মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১৮

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ও গরুর গাড়ি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

“ওকি গাড়িয়াল ভাই,হাকাও গাড়ি চিলমারির বন্দরে” রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় এই ভাওইয়া গানটি মাঝে মাঝে শোনা গেলেও গ্রামাঞ্চলে আঁকা বাঁকা পথ যেমন নেই, তেমনি নেই গরুর গাড়ির প্রচলন। এ যেন সুদুর অতীত। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবন যাত্রা। গরুর গাড়ির বদলে মানুষ বেছে নিয়েছে ট্রলি ট্রাক্টর। গ্রামের আঁকা বাঁকা পথ হয়েছে পিচঢালা। তাই এখন মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে তার প্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে পারে। ফলশ্রুতিতে আঁকা বাঁকা মেঠো পথ আর গরুর গাড়ির প্রচলন আর নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখার সময় লোহানীপাড়া ইউপির সরকার পাড়া নামক এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে লালমাটি বেষ্টিত গ্রামের আঁকা বাঁকা মেঠো পথে কয়েকজন কৃষক তাদের গরুগাড়ি নিয়ে জমিতে যাচ্ছেন আলু আনতে। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে দ্রুত মটর বাইক থামিয়ে স্থির চিত্র ধারন করি।
এ সময় কথা হয় আলু চাষি আজমল হক(৪৫)সাথে,তিনি জানান,আলু আবাদ করেছি ৮ বিঘা জমিতে। জমি হতে কৃষকরা আলু তুলে বস্তায় ভরে রেখেছে।  এখন যাচ্ছি আলুর বস্তাগুলো গরুর গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য।  পরে আলুর বস্তাগুলো স্থানিয় কোল্ডষ্টোরেজে রাখবো।
তিনি জানান,আগের মত আর গরুর গাড়ি আমাদের এ অঞ্চলে নেই। তবে হাতে গোনা কিছু কৃষকের বাড়িতে গরুর গাড়ি আছে।
তিনি আরও জানান,জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জমির পরিমান কমে যাওয়ায় গ্রামের মেঠো পথ আর নেই বললেই চলে। কারন তখনকার মেঠো পথগুলো ছিল নিজ নিজ প্রয়োজনে তৈরি করা। গো-খাদ্য সংকট, চারনভুমি কমে যাওয়া আর চোরের উপদ্রবের কারনে কৃষকরা আর আগের মত বাড়িতে গরু পালন করে না।
লোহানীপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস মিয়া(৭৫)জানান, গ্রামে গঞ্জে এখন আর আগের মত আঁকা বাঁকা মেঠো পথ যেমন নেই, তেমনি নেই গরুর গাড়ির প্রচলন।
তিনি জানান,ছোট বেলায় দেখেছি,আমাদের এ অঞ্চলে কোন পাকা রাস্তাঘাট ছিল না,তখন আমরা উপজেলা সদরে যেতে গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে গরুর গাড়িতে চড়ে বদরগঞ্জের হাটে যেতাম। আর তখনকার এটিই ছিল একমাত্র বাহন। দিন বদলের সাথে সাথে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সহ বিকল্প অনেক বাহন আমাদের হাতের নাগালে এসে গেছে বিধায় এ সবের এখন আর প্রয়োজনই পড়ে না। তাই গ্রামের আঁকা বাঁকা মেঠো পথও হারিয়ে গেছে, তেমনি হারিয়ে গেছে গরুর গাড়ির প্রচলন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১মার্চ/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১৮

বদরগঞ্জে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে দেশের শীর্ষ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার(১৬মার্চ)রাতে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৯ম বর্ষে পদার্পন ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সহ-সভাপতি এমডি শামসুল হক,মধুপুর ইউপি আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া কবির,লোহানীপাড়া ইউপির আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সহ-সভাপতি প্রভাষক আহসান হাবিব,দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রায়হান গোলাম কবির,কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজার রহমান,সহ-কোষাধ্যক্ষ সাইদুজ্জামান রিপন,বিপ্লব সরকার,প্রভাষক ফয়সাল সরকার পলাশ,শ্যামল লোহানী,রেজাউল করিম সরকার,ফিরোজ আলি। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ফারুক হোসেন নয়ন,মনজু পাইকাড়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬মার্চ/১৮
মোবাইল-০১৭১১৭৮৫০৯৬৪

বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৮

হারিয়ে যাচ্ছে কলা পাতায় অতিথি আপ্যায়ন


কামরুজ্জামান,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রাম বাংলায় এক সময় বিয়ে বাড়ি কিংবা বড় কোন আয়োজনে অতিথি আপ্যায়নে কলা গাছের কচি পাতা কেটে (প্লেট হিসেবে) তাতে করে খাবার পরিবেশন করার সংস্কৃতি ছিল। এ বিষয়টি আমাদের দেশিয় সংস্কৃতির অংশও বটে। কিন্তু সময়ের পথ পরিক্রমায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় কলা পাতার প্লেট বানিয়ে অতিথি আপ্যায়নের বিষয়টি যেন হারিয়ে গেছে।
সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলা ঘুরার এক পর্যায়ে গত বুধবার(১৪মার্চ) উপজেলা সদর হতে ১৮ কিঃমিঃ দুরে গোপিনাথপুর ইউপির মুচিরহাট নামক এলাকায় গিয়ে দেখতে পাই,এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বর যাত্রিকে কলা পাতার প্লেট বানিয়ে দুপুরের খাবার পরিবেশন করছেন কনে পক্ষ। বর যাত্রিদের সারিবদ্ধভাবে মাটিতে চট বিছিয়ে কলা পাতার প্লেটে খাবার পরিবেশন। এ এক অভুতপুর্ব দৃশ্য। যা এখন আর সহজেই চোখে পড়ে না। তাই দ্রুত মটর বাইক থামিয়ে প্রথমে বিরল এই দৃশ্যটিকে ক্যামেরা বন্দি করি। পরে অতিথি ও কনে পক্ষের সাথে কথা বলি।
কথার এক পর্যায়ে জানতে পারি,দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার আশুতোষ রায়ের ছেলে গালামাল ব্যবসায়ি সন্তোষ রায়ের সাথে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির মুচিরহাট এলাকার নরেন রায়ের এক মাত্র কন্যা পুষ্প রায়ের সাথে বিয়ে হচ্ছে। বাসি বিয়ে ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। বর যাত্রিকে দুপুরের খাবার পরিবেশন করছেন কলা গাছের পাতা ব্যবহার করে।
এ সময় কথা হয় বর যাত্রি কলেজ শিক্ষক রমজান আলির সাথে,তিনি জানান, বিয়েতে এসে আমার খুব ভাল লাগছে এই ভেবে যে,বহু বছর পর কলা পাতার প্লেটে খাবার খেলাম। এখন যা আর গ্রামে-গঞ্জে চোখে পড়ে না। এই বিয়েতে না আসলে এই আনন্দটা উপভোগ করতে পারতাম না।
কনের বড় ভাই সুনিল রায় জানান,আমরা আগেই ছেলে পক্ষকে জানিয়েছিলাম কলা পাতা দিয়ে প্লেট বানিয়ে তাদের আপ্যায়ন করবো। আমাদের আর্থিক বিষয়টি মাথায় নিয়ে তারাও আপত্তি করেনি। তবে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ি বর যাত্রিদের আপ্যায়নের কোন ঘাটতি ছিল না।
গোপিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন সেভেনটি এই প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জানান, আমি বর ও কনেকে দেখতে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ব্যস্ততার কারনে বেশিক্ষন সেখানে থাকতে পারিনি। তবে বহু বছর পর কলা পাতার প্লেট বানিয়ে অতিথি আপ্যায়ন আমারও ভালো লেগেছে। এখন তো আর গ্রাম-গঞ্জে এ বিষয়টি চোখেই পড়ে না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫মার্চ/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১৮

হুইল চেয়ারে বন্দি মেধাবি মেহেদির স্বপ্ন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মেহেদি হাসান(২১)। এক তরতাজা যুবকের নাম। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির বোর্ডের হাট নামক এলাকায়। মেহেদিরা তিন বোন এক ভাই। মেহেদি বড়। বাবা আমিনুল ইসলাম একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি।  পিতা মাতার বড় সন্তান হওয়ার কারনে ছোটবেলা হতে লেখাপড়ার পাশাপাশি গরীব পিতাকে নানা রকমের সহযোগিতা করতো। লেখাপড়ায় মেধাবি মেহেদির প্রচন্ড আগ্রহ দেখে গবির পিতা আমিনুল তার অর্থনৈতিক সমস্যা থাকার পরও ছেলেকে লেখাপড়া করতে উৎসাহ দিতেন। আর ভাবতেন, ছেলে একদিন বড় হয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়ে সংসারের দায়িত্ব সহ ছোট বোনদের দায়িত্ব নিবে।
স্কুলে পড়াকালিন সময় হতে মেহেদি পিতাকে সাংসারিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালিয়ে ভালো রেজাল্ট সহ এইচএসসি পাশ করেন। পরে এক কলেজ শিক্ষকের পরামর্শে ঢাকার একটি কলেজে অনার্স ভর্তি হয় এবং পাশাপাশি একটি ফার্মে খন্ডকালিন চাকুরি নেয়। এভাবেই কষ্টের মাঝেই চলছিলো তার শিক্ষা জীবন। হঠাৎ এক রাতে দমকা হাওয়ার মত তার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়।
একদিন রাতে মেহেদি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার সঙ্গীরা তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। সেখানকার ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে  জানায় যে,তার মেরুদন্ডে ঞ৪ লেভেলের টিবি হয়েছে। আর এ কারনে তার কোমর হতে নিচ পর্যন্ত অবস হয়ে গেছে। সেখানে ১ মাস চিকিৎসা করার পর ডাক্তারদের পরামর্শে আবারও সাভার সিআরপিতে ভর্তি হন। সেখানে ৫ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে থেরাপি দেয়া হয়। তার এই চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে গিয়ে গরীব পিতা তার কষ্টে জমানো টাকা জমি সহ বাড়ি ভিটার কিছু অংশ বিক্রি করে দেন। এর পরও যখন মেধাবি মেহেদির সুস্থ্য হয়ে উঠছে না তখন ডাক্তাররা তার পিতাকে পরামর্শ দেন উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেদিকে বিদেশে নিয়ে গেলে সে সুস্থ্য হয়ে উঠবে। বাধ্য হয়ে গরীব পিতা আমিনুল তার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এখন মেহেদির সময় কাটে হুইল চেয়ারে বসে।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার(১৩মার্চ)সকালে মেধাবি মেহেদিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,হুইল চেয়ারে বসে আছে মেহেদি। নির্বাক অপলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ^াস নিয়ে যেন বলছে, আমি কি আর সুস্থ্য হবো না, মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবো না ?
কথা হয় মেহেদি হাসানের সাথে,সে জানায়,আমি সুস্থ্য হয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হতে চাই এবং দেশের সেবা করতে চাই। জানি না,আমি সুস্থ্য হতে পারবো কিনা ? আমি সুস্থ্য হতে চাই।
মেহেদির পিতা আমিনুল ইসলাম কান্না বিজড়িত কন্ঠে জানান,আমার সুস্থ্য ছেলেটি হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে গেল। আমি গরীব মানুষ। আমার সামর্থ্য অনুযায়ি সব রকমের চেষ্টা করেছি,কিন্তু ডাক্তাররা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে আমার ছেলেটা ভালো হয়ে যাবে। তিনি  দেশের সুহৃদয়বান ব্যক্তিদের তার এই অসুস্থ্য মেধাবি ছেলেটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আকুল আবেদন জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির হায়দারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম জানান,মেহেদি ছোট বেলা হতে অত্যন্ত মেধাবি ছিল। সে তার এক ক্লাস নিচের শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ বহন করতো। বর্তমানে এমন শিক্ষার্থী আর পাওয়া যায় না। মেহেদির মত মেধাবিদের বাঁচাতে সকলের এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।  
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪ মার্চ/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১৮

বদরগঞ্জে এখনও জমিতে সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় দোন ও সেউতি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মোফাজ্জল হোসেন(৬৫)। পেশা কৃষি কাজ করা। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির বোর্ডেরহাট নামক এলাকায়। নিজের জমি বলতে আছে মাত্র ১০কাঠা। এ দিয়ে তো আর সংসার চলে না তাই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কোন রকমে চালান তার সংসার। তার ১ ছেলে ৩ মেয়ে। ছেলে মেয়ে সকলেরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রী ২ বছর আগে মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে হাফিজুল হোসেন(৪৫)। তারও ২ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে কৃষক মোফাজ্জলের সংসার।
শুস্ক মৌসুম বিশেষ করে ইরি চাষের সময় জমি চাষ সহ ফসল উৎপাদন করতে তিনি বেশ সমস্যায় পড়েন। কারন শুস্ক এই মৌসুমে পানির স্তর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে যায়,নদী পুকুর ও বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে তার মতো গরীব কৃষকের পক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় কিংবা পানি কিনে জমিতে দেয়া তার জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয়। যদিও কখনো বাধ্য হয়ে পানি কিনে সেচ কাজে ব্যবহার করেন তখন ফসল উৎপাদনে যে খরচ হয় সব মিলে আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় বাবা ছেলে মিলে দোন/ঢোঙ্গা দিয়ে জমিতে পানি সেচের দৃশ্য চোখে পড়লে মটর বাইক থামিয়ে তাদের সাথে কথা বললে বৃদ্ধ কৃষক মোফাজ্জল হোসেন এই কথাগুলো জানান।
তিনি জানান,হামরা গরীব মানুষ। এখন পানি সেচের জন্য কত আধুনিক যন্ত্রপাতি বাইর হইছে। স্যালো,ডিপ,মর্টার আরও কতো কি ? হামার এত টাকা নাই যে, যা দিয়া হামরা যন্ত্রগুল্যা কিনবাইর পারি। এমনিতেই পানির দাম দিব্যার পারি না।
তিনি আরও জানান,মোর কপাল ভালো যে,মোর ভুইয়ের পাশোত তাও পানি আছে। না হইলে যে মোর কি হইল হয় ?
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,আমি ছোট বেলায় দেখেছিলাম কৃষকরা দোন/ঢোঙ্গা আর সেউতি দিয়ে খাল হতে পানি উত্তোলন করে তারা তাদের জমিতে দিতো। এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। তবে এখনও  গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের দোন ও সেউতি দিয়ে পানি উত্তোলন মাঝে মাঝে দেখতে পাওয়া যায়।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হওয়ায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ও নদী নালা পুকুরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় দোন/ঢোঙ্গা আর সেউতির ব্যবহার আর আগের মতো চোখে পড়ে না। তবে যে জায়গাগুলোতে সেচ পাম্প অপ্রতুল সে জায়গাগুলোতে এখনও দোন ও সেউতির ব্যবহার দেখা যায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০মার্চ/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...