কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
কোমলমতি মেধাবি শিশু শিক্ষার্থী সজীব পঞ্চম শ্রেনিতে পড়ে। ক্লাসের ফার্ষ্ট বয় হওয়াতে স্কুলের সকল শিক্ষক তাকে অত্যন্ত ¯েœহ করেন। সহপাঠিরাও তাকে ভীষন ভালবাসে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তাকে অত্যন্ত আদর করে এর পরও সজীবের মধ্যে কি যেন এক শুন্যতা কাজ করে যার কারনে সে স্কুলে বেশিরভাগ সময়ে একাকি থাকতেই ¯া^চ্ছন্দ বোধ করে। কি যেন তার জীবন হতে হারিয়ে গেছে তা খুঁজতেই তার এই নিস্তব্ধতা। ছোট অবুঝ হৃদয়ও যেন তাড়া করে ফেরে তার হারিয়ে যাওয়া মাকে ফেরৎ পেতে। এ হল রংপুর বদরগঞ্জের রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে হারিয়ে যাওয়া মায়ের সজীব নামের এক অবুঝ সন্তানের মনের আকুতির চিত্র।
সরেজমিনে মঙ্গলবার(২৪এপ্রিল) সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের চাঁদকুঠির ডাঙ্গাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা মেলে সজীবের। আনমনে ভাব নিয়ে সে ক্লাশ রুমের এক কোনে বসে আছে। তাকে কাছে ডেকে নিলে কথার এক পর্যায়ে ছোট্ট সজীব জানায়,আমাদের স্কুলে সকল বন্ধুদের মা তাদের সন্তানদের দেখতে আসে কিন্তু আমার মা আসে না। শুনেছি, আমার মা হারিয়ে গেছে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে। মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। মাকে আমার দেখতে ইচ্ছে করলেও মনে হয় আমার মার আমাকে দেখতে ইচ্ছে করে না। এ কথা বলতে বলতেই তার চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়।
শিশু সজীব আরও জানায়,বাবার কাছে শুনেছি আমার বয়স যখন ৫ তখন আমার মা রাবেয়া বেগম লাইজু রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে হারিয়ে গেছে। আমি আমার দাদা দাদির কাছে থাকি। তারা আমাকে খুব আদর করে। মায়ের কথা মনে হলে আমার আর কিছু ভালো লাগে না।
সজীবের বাবা মোস্তাকিম রহমান জানান,রানা প্লাজা ট্রাজেডির দিনে তিনি টাঙ্গাঁইলে ছিলেন। সেখান হতে খবর পেয়ে রানা প্লাজার সামনে চলে এসে স্ত্রী লাইজুকে খুঁজতে থাকেন। একদিন পর অধোর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চত্ত্বর হতে স্ত্রীর মরদেহ সনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করেন।
তিনি জানান,বিজিএমইএ(বাংলাদেশ পোষাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি)হতে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে শিশু সজীবের নামে ব্যাংকে ১২ লক্ষ টাকা ডিপোজিট করা হয়। প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দেয়া হয় লাইজুর বাবা মাকে। বাকি টাকা পান মোস্তাকিম নিজে। পোষাক প্রস্তুতকারক সংগঠন হতে চাকুরি দেয়ার কথা থাকলেও চাকুরি দেয়া হয়নি মোস্তাকিমকে।
তিনি আরও জানান,এছাড়াও সরকারি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকেও কিছু অর্থ সাহায্য পেয়েছিলেন।
চাঁদকুঠির ডাঙ্গাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন বেগম জানান,সজীব শান্ত স্বভাবের একজন মেধাবি শিক্ষার্থী। সে ক্লাসের ফার্ষ্ট বয়।
এ কারনে স্কুলের সকল শিক্ষক তাকে ভালবাসে।
তিনি আরও জানান,পরিবার ক্ষতিপুরন পেলেও মা হারা ছেলেটির মনে শুন্যতার বিষয়টি অনুভব করা যায়।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন