বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮

পেশা যখন ছুরি ধারালো করা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বিচিত্র মানুষের জীবন,বিচিত্র তার পেশা। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশা আকঁড়ে ধরে। আমিনুল ইসলাম(৩৫)। বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাফগঞ্জ এলাকায়। পেশা হিসেবে তিনি বেঁছে নিয়েছেন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দা,ছুরি,চাকু,কাচি সহ নানা ধরনের লোহার সরঞ্জামাদি ধার(শান)দেয়ার। প্রতিদিন এ হতে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার ৫ সদস্যের সংসার। প্রতিদিন তার সাইকেল সদৃশ ছুরি ধার দেয়ার যন্ত্রটি কাঁধে নিয়ে বাড়ি হতে বের হয়ে আশে পাশের উপজেলায় চলে যান আর বাড়ি ফিরেন রাত করে।
সংবাদ সংগ্রহের উদ্যেশে গত মঙ্গলবার ঘুরে দেখার সময় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির টেক্সেরহাট নামক এলাকায় দেখা মেলে ছুরিতে ধার দিতে ব্যস্ত যুবক আমিনুলের।
ব্যস্ততা শেষ হলে কথা হয় আমিনুলের সাথে,তিনি জানান,এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের দিনেই বাবা মারা যায়। এ কারনে ইচ্ছে থাকলেও আর লেখাপড়া করতে পারি নাই। আমার বাবাও ছুরি ধার দিয়েই সংসার চালাতেন। বাবার মৃত্যুর পর আমার কাঁধেই আসে সংসারের বোঝা। বয়োবৃদ্ধ মা আর ২ সন্তানের লেখাপড়া সহ ভরপোষনের জন্য বাধ্য হয়ে নেমে পড়ি বাবার পেশায়। ১০ বছর ধরে এই পেশাতেই আছি। ঈদের সময় বিশেষ করে কোরবানির সময়টাতে রোজগার বেশি হয়।
আমিনুল জানান,বাবাকে দেখেছি সাইকেল সদৃশ এই যন্ত্রটি কাঁধে নিয়ে পায়ে হেঁটে আশে পাশের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে দা,চাকু ছুরি ধার দিতেন। ফিরতেন গভীর রাত করে। এ কারনে বাবা বলতেন,তুই লেখাপড়া কর। আমার এই কাজটি ভীষন পরিশ্রমের। তোকে এই কাজ করতে হবে না।
তিনি জানান,আমরা গরীব মানুষ। বেঁচে থাকতে গেলে তো কাজ করতে হবে। আর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে কি এমন চাকুরি পাবো।
তিনি আরও জানান,যাতায়াত,দুপুরের খাবার সহ অন্যান্য খরচ বাদে প্রতিদিন আয় হয় ৫-৬শত টাকা। যা দিয়ে কোন রকমে চলে আমার গরীবের সংসার।
রামনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান,কাজ কাজই। প্রতিটি কাজের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। সাইকেল সদৃশ যন্ত্রটি কাঁধে নিয়ে আমিনুল মাঝে মধ্যে পাশের উপজেলা হতে আমার এলাকায় আসে। কাজ করে আবার চলে যায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   
      












মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮

মা হারিয়ে গেছে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কোমলমতি মেধাবি শিশু শিক্ষার্থী সজীব পঞ্চম শ্রেনিতে পড়ে। ক্লাসের ফার্ষ্ট বয় হওয়াতে স্কুলের সকল শিক্ষক তাকে অত্যন্ত ¯েœহ করেন। সহপাঠিরাও তাকে ভীষন ভালবাসে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তাকে অত্যন্ত আদর করে এর পরও সজীবের মধ্যে কি যেন এক শুন্যতা কাজ করে যার কারনে সে স্কুলে বেশিরভাগ সময়ে একাকি থাকতেই ¯া^চ্ছন্দ বোধ করে। কি যেন তার জীবন হতে হারিয়ে গেছে তা খুঁজতেই তার এই নিস্তব্ধতা। ছোট অবুঝ হৃদয়ও যেন তাড়া করে ফেরে তার হারিয়ে যাওয়া মাকে ফেরৎ পেতে। এ হল রংপুর বদরগঞ্জের রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে হারিয়ে যাওয়া মায়ের সজীব নামের এক অবুঝ সন্তানের মনের আকুতির চিত্র।
সরেজমিনে মঙ্গলবার(২৪এপ্রিল) সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের চাঁদকুঠির ডাঙ্গাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা মেলে সজীবের। আনমনে ভাব নিয়ে সে ক্লাশ রুমের এক কোনে বসে আছে। তাকে কাছে ডেকে নিলে কথার এক পর্যায়ে ছোট্ট সজীব জানায়,আমাদের স্কুলে সকল বন্ধুদের মা তাদের সন্তানদের দেখতে আসে কিন্তু আমার মা আসে না। শুনেছি, আমার মা হারিয়ে গেছে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে। মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। মাকে আমার দেখতে ইচ্ছে করলেও মনে হয় আমার মার আমাকে দেখতে ইচ্ছে করে না। এ কথা বলতে বলতেই তার চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়। 
শিশু সজীব আরও জানায়,বাবার কাছে শুনেছি আমার বয়স যখন ৫ তখন আমার মা রাবেয়া বেগম লাইজু রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে হারিয়ে গেছে। আমি আমার দাদা দাদির কাছে থাকি। তারা আমাকে খুব আদর করে। মায়ের কথা মনে হলে আমার আর কিছু ভালো লাগে না।
সজীবের বাবা মোস্তাকিম রহমান জানান,রানা প্লাজা ট্রাজেডির দিনে তিনি টাঙ্গাঁইলে ছিলেন। সেখান হতে খবর পেয়ে রানা প্লাজার সামনে চলে এসে স্ত্রী লাইজুকে খুঁজতে থাকেন। একদিন পর অধোর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চত্ত্বর হতে স্ত্রীর মরদেহ সনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করেন।
তিনি জানান,বিজিএমইএ(বাংলাদেশ পোষাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি)হতে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে শিশু সজীবের নামে ব্যাংকে ১২ লক্ষ টাকা ডিপোজিট করা হয়। প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দেয়া হয় লাইজুর বাবা মাকে। বাকি টাকা পান মোস্তাকিম নিজে। পোষাক প্রস্তুতকারক সংগঠন হতে চাকুরি দেয়ার কথা থাকলেও চাকুরি দেয়া হয়নি মোস্তাকিমকে।
তিনি আরও জানান,এছাড়াও সরকারি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকেও কিছু অর্থ সাহায্য পেয়েছিলেন।
চাঁদকুঠির ডাঙ্গাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন বেগম জানান,সজীব শান্ত স্বভাবের একজন মেধাবি শিক্ষার্থী। সে ক্লাসের ফার্ষ্ট বয়।
এ কারনে স্কুলের সকল শিক্ষক তাকে ভালবাসে।
তিনি আরও জানান,পরিবার ক্ষতিপুরন পেলেও মা হারা ছেলেটির মনে শুন্যতার বিষয়টি অনুভব করা যায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮

বিলুপ্তির পথে ঢেঁকি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

এক সময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল কাঠ দিয়ে নির্মিত ঢেঁকির। গ্রাম-গঞ্জের মানুষদের ধান দিয়ে চাল আটা কিংবা চিড়া তৈরিতে এর ব্যবহার ছিল প্রশ্নাতীত।
সময়ের পথপরিক্রমায় আর বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় সে দিনগুলো আজ সুদুর অতীত।  গ্রাম-গঞ্জে এখন আর তেমন কাউকে বিশেষ করে মহিলাদের ঢেঁকি দিয়ে ধান ছেঁটে চাল আটা কিংবা চিড়া করতে দেখা যায় না। পাওয়া যায় না ঢেঁকির শব্দ।
সরেজমিনে গত রবিবার(২২এপ্রিল)গ্রামিন মেঠো পথ বেয়ে দেখার সময় বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির বোর্ডের হাট নামক এলাকায় গিয়ে হঠাৎ কানে আসে ঢেঁকির শব্দ। কাছে গিয়ে দেখা যায়,ধানের আটা তৈরি করতে এসেছেন তিনজন। এদের মধ্যে এক তরুনী আর এক মাঝ বয়সি মহিলা ঢেঁকিতে পা দিচ্ছেন,আরেক মাঝ বয়সি মহিলা আটা সামলে নিচ্ছেন। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত অপরুপ এ দৃশ্য যেন জানান দেয় সেই সোনালি দিনগুলোর কথা।
এ সময় কথা হয় আটা তৈরি করতে আসা রহিমা বেগমের(৫৫)সাথে,
তিনি জানান, ঢেঁকিতে আটা করতে আমরা এসেছি। এক সময় আমাদের বাড়িতেই ঢেঁকি ছিল। পাশের গ্রামে আমাদের বাড়ি।
তিনি আরও জানান,পরিশ্রম হলেও ঢেঁকিতে ছাঁটা আটা অনেক ভালো। মেশিন দিয়ে ছাঁটা আটায় ভালো পিঠা তৈরি করা যায় না। তাই কষ্ট করে হলেও পাশের গ্রাম হতে আমরা এখানে এসেছি।
কথা হয় ঢেঁকিতে পা দিতে আসা তরুনী ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শিক্ষার্থী আকলিমা বেগমের(২০)সাথে,তিনি জানান, মা বাবার কাছে শুনেছি,এক সময় কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই চাল আটা চিড়া তৈরির জন্য ঢেঁকির প্রচলন ছিল। তাই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই ঢেঁকি ছিল। বর্তমানে চাউল কল এবং পরিশ্রম বেশি হওয়াতে আর তেমন কেউ ঢেঁকি ছাটা চাল,আটা কিংবা চিড়া তৈরি করতে চান না।
রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি আলতাপোন নেছা(৯০)জানান,আমি আমার জীবনের বেশিরভাগ সময়েই ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল দিয়েই সংসার চালিয়েছি। বয়স হয়েছে তাই এখন আর ঢেঁকিতে চাল ছাঁটা হয় না।
তিনি আরও জানান,তাছাড়া চাউলকলের কারনে কেউ এখন আর ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে ঢেঁকিতে চাল ছাঁটতে চায় না।
গোপিনাথপুর চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন সেভেনটি জানান,ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় এক সময় বাড়ি বাড়ি ঢেঁকি ছিল। ওই সময় বাড়ির মহিলারা ঢেঁকি দিয়ে চাল আটা ও চিড়া তৈরি করতো। সময়ের সাথে সাথে ঢেঁকি যেন হারিয়ে গেল। এখন আর ঢেঁকি চোখেই পড়ে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আঃ হাই রুবেল জানান,ঢেঁকি ছাঁটা চাল অনেক বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। কারন হিসেবে তিনি জানান,ঢেঁকি ছাঁটা চালে রয়েছে অনেক বেশি ভিটামিন বি। এ চালে বিভিন্ন রকমের চর্ম রোগ ও শিশুদের বিভিন্ন রকমের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৮

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হইলে ধানোত এবার গুটি ফিট


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

“ভুই দেখলে মনটা ভরি যায়,যদি কোন বাবোদ(প্রাকৃতিক দুর্যোগ)না দেখা দেয় তাইলে হামার এবার ধানোত গুটি ফিট”কথাগুলো বললেন বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল এলাকার কৃষক মামুন মিয়া(৪৫)।
তিনি আরও জানান,আল্লাহ্র রহমতে এখোন পর্যন্ত ধানোত তেমন কোন বাবোদ দেখা যায় নাই। আশা করোচো গত কয় বছরের চায়া এবার ভাল ধান পাইম।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় ইরি ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭২৬০হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১৭৩২৫হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ৬৫ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৫২৫০ হেক্টর,উফসি জাতের ধান চাষ হয়েছে ১২০৭৫হেক্টর জমিতে। ধানের জাতগুলো হল-বিআর-১৫,বিআর-১৬,ব্রি ধান-২৮,ব্রি ধান-২৯,ব্রি ধান-৩৪,ব্রি ধান-৫০,ব্রি ধান-৫৮,ব্রি ধান-৬২ ও ব্রি ধান ৬৪,মিনিকেট। 
সরেজমিনে গত বুধবার(১৮এপ্রিল)উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। যতদুর চোখ যায় সোনালি আভা ছড়ানো ধানের শীষই চোখে পড়ে। আরও চোখে পড়ে কিছু ক্ষেতে আধা পাকা ধানের শীষের সমারোহ। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে তাদের আধা পাকা ক্ষেতগুলোও ছড়াবে সোনালি আভা। কৃষকরা স্বপ্নে বিভোর তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে।
এ সময় কথা হয়, পৌরশহরের কৃষক আতিয়ার রহমান আতির(৫২)সাথে,তিনি জানান,গত বছর বন্যায় ধান জমিতে পঁচে নষ্ট হয়েছে। সেবার কোন ধানই বাড়িতে নিয়ে আসতে পারি নাই। এবার আশা করছি আমার জমিতে প্রতি বিঘাতে ( বিঘা ৫২শতাংশ)৬৫মন ধান পাবো। আমি তিন বিঘা জমিতে ইরি চাষ করেছি।
আগামি শুক্রবার হতে আমি ধান কাটা শুরু করবো। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারনে এবার ইরির বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুতের সরবরাহ ভালো থাকার কারনে কৃষকরা সঠিক সময়ে জমিতে সেচ দিতে পেরেছে। সার ব্যবস্থাপনাও ছিল পর্যাপ্ত।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান, এই সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ইরি বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কারন হিসেবে তিনি জানান,এবারে জমিতে পোকা মাকড়ের আক্রমন ছিল না বললেই চলে। এছাড়াও কৃষকরা গত দুই মৌসুমে ধানের দাম ভালো পাওয়ার কারনে ইরি ধান চাষ তারা ব্যাপকভাবে করেছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৮

বদরগঞ্জে চড়ক পুজায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রংপুরের বদরগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের চড়ক পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার(১৫এপ্রিল)বিকেলে উপজেলার দামোদরপুর ইউপির আমরুলবাড়ি তালপুকুর মাঠে এ চড়ক পুজা অনুষ্ঠিত হয়। দুরদুরান্ত হতে হিন্দুধর্মাবলম্বি সহ অন্যান্যরা এ পুজা দেখতে তালপুকুর মাঠে ভীড় করে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হিন্দু ধর্মাবলম্বিরা চৈত্র সংক্রান্তিতে এ পুজার আয়োজন করে থাকে।
চড়ক পুজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১ দিন আগে কালি ও শিবপুজা করে তার পর দিনই এ চড়ক পুজার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও আগুনের উপর দিয়ে খালি পায়ে হেঁটে আগুন পুজাও করা হয়। অবশেষে চড়ক বসিয়ে(কাঠের গুড়ির মধ্যে বাঁশ)তাতে ঘি ও তৈল দিয়ে পিচ্ছিল করা হয়। এর পর এক পাশে বেশ কয়েকজন আর অন্যদিকে পিঠে চামড়ার মধ্যে হুক লাগিয়ে শুন্যের মধ্যে ঘুরতে থাকে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ছোট চন্ডিপুর কালির হাটের ধীরেন চন্দ্র(৪৮)। যে কেউ এ খেলা দেখলে ভয়ে শিহরে উঠবে।
চড়ক পুজা আয়োজক সুবাস রায় জানান,বংশানুক্রমিকভাবে  আমরা এ চড়ক পুজা করে আসছি।
বদরগঞ্জ বারোয়ারি কালিমন্দিরের পুরোহিত প্রশান্ত ব্যানার্জি জানান,হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে স্বাগত জানাতে এ চড়ক পুজার আয়োজন করে।
দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান,আমার ইউপিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি এ কারনে প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে ২-৩ জায়গায় এ চড়ক পুজা অনুষ্ঠিত হয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বৃহস্পতিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৮

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বদরগঞ্জে পাট শাকের চাহিদা বেড়ে গেছে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
হাঁটি হাঁটি পা পা করে আসছে বাঙ্গালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর ১ দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পাট শাকের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুন। কারন বিশেষ ওই দিনে বাঙ্গালীদের পান্তাভাতের সাথে ইলিশ মাছ,মরিচ,পিঁয়াজ,শুটকিভর্তা,আলু ভর্তা আর পাট শাক খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
এ কারনে রংপুর বদরগঞ্জের কাঁচামাল ব্যবসায়িরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পাট শাক আমদানি করে নিজস্ব দোকান কিংবা ফেরি করে পাট শাক বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে বদরগঞ্জের বাজার ঘুরে দেখা যায়,কমবেশি প্রতিটি কাঁচামাল ব্যবসায়ির দোকানেই পাট শাকের স্তুপ। আঁটি বেঁধে তা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি আঁটি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকা দরে। এছাড়াও কিছু কিছু ব্যবসায়ি পাড়ায় মহল্লায় ফেরি করে পাট শাক বিক্রি করছেন।   
কথা হয় পাট শাক বিক্রেতা মহিদুল হক(৫২)সাথে,তিনি জানান,আমি  এমনিতেই সব ধরনের শাক বিক্রি করি। তবে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পাট শাকের চাহিদা খুব বেশি হওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলা হতে পাট শাক কিনে বদরগঞ্জে নিয়ে এসেছি।
তিনি জানান, আমি পাট শাক কিনে এনে আঁটি করে তা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাট শাক এত বিক্রি হবে আগে জানলে আরও বেশি করে কিনে আনতাম।
ফেরি করে পাট শাক বিক্রেতা ওয়াহেদুল হক(৫৫)জানান,আমি রংপুর সদরের পালিচড়া হতে পাট শাক কিনে বাড়িতে আঁটি তৈরি করে তারপর ফেরি করে বদরগঞ্জে বিক্রি করছি। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।
পাট শাক ক্রেতা সবুজ আহমেদ জানান,পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙ্গালীদের প্রানের উৎসব। এই দিনে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ মাছ ভাজি, পাট শাক আর শুটকি ভর্তা না হলে কি হয় ? যদি আর পাট শাক না পাই তাই ১ দিন আগেই কিনে রাখলাম।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,এই দিনটির জন্য (পহেলা বৈশাখ) আমরা বাঙ্গালীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। কারন এই দিনটিতে শুধু উৎসবই হয় না এই দিনটির সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের শত বছরের বাঙ্গালী সংস্কৃতি। তা ধারন করেই তো আমরা বেঁচে আছি।
তিনি আরও জানান,বিশেষ এই দিনটির জন্য বদরগঞ্জে পাট শাকের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৮

বৈশাখ আসার আগেই চাহিদা বেড়ে গেছে দেশিয় বাদ্যযন্ত্র ঢাক-ঢোলের




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বৈশাখ আসার আগেই চাহিদা বেড়ে গেছে দেশিয় বাদ্য যন্ত্র ঢাক ঢোলের।
এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পুরোনো ঢাক,ঢোল,করকা,তবলা,খোল,একতারা,খমর,খঞ্জুনি,দো-তারা,লাল,ঢোলক,ডমরু সহ সাইড ড্রাম মেরামতের কাজ। নতুন ঢাক ঢোলের অর্ডারে হিমসিম খাচ্ছে ঢাক ঢোল পল্লীর লোকজন। কারন অতি সন্নিকটে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে সারা দেশের ন্যায় রংপুরের বদরগঞ্জও সাজবে বর্নিল সাজে। আবহমান কাল ধরে এই ১লা বৈশাখকে বুকে ধারন লালন করে আসছে বাঙ্গালীরা। এ কারনে ডাক ঢোল পল্লীতেও যেন আজ সাজ সাজ রব।
সরেজমিনে গতকাল(৮এপ্রিল)দুপুরে পৌরশহরের জামুবাড়ি ফারায়সার্ভিস মহল্লায় গিয়ে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক ঢোল মেরামতের কারিগররা।
এ সময় কথা হয় বাদ্য যন্ত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুই ভাই রতন দাস(৫৬) ও সুরেশ দাসের(৪৬) সাথে।
তাদের আদি জন্ম নিবাস টাঈাইল জেলায়। জন্মের পর হতে বাবা রাজেন্দ্র দাস ও দাদুকে দেখেছেন দেশিয় বাদ্যযন্ত্র তৈরি করতে। তাদের কাজে সহয়োগিতা করতেন তাদের মা আমাপতি দাস(৯১)। ওই সময় দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের চাহিদা এত বেশি ছিল যে দম নেয়ার সময় ছিল না তাদের। সময়ের সাথে সাথে আধুনিক বাদ্য যন্ত্রের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়। তাই স্বাধীনতার পর বাধ্য হয়ে বাবা রাজেন্দ্র দাস টাঈাইল জেলা হতে রংপুরের বদরগঞ্জে চলে আসেন। শুরু করেন দেশিয় বাদ্য যন্ত্র ঢাক,ঢোল,করকা,তবলা,খোল,একতারা,খমর,খঞ্জুনি,দো-তারা,লাল,ঢোলক,ডমরু সহ সাইড ড্রাম তৈরি ও মেরামতের কাজ।
পিতা রাজেন্দ্র দাস মারা যাওয়ার পর দুই ভাই রতন দাস ও সুরেশ দাস একসঙ্গে বাবার ব্যবসা পরিচালনা করলেও ব্যবসা দিয়ে দুই পরিবারের ভরন-পোষন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছিল এ কারনে সুরেশ দাস গাইবান্ধা জেলার লক্ষ্মিপুরে বসতি গেড়ে দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
রতন দাস জানান;পহেলা বৈশাখে বেড়ে যায় দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের চাহিদা। কারন হিসেবে তিনি বলেন,দেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায় পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
এগুলো অনুষ্ঠানে দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি।
তিনি জানান;কার্তিক মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের যে সমস্ত লোক গ্রামে গ্রামে কীর্তন করে বেড়ায় এরাই মূলতঃ দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের ক্রেতা। তাছাড়াও বাসাবাড়ি,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকেরা কিছু কিছু করে ক্রয় করেন।
তিনি আরও জানান; এসব দেশিয় বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হয় ২শত টাকা হতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাধারন ঢুলিদের কাছে তিনি কম দামে বাদ্য যন্ত্র বিক্রি করেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান;পহেলা বৈশাখে দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। দেশিয় বাদ্যযন্ত্রগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর আধুনিকায়ন যেমন জরুরি,তেমন জরুরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাও। তা না হলে বাংলার ঐতিহ্য ঢাক-ঢোল,তবলা একতারা,দো-তারা একদিন হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার ওমর ফারুক জানান;পহেলা বৈশাখে দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের দেখা মেলে। এ সব দেশিয় বাদ্য যন্ত্র ঢাক ঢোল যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে আমাদের সকলের লক্ষ্য রাখা উচিত। কেউ যদি দেশিয় ঐতিহ্য ঢাক-ঢোলকে টিকিয়ে রাখতে চায় তাকে সহযোগিতা করা উচিত।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৯এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৮

বদরগঞ্জের আম চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)সংবাদদাতাঃ

কিছুদিন আগে আমের মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে গিয়েছিলো রংপুর বদরগঞ্জের আমের বাগানগুলো। ওই সময়টাতে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে শুভাসিত ও মুখরিত হয়েছিলো গোটা অঞ্চল। এখন মুকুলের পেট চিড়ে বের হয়েছে আমের দানা। এ দানা শুধু দানাই নয় এ হল কৃষকের(আম চাষিদের) আগামি দিনের স্বপ্ন। আগামির সোনালি স্বপ্নে বিভোর ছিল আম চাষিরা। কিন্তু প্রকৃতির বিমুখতায় কপালে যেন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আম চাষিদের। কয়েক দিন আগের ঝড় আর শিলাবৃষ্টি যেন তাদের টেনশনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা টেনশনে আছেন কখন আবারও আবহাওয়া বৈরি হয়। আর আবহাওয়া বৈরি হলেই তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে।  
গত সোমবার(২এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে উপজেলার আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়; বিস্তৃীর্ন বাগান জুড়ে চোখ ধাঁধানো মুকুলের পেট চিড়ে বের হওয়া আমের দানা। চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য যে কারোরই মনকে নাড়া দিবে। আম চাষিরা তাদের সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু লক্ষ্য করলাম,আম চাষিদের মনে যেন আনন্দের পরিবর্তে কপালে চিন্তার ভাঁজ। মনে হল দুঃচিন্তা তাদের যেন তাড়া করে ফিরছে। 
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির আম বাগান মালিক মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে, তিনি জানান; শুরুতে আমার আম বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছিল। অনেক পরিশ্রম আর পরিচর্যা করে আমের দানাতেও ভরে গেছে আমার আমের বাগান।
এখন খুব টেনশন হচ্ছে যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন ঝড়ো হাওয়া সহ শিলা বৃষ্টি হয় তবে আমি সর্বশান্ত হয়ে যাবো। এখন আল্লাহ্ ভরসা।
তিনি আরও জানান,সব কিছু যদি অনুকুলে থাকে গত বছরের দ্বিগুন আম বিক্রি করতে পারবো। গত বছর এই আম বাগান হতে ১০লক্ষ টাকার আম বিক্রি করেছিলাম। আশা করছি এবার তা বেড়ে দ্বিগুন হবে।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক হাসান আল মাহামুদের সাথে,তিনি জানান, আমার এই আম বাগানে হাড়িভাঙ্গা জাতের প্রায় ৪ হাজার আম গাছ আছে। এবার গাছে যে পরিমান মুকুল এসেছে অর্থ্যাৎ আমের দানা এসেছে তাতে আবহাওয়া যদি বৈরি না হয় তাহলে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন আম বিক্রি করতে পারবো।
তিনি আরও জানান,গত কয়েকদিনের ঝড় আর শিলা বৃষ্টি আমার টেনশনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি আবারও আবহাওয়া বিরুপ হয় তাহলে আমি সর্বশান্ত হয়ে যাবো।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,এ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানই রয়েছে বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার আমের বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত মুকুল ধরেছে। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকুলে থাকে তবে আম চাষিরা লাভবান হবেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৩এপ্রিল/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...