিনমজুর শ্রেনির মানুষদের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরন অব্যাহত আছে। উপজেলার বিত্তবান মানুষদের নিজ নিজ অবস্থান হতে কর্মহীন দিনমজুর শ্রেনির মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহবানও জানান তিনি। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩এপ্রিল/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪











শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা চর্চা আর উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আগামির স্বপ্নে বিভোর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এক একটি শিশুর চোখ যেন বাংলার মানচিত্র,লাল সবুজের পতাকা আর স্বাধিন ভূ-খন্ড। একদিন এই কোমলমতি মায়াবি শিশুরাই গড়বে সোনার বাংলা তথা উন্নত বাংলাদেশ। শিশুদের মনে আগামির স্বপ্নের বীজ বপন করা তথা স্বপ্ন পুরনের দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের। শিশুদের প্রতি যেমন সদয় হয়ে শিক্ষা দান করতে হবে,তেমনি তাদের অন্তরে গেঁথে দিতে হবে মানবিক মুল্যবোধের বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে মানবিক গুন সম্পন্ন শিক্ষাই হল প্রথম ও শেষ কথা । শিশুদের শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা চর্চার বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপুর্ন। একটি কথা শিশুদের অন্তরে গেঁথে দিতে হবে,জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে একদিন হয়তঃ শিশুদের অনেক ভাষাই শিখতে বা আয়ত্ব করতে হবে কিন্তু মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে,এই শিশুরাই একদিন বড় হয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে উন্নত বিশ্বের দরবারে। এই শিশুরাই একদিন উন্নত বাংলাদেশ গড়বে। এরাই হল বঙ্গঁবন্ধুর সোনার বাংলার কারিগর।
আজ আমার খুব ভাল লেগেছে এ জন্য যে,আজ(২১ফেব্রুয়ারি)সকালে বদরগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সকল ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পরম মমতায় আগলে শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছে ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে। শিশুদের পতাকা,মানচিত্র,মায়ের ভাষা,দেশ সম্পর্কে জানাতে হবে। আরও জানাতে হবে বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস।
ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে নিয়ে আসার জন্য বদরগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের পরিচালক মাহাবুবার রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। আর ধন্যবাদ জানাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফসার আলি চাচাকে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই স্কুলের সকল শিক্ষকগনকে। আমরা সবাই জানি,শিশুদের মধ্যে স্বপ্নের বীজ বপন করা,তাদের স্বপ্ন পুরনে কাজ করা একটি কঠিন কাজ। তার চাইতে কঠিন কাজ হল তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়া। কাজগুলি করা কঠিন হলেও কিন্তু অসম্ভব নয়। এই কাজটি যে প্রতিষ্ঠান করতে পারে সেই প্রতিষ্ঠানই তো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। আমি আশা করি,স্কুলটি একদিন দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত শিশুদের প্রতি শিক্ষক সহ কর্তৃপক্ষ আরও বেশি সদয় হবেন। আরও অনুরোধ করছি মানবিক মুল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা দেবার জন্য।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
 
 

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কচুুরিপানাকে আর অবহেলা নয়




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কয়েক দিন হতে কচুুরিপানাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ দেশে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে আমি দেখেছি, আমাদের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রি এমএ মান্নান সাহেব বলেছেন,কচুরিপানা নিয়ে গবেষনা করতে বলেছি,কচুরিপানার ফুল আমি নিজে খেয়েছি,খুব মিস করি। কাউকে কচুরিপানা খেতে/পরামর্শ দেননি ইত্যাদি ইত্যাদি।
সেই সাথে আমাদের রংপুর অঞ্চলের কৃতি সন্তান ও বানিজ্যমন্ত্রি টিপু মুন্সি সাহেব বলেছেন,একদিন কচুরিপানা হতে খাদ্য বের হতে পারে।
আমাদের দু-জন মন্ত্রি আমার দৃষ্টিতে যথার্থই বলেছেন,আমি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের এক সময়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এ কথা বলতে পারি,অবহেলা আর অনাদরে আপনা আপনি বেড়ে ওঠা কচুরিপানা নিয়ে আমাদের আরও বেশি বেশি গবেষনা প্রয়োজন। দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বিকল্প খাদ্যের সন্ধান করা যেমন জরুরি তার চাইতে বেশি জরুরি আমাদের খাদ্যাভাস পরিবর্তনের। আপনারা সকলেই জানেন,তার পরও আপনাদের কিছুটা স্মরন করিয়ে দেবার জন্য সংক্ষেপে কচুরিপানা সম্পর্কে অবহিত করছি।
আমাদের বাড়ির আশে পাশে পুকুর ডোবা নালা বা পরিত্যক্ত কোন জলাশয়ে আপনা আপনি ভাবে বেড়ে উঠে যে উদ্ভিদটি তার নাম কচুরিপানা। কচুরিপানা একাধারে পরিবেশ দুষন মুক্তকারি,জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারি,মাটির গুনগত মান আনায়ন কারি,জৈব গ্যাস উৎপাদন কারি,গবাদি পশুখাদ্য সরবরাহকারি হিসেবে অবহেলিত এই উদ্ভিদটিও যে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে এ বিষয়টি আরও ভালো ভাবে আমাদের জানা দরকার। কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক নাম আইকরনিয়া ক্রাসিপেস
গোত্রের নাম পনটিডিরেসি।
বিজ্ঞানীদের ধারনা;কচুরিপানার উৎপত্তিস্থল দক্ষিন আমেরিকার ভেনিজুয়েলায়।
ভারতের জহরলাল নেহেরু কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ি শুকনা কচুরিপানায় আছে প্রায় ২২.৯ভাগ আমিষ,২.১২ভাগ চর্বি,১৮.৩ভাগ আঁশ,১৭.৮ভাগ ছাই,৩.৬৫ভাগ নাইট্রোজেন,৩.৮৭ফসফরাস এবং র্কাবন-নাইট্রোজেনের অনুপাত ১৭ঃ১। কচুরিপানার গাছ অপেক্ষা পাতায় বেশি পরিমানে আমিষ জাতীয় পদার্থ পাওয়া যায়। যার পরিমান ৩২.৯ভাগ। তাই একে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যবান করা সম্ভব।
কচুরিপানা হতে জৈব গ্যাস ঃ
আমাদের দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট। ছোট ছোট জৈব গ্যাসের প্লান্ট তৈরি করে ছোট পরিবারগুলো  অনায়েসে রান্নার কাজে সুবিধা নিতে পারে। এজন্য ৪ফুট হতে ৮ফুটের মোটা টিনের তৈরি বায়ুরোধি একটি প্লান্ট তৈরি করতে হবে।  প্লান্টটিতে পচা কচুরিপানা ও পানি দিয়ে ভর্তি করতে হবে। এটি মাটির নিচে থাকবে। এ প্লান্টের গ্যাস হতে রান্নার কাজ সহ বাতি জ্বালানো সম্ভব।
কাগজের মন্ড তৈরি ঃ
কচুরিপানার মন্ড, ব্লিচিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম কার্বনেট এক সাথে করে উত্তপ্ত করলে কাগজের মন্ড প্রস্তুত হয়।
মশার কয়েল তৈরিঃ
শুকনা কচুরিপানাকে সিদ্ধ করে মন্ড তৈরি করতে হবে। এর সাথে চিটাগুড়, কাঠের গুঁড়া,ব্লিচিং পাউডার ও ধুপ এক সাথে মিশিয়ে রোদে শুকালে ভাল জ্বলে এবং মশা তাড়ানো যায়।
কীটনাশক ও সার হিসেবে কচুরিপানাঃ কাঁচা কচুরিপানার মন্ড,কপার সালফেট বা তুঁতে এক সাথে মিশিয়ে ফসলে স্প্রে করলে করলে কীটপতঙ্গ যেমন মরে যাবে অন্য দিকে জমিতে মান সম্পন্ন সার স্প্রে করা হবে।
মাছের খাদ্য হিসেবে কচুরিপানাঃ মাছের দৈহিক বৃদ্ধি,রোগমুক্ত ও সুস্থ্য রাখার জন্য প্রয়োজন খাদ্য ও সার। আর উৎকৃষ্ট মানের কম্পোষ্ট সার ও খাদ্য তৈরি হতে পারে এই কচুরিপানা দিয়েই। কারন এই কম্পোষ্ট সারটি তৈরি করতে ৮৮ভাগ কচুরিপানা প্রয়োজন। আমরা কম বেশি সবাই জানি গ্রাসকার্প নামক মাছটি কচুরিপানা সরাসরি খেয়ে থাকে। এ ছাড়াও কচুরিপানার তৈরি কম্পোষ্ট সারটি জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভুমিকা রাখে।
খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহারঃ কচুরিপানার নীলাভ ফুল হতে তৈরি করা যায় স্বুস্বাদু বড়া। এই বড়া অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ।
এছাড়াও কচুরিপানা দিয়ে দড়ি তৈরি,পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য প্রস্তুত,পানি বিশুদ্ধকরন সহ নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, অবহেলিত কচুরিপানা গ্রামিন অর্থনীতেতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে। সহজলভ্য অবহেলিত এই উদ্ভিদটিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে এর অবদানের কথা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে আরও গবেষনা করা দরকার।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান জানান, কচুরিপানা একাধারে পরিবেশ দুষন মুক্তকারি,জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারি,মাটির গুনগত মান আনায়ন কারি,জৈব গ্যাস উৎপাদন কারি,গবাদি পশুখাদ্য সরবরাহকারি হিসেবে অবহেলিত এই উদ্ভিদটি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




       

শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

প্রকৃতির সাথে ভালবাসা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বসন্ত বরন আর বিশ্ব ভালবাসা দিবস। যেন মিলে মিশে একাকার। ফাগুনের এই অগ্নিঝরা দিনে আর ভালবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে প্রকৃতিকে কাছ হতে দেখতে তথা প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেতে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ৩৫কি.মি দুরে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আশুরার বিল নামক স্থানে। অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত বিলটিকে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাঁজিয়েছে। প্রকৃতির অপরুপ সাজে সজ্জিত ১৩ বর্গ কি.মি বিলটি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলাকে আচ্ছাদন করে রেখেছে। সমতল ভুমিতে ব-দ্বীপ সদৃশ আর শাল বাগান দিয়ে ঘেঁরা এত বড় বিশাল এলাকা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যাবে কিনা সন্দেহ। নিঃসন্দেহে এটি একটি নৈসর্গিক স্থান। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তৈরি শালবাগান,বিলের স্বচ্ছ জলরাশি,অতিথি পাখির পদচারনা,বিলে ফোটা জাতীয় ফুল শাপলা শালুকের প্রাচুর্যতা ভ্রমন পিপাষু মানুষ যে এখানে ভাললাগা আর ভালবাসায় মনের অজান্তে হারিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিলের সীমানা এত দুর পর্যন্ত বিস্তৃত যে,যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। আকাশ আর বিল যেন মিতালি করেছে অর্থ্যাৎ এক সুত্রে গাঁথা। বিষয়টি আপনি নৌকা কিংবা স্পিড বোডে চড়ে বিলের কিছুটা দুরে গেলেই অবলোকন করতে পারবেন। বিলের পানি এতটাই স্বচ্ছ যে,মাছ পর্যন্ত দেখা যায়। সব কিছু মিলে প্রকৃতিকে একেবারে হাতের কাছে পাওয়ার স্বাদ নিতে হলে চলে আসতে হবে আশুরার বিল নামক স্থানে।
এখানে একটি বিষয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে,প্রকৃতিতে আপনা আপনি ভাবে জন্মানো শাল বাগানটি এতটাই বৃহৎ ও ঘন অরন্যে ঘেঁরা,যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মেঠো পথ। সব মেঠো পথ একই রকমের দেখতে যে কোন মুহুর্তে পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
বসন্ত বরন আর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা তথা প্রকৃতিকে কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সত্যিই অপরুপ রুপের সমাহার বিলটির। যেন চোখ জুড়িয়ে যায়।
বিলটির এত অপরুপ সৌন্দর্যের মাঝেও বিলটির আশে পাশের গ্রামের মানুষদের তথা কৃষকদের মাঝে চাপা কান্না আর বেদনার চিত্র সংবাদকর্মি হওয়ার সুবাদে চোখে পড়ে। আমরা সবাই জানি,যে কোন সৃষ্টির উল্লাসের পাশাপাশি বেদনাও নিহিত। তেমনি আশুরার বিল সংলগ্ন আশে পাশের গ্রামের মানুষ তথা কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের অসহায় মুখে নীরব কান্না অনুভুত হয়েছে। তাদের দেয়া ভাষ্য মতে,বিলটিতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। বাঁধ দেবার কারনে কৃষকদের শত শত একর জমি পানির অভাবে পানিশুর্ণ হয়ে অনাবাদি হয়ে পড়েছে। নিরীহ শত শত কৃষক তাদের জমি বাঁচাতে এক সময় বিলের বাঁধ কেটে দেন। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। সরকারের কাছে তাদের দাবি,তাদের মত নিরীহ কৃষকদের নামে মামলা প্রত্যাহার সহ শত শত একর জমি বাঁচাতে বিকল্প ব্যবস্থা সহ ভ্রমন পিপাষুদের জন্য আশুরার বিল দেশের শ্রেষ্ঠ বিনোদন স্পট হবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...