কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
হাঁটি হাঁটি পা পা করে আসছে বাঙ্গালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর ১ দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পাট শাকের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুন। কারন বিশেষ ওই দিনে বাঙ্গালীদের পান্তাভাতের সাথে ইলিশ মাছ,মরিচ,পিঁয়াজ,শুটকিভর্তা,আলু ভর্তা আর পাট শাক খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
এ কারনে রংপুর বদরগঞ্জের কাঁচামাল ব্যবসায়িরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পাট শাক আমদানি করে নিজস্ব দোকান কিংবা ফেরি করে পাট শাক বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে বদরগঞ্জের বাজার ঘুরে দেখা যায়,কমবেশি প্রতিটি কাঁচামাল ব্যবসায়ির দোকানেই পাট শাকের স্তুপ। আঁটি বেঁধে তা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি আঁটি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকা দরে। এছাড়াও কিছু কিছু ব্যবসায়ি পাড়ায় মহল্লায় ফেরি করে পাট শাক বিক্রি করছেন।
কথা হয় পাট শাক বিক্রেতা মহিদুল হক(৫২)সাথে,তিনি জানান,আমি এমনিতেই সব ধরনের শাক বিক্রি করি। তবে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পাট শাকের চাহিদা খুব বেশি হওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলা হতে পাট শাক কিনে বদরগঞ্জে নিয়ে এসেছি।
তিনি জানান, আমি পাট শাক কিনে এনে আঁটি করে তা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাট শাক এত বিক্রি হবে আগে জানলে আরও বেশি করে কিনে আনতাম।
ফেরি করে পাট শাক বিক্রেতা ওয়াহেদুল হক(৫৫)জানান,আমি রংপুর সদরের পালিচড়া হতে পাট শাক কিনে বাড়িতে আঁটি তৈরি করে তারপর ফেরি করে বদরগঞ্জে বিক্রি করছি। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।
পাট শাক ক্রেতা সবুজ আহমেদ জানান,পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙ্গালীদের প্রানের উৎসব। এই দিনে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ মাছ ভাজি, পাট শাক আর শুটকি ভর্তা না হলে কি হয় ? যদি আর পাট শাক না পাই তাই ১ দিন আগেই কিনে রাখলাম।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,এই দিনটির জন্য (পহেলা বৈশাখ) আমরা বাঙ্গালীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। কারন এই দিনটিতে শুধু উৎসবই হয় না এই দিনটির সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের শত বছরের বাঙ্গালী সংস্কৃতি। তা ধারন করেই তো আমরা বেঁচে আছি।
তিনি আরও জানান,বিশেষ এই দিনটির জন্য বদরগঞ্জে পাট শাকের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন