শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭

বদরগঞ্জে দিনভর বৃষ্টিতে নাকাল জনজীবন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


দুপুর ১ টা। আকাশের অবিরাম ক্রন্দন। অঝোর ধারায় ঝরছে সে। অবিরাম বর্ষনে কাকরাও ভিজে ঘরের কোন এক চিলেকোঠায় আশ্রয় নিয়েছে। এ সময় ঘর হতে বের হওয়া যেন দায়। পৌরশহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উপস্থিতির হার নেই বললেই চলে। দোকানপাঠও বন্ধ। অবিরাম বর্ষনে ঘর হতে পৌরবাসি বের হতে না পারলেও জীবিকার প্রয়োজনে রাস্তার ধারে কোন এক দোকানের কোনে যবুথবু হয়ে দোকান দিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমান ছাতার কারিগররা। অভাব নামক আঁধার ঘেঁরা সংসারে একটুখানি রোজগারের আশায় তাদের এই কাজে নামা।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(১২অগাষ্ট)সকালে বৃষ্টির সময় পৌরশহর ঘুরে দেখা মেলে এই ভ্রাম্যমান ছাতার কারিগরদের।
কথা হয় ছাতা কারিগর শামিম,নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হোসেনের। এদের সকলের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
বৃষ্টির আগমনি বার্তা পেলেই রাস্তার ধারে কিংবা দোকানঘরের এক পাশে চট বিছিয়ে সুই-সূতা হাতে নিয়েই কাজে লেগে যায় ওরা। প্রচন্ড বৃষ্টিও তাদের কাবু করতে পারে না। সুঁই-সূতা চট আর অকেজো ছাতা কোন রকমে মাথায় দিয়ে যবুথবু অবস্থায় ফুটপাতের এক কোনে অবস্থান করে। ছিন্নমূল দিনমজুর কিংবা বর্গাচাষি ধরনের লোকজনরাই একটু বাড়তি আয়ের জন্য ছাতা মেরামতের কাজ করেন। বৃষ্টির যত বেশি ক্রন্দন ততবেশি তাদের আয়।
ছাতা মেরামত কারিগর শামিম জানান; সবচাইতে বেশি ছাতা মেরামতের ব্যবসা হয় বর্ষাকালে এবং গ্রীষ্মকালে। যখন বৃষ্টি কিংবা রোদ হয় তখন ব্যবসা ভাল হয়। মূলতঃ এই সময়গুলি বাদে আমরা এ ব্যবসা গুটিয়ে কৃষি শ্রমিক হিসেবে ক্ষেতে খামারে কাজ করে বেড়াই।
ছাতা মেরামতের কারিগর নূর ইসলাম জানান;সারা দিনে ছাতা মেরামতের কাজ করে ৪-৫শত টাকা আয় হয়। সে টাকা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে।
কারিগর মোজাম্মেল হোসেন জানান; এই কাজ(ব্যবসা)করার পর বাকি সময় মানূষের বাড়িতে কামলা(মজুর)দেন। ব্যবসা হতে বাড়তি যা আয় হয় তা দিয়ে বছরের অন্য সময়গুলোতে কোন রকমে জীবন চলে।
ছাতা মেরামত করতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;অহেতুক সময় নষ্ট না করে এই ব্যবসা দিয়ে বাড়তি আয় করে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে তারা কাজ করছে এটা অবশ্যই ভাল দিক। এভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যদি কোন কাজকে ছোট মনে না করে নিরলশভাবে পরিশ্রম করে যায় তবে দেশ অবশ্যই সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
 

রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৭

ভোক্তরা ভেবে দেখবেন কি ? মোটাতাজা গরু মানে কি স্বাস্থ্যসন্মত গরু!!



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আর মাত্র ২৬ দিন পরেই ঈদুল আযহা। এই ঈদকে সামনে রেখে চলছে গরু তাজামোটা করার প্রতিযোগিতা। তাজামোটা সূঠামদেহি গরু মানে চড়া দাম পাওয়া। ভোক্তাকে আকৃষ্ট ও চড়া দাম পাওয়ার অনৈতিক প্রতিযোগিতায় এই দানব সদৃশ গরুর মাংস কতটা নিরাপদ !
সারা দেশের মত কোরবানির ঈদে রংপুরের বদরগঞ্জে খামার কিংবা বাড়িতে চলছে গরু তাজামোটা করার প্রতিযোগিতা। স্বল্প এই সময়ের মধ্যে গরুকে মোটাতাজা করতে গরুর শরীরে অবাধে পুশ করা হচ্ছে ক্ষতিকর ষ্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট,ইনজেকশন, হরমোন ও অতিভিটামিন জাতীয় ওষুধ। ষ্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধের মধ্যে ট্যাবলেট- ডেকাসন, ওরাডেক্সন,প্রেডনিসোলন, বেটনেনাল, কর্টান, ষ্টেরন, আ্যাডাম-৩৩। ইনজেকশন সমুহ-ডেকাসন, ওরাডেক্সন সহ অ্যানাবলিক ষ্টেরয়েড ইনজেকশন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে; হিলি বর্ডার দিয়ে দেশে অবাধে আসছে গরু মোটা-তাজা করনের এই ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন।  
প্রানি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়; ক্ষতিকর এই সব ষ্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট,ইনজেকশন ও হরমোন/অতিভিটামিন জাতীয় ওষুধের রাসায়নিক উপাদান এতটাই শক্তিশালি যে,রান্নার সময় আগুনেও তা নষ্ট হয় না। এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে একদিকে যেমন মানুষের লিভার কিডনিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে অন্যদিকে এর যথেচ্ছ ব্যবহার গবাদি পশুর কলিজা ও ফুসফুস নষ্ট হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে পারে।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়; উপজেলায় গরু মালিকের সংখ্যা ৩৫৫১জন। তাদের গরু রয়েছে ৯০০০টি । এ ছাড়া উপজেলার অনেক বাসাবাড়িতে অনেক গরু রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অফিস হতে আরও জানা যায়; এ উপজেলায় কোরবানির জন্য আনুমানিক গরু প্রয়োজন ১৬হাজার। হিসেব অনুযায়ি বদরগঞ্জে কোরবানির জন্য আরও দরকার ৭ হাজার গরু।
পৌর শহরের গরু খামারি নজরুল ইসলাম জানান; আমরা খামারে যে সব গরু মোটা-তাজা করছি সেগুলো উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নিবিড় তত্বাবধানে রয়েছে। এই গরুগুলো স্বাস্থ্যসন্মত। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ষ্টেরয়েডের মাধ্যমে বাড়িতে গরু মোটা-তাজা করন করছে। এ ছাড়া গরু চোরাই পথে ভারত হতে আসছে,পাশ্ববর্তী দেশ নেপাল মিয়ানমার হতেও আসছে। এ গরুর মাংস কতটা স্বাস্থ্যসন্মত হবে তাও ভেবে দেখা দরকার !!  
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সাখাওয়াৎ হোসেন জানান; চঞ্চল প্রকৃতির রোগমুক্ত স্বাভাবিক গরুটিই স্বাস্থ্যসন্মত গরু। কিন্তু দানব সদৃশ তাজা-মোটা গরুটি হয় দূর্বল প্রকৃতির। প্রাণিটির শরীরে হাত দিলে যদি আঙ্গুল তলিয়ে যায় তবে বুঝতে হবে ষ্টেরয়েড দ্বারা তাজা মোটা করা গরু। এ সব গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
তিনি আরও বলেন; ষ্টেরয়েড দিয়ে পশুর শরীর ফুলানোর কারনে পশুর শরীর পানিতে পূর্ণ থাকে এ কারনে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে যে কেউই বুঝতে পারবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬অগাষ্ট/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪














মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭

অন্ধত্ব দমাতে পারেনি বদরগঞ্জের সালিহুরকে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সালিহুর রহমান(২০)। শ্যামলা মাঝারি গড়নের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি ছাত্রের নাম। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ফয়েজের পাড়া গ্রামে। দিনমজুর পিতার ২ সন্তানের মধ্যে সালিহুর ছোট। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হলেও তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ এতটাই যে দিনমজুর পিতা আঃ রউফ বাধ্য হন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। বর্তমানে সে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে কথা হয় সালিহুরের সাথে।
সে জানায়; ছোট বেলা হতে লেখাপড়া করতে আমার ভীষন ভাল লাগতো। কিন্তু আমার কপালটাই খারাপ আমি জন্মান্ধ। আমার বাবা মা আমাকে নিয়ে খুবই চিন্তা করতো। আমি নিজেও বুঝতাম আমার দরিদ্র পিতা-মাতার আমাকে নিয়ে খুবই ভাবনা তাদের।
সালিহুর জানায়; পাশের গ্রামের এক স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে এবং আমার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমার দরিদ্র পিতা অনেকটা বাধ্য হয়েই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি স্কুলে ভর্তি করে দেন। সেখানে মুলতঃ আমাদের ব্রেইল(হাতের স্পর্শ) পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হয়। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় আমি জিপিএ ৪ পেয়েছি ।
সালিহুর আরও জানায়; আমার চাইতে জুনিয়র কোন শিক্ষার্থী আমার পরীক্ষার সময় সহযোগিতা করতে পারে। আমি তাকে উত্তর জানিয়ে দেই আর সে খাতায় লেখে। ডিগ্রি পরীক্ষা মোটামুটি ভালই হচ্ছে।
আমি লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হতে চাই। অন্ধদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
কালুপাড়া ইউপির ফয়েজের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান; সালিহুর অত্যন্ত ভাল ছেলে। প্রচন্ড আগ্রহ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে মানুষকে সামনের দিকে নিয়ে যায় অন্ধ সালিহুর তার প্রমান।  আমাদের গ্রামের সুস্থ্য শরীরের অসংখ্য ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করে না । অথচ সালিহুর ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি বিশ^াস করি সালিহুর একদিন বড় হবেই।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; একই গ্রামে আমাদের গ্রামের বাড়ি। সালিহুর অত্যন্ত ভাল ছেলে। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই,অন্ধত্ব তাকে দমাতে পারেনি। আমার বিশ^াস সে এগিয়ে যাবেই।  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; ডিগ্রি পরীক্ষার্থী সালিহুর অনেক ভাল ছেলে। মাঝে মাঝে তার রুমে গিয়ে যতটুকু বুঝতে পেরেছি সে পরীক্ষা ভাল দিচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫জুলাই/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

শেখের বেটি হামাক কারেন্ট দেছে

 
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শেখের বেটি হামাক কারেন্ট দিছে। হামরা জীবনেও ভাববার পারি নাই হামার মতন গরীব মানুষের বাড়িত কারেন্ট আসপে। এলা থাকি আর হামাক আন্ধারোত থাকবার নাগবার নায়। গত কালই হামার স্বপ্ন পুরন হইছে। কথাগুলো বললেন বিলের ধারের বাসিন্দা আনজিরা বেগম(৫০)।
বদরগঞ্জ পৌরশহর হতে ৬ কিমি (পুর্বে) দুরে অবস্থিত শোবোডোবো নামক বিল। বিলের ধারে সরকারি পরিত্যক্ত জমিতে আশ্রয় নিয়েছে আনজিরা সহ ৭২টি অসহায় দুস্থ্য পরিবার। অসহায় দুস্থ্য এই মানুষগুলি অন্যের জমিতে কাজ করে,রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে ,মাটি কাটার কাজ করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করে। এরা সকলেই ভুমিহীন। প্রায় ২০বছর ধরে বিলের ধারে এরা বসতি স্থাপন করেছে। এত দিন এখানে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগলেও বর্তমান এমপি আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক তাদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে অসহায় এই মানুষগুলিকে নিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই শুক্রবার রাতে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রানালয়ের আওতায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৬০০ ওয়ার্ট বিশিষ্ট সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট উদ্বোধন করেন। এতে করে ৭২টি পরিবার সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হল। আরও আলোকিত হল মসজিদ,মাদরাসা,মন্দির,শ্বশা¦ান ও মৎস্যজীবি সমিতি। 
কথা হয় বিলের পাড়ের বাসিন্দা আলফাজ মিয়া(৬৫)সাথে,তিনি জানান; ডিউক(এমপি) বাবাজির জন্যে হামার দোয়া থাকিল। ওয় যেন আবারও এমপি হয়। হামার কথা এতদিন কেউ ভাবে নাই।
তিনি আরও জানান;একটা বাড়িত ১টা কারেন্টের বল দিছে,২টা করি বল দেলে ভাল হইল হয়।
রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; আওয়ামিলীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশে উন্নয়ন হয়েছে। আর এই উন্নয়নের রুপকার জননেত্রি শেখ হাসিনা।
আমি এমপি হওয়ার পর দুই উপজেলায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছি। আগামিতে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। উপজেলার সবখানে বিদ্যুৎ দেয়া হবে। যেখানে বিদ্যুৎ যাবে না সেখানে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান; বিলের ধারে দুস্থ্য পরিবারগুলো আজ হতে আলো পেল। এখন এ সব অসহায় দুস্থ্য পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য স্যানিটেশন সহ সকল বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫জুলাই/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭

হার না মানা শৈশব




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে সাধারন মানুষ যখন ক্লান্ত। পথচারিরা যখন ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। তৃষ্ণার্ত কাক যখন প্রচন্ড তাপদাহে সামান্যতম পানির সন্ধানে ছুটাছুটি করে। এমন সময় দুরন্ত বালকরা বাড়ির কাউকে না জানিয়ে রাস্তায় ছুটাছুটি করে অবশেষে পুকুর কিংবা নদীতে লাফ দিয়ে প্রচন্ড তাপদাহ হতে রক্ষা পাবার চেষ্টা করে। এ যেন হার না মানা এক দুরন্ত শৈশব। ছুটির দিনে বদরগঞ্জ উপজেলা বেড়ানোর ফাঁকে ঘাটাবিল নামক এলাকায় চোখে পড়ে এসব দুরন্ত বালকদের। কাছে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে কথা শোনার সময় না দিয়েই দলবেঁধে পুকুরে লাফ দিতেই ব্যস্ত বালকরা।
তাদের পানিতে লাফ দেয়া দেখে নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। এ যেন দুরন্ত শৈশব। আজ সবই স্মৃতি। একটা সময় ছিল গ্রীষ্মের এই তাপদাহের দিনে আমরাও(একদিন)দলবেঁধে পানিতে লাফ দিয়ে গোসলে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি।
এ সময় পানিতে লাফ দিতে দিতে ক্লান্ত বালক রহিম মিয়া (১১) এই প্রতিবেদককে জানান; আজ ভীষন গরম। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে গোসল করতে এসেছি।
বালক আরিফুল ইসলাম(১২)জানান; আমার বাড়ির কেউ জানে না আমি এখানে গোসল করতে এসেছি। জানতে পারলে মা খুব রাগারাগি করবেন।
এ সময় কথা হয় স্বুল শিক্ষক তৈয়ব আলির সাথে,তিনি জানান; এ হল হার না মানা এক দুরন্ত শৈশব। কৈশোর বয়সে আমরাও বাড়ির কাউকে না জানিয়ে গরমের দিনে পানিতে লাফ দিয়ে গোসল করেছি। এ যেন এক সোনালী অতীত।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান; এ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম এই দুরন্ত বালকদের দেখে এখানে দাঁড়িয়ে পড়লাম। আর ভাবছিলাম, আমার শৈশবের সেই দিনগুলির কথা। সেই দিনগুলির কথা ভাবলে আমি যেন হারিয়ে যাই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

সোমবার, ২২ মে, ২০১৭

বিদায়ি ইউএনও’র সাথে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সৌজন্য সাক্ষাত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুর বদরগঞ্জের বিদায়ি উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। গতকাল সোমবার(২২মে)বিকেলে ইউএনও কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, প্রভাষক ফয়সাল সরকার পলাশ,শ্যামল লোহানী,সাইদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।
 এ সময় উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান;
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন আশা করবো পরবর্তীতেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। আমি আপনাদের সাফল্য কামনা করছি এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।
উল্লেখ্য; ইউএন কাজি আবেদা গুলশান আগামি ২৬ মে বদরগঞ্জ হতে ঢাকায় গিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে যোগদান করবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ১৯ মে, ২০১৭

মোটর সাইকেল খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশা আকঁড়ে ধরে। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এখানে জীবনটাই মুখ্য অন্য কিছু গৌন। কিন্তু জীবনটাই যদি সেখানে নিরাপত্তাহীন হয় তাহলে ! তবুও মানুষ দু-বেলা খাবারের নিশ্চয়তার জন্য ঝুকিপুর্ন কাজকেও পেশা হিসেবে গ্রহন করে। সহায় সম্বলহীন অসহায় এক যুবক মোফারুল ইসলাম(৩০)। তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাঠ দিয়ে নির্মিত গর্তের মধ্যে মোটর সাইকেল খেলা দেখানো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মটরসাইকেল খেলা দেখান সাধারন মানুষদের চিত্ত বিনোদনের জন্য। এ হতে তার যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তার ৪ সদস্যের আহারের ব্যবস্থা। শীতের শুরুতে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে যখন মেলা শুরু হয় তখনই তার খেলা দেখানোর ডাক পড়ে। বছরের ৫ মাস তিনি মটরসাইকেল খেলা দেখান আর বাকি ৭ মাস বাড়িতে থাকেন এবং গৃহস্থলীর কাজ করেন। মোফারুল ইসলামের বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির হাজিপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে।
সরেজমিন এই প্রতিবেদন তার বাড়িতে গেলে কথা হয় মোফারুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান; প্রায় ১যুগ ধরে দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন মেলায় মটরসাইকেল খেলা দেখাই। জীবনের ঝুকি নিয়ে কাঠের তৈরি গর্তে মটরসাইকেল খেলা প্রদর্শন করতে হয়। ভয় লাগে কিন্তু কি করবো ? এটাই আমার পেশা।
তিনি জানান; এক সময় অভাবের তাড়নায় সিন্ধান্ত নেই মটরসাইকেল খেলা দেখানোর। শুরুতে বাড়িতে মাটির গর্ত করে মটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষন দেই। এভাবেই শুরু।
তিনি জানান; জীবনের শুরুতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতাম। অভাব তখন লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে আমার ছেলের রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। প্রতি মাসে বাচ্চাকে ব্লাড দিতে হয়। উপায় না পেয়ে সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলি পেশাদার মটরসাইকেল খেলা দেখানোর।
তিনি জানান; বর্তমানে প্রতি বছর মেলা মৌসুমে মোটরসাইকেল খেলা হতে সবকিছু বাদ দিয়ে ৮০হাজার টাকা উপার্জন করি। যা দিয়ে আমার পরিবারের যাবতীয় খরচ,সন্তানের চিকিৎসা সহ জমি কিনে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করেছি। শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিকের কাজ করে এ সব কিছুই করতে পারতাম না। 
তিনি আরও জানান; আমার এ খেলার বৈশিষ্ট হলো,আমি যেখানে খেলা প্রদর্শন করি সেটি কাঠের তৈরি খাঁড়া ধরনের গর্ত আর অন্যরা খেলা দেখান একটু ঢালু ধরনের গর্তে। আমার মত খেলোয়াড়রা আমার এই গর্তটিতে সহজেই খেলা প্রদর্শন করতে পারবে না। এ কারনেই আমার খেলা দেখতে মানুষরা বেশি পছন্দ করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; মোফারুল ইসলামকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সে শুধুমাত্র অভাবের তাড়নায় এমন ঝুঁকিপুর্ন কাজটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান; ঝুকিপুর্ন এ খেলা প্রদর্শন করে আয় বেশি হয় সত্যি কিন্তু দ্রুত তার এই পেশা পরিবর্তন করা উচিত।  


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯মে/১৭
মোবাইল-০১৭১৯৫১৪০৫০
 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...