কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মেহেদি হাসান(২১)। এক তরতাজা যুবকের নাম। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির বোর্ডের হাট নামক এলাকায়। মেহেদিরা তিন বোন এক ভাই। মেহেদি বড়। বাবা আমিনুল ইসলাম একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি। পিতা মাতার বড় সন্তান হওয়ার কারনে ছোটবেলা হতে লেখাপড়ার পাশাপাশি গরীব পিতাকে নানা রকমের সহযোগিতা করতো। লেখাপড়ায় মেধাবি মেহেদির প্রচন্ড আগ্রহ দেখে গবির পিতা আমিনুল তার অর্থনৈতিক সমস্যা থাকার পরও ছেলেকে লেখাপড়া করতে উৎসাহ দিতেন। আর ভাবতেন, ছেলে একদিন বড় হয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়ে সংসারের দায়িত্ব সহ ছোট বোনদের দায়িত্ব নিবে।
স্কুলে পড়াকালিন সময় হতে মেহেদি পিতাকে সাংসারিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালিয়ে ভালো রেজাল্ট সহ এইচএসসি পাশ করেন। পরে এক কলেজ শিক্ষকের পরামর্শে ঢাকার একটি কলেজে অনার্স ভর্তি হয় এবং পাশাপাশি একটি ফার্মে খন্ডকালিন চাকুরি নেয়। এভাবেই কষ্টের মাঝেই চলছিলো তার শিক্ষা জীবন। হঠাৎ এক রাতে দমকা হাওয়ার মত তার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়।
একদিন রাতে মেহেদি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার সঙ্গীরা তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। সেখানকার ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানায় যে,তার মেরুদন্ডে ঞ৪ লেভেলের টিবি হয়েছে। আর এ কারনে তার কোমর হতে নিচ পর্যন্ত অবস হয়ে গেছে। সেখানে ১ মাস চিকিৎসা করার পর ডাক্তারদের পরামর্শে আবারও সাভার সিআরপিতে ভর্তি হন। সেখানে ৫ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে থেরাপি দেয়া হয়। তার এই চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে গিয়ে গরীব পিতা তার কষ্টে জমানো টাকা জমি সহ বাড়ি ভিটার কিছু অংশ বিক্রি করে দেন। এর পরও যখন মেধাবি মেহেদির সুস্থ্য হয়ে উঠছে না তখন ডাক্তাররা তার পিতাকে পরামর্শ দেন উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেদিকে বিদেশে নিয়ে গেলে সে সুস্থ্য হয়ে উঠবে। বাধ্য হয়ে গরীব পিতা আমিনুল তার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এখন মেহেদির সময় কাটে হুইল চেয়ারে বসে।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার(১৩মার্চ)সকালে মেধাবি মেহেদিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,হুইল চেয়ারে বসে আছে মেহেদি। নির্বাক অপলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ^াস নিয়ে যেন বলছে, আমি কি আর সুস্থ্য হবো না, মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবো না ?
কথা হয় মেহেদি হাসানের সাথে,সে জানায়,আমি সুস্থ্য হয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হতে চাই এবং দেশের সেবা করতে চাই। জানি না,আমি সুস্থ্য হতে পারবো কিনা ? আমি সুস্থ্য হতে চাই।
মেহেদির পিতা আমিনুল ইসলাম কান্না বিজড়িত কন্ঠে জানান,আমার সুস্থ্য ছেলেটি হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে গেল। আমি গরীব মানুষ। আমার সামর্থ্য অনুযায়ি সব রকমের চেষ্টা করেছি,কিন্তু ডাক্তাররা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে আমার ছেলেটা ভালো হয়ে যাবে। তিনি দেশের সুহৃদয়বান ব্যক্তিদের তার এই অসুস্থ্য মেধাবি ছেলেটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আকুল আবেদন জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির হায়দারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম জানান,মেহেদি ছোট বেলা হতে অত্যন্ত মেধাবি ছিল। সে তার এক ক্লাস নিচের শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ বহন করতো। বর্তমানে এমন শিক্ষার্থী আর পাওয়া যায় না। মেহেদির মত মেধাবিদের বাঁচাতে সকলের এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪ মার্চ/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন